ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা জানাল তেহরান

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার, জনগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী এবং সরকারের পক্ষ থেকে যে সহানুভূতিপূর্ণ বিবৃতি, বক্তৃতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংহতি জানানো হয়েছে, তা মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

“সংহতি একটি নৈতিক দায়িত্ব” — ইরান

ইরানি দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ইরানি জনগণের প্রতিরোধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জাতীয় ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ। আমাদের বিশ্বাস, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিরোধ শুধু বৈধ অধিকারই নয়, এটি এক ধরনের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।”

ইসরায়েল ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের প্রতিবাদে বাংলাদেশের অবস্থান যে বার্তা দিয়েছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে এক স্পষ্ট ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া বলেও উল্লেখ করা হয়।

“বাংলাদেশের সংহতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে”

ইরান দূতাবাস জানায়, “বিশ্বব্যাপী সহিংসতা, আগ্রাসন ও সম্প্রসারণবাদের মোকাবিলায় পারস্পরিক সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো একটি মূল্যবান পদক্ষেপ।”

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, “বাংলাদেশ ও ইরান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”




আগামীকাল ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ; থাকছে যেসব দাবি

আগামী জাতীয় নির্বাচন সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি।

শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং পিআর পদ্ধতিভিত্তিক নির্বাচনের দাবিতে মাঠে রয়েছে। এই দাবিতে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী গণসংযোগ, প্রচারণা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারের মহাসমাবেশ হবে আমাদের দাবির পক্ষে একটি শক্তিশালী উপস্থাপনা।”

লাখো মানুষের অংশগ্রহণের আশা

সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শুক্রবার সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, “সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার গাড়ি রিজার্ভ করা হয়েছে। লঞ্চ ও ট্রেনেও মানুষ ঢাকায় আসবেন। আমাদের আশা, লাখো মানুষ এই মহাসমাবেশে অংশ নেবেন।”

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টায় মহাসমাবেশ শুরু হলেও মূলপর্ব শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমন্ত্রণ

দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “এ মহাসমাবেশ থেকে আগামী রাজনীতির একটি নতুন বার্তা পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। পিআর পদ্ধতির নির্বাচন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে যারা একমত, তাদের সবাইকে আমরা এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে অংশ নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরবেন।




ভারতের ‘স্বার্থ অনুযায়ী’ গঙ্গা চুক্তির নতুন খসড়া, উদ্বেগে বাংলাদেশ

আগামী বছর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির। এর আগে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা ‘নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী’ নতুন একটি গঙ্গা চুক্তির ব্যাপারে চিন্তা করছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ পানি চুক্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা চুক্তিও নতুন করে পর্যবেক্ষণে নিচ্ছে ভারত সরকার। এতে বর্তমান চুক্তির বিকল্প, পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোর চিন্তা করছে তারা। ভারতের যুক্তি, দেশটির কৃষি, সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ উন্নয়নমূলক খাতে পানির চাহিদা অনেক বেড়েছে। ফলে বর্তমান চুক্তি তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে ২০২৬-এ

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হয়। এটি ছিল একটি ৩০ বছরের চুক্তি, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে ভারত।

বিশেষ করে ১১ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত সময়ে, দুই দেশ প্রতি ১০ দিনের জন্য ৩৫ হাজার কিউসেক হারে পানি পাবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ ছিল। কিন্তু ভারতের বর্তমান পরিকল্পনায় এই পরিমাণ আরও ৩০-৩৫ হাজার কিউসেক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

কৃষি ও সেচের জন্য বাড়তি পানি দাবি

ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার উভয়ই নতুন পানি বণ্টন কাঠামোতে সম্মত। তারা বলছে, সেচ, নদী নৌচলাচল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনে তাদের আরও বেশি পানির দরকার।

ফারাক্কা বাঁধ এবং বাংলাদেশের উদ্বেগ

উল্লেখ্য, গঙ্গা নদীর ফারাক্কা বাঁধটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। বাঁধটি ১৯৭৫ সালে চালু করে ভারত, যার মাধ্যমে গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নৌ চলাচল সচল রাখা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধে পানি আটকে রাখার ফলে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে পানি সংকট দেখা দেয়, যা কৃষি ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চুক্তি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দাবি

বিশ্লেষকরা বলছেন, পানিবণ্টনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে উভয়পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন চুক্তির আলোচনা হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




আজ থেকে শুরু শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আজ (শুক্রবার) থেকে শুরু হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

এই উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ১২৮টি ইসকন মন্দির ও আশ্রমে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে উৎসবটি। উৎসব শেষ হবে আগামী ৫ জুলাই বিকেল ৩টায় উল্টোরথের শোভাযাত্রার মাধ্যমে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেব হচ্ছেন জগতের নাথ বা ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ ঘটে এবং তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথদেবের প্রতিমূর্তি স্থাপন করে তা নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

ঢাকায় ইসকন আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে স্বামীবাগ আশ্রম। আজ সকাল ৮টায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর দেড়টায় আলোচনা সভা শেষে বিকেল ৩টায় রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করা হয়।

ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, ঢাকায় রথযাত্রার শোভাযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট মাজার ও দোয়েল চত্বর হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। ৫ জুলাই উল্টোরথে একই রুটে রথ ফিরিয়ে আনা হবে।

