ডেঙ্গু তথ্য ঘাটতিতে বিপাকে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য না থাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সীমিত তথ্যের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের হিসাব না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের চিত্র ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
গত রোববার বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা যান পটুয়াখালীর গলাচিপার এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। একই দিন ঢাকা নেওয়ার পথে বরগুনার এক শিশু মারা যায়। কিন্তু বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিবেদনে ওই মৃত্যুর কোনো উল্লেখ নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে ৮ জন মারা গেছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, শুধু বরগুনা জেলাতেই মৃতের সংখ্যা ১৩ জন।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চেয়ে অন্তত দুই থেকে তিনগুণ রোগী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। সঠিক তথ্যের চেয়ে প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সংখ্যা জানাতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, “প্রত্যেক জেলার সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই তা পাঠায়নি।”
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৬৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০৭ জন। সর্বাধিক আক্রান্ত বরগুনা জেলায় এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৩ জন।
তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহ। বরগুনার পরিবেশ কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবারেই আক্রান্ত রয়েছে। কিন্তু অনেকেই আর্থিক কারণে হাসপাতালে যায় না, কেউ কেউ ঢাকায় চলে যায় চিকিৎসার জন্য।”
বেসরকারি হাসপাতালগুলো সঠিক তথ্য না দিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








