জনগণ এখন সচেতন, তারা প্রতীক নয় দলীয় কর্মকাণ্ড দেখে ভোট দেবে: জামায়াত নেতা বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, জনগণ এখন আর শুধু নির্বাচনী প্রতীক দেখে ভোট দেয় না, বরং দলীয় কর্মকাণ্ড ও আদর্শ বিবেচনা করেই ভোট প্রদান করে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর গেন্ডারিয়া সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলদের সমাবেশ ও ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুলবুল বলেন, “কারা হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাট করেছে, তা এখন জাতির সামনে দিবালোকের মতো পরিষ্কার। তরুণ প্রজন্ম বলছে—বয়কট সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ ও আহতদের পরিবারের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না, বরং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটবে। শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বুলবুল জানান, জামায়াত প্রকৃত শহীদ পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে সহায়তা দিয়েছে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণে ১৫০০ পৃষ্ঠার দশ খণ্ডের বই প্রকাশ করেছে।

দেশে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও গণহত্যার বিচার চায় না। তারা বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটছে।”

জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে বলেও আশ্বাস দেন বুলবুল।

তিনি আহ্বান জানান, দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে আনতে।




জামায়াত আমির ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠকটি ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে।

বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও পারস্পরিক আগ্রহের নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাক্ষাতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

বৈঠকটি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে এ ধরনের বৈঠককে রাজনৈতিক সংলাপ ও সম্পর্ক রক্ষার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




নিবন্ধন ফিরে পেয়ে সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কৃতজ্ঞতা জামায়াত সেক্রেটারির

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পুনরায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের ভিত্তিতে এবং নির্বাচন কমিশনের ২৪ জুনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। এর আগে, ১ জুন আপিল বিভাগ জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয় এবং ৪ জুন নির্বাচন কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই জয় ন্যায়বিচারের, এই জয় গণতন্ত্রের। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করেছি। আজকের এই অর্জনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।”

তিনি গণমাধ্যম, আইনজীবী এবং দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা জাতির বিবেক। সংবাদ মাধ্যমে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকতার মহত্ত্ব অটুট রেখেছেন।”

গোলাম পরওয়ার আরও জানান, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামী বৈধভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর এক আদালতের আদেশে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “২০০৯ সালের একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে যে আদেশে আমাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল, তা ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। আজকের রায় এবং প্রজ্ঞাপন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের স্বীকৃতি।”

সংক্ষিপ্ত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে গঠনমূলক রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।




নগরবাসীর জন্য সুখবর: সপ্তাহজুড়ে মিলবে ডিএসসিসির সেবা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আগামী শুক্র ও শনিবারও খোলা থাকবে। ছুটির দিন হলেও নগরবাসী সব ধরনের নাগরিক সেবা পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগর ভবনের পাশাপাশি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ ডিএসসিসির সব পর্যায়ের অফিস খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিকভাবে সেবা প্রদান করা হবে।

এর আগে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গতকাল সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে সেবা কার্যক্রমও। তবে সঙ্গত কারণেই এখনো চলছে ইশরাক অনুসারীদের অবস্থান কর্মসূচি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ডিএসসিসির সব নাগরিক সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ সময় নগর ভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে এবং প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করেন দক্ষিণ সিটির ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা।

পরে ঈদ বিরতির পর ১৫ জুন থেকে ফের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে করে নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ তালাবদ্ধ থাকে। তবে সোমবার (২৩ জুন) সব তালা খুলে সেবা কার্যক্রম আবার চালু করা হয়।

নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এবং সেবা সচল রাখতে এবার সপ্তাহের ছুটির দিনেও অফিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিলো ডিএসসিসি।




৯ হাজার কোটি টাকায় ১৭ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৭৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ৩ হাজার ১৮০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ৫৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ২৩০ কোটি ৫১ লাখ টাকা

অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ
  • বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন
  • বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদক নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ
  • নতুন ৪টি মেরিন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সুবিধা
  • আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সম্প্রসারণে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন
  • বিভিন্ন জেলায় নতুন সার গোডাউন নির্মাণ
  • Access to Justice for Women
  • কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন
  • নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সেবা জোরদারকরণ
  • টিভিইটি শিক্ষক উন্নয়ন প্রকল্প
  • দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু
  • উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ডাটাবেজ
  • সরকারি কেনাকাটা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
  • পরিসংখ্যান দক্ষতা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প

এছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন পায়।

একনেক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জুলাই থেকে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ভাতা পাবেন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকে তাদের মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একইসাথে ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সদস্যদেরও পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চাকরিতে অগ্রাধিকারসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সোমবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিন ক্যাটাগরিতে ভাতা

জুলাই যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।

  • ‘এ’ ক্যাটাগরি: যারা গুরুতরভাবে আহত হয়ে এখন অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে অক্ষম। এদের সংখ্যা ৪৯৩ জন। তারা এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
  • ‘বি’ ক্যাটাগরি: যাদের আংশিক অঙ্গহানি হয়েছে এবং সীমিত সহায়তায় চলাফেরা করতে পারেন। এদের সংখ্যা ৯০৮ জন। তারা এককালীন ৩ লাখ এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
  • ‘সি’ ক্যাটাগরি: যারা চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছেন। এ ক্যাটাগরিতে আছেন ১০ হাজার ৬৪২ জন। তারা এককালীন ১ লাখ এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

জুলাই শহীদদের জন্য সহায়তা

সরকার ঘোষিত তালিকায় বর্তমানে ৮৩৪ জনকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে পাবেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী মাসে বাকি ২০ লাখ টাকা জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারগুলোকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

সব ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধারা সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। গুরুতর আহতদের জন্য বিদেশে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ জনকে তুরস্কে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

জুলাই যোদ্ধা অধিদপ্তর গঠন

জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ২০ জন কর্মকর্তা নিয়ে এ অধিদপ্তর পরিচালিত হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘোষণা

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানান, প্রতি বছর ৫ আগস্ট “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হবে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ইতিহাস স্মরণে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ভবিষ্যৎ উদ্যোগ

উপদেষ্টা জানান, শহীদদের পরিবার এবং আহতদের যেসব ক্ষেত্রে ওয়ারিশ বা তালিকা সংশোধনজনিত সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। কেউ নিখোঁজ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের জন্য নিজেদের রক্ত দিয়েছেন। জাতি তাদের ত্যাগ কখনো ভুলবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 

 

 




ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে এনসিপির তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটি।

সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিল চলাকালে তাদের ‘এনসিপি জিন্দাবাদ’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘হামলা করে সংস্কার বন্ধ করা যাবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে, দলটির কার্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আহত হন শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক শফিকুল ইসলাম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রব, ঢাকা মহানগর নেতা আসিফ উদ্দিন সম্রাট এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারীবাগ থানার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সুমন হোসেন।

এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।




ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলায় গভীর উদ্বেগ জামায়াত আমিরের

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “২১ জুন রাতে ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অতর্কিত হামলা চালিয়ে দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন, রীতিনীতি ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট অবমাননা।”

তিনি আরও বলেন, “এই হামলা অবৈধ, অযৌক্তিক এবং সম্পূর্ণ আগ্রাসী। এর মাধ্যমে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।”

বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড স্বীকার করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। অথচ সেই মিথ্যা অজুহাতে হামলা চালানো হয়েছে। এটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর ভিত্তিহীন ও সরাসরি হামলার উদাহরণ।”

জামায়াত আমির বলেন, “এই আগ্রাসন শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাসী এ ঘটনায় হতবাক।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”




জুলাই বিপ্লবের সমর্থকদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গড়বে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি ‘উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সোমবার (২৩ জুন) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী সম্মুখ সারির সমন্বয়ক, বিপ্লবের প্রতি সহানুভূতিশীল শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ব্যক্তিরা। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম আরও সুসংহত ও দিকনির্দেশনামূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্ব তাদের কার্যদিবসের প্রথম দিনেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করবে। উক্ত কমিটিকে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার) উপস্থাপন করতে হবে।

সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তারিখ একদিন পিছিয়ে আগামী বুধবার (২৫ জুন) নির্ধারণ করা হয়েছে।




ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে যাত্রীরা

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা থেকে অন্তত ১৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

সোমবার রাতে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও বাহরাইন সাময়িকভাবে আগমন ও বহির্গমন—দুই ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।

এরপর রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে ঢাকা থেকে এসব গন্তব্যে সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে দোহা, দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত ও মানামাগামী যাত্রীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ ও গালফ এয়ারসহ একাধিক এয়ারলাইন্স তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। যেসব ফ্লাইট যাত্রা শুরু করেছিল, সেগুলো নিরাপত্তার কারণে ঢাকায় ফিরে এসেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাতিলের তথ্য শেষ মুহূর্তে জানানো হওয়ায় হোটেল খোঁজা, খাবার ও যোগাযোগ নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের। তবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের আপাতত ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়েছে এবং ফ্লাইট রিশিডিউলের কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ফ্লাইট চালু করা হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রতি নির্ধারিত যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।