উৎসব উপলক্ষে ঢাকায় আরও কয়েকটি স্থানে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরান ঢাকার জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির (তাঁতীবাজার), রামসীতা মন্দির (জয়কালী রোড) এবং একনাম কমিটি (শাঁখারীবাজার) সহ বিভিন্ন মন্দির।

নয়দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবে রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ধর্মীয় নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।




বিভ্রান্তি নয়, আইন অনুযায়ী খিলক্ষেত থেকে মণ্ডপ সরানো হয়েছে: রেল উপদেষ্টা

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে স্থাপিত একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানান, গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছু ব্যক্তি পূর্বানুমতি ছাড়াই রেলের জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ নির্মাণ করেন। পূজার আয়োজনের সময় তারা পূজা শেষে মণ্ডপটি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পূজা শেষ হওয়ার পর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তা সরাননি।

ফাওজুল কবির বলেন, “পূজার আয়োজকরা পরে সেখানে স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন, যা রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছিল না। তাদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি।”

তিনি জানান, জনস্বার্থে ও সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার খিলক্ষেত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা—দোকানপাট, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, কাঁচাবাজার এবং সর্বশেষ অস্থায়ী মণ্ডপটি সরানো হয়।

অস্থায়ী মণ্ডপে থাকা প্রতিমাগুলো যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে বালু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফাওজুল কবির আরও বলেন, “মণ্ডপ সরানোকে কেন্দ্র করে যেকোনো বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ আইনের বাইরে কিছু করেনি, বরং জনস্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”




মানবিক বিবেচনায় আনিসার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন: শিক্ষা উপদেষ্টা

স্ট্রোক আক্রান্ত মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থী আনিসা আহমেদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদ তার অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছান এবং পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআর আবরার বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই শিক্ষার্থীর দুঃসময়ে তার পাশে আছি এবং তাকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”




শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক শফিকুল আলম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ব্রেকিং নিউজ প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে আমার ব্রেকিং নিউজের জন্য দ্য সোসাইটি অব পাবলিশারস ইন এশিয়া (এসওপিএ) ২০২৫ অ্যাওয়ার্ডে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটি আমার জন্য একটি বড় খবর।”

শফিকুল আলম তার পোস্টের সঙ্গে পুরস্কারের ছবিও যুক্ত করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, তিনি ‘অনারেবল মেনশন’ ক্যাটাগরিতে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় শফিকুল আলম আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির (Agence France-Presse) ঢাকা ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তার নেতৃত্বে প্রকাশিত ব্রেকিং নিউজটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এসওপিএ অ্যাওয়ার্ডটি এশিয়ার সংবাদপত্র, অনলাইন ও ম্যাগাজিন সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রদান করা হয়।




এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই বিশৃঙ্খলা, শিক্ষাবোর্ডের কঠোর পদক্ষেপ

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রশ্নপত্র বিতরণে অবহেলার অভিযোগে রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের ঢাকা-৯ কেন্দ্র (কেন্দ্র কোড-৫১২) — নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলা প্রথম পত্র (বিষয় কোড ১০১) পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র বিতরণে দায়িত্বে অবহেলা করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা মাহমুদ। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর প্রেক্ষিতে তাকে কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হারুনুর রশিদকে।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বিষয়টি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে একযোগে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আয়োজিত পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

প্রথম দিনেই ১৯ হাজার ৭৫৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ থেকে ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।




নতুন শর্তে এনটিআরসিএর ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি, বয়সসীমা ও কোটা নিয়মে পরিবর্তন

অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জাতীয় মেধাতালিকা (মেরিট লিস্ট) প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাত থেকে প্রার্থীরা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে এই তালিকা দেখতে পারছেন।

এর আগে, গত ২২ জুন এনটিআরসিএ ‘ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি’ অনুযায়ী ১ লাখ ৮২২টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করে। এসব পদে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত। আবেদনকারীদের টেলিটক নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে সর্বোচ্চ ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

এবারের নিয়োগে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে রয়েছে ৪৬ হাজার ২১১টি পদ, মাদরাসা পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৫০১টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ১১০টি পদ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অষ্টাদশ নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের তারিখ (৪ জুন ২০২৫) অনুসারে যাদের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে, শুধু তারাই আবেদনের যোগ্য। একইসঙ্গে সনদের মেয়াদ গণনা করা হবে ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত। নারী কোটাতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করলে সুপারিশ বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত




‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণায় এনসিপি নেতাদের তীব্র আপত্তি

৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) পৃথক ফেসবুক পোস্টে এ আপত্তি জানান।

আখতার হোসেন তার পোস্টে লেখেন, “নতুন বাংলাদেশ দিবস সেদিন হবে, যেদিন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আসবে এবং মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হবে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্ম ৫ আগস্ট। ওই দিন সাধারণ ছাত্র-জনতা সরকার পতনের ইতিহাস গড়েছে। ৮ আগস্ট নয়। ৫ আগস্টের এ অর্জনকে সরকারের দখলে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”

সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, “৮ আগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতার সূচনা হয়নি। বরং এই দিনে দ্বিতীয় স্বাধীনতার চেতনা দুর্বল করার, ছাড় দেওয়ার ও বিপ্লবকে বেহাত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৫ আগস্টই প্রকৃত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’।”

উল্লেখ্য, ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে। তিন দিন পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক পরিপত্রে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভাজন দেখা দিয়েছে। এনসিপি নেতারা ৫ আগস্টকেই নতুন বাংলাদেশের সূচনাদিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।