প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছর মেয়াদে রাজি বিএনপি, তবে রয়েছে কিছু শর্ত

প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ নির্ধারণে শর্তসাপেক্ষে একমত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ‘জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ (এনসিসি)’ বা এ ধরনের কোনো নিয়ন্ত্রক বডি যদি নির্বাহী ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করে, তাহলে বিএনপি এমন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘ঐকমত্য কমিশনের’ বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আমরা শর্তসাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে একমত হয়েছি। তবে এনসিসির মতো যদি কোনো কাঠামো নির্বাহী ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করে, তাহলে আমরা সে প্রস্তাব মেনে নেব না। সেই অবস্থায় আমাদের আগের অবস্থানই বহাল থাকবে।”

বৈঠকে আলোচনার প্রধান তিনটি বিষয় ছিল—সংবিধানের মূলনীতি, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ।

সালাহ উদ্দিন জানান, সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি” সংযুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি। তিনি আরও জানান, পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত কিছু অনুচ্ছেদকেও পুনরায় যুক্ত করার কথা বলেছে বিএনপি।

এদিকে এনসিসির পরিবর্তে ‘নিয়োগ কমিটি’ গঠনের একটি প্রস্তাবও বৈঠকে ওঠে। এতে সদস্য থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের দুই স্পিকার (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ), বিরোধীদলীয় নেতা, অন্যান্য বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির একজন প্রতিনিধি এবং প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি। তবে সেনাবাহিনী প্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ এ কমিটির আওতার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়।

সালাহ উদ্দিন আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব আইনি কাঠামো রয়েছে, সেগুলো সংস্কার করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি বিধান সংযোজনেরও তাগিদ দেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, “যদি কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দুদকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়—তাহলে সেগুলোই গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, শুধুমাত্র নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আরোপ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলো, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের কার্যকর কাঠামো গঠন।

সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার নিয়ে চলমান ‘ঐকমত্য কমিশন’-এর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি এখনও পেন্ডিং রয়েছে বলে জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।




বাউফলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, ৩ নেতা গ্রেফতার

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ছাত্রলীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের অভিযোগে তিন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ জুন) ভোররাতে উপজেলার বগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মজিবর হাওলাদারের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রোমান হাওলাদার (৩০), সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের ছেলে মো. তাসনিম (২০) এবং মো. রমেজ খানের ছেলে মো. জাহিদ খান (৩৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৩ জুন) রাতে রাজনগর গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

ঘটনার ভিডিও মঙ্গলবার (২৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বিষয়টি আমলে নেয় এবং অভিযানে নামে।

পরে বগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার ভোরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“আসিফ মাহমুদের লাগাম টানুন, না হলে আন্দোলন তীব্র হবে” — ইশরাক

বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন নগর ভবন ছাড়িয়ে রাজপথে গড়াবে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের লাগাম না টানার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তার মন্তব্যে ঢাকার নাগরিকদের অপমান করা হয়েছে, এজন্য তাকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।

বুধবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাবেক ডিএনসিসি মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন।

তিনি জানান, আন্দোলনের কারণে নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিঘ্নিত হচ্ছিল। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে তার অনুরোধে আন্দোলনকারীরা গত সোমবার থেকে নগর ভবনের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি সরকারের কোনো চাপ কিংবা আন্দোলনের দাবির সুরাহার কারণে হয়নি।

ইশরাক বলেন, “নগর ভবনের কর্মকর্তারা কোরবানির ঈদের পর দৈনন্দিন সেবা চালুর উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন জন্ম, মৃত্যু, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ না দিতে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা থেকে বঞ্চিত করে আন্দোলনকারীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালানো হয়। আমরা এই চক্রান্ত ভেস্তে দিয়েছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নেপথ্যে ছিল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া রুবেলের নাম উঠে এসেছে। তিনি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আসিফ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রুবেল তার ‘লুটপাটের হাতিয়ার’ হয়ে ওঠে।”

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, “আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে আমি আন্দোলন করছি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকার লাখো ভোটারকে অপমান করা হয়েছে। এভাবে আন্দোলনকারীদের পশুর মর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এজন্য তাকে অবশ্যই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আসিফ বলেছেন, আমাকে ‘মিসগাইড’ করা হয়েছে। এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাকে অপমান করেছেন এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকেও তাচ্ছিল্য করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষে ইশরাক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে আন্দোলন নগর ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে।”




বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলায় পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন

দেশের সব সুপারশপ এখন শতভাগ পলিথিনমুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য ১৭টি প্লাস্টিক পণ্য নিরুৎসাহিত করতে নিরবচ্ছিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সুপারশপগুলো শতভাগ পলিথিনমুক্ত হয়েছে। পাট, কাগজ ও কাপড়ের মতো পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

পরিবেশ উপদেষ্টা জানান, প্লাস্টিক দূষণ রোধে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেইসঙ্গে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, দেশের নদ-নদী সংরক্ষণে একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকার চারটি নদী ও ২০টি খালের জন্য ‘ব্লু-নেটওয়ার্ক’ পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। বড়াল, করতোয়া ও সুতাংসহ ১৫টি নদী পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি বলেন, “মধুপুর শালবন ও চুনতি বন পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৪৫৯ একর বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোনাদিয়া উপকূলীয় বন ও রাজশাহীর দুটি জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।”

এছাড়াও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে ‘নো-ব্রিকফিল্ড জোন’ গঠন এবং পরিবেশ দূষণকারী পুরনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, পরিবেশ মেলা চলবে ২৫ থেকে ২৭ জুন এবং বৃক্ষমেলা চলবে ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।




প্রকৃতি নয়, মানুষই পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংসের জন্য মানবজাতিই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “পৃথিবীর সর্বনাশের জন্য যারা দায়ী, তারা আমরা সবাই। আমরা এই অপরাধের আসামি।”

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, জাতীয় পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত—যুদ্ধবিগ্রহ, প্রযুক্তির অপব্যবহারসহ নানা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হচ্ছে জলবায়ু সংকট, যা অনেকেই এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না। প্রকৃতির এই বিধ্বংসী রূপ প্রকৃতির দোষ নয়, এটা মানুষের সৃষ্টি। মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কথা, কিন্তু আমরা বরং উল্টো পথে হেঁটে চলেছি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “জলবায়ু সংকট দৈত্যের মতো সামনে হাজির হচ্ছে। সে হুঙ্কার দিচ্ছে—হয় আমরা থাকব, না হয় তোমরা থাকবে। মানুষ আর প্রকৃতি একসঙ্গে থাকতে পারবে না।”

প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “প্লাস্টিক আজ পৃথিবীর জলবায়ু, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য—এই তিনটি স্তম্ভেই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এমন এক বস্তু যার জন্ম আছে, মৃত্যু নেই। পৃথিবীর সব কিছুর মৃত্যু আছে, কিন্তু প্লাস্টিক বেঁচে থাকে। প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে জলাশয়গুলোতে এর ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে।”

তিনি বলেন, “প্লাস্টিক আমাদের অসহায়ত্ব দেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। আমাদের উদ্যোগহীনতা দেখে তারা জয়গান গাইছে। আমরা দিবস উদযাপন করি, তারপর যথারীতি ঘরে ফিরে প্লাস্টিকই ব্যবহার করি।”

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ না বদলাই, তাহলে এই যুদ্ধে মানবজাতির পরাজয় অনিবার্য। এই সংকট থেকে কীভাবে বের হব, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”




জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের ডাক ; বার্তা দিচ্ছে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতসহ একাধিক দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (২৫ জুন) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি’র এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সমাবেশকে ঘিরে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি ও দায়িত্বপালনের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সমাবেশ সফলভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সমাবেশের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা,
  • নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠন,
  • সকল গণহত্যার বিচার,
  • মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার,
  • ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন,
  • জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসন,
  • প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং
  • প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কামাল হোসাইনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সমাবেশকে সে ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




গডফাদারদের ধরতে না পারলে মাদক দমন অসম্ভব : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকবিরোধী অভিযানকে কার্যকর করতে শুধু বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, তাদের পেছনের গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৫ জুন) ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৩২টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাদকের বাহকদের ধরার পাশাপাশি এখন সময় এসেছে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার। শুধু বাহকদের ধরে মাদক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গডফাদারদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনারা যেসব দাবি করেছেন, তা পূরণ করা হয়েছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা।”

সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশের বাহিনী সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করে রোজগার করছে, সংসার চালাচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই চক্র ভাঙার চেষ্টা করছি। যদিও এখনো পুরোপুরি সফল হইনি, তবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন অনেক নতুন ‘বদি’ তৈরি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে বাহক নয়, মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র উপায়।”




এনবিআরের সংস্কারবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধনের ইঙ্গিত অর্থ উপদেষ্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এনবিআরের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার পেছনে বিগত সরকারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের প্রভাব থাকতে পারে। আগে এনবিআরে অ্যাকাউন্টেবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সি ছিল না। আগের সরকারের সময় কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী বিশেষ সুবিধা পেতেন, অথচ ভালো ব্যবসায়ীরা উপেক্ষিত ছিলেন। এনবিআর তখন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারেকাছেও ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ধারণা, কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থ এখানে জড়িত থাকতে পারে। না হলে ক্যারিয়ার নিয়ে কর্মকর্তারা এতটা ক্ষিপ্ত হতেন না। যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে এমন আচরণ যৌক্তিক নয়। যদিও আমি সরাসরি ব্যবসায়ীদের দোষ দিচ্ছি না।”

এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন—এটা এনবিআরের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এনবিআরের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। কারণ এটি শুধু কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়, বরং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।”

তিনি আরও বলেন, “চাকরি করতে গেলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হয়, শৃঙ্খলা থাকা জরুরি। এনবিআর কর্মকর্তাদের উচিত হবে সেই দায়িত্ববোধ অনুসরণ করা।”

সরকার এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে—রাজস্ব সংগ্রহ শাখা এবং নীতি প্রণয়ন শাখা—হিসেবে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এতে প্রশাসন ক্যাডারের আধিপত্য বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আন্দোলনে নেমেছেন বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে আন্দোলন ও কর্মবিরতি চলছে। প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান পুলিশ পাহারায় নিয়মিত অফিস করছেন।




বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে চীন: মির্জা ফখরুল

চীন সফরের দ্বিতীয় দিনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সান ওয়েইডংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা ভবিষ্যতের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও জানান, কৃষি, শিল্প, গার্মেন্টস, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীন তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

এর আগে সোমবার (২৩ জুন) চীনের পিপলস গ্রেট হলে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সদস্য এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংঝংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন ফখরুল। সেখানে তিনি আঞ্চলিক রাজনীতিতে চীনের নেতৃত্বের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে সেটিকে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে বিস্তারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সফর থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।




নগর ভবনে হামলাকারীরা বিএনপির কেউ নয়, উপদেষ্টা আসিফের ঘনিষ্ঠ কেউ: ইশরাক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, হামলাকারীরা বিএনপি বা শ্রমিক দলের কেউ নয়। দলকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে বিএনপির স্লোগান ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে নগর ভবনে হামলায় আহতদের দেখতে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক জানান, গত দুই দিন ধরে নগর ভবন ও এর আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে নাগরিক সেবা পুরোদমে চালু হয়েছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্থবিরতা কাটিয়ে জনতার সহযোগিতায় এ সেবা কার্যক্রম পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ অগ্রগতি ব্যাহত করতেই বহিরাগত অস্ত্রধারী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্মম হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ হামলায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং আরও ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলাকারীদের কাছে স্ক্রু ড্রাইভার, হাতুড়ি, দেশীয় অস্ত্র এবং একজনের কাছে পিস্তলও ছিল। একজন নেতাকর্মীর ফুসফুসে ছুরি মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

ইশরাক বলেন, “এই হামলা ছিল দুইটি উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত—প্রথমত, আমার নাম ব্যবহার করে আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হিসেবে তুলে ধরা; দ্বিতীয়ত, জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করা।”

তিনি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া রুবেল ও কর্মচারী আরিফুজ্জামান প্রিন্সকে হামলার নেতৃত্বে থাকার জন্য দায়ী করেন। এরা দুজনই অতীতে মেয়র সাঈদ খোকন ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে নানা সুবিধা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইশরাক বলেন, কিবরিয়া রুবেল উপদেষ্টা আসিফের গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং দুর্নীতি, টেন্ডার ভাগাভাগি ও লুটপাটের মাধ্যমে বিপুলভাবে লাভবান হয়েছেন। সেই সুবিধা ধরে রাখতেই ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন’ নামে হামলা সংগঠিত করেছেন তারা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। নগর ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না হামলাকারীদের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। একই সঙ্গে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এই ভবন আপনাদের। নির্ভয়ে আসুন, আপনাদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”