বেশিরভাগই মৌসুমি কসাই ও সাধারণ মানুষ; আহতের সংখ্যা অনেক

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটাকাটির সময় অসাবধানতাবশত আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। আহতদের অধিকাংশই মৌসুমি কসাই, তবে সাধারণ মানুষও রয়েছেন এই তালিকায়।

শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মুশতাক আহমেদ জানান, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি ব্যক্তি হাসপাতালে এসেছেন কোরবানির সময় ছুরিকাঘাত কিংবা কাটাকাটির কারণে আহত হয়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে, তবে সবাই শঙ্কামুক্ত। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের অনেকেই মৌসুমি কসাই, যাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা কম। আবার অনেক সাধারণ মানুষও আছেন যারা নিজেরাই কোরবানি দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন এমন দুর্ঘটনা ঘটার নজির রয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন না করলে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

সচেতনতা এবং অভিজ্ঞ কসাইয়ের সহায়তায় কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




সিলেটে শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ জুন) সকাল ৮টায় এ জামাতে ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

নামাজ শুরুর আগে কোরবানির তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত বয়ান দেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান। জামাতে ইমামতি করেন একই মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি জুনায়েদ আহমদ।

সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবছর মোট ২ হাজার ৯৪১টি ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৯০টি এবং জেলার উপজেলাগুলোতে ২ হাজার ৫৫১টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মহানগরের ১৪২টি ঈদগাহ ও খোলা স্থানে এবং ২৪৮টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলায় অনুষ্ঠিত হয় ২ হাজার ২৭৪টি মসজিদ ও ২৭৭টি ঈদগাহে ঈদের জামাত।

হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে সকাল ৭টা, ৮টা ও ৯টায় তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাতে ইমামতি করেন শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী, হাফেজ মাওলানা মিফতাহ উদ্দিন আহমদ এবং হাফেজ মাওলানা হোসাইন আহমদ।

এছাড়া সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আনজুমানে খেদমতে কুরআন সিলেটের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঈদগাহ ও আশপাশ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি, ড্রোন, ছাদভিত্তিক নজরদারি ও তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়।

সকালে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় প্রতিটি ঈদগাহ ও খোলা স্থানে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করেন।




ঢাকা শহরে নেমে এসেছে নীরবতা

ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা হারিয়েছে তার চিরচেনা ব্যস্ততা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীবাসী ছুটে গেছেন নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে। ফলে ফাঁকা হয়ে পড়েছে ঢাকার সড়কগুলো, নেমে এসেছে এক নিস্তব্ধতা।

শনিবার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও নেই যানজট, নেই মানুষের ভিড়। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও ও শ্যামলীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহনের উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়।

সড়কে গাড়ি ও মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এক ধরনের অচেনা নীরবতায় ঢেকে গেছে পুরো নগরী। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল শুরু হয়। গণপরিবহন ছিল অত্যন্ত সীমিত, যার ফলে রাজধানীতে ঈদ পালন করা মানুষদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

শহরের এক বাসযাত্রী জানান, “বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাস পেয়েছি। রাস্তা একদম ফাঁকা, বাসেও যাত্রী নেই তেমন। ভাড়া একটু বেশি চেয়েছে, ঈদের বকশিশ হিসেবে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছি।”

এক পরিবহনের চালক বলেন, “নামাজ পড়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। রাস্তায় যাত্রী একেবারেই কম। সবাই এখন কোরবানির কাজে ব্যস্ত, বিকেলে যাত্রী বাড়বে।”

ঈদের এই ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র নগরবাসীর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি সড়কে থাকা অল্প সংখ্যক যাত্রীদের জন্য কিছুটা কষ্টেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




হানাহানির রাজনীতি ফেরার আশঙ্কা নেই: এনসিপি নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দেশে যেন আর হানাহানির রাজনীতি ফিরে না আসে—এটাই সবার প্রত্যাশা। তিনি দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পূর্বে আন্দোলনের সময় তাঁর নিজ বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।

শনিবার (৭ জুন) ঈদুল আজহার নামাজ শেষে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের নিজ গ্রামের মসজিদে স্থানীয়দের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, “৫ আগস্টের আগে চলমান আন্দোলনের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের মানুষকে পাড়ায়-মহল্লায় শোষণ করেছে। আমার বাড়িতে আগুন লাগানোরও চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমার গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষ সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এই গ্রামের মানুষ আমার আপনজন, তারা সব সময় শান্তি চায়। আমরা কখনোই চাই না দেশে আবার হানাহানির রাজনীতি ফিরে আসুক।”

বক্তব্য শেষে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। এ সময় এনসিপির হাতিয়া প্রতিনিধি মো. ইউসুফ রেজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




ঈদেও দায়িত্বে নিবেদিত বাংলাদেশের ফুটবলাররা

আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে ঈদুল আজহার দিনেও নিবিড় প্রস্তুতিতে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ১০ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি, যেখানে লড়বে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর। সেই ম্যাচ সামনে রেখে ঈদের ছুটির মধ্যেও থেমে নেই জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীসহ দলের সবার প্রস্তুতি।

রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান করছে জাতীয় দল। ঈদের সকালে হোটেলের কাছাকাছি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসলিম খেলোয়াড়রা। সকাল ৭টায় তারা জামাতে অংশ নেন এবং পরিধান করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উপহার দেওয়া সাদা পাঞ্জাবি। নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে জাতীয় দলের সদস্যরা কোলাকুলি করেন আন্তরিকতায়।

বাফুফের নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, সাখওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন ও ইকবাল হোসেনও জাতীয় দলের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে সবাই হোটেলে ফিরে নাশতায় অংশ নেন, যেখানে সেমাইসহ ছিল ঈদের বিশেষ আয়োজন। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন একে অপরের সঙ্গে, কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ভিডিও কলে।

খেলোয়াড়দের সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়। ঢাকায় যারা পরিবার নিয়ে বসবাস করেন, তারা স্বল্প সময়ে পরিবারে গিয়ে ঈদ উদযাপন করেন। অন্যরা চাইলে ক্যাম্পের বাইরে নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারেন। তবে বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত যথারীতি অনুশীলনে অংশ নিতে হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে।

নারী ফুটবল দলও এশিয়ান কাপ অভিযানে রয়েছে। মিয়ানমারে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে তাদের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি জর্ডানে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে নারী দল। তিন ধাপে দলটি দেশে ফিরেছে গতকাল রাতে। তাদের পুনরায় অনুশীলন শুরু হবে আগামী পরশু দিন। যদিও কেউ কেউ দুই দিনের জন্য বাড়ি গেছেন, তবুও অনেকেই রয়ে গেছেন ক্যাম্পেই — যাওয়া-আসার কষ্ট ও ট্রাফিক ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই তারা থেকে গেছেন রাজধানীতে।

নারী ফুটবলারদের জন্যও বাফুফে দিয়েছে ঈদের বিশেষ উপহার। ঈদের দিনটিকে কেন্দ্র করে ফুটবলারদের প্রতি দেখানো হয়েছে আলাদা যত্ন। খেলোয়াড়রা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঈদের আনন্দও ভাগ করে নিচ্ছেন দলগতভাবে। জাতীয় দল যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনও দেশ ও দায়িত্বই তাদের কাছে অগ্রাধিকার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঈদের নামাজ, কোলাকুলি ও কোরবানিতে মুখর সারাদেশ

সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সমাজে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই পালিত হচ্ছে এই উৎসব।

সকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে হয় প্রধান জামাত, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাইয়ের কার্যক্রম। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গৃহস্থালির আঙিনা, গলি-মহল্লা ও খোলা স্থানে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। অনেকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মাংস তিন ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করছেন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে মাংস পৌঁছে দিচ্ছে।

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির ব্যবস্থাপনায় রাজধানীসহ সারাদেশে তুলনামূলক শৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সিটি কর্পোরেশনের একাধিক সূত্র জানায়, ঈদের দিন দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং রাতের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা দেন।




লন্ডনে ঈদের জামাতে অংশ নিলেন তারেক রহমান

যুক্তরাজ্যের কিংসটনে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় কিংসমেডো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে তিনি অংশ নেন।

বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়া উপেক্ষা করে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি মুসল্লি মাঠে নামাজে অংশ নেন। জামাতে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ইউরোপীয় সমন্বয়ক কামাল উদ্দিন।

নামাজ শেষে তারেক রহমান দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করেন।

 




চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড, বিরোধিতা রুখে দিন: প্রধান উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’ আখ্যা দিয়ে এর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিরোধিতাকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “এই বন্দরকে বর্তমান দুর্বল অবস্থায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। আমাদের বন্দর ব্যবস্থাপনায় যেসব আন্তর্জাতিক অংশীদার আসছে তারা বিশ্বের সেরা এবং অভিজ্ঞ। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফলভাবে বন্দর পরিচালনা করছে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত হবে। নেপাল-ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও তা হবে একটি নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক পথ।”

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য, ২০৩১ সালের মধ্যে এসব কোম্পানির কাছ থেকে বন্দরের আধুনিক ব্যবস্থাপনা শেখা। এর পরবর্তী পাঁচ বছরে বাংলাদেশিরাই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বন্দর পরিচালনা করবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “বন্দরের উন্নয়ন কেন্দ্র করে সমুদ্রভিত্তিক নতুন শিল্প যেমন মাছ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ গড়ে উঠবে, যা দেশের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয় বাড়াবে।”

বিরোধীদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ভিত্তিহীন অপপ্রচারে কান না দিয়ে বন্দরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিন। যারা বিরোধিতা করছে, তাদের প্রতিহত করুন। এ উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদের আগের দিন সড়কে প্রাণ গেল বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের

ঈদুল আজহার আগের দিন ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা-ছেলেসহ চারজন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন যাত্রী।

শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পশ্চিম তালদিঘি ফকির বাড়ি ও গাছতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

প্রথম দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পারভেজ মিয়া (৩৫) এবং তার ছেলে হাসান মিয়া (৮)। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ করতে হালুয়াঘাট যাচ্ছিলেন তারা। যাত্রীবাহী একটি বাসে করে যাওয়ার পথে তালদিঘি এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি মসজিদে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. টিপু সুলতান জানান, দুর্ঘটনায় আহত আরও ১২ জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একই সময় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে গাছতলা এলাকায়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যাত্রীবাহী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান শরীফ মিয়া (২৫) ও হাবিবুর রহমান হবি (৪৫)। শরীফ ছিলেন অটোরিকশার চালক, আর হবি যাত্রী।

শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. নান্নু খান জানান, দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে গেলেও যানটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঈদের আগের দিন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমছে না কেন, প্রশ্ন রিজভীর

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের আন্তরিকতার প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক হতো, তাহলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কষ্ট এতটা হতো না।”

শুক্রবার (৬ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “জনগণ চায় আইনের শাসন এবং তিন বেলা খাবারের নিশ্চয়তা। মানুষ ভেবেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শান্তিতে থাকবে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গত তিন দিনে সড়কে যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া ও চাঁদাবাজিতে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কোনো কোনো মহাসড়কে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট। সরকার যদি আগেই প্রস্তুতি নিত, তাহলে এমন চিত্র হত না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আন্তরিকতা নেই বলেই দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজভী। তার ভাষায়, “দিন দিন চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো সক্রিয় নয়। ঢাকা মহানগর এখন ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় ছিনতাই যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /