লন্ডনের বৈঠকে কেটেছে অনিশ্চয়তা, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে পারে: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত। সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণফোরামের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিএনপি ও গণফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এনডিএমের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে অংশ নেয় বিএনপি। এতে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে আমীর খসরু বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি জাতীয় সরকারের মাধ্যমে এসব বাস্তবায়ন হবে।”

লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কেটে গেছে। জাতি এখন নির্বাচনের সুড়ঙ্গপথে প্রবেশ করেছে।”

নির্বাচনের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, “নির্বাচনের শিডিউল, মনোনয়ন জমা, বাছাইসহ সব প্রক্রিয়ার তারিখ নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে। অতীতেও তা শেষ সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে।”

বৈঠকে উপস্থিত গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে একটি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। গত বছরের ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এরপর দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও লন্ডনের স্মরণীয় বৈঠকের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপিসহ সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিচ্ছে। আমরা কমিশনকে জানিয়েছি—যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো যেন জাতীয় সংসদে অবিলম্বে পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।”




বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সৌজন্য সাক্ষাৎ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। সোমবার (২৩ জুন) কলকাতার নবান্নে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দুই বাংলার মধ্যে ঐতিহাসিক ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক আত্মিক সম্পর্ককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এ সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মেরুকরণের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি চিরায়ত ঐতিহ্য। তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূসকে ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা জানান।

আলোচনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত নয় বছরে দিল্লিতে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের দুই সাবেক হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান ও মোস্তাফিজুর রহমান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইলেও তা পাননি। সেই প্রেক্ষাপটে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর এ সাক্ষাৎ কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।




চীন সফরের আমন্ত্রণ পেলেন তারেক রহমান: সিপিসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)।

সোমবার (২৩ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, সম্প্রতি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পিপলস গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিপিসির পলিটব্যুরো সদস্য ও ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ডেপুটি চেয়ারম্যান লি হংঝং এই আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকে বিএনপি ও সিপিসির মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া, পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বৈঠকের মাধ্যমে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনের নেতৃত্বকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বহুপাক্ষিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

উপস্থিত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন কৌশলগত সংলাপ আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হবে।




নূরুল হুদা মবকাণ্ডে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বিএনপির

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে ঘিরে ‘মবকাণ্ডে’ বিএনপির কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বিএনপি ‘মব কালচার’-এ বিশ্বাস করে না। আমরা বরাবরই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে, এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণের দাবিতে আন্দোলন করছি।”

তিনি বলেন, “সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার গ্রেফতার এবং বিচার প্রক্রিয়া যেন আইনসঙ্গতভাবে হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। তবে তার সঙ্গে যে অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে, তা আমরা সমর্থন করি না। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদি আমাদের দলের কেউ এতে জড়িত থাকে, তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হবে।”

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “আমরা চাই, কোনো ব্যক্তি যত বড় অপরাধীই হোন না কেন, তার সাংবিধানিক এবং আইনগত অধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়।”

রবিবার (২২ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদার বাসার সামনে তাকে ঘেরাও করে জনতার একটি অংশ। এসময় তার গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে কে এম নূরুল হুদা অন্যতম দায়ী। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘায়িত করার অন্যতম হাতিয়ার। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে তিনি সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করেছেন।”




লন্ডন থেকে ফিরে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করলেন জুবাইদা রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, চলমান বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে স্মার্টকার্ড সরবরাহ করা হয়। হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইসি সচিব মো. আখতার হামিদ বলেন, “সাম্প্রতিক হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসার ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন। যদিও তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ধানমন্ডির একটি আবাসিক এলাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে, তবে ভোটার হিসেবে গুলশান-২ নম্বরের ঠিকানাই ব্যবহৃত হয়েছে।

২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হলেও সে সময় তিনি লন্ডনে ছিলেন তারেক রহমানের সঙ্গে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দেশে ফেরেননি। গত ৬ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঢাকায় আসেন তিনি, তবে ৫ জুন পুনরায় লন্ডনে ফিরে যান। এর মধ্যেই ইসি কর্মকর্তারা তার ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।




স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

তিনি বলেন, ‘এ এক মস্ত বড় সুযোগ; পৃথিবীকে আবিষ্কার করার, তার চাইতে বড় নিজেকে আবিষ্কার করার। নাহলে গৎবাঁধা জীবনে নিজের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আর কোনো সুযোগ নাই। তোমরা যাতে স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনা করতে পারো সে কথাটা মনে রাখতে হবে।’

সোমবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত দেশব্যাপী কাব কার্নিভাল ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন,

“আজকের দিনটি স্কাউটিং ইতিহাসে গৌরবের। আটজন স্কাউট দেশের জন্য আত্মাহুতি দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, যা পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই।”

তিনি আরও বলেন,

“দরজা বন্ধ থাকলে বসে থাকা চলবে না। তুমিই সেই ব্যক্তি, যার হাত ধরে অন্যরা সামনে এগিয়ে যাবে। তোমাদের সাহসিকতা ভবিষ্যতের পৃথিবী গঠনে পথ দেখাবে।”

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূস তাঁর নিজস্ব স্কাউট জীবনের স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি ১৯৫৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে কানাডায় অনুষ্ঠিত দশম বিশ্ব বয় স্কাউট জাম্বুরিতে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা সফর করেন। তিনি বলেন,

“স্কাউটিং আমাকে শুধু বিশ্ব নয়, নিজেকেও চেনার সুযোগ দিয়েছে।”

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ স্কাউটস প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালনায় দেশব্যাপী ৫২৭টি স্থানে একযোগে কাব কার্নিভাল এবং শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা “শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড” বিজয়ীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ আট স্কাউটের পরিবারের হাতে “গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড” তুলে দেন।

পুরস্কার গ্রহণ করেন:

  • মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
  • রোহান আহমেদ খান
  • তাঞ্জির খান মুন্না
  • শরিফ উদ্দিন আহমেদ আহনাফ
  • মাহবুব আলম
  • গোলাম নাফিজ
  • তাহির জামান প্রিয়
  • আরিফুল ইসলাম সাদ

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পুলিশ জনগণের হতে পারলেই মুছে যাবে কলঙ্ক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পুলিশ যদি প্রকৃত অর্থে জনগণের হয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে তাদের গায়ে লেগে থাকা কলঙ্ক দূর হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট (অব.) জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পুলিশকে মানবিক হতে হবে, জনবান্ধব হতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি, যার ফলে পুলিশ আগের মতো আচরণ করছে না। ইতিমধ্যে কেউ কেউ আইনের আওতায় এসেছে। পুলিশ যখন জনগণের হয়ে ওঠবে, তখনই তাদের অতীতের কলঙ্ক মুছে যাবে।”

সম্প্রতি মব সৃষ্টির ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় যদি আমাদের বাহিনীর কেউ দায়ী থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে যারা মব সহিংসতায় জড়িত, তারাও ছাড় পাবে না।”

সন্তুষ্টি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “জনগণ যদি পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট থাকে, তবেই আমি সন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই—কেউ দুই টাকায় সন্তুষ্ট হয়, কেউ দুই কোটি টাকায়। তবে আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি পুলিশকে জনবান্ধব করতে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক রেজা, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




মব সহিংসতার জন্য সরকারের দুর্বলতাই দায়ী: রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, দেশের চলমান মব সহিংসতার পেছনে সরকারের দুর্বলতাই মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জনগণের হাতে লাঞ্ছনার পর গ্রেপ্তার করা হলেও, এর দায় এড়াতে পারে না সরকার— এমনটাই মনে করেন তিনি।

সোমবার (২৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, “একতরফা নির্বাচন, বিচারহীনতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের রক্ষার সংস্কৃতি থেকেই দেশে মবোক্রেসির জন্ম হচ্ছে। সরকার দুর্নীতিবাজ নির্বাচন কমিশন, ডামি এমপি ও মাফিয়াদের বিচার না করে বরং তাদের পুনর্বাসন করছে, যার ফলে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে এবং মানুষ মবের মধ্যে ন্যায়বিচার খুঁজছে।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “মব তৈরি হওয়ার জন্য কি সরকারই রসদ জোগাচ্ছে না? বিতর্কিত একতরফা তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত কমিশন, সচিব, ডিসি, এসপি, ডামি ও স্বতন্ত্র নামধারী এমপি ও মন্ত্রীদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?”

