রোববার দল নিবন্ধনের শেষ দিন, নতুন আবেদন ৭০টি

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে রোববার (২২ জুন)। ১৯ জুন পর্যন্ত প্রায় ৭০টি দল নতুন দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

শেষ দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণদল, বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি, বিএজেপিসহ বেশ কিছু দল আবেদন জমা দিতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন গত ১০ মার্চ নতুন দল নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, যেখানে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন initially ২০ এপ্রিল ছিল। প্রথম দফায় ৬৫টি দল আবেদন করলে, এনসিপিসহ ৪৬টি দল সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন করায় ইসি ২২ জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে।

এখন পর্যন্ত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাহজাহান সিরাজ), বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি, জনতার কথা বলে, বাংলাদেশ শান্তির দল, বাংলাদেশ নাগরিক আন্দোলন পার্টি, বাংলাদেশ জেনারেল পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি, সংরক্ষণশীল দল (বিসিপি), বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন, বাংলাদেশ জনগণের দল (বাজদ), স্বাধীন জনতা পার্টি, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি (বাজাপা), ফরোয়ার্ড পার্টি, বাংলাদেশ মুক্তি ঐক্য দলসহ আরও বেশ কিছু দল আবেদন করেছে।

বর্তমানে দেশে ৫৪টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
  • বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  • জামায়াতে ইসলামী
  • গণতন্ত্রী পার্টি
  • জাতীয় পার্টি
  • জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)
  • বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)
  • বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি
  • বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন
  • গণফোরাম
  • বাংলাদেশ কংগ্রেস
  • ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
  • ইসলামি ঐক্যজোট
  • বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)

এছাড়া আরো বিভিন্ন দল দেশে নিবন্ধিত রয়েছে।




সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশ শান্তি স্থাপন সম্ভব নয় : ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া দেশের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “দেশে ভোটারবিহীন বা ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন হলে তার ফলাফল অতীতের মতোই হবে।”

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে শনিবার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের আরও বলেন, “সরকারকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশ এগোবে।”

তিনি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “দেশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন জরুরি, যেখানে আপার হাউস নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত হবে এবং কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।”

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনার হাতে ইতোমধ্যে অনেক সম্মান রয়েছে, আপনি চাইলে সামনে আরও একটি নোবেল পেতে পারেন। বিচ্যুত বাংলাদেশকে আপনি সঠিক পথে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখুন।”

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী বরিশাল ও অন্যান্য জেলার নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশে বৈষম্য ও বিশেষ দলের প্রতি অনুরাগ জনগণ মেনে নেবে না। জনগণ ইসলামী শাসন চাইছে, তাই জামায়াতকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট হতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




এনবিআর চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে ফের কলমবিরতির ঘোষণা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকে অপসারণ এবং এনবিআর বিলুপ্তির বিষয়ে জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধনে গঠিত কমিটিকে অগ্রহণযোগ্য দাবি করে ফের কলমবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ

শনিবার (২১ জুন) বিকেলে এনবিআর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই ঘোষণা দেন।

সংগঠনটির দাবি, এনবিআর সংস্কারে বড় বাধা হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। তাকে অবিলম্বে অপসারণ না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নেতারা জানান, রোববার (২২ জুন) বাজেট পাসের কার্যক্রম থাকায় সোমবার (২৩ জুন) থেকে কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সে দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার সব দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআর কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতিতে অংশ নেবেন। অন্যান্য জেলায় অবস্থিত দফতরগুলোতে কর্মীরা একই সময় নিজ নিজ দফতরে অবস্থান ও কলমবিরতি পালন করবেন।

এর আগে সরকার গত ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ—রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ—গঠনের ঘোষণা দেয়। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এর প্রতিবাদে একাধিক কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরে সরকার ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আশ্বাস দেয় এবং ১৯ জুন গঠন করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি। তবে এই কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, এই কমিটির সদস্যরা সরকারের অনুগত এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম নয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




তিন জাতীয় নির্বাচনের সিইসি ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বিএনপি

বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করবে।

শনিবার (২১ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, রোববার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করতে যাচ্ছেন বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

শায়রুল কবির খান বলেন, “দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব। কারণ, এ নির্বাচনগুলো ছিল বিতর্কিত ও অবৈধ।”

এর আগে, গত সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনটি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “যারা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ মামলার লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেখ হাসিনাকে বিচারমুখী দেখতে চাই: বিবিসিকে ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং তিনি চান, শেখ হাসিনা যেন বিচারকের সামনে হাজির হন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক পদ্ধতি ব্যবহার করব।”

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে নিয়মিতভাবে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।

গত ১২ জুন যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণের আগে বিবিসি সাংবাদিক রাজিনি বৈদ্যনাথনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তাকে (শেখ হাসিনা) ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করব। যেভাবে একজন অভিযুক্তকে ফিরিয়ে আনা হয়, আমরা সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা নেই কাউকে ধরে আনার।”

আওয়ামী লীগের সমর্থকদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তুলনা করাটা লজ্জাজনক। যারা এই তুলনা করে, তারা বাংলাদেশের বাস্তবতা বোঝে না।”

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচারের পথে চলছে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঢাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে অনীহা, চলবে অবস্থান ও কর্মসূচি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বন্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এক ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক এবং অনৈতিক বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থী তৌহিদুল আবেদীন তানভীর বলেন, “পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমাদের রাখা হয়েছে। এসব ভবনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই এখন আমাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করব এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

এর আগে, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল করেন ঢামেক শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে বিকেলে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং আগামীকাল ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “কলেজের চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সব শিক্ষার্থীকে ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।” তবে পেশাগত পরীক্ষার্থীদের ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই বন্ধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হঠাৎ করে হল ত্যাগের নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন দূরের শিক্ষার্থীরা। ঈদের ছুটি শেষে appena ক্যাম্পাসে ফিরে আসা অনেক শিক্ষার্থীর এখন নতুন করে বাসস্থানের চিন্তায় উদ্বেগ বেড়েছে।

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “বিকল্প ব্যবস্থা না করে হলে তালা দেওয়ার নির্দেশ মানে আমাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন দুটোই হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া। আমরা আন্দোলনে আছি এবং থাকব।”

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি
১. দ্রুত নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের জন্য বাজেট অনুমোদন।
২. নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা।
৩. নতুন একাডেমিক ভবনের বাজেট অনুমোদন।
৪. পৃথক বাজেট ও তার দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
৫. সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু আবাসন নয়, নিরাপদ ও টেকসই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে না। এজন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




 বাংলাদেশ টেস্ট অভিযান, ড্র এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু

 গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ড্র করে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের সবকটি উইকেট নিতে না পারায় ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের।

প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে ৪৯৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। শান্তর ১৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং মুশফিকের ৮৭ রানে ভর করে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে ব্যাটিং স্বর্গখ্যাত গলে শ্রীলঙ্কাও দেখিয়েছে প্রতিরোধ। দিমুথ করুণারত্নে ও ধনঞ্জয় ডি সিলভার হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে স্বাগতিকরা ৪৮৫ রান তোলে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসেও শান্ত ছিলেন অনবদ্য। আবারও সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তাকে সঙ্গ দেন নাইম হাসান। মুশফিক ৪৯ রানে রানআউট হলেও শান্ত পূর্ণ করেন শতক। ২৮৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৬ রান, হাতে ছিল ৩৭ ওভার।

লঙ্কানদের শুরুটা ছিল আগ্রাসী, তবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা। ষষ্ঠ ওভারে লাহিরু উদারা স্টাম্পড হন লিটন দাসের হাতে, এরপরের বলেই নিশাঙ্কা ফেরেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর আর মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করলে দুই অধিনায়কই ড্র মেনে নেন।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল, নাইম, মিরাজ ও শরিফুল একটি করে উইকেট শিকার করেন। আর ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন শান্ত।

এই ড্রয়ের মাধ্যমে ২০২৫-২৭ চক্রের আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী সপ্তাহে।




বাউফলে জমি বিরোধে নারীর মৃত্যু

পটুয়াখালীর বাউফলে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত সেতারা বেগম (৬০) অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ঝিলনা গ্রামের বাসিন্দা সেতারা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী নাসির মোল্লা, বশির মোল্লা ও তাদের ঘনিষ্ঠদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ বিরোধের জেরে হঠাৎ করে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেতারা বেগমের ওপর হামলা চালায়। সেসময় তিনি বাড়ির আঙিনায় অবস্থান করছিলেন।

হামলায় গুরুতর জখম হওয়ায় প্রথমে তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের ছেলে কাওছার হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিপক্ষ আমাদের জমি দখলের জন্য আগেও হুমকি দিয়েছিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এদিকে এলাকায় নিহতের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে। গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে রোগী সামলাতে

বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সদর উপজেলা ছাড়িয়ে অন্যান্য উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়ছে এডিস বাহিত এই রোগ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,১৮৮ জনে

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে বরগুনা সদরেই ৭৮ জন এবং পাথরঘাটায় ৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৪১ জন

এর মধ্যে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২০৬ জন, পাথরঘাটায় ১০ জন, তালতলীতে ৯ জন, বামনায় ৮ জন, আমতলীতে ৪ জন ও বেতাগীতে ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটাপন্ন। ধারণ ক্ষমতার প্রায় চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুপ্রিয়া হাওলাদার বলেন, “এখানে হাঁটারও জায়গা নেই। আমাদের কর্মপরিধি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। চিকিৎসক-নার্স সংকটে আমরা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে রয়েছি।”

হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মুর্শিদ শুভ বলেন, “রোগীর চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। ছুটির দিনেও নিয়মিত রাউন্ড দিতে হচ্ছে। সচেতনতা না বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ জানান, “অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন যাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেওয়া যেত। এতে হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।”

ডেঙ্গুতে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৫ জন এবং জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত দুই মাসে ১৫ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত ১২ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্সকে বরগুনায় পদায়ন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ৫ জন নার্স যোগদান করেছেন। বাকিরা এখনো কাজে যোগ দেননি। সিভিল সার্জনের ভাষ্য, বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।




এনসিপি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৬ বছর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ৬ বছর থাকতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২০ জুন) দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ আহমেদ সিফাতের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সারা দেশের কাউন্সিলদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। কাউন্সিলর হবেন প্রত্যেকটা জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া, পার্টির সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি হতে পারবে না বলেও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।