লন্ডনের বৈঠকে কেটেছে অনিশ্চয়তা, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে পারে: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত। সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণফোরামের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকে বিএনপি ও গণফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এনডিএমের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে অংশ নেয় বিএনপি। এতে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বৈঠক শেষে আমীর খসরু বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি জাতীয় সরকারের মাধ্যমে এসব বাস্তবায়ন হবে।”
লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কেটে গেছে। জাতি এখন নির্বাচনের সুড়ঙ্গপথে প্রবেশ করেছে।”
নির্বাচনের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, “নির্বাচনের শিডিউল, মনোনয়ন জমা, বাছাইসহ সব প্রক্রিয়ার তারিখ নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে। অতীতেও তা শেষ সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে।”
বৈঠকে উপস্থিত গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে একটি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। গত বছরের ৫ আগস্ট সেই সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এরপর দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও লন্ডনের স্মরণীয় বৈঠকের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিএনপিসহ সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিচ্ছে। আমরা কমিশনকে জানিয়েছি—যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো যেন জাতীয় সংসদে অবিলম্বে পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।”