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, “সরকারের উপদেষ্টারা সাবের-মান্নানসহ অনেক বিতর্কিত এমপির জামিন করিয়েছেন ও পুনর্বাসন করছেন। যাদের অর্থ ও ক্ষমতাশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। যেসব মাফিয়া ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শেখ হাসিনার ‘অবৈধ সাম্রাজ্য’ গঠনে সহায়তা করেছে, তারাও রক্ষা পাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে বিপ্লবী পদক্ষেপ জনগণ আশা করেছিল, তা এখনও দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৩০০০ ‘মাথাওয়ালা’ নেতাকর্মী কিংবা শেখ পরিবারের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদেরও ধরা হয়নি। তাহলে কীভাবে এই সরকার গণহত্যার বিচার করবে?”

রাশেদ খান মনে করেন, যতদিন না সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, ততদিন সমাজে মবোক্রেসি থামবে না। তার মতে, “মব তৈরি ও বিস্তারের দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।”




পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে দুদকের অভিযান

সেবা নিতে এসে ভোগান্তি, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে দুদকের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আ.বি. সাহানুরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বেশ কিছু সময় ধরে অফিসের নথিপত্র ও সেবাপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হয় এবং একাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শোনা হয়।

দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস জানান, কমিশনের হেড অফিসের নির্দেশেই দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচন অফিসে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজকের অভিযানে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কিছু গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত চালাবো।”

আরো পড়ুন : শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই অভিযোগ করেছেন সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে, কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হচ্ছে, কেউ আবার সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

এছাড়াও অফিসে কর্মরতদের আচরণ, সেবাদানের মান, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন অফিস। অভিযানকালে বেশ কিছু নথিপত্র ও দলিল যাচাই করে তাৎক্ষণিক কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শুধু পটুয়াখালী নয়, দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনসেবায় ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কমিশন মনে করছে, এসব অভিযান নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণে আরও উৎসাহী হবে এবং দুর্নীতিবাজদের শিকারে পরিণত হবে না।

অভিযানের সময় নির্বাচন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও উদ্বেগ দেখা যায়। তবে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দুদকের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জারি থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত কাব কার্নিভাল ২০২৫-এ কলাপাড়ার কৃতী শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা সুন্নাহ শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে অনন্য গৌরব অর্জন করেছে। সোমবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীতে আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনূসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে সুন্নাহ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে বরিশাল অঞ্চলে প্রথম স্থান অর্জন করে সুন্নাহ। সে বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পটুয়াখালীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলাপাড়ার মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখান থেকে এই মূল্যায়নে অংশ নেয় এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।

উম্মে হাবিবা সুন্নাহ’র গ্রামের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে। তার পিতা আহসান হাবিব চুন্নু বরিশালে কর্মরত ব্র্যাকের একজন এলাকা ব্যবস্থাপক এবং মা রাবেয়া সুলতানা রিপা একজন স্কুল শিক্ষিকা।

সাফল্য সম্পর্কে সুন্নাহ বলেন, “এ অর্জন আমার পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের উৎসাহ আর ভালোবাসার ফল। ভবিষ্যতে আমি একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

মঙ্গলসুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, “আমার স্কুল থেকে সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়ে যে সম্মান এনে দিয়েছে, তা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৯ মামলার আসামি জলিল ডাকাত গ্রেফতার

বাংলাদেশ স্কাউটস কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালে কলাপাড়া উপজেলার ২৭ জন শিক্ষার্থী শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ও ১০ জন প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে উম্মে হাবিবা সুন্নাহ বরিশাল অঞ্চলে প্রথম হয়েছে। কলাপাড়ার স্কাউটস কার্যক্রমে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ কাব পর্যায়ের স্বীকৃতি, যা জাতীয় পর্যায়ে অভূতপূর্ব অর্জন হিসেবে বিবেচিত। সুন্নাহর এই অর্জন কেবল কলাপাড়া নয়, বরিশাল তথা গোটা দেশের জন্য গর্বের।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম