কুয়াকাটার সাগরে ফিরল ইলিশ, জেলেদের মুখে হাসি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও দেখা মিলছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে মাছ ধরা শুরু করেন স্থানীয় জেলেরা। অনেকেই সকালেই ফিরেছেন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ নিয়ে, যা দেখে তারা বেশ উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে গভীর সাগরে যাওয়া বড় ট্রলারগুলো এখনো ফেরেনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেগুলোতেও প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছে মৎস্য বিভাগ।

মহিপুর এলাকার অভিজ্ঞ জেলে শফিক মাঝি বলেন, “রাতে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যাই। কুয়াকাটা থেকে ৪০-৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে জাল ফেলি। সকালে ফিরে আসি প্রায় ৪০ হাজার টাকার মাছ নিয়ে। আল্লাহ চাইলে এবার মাছের মৌসুম ভালো যাবে।”

এ বছরই প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়। মৎস্য বিভাগ বলছে, এই ৫৮ দিনের বিরতিতে বঙ্গোপসাগরের ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

পটুয়াখালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় এখন আশানুরূপ মাছ পাচ্ছে। যারা আজ ঘাটে ফিরেছে, তারা মূলত সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরেছে। যারা গভীর সমুদ্রে গেছে, তারা আরও বেশি ইলিশ নিয়ে ফিরবে বলে আমরা আশাবাদী।”

ইলিশের এমন আগমন দেখে জেলেদের মাঝে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এবারের মৌসুম ইলিশে ভরপুর হবে, আর এতে প্রাণ ফিরে পাবে উপকূলীয় অঞ্চলের মাছভিত্তিক অর্থনীতি।

রিপোর্টার: মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তাপপ্রবাহ কমলেও ২৫ জেলা এখনো দাবদাহে, বৃষ্টির আভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের

সারা দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি শুরু হলেও আজও দেশের ২৫টিরও বেশি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রাও কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

বর্তমানে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে একই ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৫ জুন) ও সোমবার (১৬ জুন) দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানেও দমকা হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে দেশের সার্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।




আবারও সীমান্তে বিএসএফের পুশইন; ৭০ বাংলাদেশী ফেরত

সিলেট ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে গভীর রাতে ৭০ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার (১১ জুন) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ভোর পর্যন্ত এই পুশ-ইনের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি ও মিনাটিলা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে মোট ৫৩ জনকে এবং সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নোয়াকোট সীমান্ত দিয়ে আরও ১৭ জন বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

জৈন্তাপুরের শ্রীপুর বিওপি’র আওতায় ২টি পরিবারের ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৯ জন শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন কুড়িগ্রাম জেলার এবং ১০ জন লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা। মিনাটিলা বিওপি কর্তৃক আটককৃত ২৩ জনের মধ্যে রয়েছে ৯ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৭ জন শিশু। এরা সবাই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা।

অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ বিওপি ২টি পরিবারের ১৩ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৬ জন শিশু। সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।

এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নোয়াকোট বিওপির আওতাধীন ছনবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ৪টি পরিবারের ১৭ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইন করা হয়। এদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৮ জন শিশু রয়েছে। এরা সবাই লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা।

বিজিবি সূত্র জানায়, পুশ-ইন হওয়া এসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করছিলেন। বিজিবি তাদের আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, “সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি টহল জোরদার করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”




আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল বলা যায় কি না: ড. ইউনূসের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগকে আদৌ রাজনৈতিক দল বলা যায় কি না— এমন প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, গত বছরের জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস পার হয়ে গেলেও দলটির কেউ এখনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। বরং ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার (১১ জুন) যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের রয়্যাল ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে ড. ইউনূস এসব মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি জানান, আগামী জুলাইয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে এবং এ ঘোষণার ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংলাপে উপস্থিত একজন অংশগ্রহণকারী ড. ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, “এপ্রিলের শুরুতে আপনারা নির্বাচন ঘোষণা করেছেন। সেনাবাহিনী ও কিছু রাজনীতিক এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে অনেকেই বলছেন নির্বাচনটি সুষ্ঠু হবে না।”

উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, “আমার মতে, এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন। সময়টি সঠিক এবং জনগণ প্রস্তুত। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা প্রকৃত অর্থে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। নতুন ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে যারা ভোটার হয়েছেন তারা প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং নতুন বাংলাদেশের জন্য ভোট হবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আমরা এই অঙ্গীকার করেছি যে, যেসব তরুণরা জীবন দিয়েছে, তাদের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ব। এজন্য আমরা সংস্কার, অপরাধীদের বিচার এবং নির্বাচন — এই তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব কমিশনের সুপারিশগুলো দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সংসদ, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও সিভিল সার্ভিসসহ সবকিছুতেই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংলাপে উপস্থিত এক প্রশ্নকারী জানতে চান, কেন সংস্কারের জন্য সরাসরি ভোটারদের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে না এবং কেন কমিশন বা রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “ভোটের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন আনাটা অবশ্যই উত্তম হতো, কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সব দলের সম্মতিতে সুপারিশগুলো গ্রহণ করা এবং পরে জুলাই ঘোষণাপত্রে সেগুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করা। সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলগুলোর মধ্যে একমত হওয়া কঠিন কাজ হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যেন সর্বসম্মত ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়।




পটুয়াখালীতে বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় সাইদ মোল্লা (৬০) নামের এক বৃদ্ধ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের কালিকাপুর ইউনিয়নের করমজাতলা পায়রা ফিলিং স্টেশন এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সাইদ মোল্লা সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীখালী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা কুয়াকাটাগামী ‘ডলফিন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস করমজাতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোকে ওভারটেক করার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাইদ মোল্লাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি বাসের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, করমজাতলা এলাকায় প্রায়ই বেপরোয়া গতির যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সেখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আবারও বাড়ছে করোনা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ সতর্কবার্তা

বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। বিভিন্ন দেশে চিহ্নিত হচ্ছে ভাইরাসটির নতুন নতুন সাব ভ্যারিয়েন্ট। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (১১ জুন) দুপুরে অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সে কারণে দেশের সকল স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইএইচআর ডেস্কগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৭টি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো হলো:

১. জনসমাগম এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক পরুন।
২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করুন।
৩. হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখুন (কনুই বা টিস্যু ব্যবহার করে)।
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
৫. সাবান ও পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করবেন না।
৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশে পুনরায় করোনা শনাক্তে আরটি-পিসিআর ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে করোনার টিকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন, হাই-ফ্লো ক্যানুলা, আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় কেএন-৯৫ মাস্ক, পিপিই, ফেস শিল্ডসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এসব প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নতুন করে বড় বিপর্যয় এড়াতে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার সময় হয়ে আসছে :ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফেরার পথে আছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১০ জুন) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “তারেক সাহেব নিশ্চয়ই দেশে ফিরবেন, অবশ্যই দেশে ফিরবেন।” তবে তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ তিনি জানাননি।

এর আগে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হয়েছে। বৈঠকটি দলীয় সংকট নিরসনে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন মহাসচিব।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নত বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, উনি আগের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক ভালো আছেন। ডাক্তাররাও তাই বলছেন। তিনি অনেক ভালো আছেন।”

বিএনপি মহাসচিবের এই ঘোষণা দলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।




সিঙ্গাপুরের কাছে হার, এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন ভাঙলো ঢাকাতেই

ঢাকায় ১০ বছর পর ফিরে এসে আবারও বাংলাদেশকে হতাশ করলো সিঙ্গাপুর। ২০১৫ সালের মতো এবারও একই ব্যবধানে (২-১) জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পূর্ব এশিয়ার এই দল। মঙ্গলবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে গ্রুপ শীর্ষস্থান হারালো বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ায় তারা। এরপর ৬৮ মিনিটে রাকিব হোসেনের গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় হামজা-শামিতদের।ম্যাচ ঘিরে জাতীয় স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সমর্থকদের উৎসাহে ভরপুর ছিল লাল-সবুজের যোদ্ধারা। কিন্তু ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে ৪৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা থ্রো থেকে গোল করে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল পাঞ্চ করলেও ঠিকমতো পোস্টে ফিরতে না পারায় বলটি সংইয়ংয়ের পায়ে পড়ে যায় এবং তিনি নিখুঁত প্লেসিংয়ে গোল করেন দ্বিতীয়ার্ধে (৫৮ মিনিটে) ইকশান ফান্দির শটে ব্যবধান ২-০ করে ফেলে সিঙ্গাপুর। মিতুলের ক্লিয়ার করা বল ধরে গোল করেন ফান্দি।

৬৮ মিনিটে হামজা চৌধুরীর বাড়ানো বল থেকে নিচু শটে গোল করেন রাকিব হোসেন। সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে চলে যায়। ২-১ ব্যবধানের পর বাংলাদেশের আক্রমণের ধার বাড়লেও আর গোলের দেখা মেলেনি।ম্যাচের শেষ দিকে কর্নার থেকে হেড করেছিলেন শাহরিয়ার ইমন। বল লাগে ক্রসবারে। সেই সঙ্গে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রত্যাশার অধ্যায়।

কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ম্যাচের আগে আশা করেছিলেন ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ থেকে ইতিবাচক ফল নিয়ে গ্রুপে এগিয়ে যেতে। ভারতের সঙ্গে শিলংয়ে ড্র করার পর এশিয়ান কাপে খেলার ৪৫ বছরের স্বপ্নটা উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুরের কাছে হারে তা অনেকটাই নিভে গেল।

মিতুল মারমা (গোলরক্ষক), তপু বর্মন, তারিক কাজী, সাদ উদ্দিন, শাকিল আহাদ তপু (আল-আমিন), হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, কাজেম শাহ (শাহরিয়ার ইমন), মো. রিদয় (আল-আমিন), ফাহামিদুল ইসলাম (ফাহিম), রাকিব হোসেন। গ্রুপের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ভারত হেরে যাওয়ায় সিঙ্গাপুর উঠে গেছে শীর্ষে। এবং বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে।

এই হারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান কাপে খেলার আশা এখন কঠিন সমীকরণে বন্দি। আগামী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই হতে পারে একমাত্র ভরসা।




নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা বন্ধ, চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে চলছে শুধু জরুরি কার্যক্রম

দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র সরকারি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। ২৮ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির সকল বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যদিও এক সপ্তাহ পর সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে জরুরি বিভাগ।

আজ মঙ্গলবার (১০ জুন) পর্যন্ত শুধুমাত্র জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও অন্যান্য বিভাগগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম জানিয়েছেন, “আজ ৬৬ জন রোগীকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে ৮টি জরুরি অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে।”

হাসপাতালের অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জুলাই আন্দোলনে আহতদের অবস্থান। জানা গেছে, বর্তমানে ওই আন্দোলনে আহত তিনজন রোগী হাসপাতালের চতুর্থ তলায় অবস্থান করছেন। তারা ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে রেখেছেন, ফলে চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কথা বলতে চাইছেন না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জুলাই আহতদের আগমন-বহির্গমন সম্পর্কে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। তারা কারা আসছেন বা যাচ্ছেন, সেই তথ্যও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

এদিকে এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। হাসপাতালটি কার্যত রোগীশূন্য অবস্থায় থাকলেও জরুরি সেবার জন্য সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে, যাতে গুরুতর রোগীরা অন্তত প্রাথমিক সেবা পেতে পারেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও সাধারণ রোগীরা।




লন্ডনে  বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

আগামী ১৩ জুন লন্ডনে বৈঠকে বসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকটি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। তিনি জানান, লন্ডনে ড. ইউনূস যে হোটেলে অবস্থান করবেন, সেখানেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির অবস্থান ইতোমধ্যেই পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা জানালেও, সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় এগিয়ে এনে ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে বিএনপি বরাবরই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছে। ফলে আসন্ন বৈঠকটি দুই পক্ষের মতপার্থক্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অংশ নিতে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।