ড.মুহাম্মদ ইউনুসের যুক্তরাজ্য সফরের মধ্যে দিয়ে যে পাঁচটি অর্জন হলো বাংলাদেশের

চার দিনের সরকারি সফর শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত ৯ জুন ঢাকা থেকে লন্ডনে পৌঁছানোর পর এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি অর্জনের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে সফরের অর্জনগুলো তুলে ধরেন প্রেস সচিব। সেখানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।

প্রেস সচিবের উল্লেখিত পাঁচটি অর্জন নিম্নরূপ:

১. ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে বৈঠক ও পুরস্কার অর্জন:
রাজা চার্লসের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার গ্রহণ করেন ড. ইউনূস। একইসঙ্গে ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে তার একান্ত ৩০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস সচিবের মতে, এই অর্জন জুলাই অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের চলমান যুগান্তকারী পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক।

২. ইতিহাসের অংশ ঐতিহাসিক বৈঠক:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নেতার মধ্যে এই ঐতিহাসিক বৈঠককে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য ‘গেম ওভার’ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন শফিকুল আলম।

৩. বৈদেশিক সম্পদ জব্দ:
যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক সহকারীর ৩২০টি সম্পত্তি জব্দ করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড। এনসিএর মতে, এটি তাদের ইতিহাসে এককভাবে সর্ববৃহৎ সম্পদ জব্দের ঘটনা। প্রেস সচিবের ভাষায়, এটি দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের জন্য কঠিন বার্তা এবং বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ইউনূস সরকারের কার্যক্রমের অংশ।

৪. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসারিত:
ব্রিটিশ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়েছে। প্রেস সচিব আশা প্রকাশ করেন, এসব বৈঠকের ফলে বৈশ্বিক সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরও নিবিড় সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

৫. রোহিঙ্গা সংকটে অগ্রগতি:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রশ্নেও কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে বলে জানান শফিকুল আলম।

প্রধান উপদেষ্টার এই সফরকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




ড. ইউনূস-তারেক বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে যা বললো এনসিপি

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন, মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং বিচারের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পরই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন দলের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে দলটি। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের আস্থা অর্জনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপি।

তবে এনসিপি মনে করে, ওই আলোচনায় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার তুলনায় বিচার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থাকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করে দলটি। এনসিপির অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে সরকার শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের দাবি ও অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বারবার প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন, ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর এবং বিচারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলে তা গণঅভ্যুত্থানকে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত করবে। এতে রাষ্ট্র বিনির্মাণের জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হবে বলে উল্লেখ করে এনসিপি।

এনসিপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের বিষয়গুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ রচনা ও কার্যকর করার মাধ্যমে আসন্ন জুলাইকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।




পটুয়াখালীর চারাবুনিয়ায় দা দিয়ে গলা কেটে সৎমা ও দাদিকে হত্যা

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চারাবুনিয়া গ্রামে সৎমা সাহিদা বেগম (৪৮) ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবি (১২৫) কে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন আল-আমিন (২৭) নামের এক যুবক। গতকাল (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে।

নিহত সাহিদা বেগম ছিলেন আল-আমিনের সৎমা এবং কুলসুম বিবি তার দাদি। ঘাতক আল-আমিন ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাক খানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে আল-আমিন নিখোঁজ হন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের খোঁজাখুঁজির পর ৩-৪ দিন আগে তাকে পাওয়া যায় এবং বাড়িতে আনা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আল-আমিনের মানসিক অসুস্থতা ছিল, এবং তাকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে তার বড় ভাই পরিচয়পত্রের কাগজপত্র আনতে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের কাছে যান এবং পিতা রাজ্জাক খান ছিলেন বাইরে কাজে।

এই সুযোগে আল-আমিন ঘরে একা পেয়ে তার সৎমা সাহিদা বেগম ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “দুইটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা বলছেন, “মানসিক রোগীর চিকিৎসায় পরিবারের অবহেলা ছিল। যদি আগে থেকেই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হতো, তাহলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর কালাইয়ায় হামলার প্রতিবাদে বিএনপির মানববন্ধন

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে বিএনপির চার নেতার ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার দাবি করে আজ শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় ইউনিয়নের মধ্য কপুরকাঠি গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রিজভি, রিয়াজ হোসেন বাদশা, মো. জসিম উদ্দিন পঞ্চায়েত, মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল ও আতাহার উদ্দিন সিকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, “প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে অথচ এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।”

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন রাত ৯টার দিকে মধ্য কপুরকাঠি গ্রামের মোকলেস হাওলাদারের বাড়ির সামনে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হালিম ও মোকলেসের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জিয়া সৈনিক দলের সদস্য মো. আরিফ হাজি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন সবুজ, কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম রিজভি এবং ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ঈমাম হোসেনকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই আজকের মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি হামলাকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা আর মুখ বুজে সহ্য করব না।”

পটুয়াখালীর রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। হামলা, মামলা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ জনগণের মাঝেও উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ড. ইউনূসকে কলম ও বই উপহার দিলেন তারেক রহমান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক চলাকালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিনটি উপহার দেন তিনি। উপহারগুলোর মধ্যে ছিল একটি কলম ও দুটি বই।

শুক্রবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পর শেষ হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে উপহারের বিষয়টি জানান।

শফিকুল আলমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের দেওয়া উপহারগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ফাউন্টেন পেন, গ্রেটা থুনবার্গের লেখা ‘No One Is Too Small to Make a Difference’ এবং ‘Nature Matters’ (সম্পাদনা করেছেন মোনা আর্শি ও ক্যারেন ম্যাকার্থি উলফ) বই দুটি।

এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে বাসা থেকে রওনা হয়ে বৈঠকের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান তারেক রহমান। হোটেলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।




তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা ড. ইউনূসের

আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংস্কার ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।




কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করলেন ড. ইউনূস

ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

২০২৪ সালের জুন মাসে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন, যা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা ও স্বীকৃতি প্রদান করে। বৃহস্পতিবার লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপপ্রেস সচিব আজাদ মজুমদার।

পুরস্কার গ্রহণের আগে প্রধান উপদেষ্টা বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক ছিল একেবারে ব্যক্তিগত।

বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. ইউনূস রাজাকে তার সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রায় ৩০ মিনিটের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, “এই পুরো সফরের মধ্যে আমি বলব, এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যেহেতু রাজা চার্লস বহুদিন ধরে প্রফেসর ইউনূসকে চেনেন, সেহেতু নানা বিষয় নিয়ে তাদের খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।”

বৈঠক শেষে রাজা ও রাণীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি ছবি উপহার হিসেবে ড. ইউনূসকে প্রদান করা হয়। প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টার জন্য এটি এক বড় সম্মান।

এর আগে রাজা চার্লস বাকিংহাম প্যালেসে ব্যক্তিগতভাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে সাক্ষাতের জন্য স্বাগত জানান।




রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে মুখোমুখি হচ্ছেন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান

যুক্তরাজ্য সফররত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে আজ লন্ডনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) শহরের পার্ক লেনের হোটেল ডোরচেস্টারে এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লন্ডনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এই বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফরমেট নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “যেহেতু তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের নেতা, তাই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকটি হতে যাচ্ছে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে যে হোটেলে অবস্থান করছেন, সেখানেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলতে পারে।

সূত্র জানায়, আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ‘জুলাই চার্টার’সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কৌশল নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হবে।

এর আগে লন্ডনে বৈঠকের জন্য ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য হিসেবে উভয়পক্ষই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




টিউলিপের সঙ্গে দেখা করছেন না প্রধান উপদেষ্টা ; হতাশা প্রকাশ টিউলিপের

যুক্তরাজ্যে চার দিনের সফরে থাকা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জানান, টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এখন আইনি প্রক্রিয়াধীন। তাই সাক্ষাৎ করলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি আদালতের বিষয়। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে মামলা চলার মতো যথেষ্ট উপাদান আছে কিনা। প্রসিকিউটরদের আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত কিনা, সে প্রশ্নের উত্তরে ইউনূস জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং কমিশন সঠিক কাজটিই করছে।”

এদিকে যদি টিউলিপ বাংলাদেশে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে প্রত্যর্পণ চাওয়া হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “যদি তা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়, তবে অবশ্যই।”

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বলেন, “মিডিয়ার কাছে কোনো প্রমাণ ছাড়াই, কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছড়ানো হচ্ছে। ইউনূস সে প্রতিহিংসার কেন্দ্রে রয়েছেন। যদি এটা প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া হতো, তবে তারা আমার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, ঢাকায় এমন এক ঠিকানায় ভুয়া চিঠিপত্র পাঠাত না, যেখানে আমি কখনও থাকিনি।”

টিউলিপ আরও বলেন, “আমি আশা করি তিনি এখন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার অভ্যাস বন্ধ করবেন এবং আদালতকে প্রমাণ করার সুযোগ দেবেন যে তদন্তের সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং যুক্তরাজ্যের সংসদের একজন গর্বিত সদস্য।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নৈতিক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন। প্রতিবেদনে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তবে আত্মীয়তার কারণে সম্ভাব্য সুনামের ক্ষতির বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যার একটি বড় অংশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে। এ অভিযোগের তদন্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্রিটিশ আইনজীবী নিয়োগ করেছে।

ড. ইউনূস জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরকার এই তদন্তে অত্যন্ত সহযোগিতামূলক। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি সমন্বয় কেন্দ্র (আইএসিসিসি) বাংলাদেশের অনুসন্ধানে সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে।

তবে সফরকালে ড. ইউনূসের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বৈঠক হয়নি। এ বিষয়ে ইউনূস বলেন, “আমি জানি না আমি হতাশ নাকি তিনি হতাশ। এটা এক প্রকার সুযোগ হারানো। বাংলাদেশে এলেই হয়তো পরিস্থিতি বোঝা যেত।”

স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার পেছনে ডাউনিং স্ট্রিট কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমন কোনো ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছি বলে মনে হয় না। সম্ভবত তিনি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত ছিলেন।”




ভারতে বিমান দুর্ঘটনা ; যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা

ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।  যেখানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে পাঠানো শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, আহমেদাবাদে ২৪২ জন যাত্রীবাহী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূস অত্যন্ত মর্মাহত। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সহানুভূতি ও সমবেদনা।”

তিনি আরও বলেন, “এই দুঃসময়ে আমরা ভারতের জনগণ ও সরকারের পাশে আছি। প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি ৮২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পরই আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন।