৪৩ দিন পর নগর ভবনে ফিরলেন ডিএসসিসি প্রশাসক, সকল সেবা চালুর ঘোষণা

দীর্ঘ ৪৩ দিন পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া নগর ভবনে ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ভবনে এসে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে সকল সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।

প্রশাসক বলেন, “আমরা অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে চাই না। এখন আমাদের লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়নসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।”

উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে গত ১৪ মে থেকে নগর ভবনের সামনে তার সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করলে ডিএসসিসির প্রশাসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনে প্রবেশ করতে না পেরে কার্যত কর্মস্থল ছাড়তে বাধ্য হন।

এই অবস্থার অবসান ঘটে গত ২২ জুন, যখন আন্দোলনকারীরা সেবা কার্যক্রমে আর বাধা না দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং প্রশাসক পুনরায় ভবনে ফিরে আসেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে আন্দোলনরত কর্মচারীরাও তাকে স্বাগত জানান।

প্রশাসকের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় মাস স্থবির থাকা ডিএসসিসির সব বিভাগে আবারও গতি ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিন প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন শাখার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলক সোলার প্যানেল বসানোর নির্দেশ

দেশব্যাপী সকল সরকারি ভবনের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ শীর্ষক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি এজেন্সি (IRENA)–এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ এখনও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে। ভারতে যেখানে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৭.১৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৩৯.৭ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌর শক্তি থেকে আসে, সেখানে বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৫.৬ শতাংশ।

বর্তমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হলেও, তা বাস্তবায়নে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাসপাতালের ছাদে দ্রুত সোলার প্যানেল বসাতে হবে। বিষয়টি বেসরকারি অংশীদারিত্বে করা যেতে পারে। সরকার ছাদ দেবে, আর কোম্পানিগুলো স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপন করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা উচিত। কী ধরনের সমস্যায় পড়েছে, তা জেনে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।”

এই কর্মসূচির আওতায় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য বিল দিতে হবে না। পাশাপাশি সৌর প্যানেল স্থাপনে ব্যবহৃত ছাদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভাড়াও পাবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল ৩ দিনের রিমান্ডে

রাষ্ট্রদ্রোহ ও প্রহসনের নির্বাচনে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সাবেক) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শেরে বাংলা নগর থানার দায়ের করা মামলায় রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে হাবিবুল আউয়ালকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরে বাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (ডিএমপি পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বুধবার সকালে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি পক্ষীয় নির্বাচন আয়োজন করেন, যা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।

এ বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই রিমান্ড প্রয়োজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

ইনসাফ, সাম্য ও বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “মানুষের রচিত বিধানের পরিবর্তে আল্লাহর বিধানই শান্তি ও কল্যাণের একমাত্র পথ।”

বুধবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর কাফরুলে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাফরুল থানা জামায়াত আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লব একটি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, যেখানে ছাত্র-জনতার ঐক্য দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এই বিপ্লবে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, বহু মানুষ আজ পঙ্গু। তাদের আত্মত্যাগ জাতির কাছে গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক। থাকবে না কোনো শ্রেণি বৈষম্য, থাকবে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত রাষ্ট্রই পারে সত্যিকারের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে। দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম কোনো ঐচ্ছিক কাজ নয়, বরং এটি প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ দায়িত্ব।”

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, মো. শহীদুল্লাহ, আলাউদ্দিন ও তুহিন রেজা তুহিন প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সরকারে থেকেও ‘অবরুদ্ধ ও দুর্বল’ মনে করছেন আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, অর্ন্তবর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেকে “শক্তিহীন, দুর্বল ও অবরুদ্ধ” মনে করছেন। তিনি বলেন, জনগণের সেবক হয়েও তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং বারবার কুৎসা, গুজব ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের আয়োজিত বিশেষ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, “আমার কাছে প্রতিদিন অন্যায় তদবির আসে। তদবির না মানলেই আমাকে ভারতের দালাল বলা হয়। ভিডিও বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার চালানো হয়। আমি কিছু বলি না, কোনো মামলা করি না—দায়িত্বে আছি বলে সব মেনে নিচ্ছি।”

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি তা বলা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি কখনও এতটা দুর্বল, অসহায় আর অবরুদ্ধ ছিলাম না, যতটা এখন সরকারের অংশ হয়ে অনুভব করছি।”

আইন উপদেষ্টা বলেন, “সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আজ যারা দুর্বল অবস্থানে আছেন, তাদের হুট করে উন্নত পর্যায়ে তোলা যায় না। আমাদের প্রয়োজন ইনক্রিমেন্টাল রিফর্ম—ধাপে ধাপে সংস্কার। আপনাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে আমরা সেটি বাস্তবায়নে কাজ করব।”

প্রথম আলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামের পাশে বিএনপিপন্থী লেখা হয়, কিন্তু আনিসুজ্জামান বা জাফর ইকবালের নামের পাশে আওয়ামী লীগপন্থী লেখা হয় না। এটা দ্বিচারিতা।”

আসিফ নজরুল বলেন, “দেশে বিচার বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে সংস্কার সবচেয়ে জরুরি। আমরা ডিজিটাল কোর্ট চালু করেছি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ধাপে ধাপে আরও আদালতকে ডিজিটাল করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক মিথ্যা মামলা হয়, অনেকেই হয়রানির শিকার হন। এগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মামলা পুলিশ করে, সরকার নয়।”

২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও মাত্র ১৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “মামলা হলে জামিন পাবে কিনা, সেটা একান্তভাবে বিচারকের এখতিয়ার। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে; আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাদক আগ্রাসনে অর্থনীতিও ঝুঁকিতে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকের বিস্তার শুধু জনস্বাস্থ্য বা আইনশৃঙ্খলাই নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অথচ এই কর্মক্ষম ও প্রযুক্তিনির্ভর যুবশক্তিই একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি। যদি তরুণ সমাজ মাদকে আক্রান্ত হয়, তাহলে উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমরা দেখি, তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

উপদেষ্টা জানান, “মাদক চোরাচালানে নারী, শিশু ও কিশোরদের ব্যবহার একটি ভয়াবহ সামাজিক সংকেত। এতে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি একসাথে বাড়ছে। এই সমস্যা নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গঠন করা হচ্ছে মাদকবিরোধী কমিটি; পরিচালিত হচ্ছে সভা, সেমিনার ও সচেতনতা কার্যক্রম।

সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক ড্রাগসের নতুন ঢেউকে ‘মাদকযুদ্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ’ উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রযুক্তির অপব্যবহারে নতুন নতুন মাদক বাজারে আসছে। আমাদের আইনে এসবকে অন্তর্ভুক্ত করে কৌশলগত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে অধিদপ্তরের জনবল মাত্র ২ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে অভিযান চালান মাত্র ১ হাজার ৬২২ জন। তবুও ৬৪টি জেলা, ৮টি বিভাগীয় ও বিশেষ জোন মিলিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ কমে গেছে। সবাইকে এগিয়ে এসে এই প্রতিরোধ আবার জোরদার করতে হবে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “বাংলাদেশে মাদক উৎপাদিত হয় না। বাইরের দেশ থেকে আসা মাদক আমরা অর্থ দিয়ে কিনে নিজেরাই ক্ষতির মুখে পড়ছি। ৩২টি সীমান্ত জেলা মাদক প্রবেশের মূল পথ, তাই সেখানে স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।”

তিনি জানান, প্রতিটি বিভাগে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




“রাজনৈতিক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব”: দাবি সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—even আগামী এক হাজার বছরেও নয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শেরে বাংলা নগর থানার একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সিএমএম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান রিমান্ড শুনানির সময় হাবিবুল আউয়ালকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দিলে তিনি বলেন, “আমার জীবনে কখনও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। আমি কোনো সময় প্রহসনের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমাকে কেউ টাকা দেয়নি, আমি কারও কাছ থেকে নিইওনি।”

এসময় বিচারক বলেন, “আপনার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা অতীতে যেখানে ২৫-৩০ হাজার টাকা পেতেন, সেখানে তারা ৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। এতে আপনার কোনো দায় ছিল কি না?”

উত্তরে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “৮ লাখ কর্মী একটি নির্বাচনে যুক্ত থাকে, তাদের অনেককেই আমি চিনি না। এত টাকা বিলের বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”

বিচারক আরও বলেন, “আপনি তো সময়ের সেরা অফিসার ছিলেন, নির্বাচনের অনৈতিকতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন না কেন?”

এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “পদত্যাগ করলে ভালো হতো। কিন্তু অতীতে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। তখনকার নির্বাচন কমিশনাররাও কি পদত্যাগ করেছিলেন?”

আলোচনার এক পর্যায়ে সরকারি পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী তাকে থামানোর চেষ্টা করলে হাবিবুল আউয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে যদি কথা বলতে না দেন, তাহলে একটা রিভলভার দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন।”

অবশেষে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষা উপদেষ্টা

সারাদেশে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ফলাফল প্রকাশে যাতে কোনো বিলম্ব না ঘটে, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, “পরীক্ষার শুরু থেকেই সব কেন্দ্রে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছেছে এবং পরীক্ষাও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধ্যক্ষ, কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এ বছর মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।




“গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকার নিশ্চিত নয়” — তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রকে গতিশীল ও ধারাবাহিক রাখতে না পারলে দেশে একমাত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে। মানবতা, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও অবাধ নির্বাচনভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য গড়ে তুলতে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।

জাতিসংঘ ঘোষিত নির্যাতিতদের প্রতি সমর্থনের আন্তর্জাতিক দিবস (২৬ জুন) উপলক্ষে বুধবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “এই দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। প্রতি বছর ২৬ জুন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানানোর জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। অথচ বিশ্বজুড়ে এখনো বহু রাষ্ট্রে মানুষ চরম দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা আসলেও সহিংসতা থামেনি। নানা দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিরোধীদের দমন করতে গুম, খুন, ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “গত প্রায় ১৬ বছর ধরে দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। এই সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসে, যার ফলে সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশুরা—নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হলেও এখনও গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়নি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ‘মব জাস্টিস’-এর হিংস্র উত্থানে। গণতন্ত্রকে গতিশীল রাখতে হলে এধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

বিবৃতির শেষে তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকামী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




“বাংলাদেশ ছিল আমার কূটনৈতিক জীবনের ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা” — ট্রেস্টার

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার চার বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টারকে তার সফল কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “উন্নয়নের যাত্রায় জার্মানি সবসময় আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ইউরোপে জার্মানি আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় তাদের ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

রোহিঙ্গা সংকটে জার্মানির মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জার্মানির অব্যাহত সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সহায়তা বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে মানবতার একটি অনন্য উদাহরণ।”

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার বলেন, “বাংলাদেশ আমার কূটনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা পোস্টিং। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর সংস্কার প্রক্রিয়ায় সফলতা কামনা করি। ইনভেস্টমেন্ট সামিটের মতো উদ্যোগগুলো ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আশা করি, সামনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টার আমাদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন। আপনি বাংলাদেশ ছাড়লেও আমরা ভবিষ্যতেও আপনার মতামত শুনতে আগ্রহী থাকব—তা সমালোচনামূলক হলেও।”

সাক্ষাতে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।