বরগুনায় ৬ কোটির সেতু এক বছরের বেশি সময় ধরে অকেজো, ঝুঁকিতে ২০ গ্রামের মানুষ

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া বাজার সংলগ্ন গুলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার গার্ডার সেতুটি আজও জনসাধারণের কাজে আসছে না। নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় ১১ মাস আগে, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।

ফলে পাশের তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রতিদিন বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী মই বেয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করছে—যা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মে মাসে বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও ত্রিপুরা জেভিকে সেতুর নির্মাণকাজ দেওয়া হয়। তারা মূল কাঠামোর কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের কোনো কাজ না হওয়ায় এটি এখন কার্যত অচল পড়ে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম পাশে পূর্ব খেকুয়ানী গ্রামের একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক রয়েছে, যা সেতুর উচ্চতার কারণে সংযোগ তৈরি করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ কারণে আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও প্রকল্প অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

এই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন গুলিশাখালী, কুকুয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চলাচল করেন—যাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীরা। কিন্তু সেতু কার্যকর না হওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ, রোগীবাহী যানবাহন পারাপার সম্ভব নয়, এমনকি মরদেহ পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।

অস্থায়ী কাঠের মই দিয়ে পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেকে রাতের বেলায় চলাচল করতে ভয় পান। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

পক্ষঠিকাদার মো. কাওছার মিয়া বলেন, “আমরা মূল সেতুর কাজ ঠিকঠাকভাবে সময়মতো শেষ করেছি। সংযোগ সড়ক আলাদা প্রকল্পের আওতায় পড়ে।”

এদিকে আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, “সেতুর উচ্চতা বেশি হওয়ায় সরাসরি সংযোগ দেওয়া গেলে পাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য আন্ডারপাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নকশা ও বাজেট অনুমোদনের জন্য প্রকল্প পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, ৬ কোটির বেশি টাকা খরচ করে নির্মিত সেতুটি যেন জনকল্যাণে কাজে আসে—এটাই তাদের প্রত্যাশা। তারা চান, অবিলম্বে সংযোগ সড়ক বা আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে এই অব্যবস্থাপনার অবসান হোক।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বছরের পর বছর পড়ে থাকলে শুধু অর্থের অপচয় নয়, জনদুর্ভোগও বাড়বে বলে তারা সতর্ক করছেন।


“এমএ/চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম/”




আওয়ামী লীগ-বিএনপি একই ধারার দল: মুফতি ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দলই একই চরিত্র বহন করে। শাসক পরিবর্তন হলেও দেশের জুলুমের চিত্র অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

রোববার লালমনিরহাটের কালেক্টর মাঠে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আওয়ামী লীগ দোষী হলে, একই অপরাধে বিএনপিও দোষী হবে। শপথ ছাড়াই ক্ষমতা দখল, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ সবই চলমান। শুধু শাসকের মুখ বদলেছে, পদ্ধতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

তিনি বলেন, পুঁজিবাদ ধনীকে আরও ধনী করে, গরীবকে আরও গরীব করে। অথচ ইসলাম ধনীদের মধ্যে ভারসাম্য আনে এবং গরীবদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করে। গত ১৬ বছরে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যার দায় সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ঘামে গড়া এই টাকাই লুট হয়েছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ, অথচ এই জনশক্তিকে কাজে লাগানো হয়নি। বরং তাদের মধ্যে মাদক, হিংসা, হানাহানি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার চেয়ে একজন ওয়ার্ড নেতার আয় বেশি—এটাই দেশের বাস্তব চিত্র। ৫ আগস্টের পর অনেকেই রাতারাতি ধনী হয়ে গেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ আজও নিঃস্ব।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ইসলাম কাউকে জোর করে কিছু করবে না বরং অপরাধের পরিবেশই থাকবে না। তিনি বলেন,
“হাতপাখা প্রতীক বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে, শান্তি পৌঁছাবে ঘরে ঘরে।”

সমাবেশে লালমনিরহাটের তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়:

  • লালমনিরহাট-১: মুফতি ফজলুল করীম শাহরিয়ার
  • লালমনিরহাট-২: মুফতি মাহমুদুর রহমান
  • লালমনিরহাট-৩: আলহাজ্ব মোকসেদুল ইসলাম

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হাসিবুল ইসলাম ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমেদ মানসুর।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




আবারও কলম বিরতিতে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা আবারও কলম বিরতি শুরু করেছেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানকে অপসারণ, ‘গোলামী আইন’ খ্যাত অধ্যাদেশ বাতিল এবং কর্মকর্তাদের ‘হয়রানিমূলক’ বদলি বন্ধের দাবিতে সোমবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সকাল থেকে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী হাজির হন। অনেকে প্রতিবাদস্বরূপ কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—
“গোলামী আইন বাতিল কর”, “বদলির নামে প্রহসন মানি না”, “জুলুমবাজি বন্ধ কর” ইত্যাদি।

রবিবার এনবিআরের আয়কর বিভাগে উপকর কমিশনার পর্যায়ে পাঁচ কর্মকর্তার বদলিকে আন্দোলন দমনের চেষ্টা বলেই দাবি করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী বদলির পর যোগদানের জন্য ৫ কর্মদিবস সময় দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হয়নি।

গত ১২ মে সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর এনবিআর কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতির ডাক দেন। সরকার তখন জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এটিকে স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কলম বিরতি স্থগিত হলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা চলমান রাখার ঘোষণা দেয় সংস্কার পরিষদ।

সরকার গত ২০ জুন এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার সমন্বয়ের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। তবে এই কমিটিকে ‘একপেশে’ বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।

শনিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব অতিরিক্ত কর কমিশনার মিজ সেহেলা সিদ্দিকা জানান, চেয়ারম্যান অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




সাবেক এমপি তুহিন গ্রেফতার, এলাকাবাসীর বাধা

ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

রবিবার গভীর রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের আওনা গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি সোমবার সকালে নিশ্চিত করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভুঁইয়া।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার
ডিবির ওয়ারী বিভাগের একটি দল সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক এই এমপিকে গ্রেফতার করে। তবে গ্রেফতারের সময় চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডিবি পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে এবং গ্রেফতার ঠেকানোর চেষ্টা করে।

স্থানীয় নারী-পুরুষ সাবিনা আক্তার তুহিনকে ঘিরে রাখেন এবং দাবি করেন তিনি নির্দোষ। ভিডিওতে সাবেক এমপি তুহিনকেও সমর্থকদের উদ্দেশে শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। তিনি অনুরোধ করেন, “আমি আইন মেনে চলি, আপনারা দয়া করে বাধা দেবেন না।”

ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারের পেছনে নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং তুহিনের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




একীভূত হচ্ছে ৫ ইসলামী ব্যাংক, আসছে ‘সরকারি মালিকানার সুপার ব্যাংক’

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোর ফরেনসিক অডিট ও অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR) সম্পন্ন হয়েছে এবং একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর ব্যাংকিং কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

যেসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে
এদের মধ্যে রয়েছে :

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
  • ইউনিয়ন ব্যাংক
  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
  • এক্সিম ব্যাংক

এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। এক্সিম ব্যতীত বাকিগুলোতে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে ব্যাংকগুলোর এমডি ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ফরেনসিক অডিটের প্রতিবেদন চলতি মাসেই প্রকাশ পাবে। এরপর, শ্রেণিবিন্যাস, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধনের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে একীভূত প্রক্রিয়া শুরু হবে জুলাই মাস থেকে এবং অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। একীভূত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে রাখার জন্য খারাপ ঋণগুলো হস্তান্তর করা হবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (AMC) কাছে। এ ছাড়া সরকার ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা মূলধন জোগান দেবে। ব্যাংকের শাখা কমানো, জনবল হ্রাস ও পরবর্তী ধাপে বেসরকারি খাতে শেয়ার ছাড়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক একীভূত করে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় যদি সুশাসন, খেলাপি ঋণ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মূল কারণ দূর না করা হয়। ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংক একত্র করলে শক্তিশালী ব্যাংক তৈরি হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে, প্রাথমিকভাবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হবে না এবং বেতনও কমানো হবে না। তবে ভবিষ্যতে কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসক নিয়োগের চিন্তা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর বর্তমান চিত্র

  • শাখা সংখ্যা: ৭৭৯
  • উপশাখা: ৬৯৮
  • গ্রাহক সংখ্যা: প্রায় ৯২ লাখ
  • মোট ঋণ: ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা
  • মোট আমানত: ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
  • খেলাপি ঋণ: ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা
  • প্রভিশন ঘাটতি: ৭৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, একীভূতকরণ কার্যকর করতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”




‘গায়েবি মামলা বিনিয়োগে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে’ : হোসেন জিল্লুর

দেশে গায়েবি মামলার সংস্কৃতি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, পুরো সমাজজুড়ে ‘সন্দেহের পর্দা’ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মানুষ হাত গুটিয়ে বসে থাকার অবস্থায় আছে।

রোববার (২২ জুন) রাজধানীর গুলশানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

পিপিআরসি (Power and Participation Research Centre) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর বলেন, “চট্টগ্রামে একজন ব্যক্তির নামে হত্যা মামলাসহ ১১০ আসামির তালিকায় ৯৫ নম্বরে নাম আছে—এটাই এখন বাস্তবতা। এমনভাবে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে যে, কে দোষী আর কে নির্দোষ, তা আলাদা করা যাচ্ছে না।”

তিনি আরো বলেন, “এখন রাগ করার সময়—এই রাগ পবিত্র রাগ। সমাজ বদলাতে হলে এমন রাগ দরকার। সরকারে একটা কুম্ভকর্ণ সিনড্রোম দেখা যাচ্ছে—সব শোনে, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।”

অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে কেবল অর্থ মন্ত্রণালয় নয়, বরং বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদে চারজন অর্থনীতিবিদ থাকা সত্ত্বেও বাজেট গতানুগতিক। কারণ, অর্থনীতির পেছনে রাজনৈতিক সাহস লাগে। সেটিই অনুপস্থিত।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এবারের বাজেট আকারে ছোট হলেও তা বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। বাজেটটি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি।

তিনি বাজেট বাস্তবায়নের ছয় মাস পর মধ্যবর্তী পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ বলেন, “যে যত বড় লুট করে, সে তত বড় স্বচ্ছ—এমন বাস্তবতা চলছে। ব্যাংক লুটের দায় আমরা দিচ্ছি উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে।”

তিনি বলেন, “আজও পর্যন্ত কোনো বড় লুটের ঘটনায় ব্যাংকার বা দায়ী গ্রাহকের জেল হয়নি।”

সংলাপে বক্তব্য রাখেন বিএনপির রুমিন ফারহানা, বিজিএমইএ সহসভাপতি এনামুল হক খান, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ার, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, রাজেকুজ্জামান রতন এবং ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




১৫০ উপজেলায় স্কুলে খাবার পাবে শিশুরা

দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ফিডিং কর্মসূচি। দেশের ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলার ১৫০টি নির্বাচিত উপজেলায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে—যা প্রাথমিক শিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে রোববার (২২ জুন) জানানো হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও কর্মকর্তাদের হালনাগাদ তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে। আদেশটি স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত ছকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও কর্মকর্তাদের তথ্য পূরণ করে ৩০ জুনের মধ্যে ই-মেইলে (infogpsfp@dpe.gov.bd) পিডিএফ, সফট কপি (এক্সেল ফরম্যাটে, নিকোশবেন ফন্টে) এবং হার্ড কপি পাঠাতে। কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এই নির্দেশনার বাইরে রয়েছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকল্প পরিচালক, উপ-প্রকল্প পরিচালক ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফিডিং কার্যক্রম শিশুদের পুষ্টি, মনোযোগ এবং স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে আগ্রহী করতে এটি বড় সহায়ক হবে। অভিভাবকরাও এতে বেশি আগ্রহী হবেন শিশুদের স্কুলে পাঠাতে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ছাত্রদল নেত্রীর মরদেহ ৪ দিন পর উদ্ধার

ভোলা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রদল নেত্রী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার মরদেহ চার দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৭ জুন কর্ণফুলী-৪ লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর ২১ জুন রাতে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা নদীতে একটি নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে নৌপুলিশকে খবর দিলে, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিচয় না পাওয়ায় ২২ জুন সকালে ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম’ কর্তৃক মরদেহ দাফন করা হয়।

পরে ভোলা সদর মডেল থানায় ইপ্সিতার বাবার সাধারণ ডায়েরির তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ছবি দেখে তার বাবা মাসুদ রানা মরদেহটি মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।

সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা ভোলা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন এবং ছাত্রদলের একজন সক্রিয় নেত্রী হিসেবে আসন্ন কলেজ শাখার কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রার্থী ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি বাসা থেকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে বের হন এবং এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন, আবার কেউ লঞ্চে ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তবে ইপ্সিতার পরিবার সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত না করলেও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে।

লঞ্চের সুপারভাইজার নান্টু বাবু জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই লঞ্চ থামিয়ে লাইফবয়া ফেলা হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও ইপ্সিতাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে কোস্টগার্ডকে জানিয়ে লঞ্চ ঢাকার পথে রওনা দেয়।

ঘটনার বিষয়ে কর্ণফুলী লঞ্চ কোম্পানির ম্যানেজার আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, ওইদিন লঞ্চে থাকা এক নারী ৯৯৯-এ ফোন করে দাবি করেন, ইপ্সিতা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং আত্মহত্যা করেছেন। সেই সূত্র ধরে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দুইজন লঞ্চ স্টাফসহ অভিযোগকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর নৌপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর, বিএনপি নেতা ও ছেলেকে আসামি করে মামলা

বরিশালের হিজলায় সরকারিভাবে চারা বিতরণকে কেন্দ্র করে এক কৃষি কর্মকর্তার ওপর প্রকাশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। রোববার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার সদরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, হিজলা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরকারিভাবে নারিকেল গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। চারা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দেওয়ান।

পরবর্তীতে সন্ধ্যায় তিনি ও তার ছেলে—হিজলা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিসান দেওয়ান—মিলিতভাবে মো. ফখরুল ইসলামকে মারধর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হিজলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহিদুল আলম জানান, কৃষি কর্মকর্তা থানায় এসে অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, নারিকেল চারা বিতরণকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ইউএনও’র সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন দেওয়ান কিংবা তাঁর ছেলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেননি। ফোন করেও তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বিএনপির কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি অংশ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে, তবে ইউএনও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




নতুন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বাতিল: যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত নতুন বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। রোববার (২২ জুন) বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কেনা এবং ভবন নির্মাণে বাড়তি কর পরিশোধের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন মহলের দাবি ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের সময় সেই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “প্রাথমিক বাজেটে বাড়তি করের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন আর এই ধরনের কোনো সুযোগ থাকছে না।”

এর আগে সকালে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে নতুন বাজেট কার্যকর হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান প্রশাসনের বাস্তবতায় এবার সংসদের বাইরে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ২ জুন বাজেটের মূল বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়। বাজেট ঘোষণার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করা হয়।

উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় বাজেট সাধারণত জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও পাস হয়। সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। তবে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি।