জুলাই কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি থাকবে : রিজভী

গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল (১ জুলাই) আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে জুলাই কর্মসূচি ঘিরে শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, “চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বার্তা থাকবে। এটি একটি মহিমান্বিত ও সফল কর্মসূচি হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। এখানে জাতীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ শহীদ ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।”

তিনি আরও বলেন, “কর্মসূচির শৃঙ্খলা রক্ষায় যেসব নেতাকর্মী দায়িত্বে থাকবেন, তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে আসা শহীদ পরিবারের সদস্য, গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যদের যথাযথ সম্মান ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচির শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সদস্যসচিব আমিনুল হক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম ও ডা. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।




জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। সোমবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় গুলশানে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, যিনি মাসব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী:

  • ১ জুলাই: “কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার (২০১৮–২০২৪)” শীর্ষক আলোচনা সভা।
  • ১৬ জুলাই: ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে গণহত্যার বিচারের দাবিতে পদযাত্রা।
  • ১৮ জুলাই: “কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
  • ২০ জুলাই: কারাবন্দি ও আহত যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা।
  • ২৫ জুলাই: শহীদদের স্মরণে উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
  • ২৬ জুলাই: “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা।
  • ৩১ জুলাই: “গণঅভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা।
  • ১ আগস্ট: শহীদ মিনারে ‘ঐক্য ও সংহতি সমাবেশ’।
  • ৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন।
  • ৮ আগস্ট: “জুলাইয়ের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক আলোচনা সভা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, আব্দুজ জাহের, অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

দলটির নেতারা জানান, এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগণের অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা স্মরণ ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।




দ্রুত নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় চীন: মির্জা ফখরুল

চীন বাংলাদেশে দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি চীন সফর শেষে সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীন সফরে গিয়ে চীনের ক্ষমতাসীন দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে চীনের আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছি। চীনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, তারা মিয়ানমার সরকারকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন এবং অত্যন্ত আগ্রহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছেন।”

সফরে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংসং, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও এবং ভাইস মন্ত্রী সান হাইয়ান।

চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে চীনা নেতারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানকে স্মরণ করেন বলেও জানান ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, “পলিটব্যুরোর সদস্য লি হংসং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চীন সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম শুরু করার আগ্রহ চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।”

বিএনপির পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা, আধুনিক কৃষি, ব্লু ইকোনমি এবং এসএমই খাতে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে চীন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বলে জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সুং ওয়ে ডং-এর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও পরিবেশ উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, শ্রমশক্তির সক্ষমতা বাড়ানো, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে সহনীয় করতে চীন থেকে নেওয়া ঋণের পরিশোধ সময়সীমা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ফি পুনর্বিবেচনা এবং অনুদানের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে এসব বিষয় সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে দুই বছর মেয়াদি একটি রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।




আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে বিমানবন্দরে যে ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে, সেটি একে-৪৭ এর নয়। এটি একটি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন, যা ভুলবশত তাঁর সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।

সোমবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অনেকে বলছেন তিনি একে-৪৭-এর লাইসেন্স পেয়েছেন, কিন্তু এটি একে-৪৭ নয়। এটি একটি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন, যা ভুল করে সঙ্গে থেকে গেছে। অনেক সময় এমন হয়, আপনি চশমা নিতে চান কিন্তু ভুল করে মোবাইল নিয়ে বের হন। ঠিক তেমনই এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। উনি যদি আগে জানতেন, অবশ্যই এটি সঙ্গে নিতেন না।”

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ আইন অনুযায়ী অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে আবেদনের সময় অন্তত ৩০ বছর বয়স হতে হয়। তবে আসিফ মাহমুদের বয়স ত্রিশ না হওয়ায় লাইসেন্সটি তিনি কীভাবে পেলেন, সে প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি যেহেতু ওই আইনটা দেখিনি, তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, কারণ স্ক্যানিংয়ের প্রথম দুই ধাপে ম্যাগাজিনটি ধরা পড়েনি। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমার ভাই যদি একজন নেতা হন, তাহলে তিনি অনেক সময় কিছু প্রিভিলেজ পান। কিন্তু এই ধরনের প্রিভিলেজ যেন আর কেউ না পান, সে জন্যই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবার ক্ষেত্রে যেন আইন সমানভাবে প্রয়োগ হয়, সেটিই মূল বিষয়।”

এদিনের কোর কমিটির বৈঠকে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, অনুষ্ঠানের সময় এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।




জুলাই ঘোষণাপত্রে ব্যর্থতা: সরকার দুইবার সময় নিয়েও প্রতিশ্রুতি রাখেনি — নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির প্রধান মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকার দুইবার সময় দিয়েও ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রণয়নে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও সরকার দেয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র হচ্ছে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের অবদান, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও আকাঙ্ক্ষার সংজ্ঞায়ন নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় দলিল। পরবর্তীতে এটি আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি পাবে।”

নাহিদ ইসলাম জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ছাত্রনেতৃত্ব ঘোষণাপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সরকার সব রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত ঘোষণাপত্র দিতে চেয়েছিল। এ কারণে ছাত্রনেতৃত্ব তাদের স্বতন্ত্র উদ্যোগ থেকে সরে আসে।

তিনি আরও বলেন, “সরকার বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে খসড়া চেয়ে নিয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও একটি খসড়া জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার একাধিকবার সময় নিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি বা কোথায় বাধা ছিল—তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করেনি।”

নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “সরকার যদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ঘোষণাপত্র না দেয়, আমরা বসে থাকব না। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে ইশতেহার প্রকাশ করব এবং অন্য পক্ষগুলোকেও আহ্বান জানাব তাদের ইশতেহার তৈরি করতে। সম্মিলিতভাবে দলিল তৈরি করে তা সরকারকে দিতে বাধ্য করব।”

তিনি জানান, জুলাই ঘোষণাপত্র শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে পাঠ করা হবে এবং এটি একটি জাতীয় ঐকমত্যের প্রতিফলন হিসেবে তৈরি করা হবে।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “জুলাই সনদে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা থাকবে। সংবিধানের কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন আনা হবে তা নির্ধারণ করে একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল তৈরি করা হবে, যেখানে সব দল স্বাক্ষর করবে। এই সনদ গণভোট, গণপরিষদ অথবা সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট তথা ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ—উভয় দলিল রচনার লক্ষ্যে কাজ করছি। সরকার যদি কোনো পক্ষের দলীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে দেয়, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে বাকিরা এ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে।”

শেষে তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “পথে প্রান্তরে জনগণের সঙ্গে কথা হবে, তাদের মতামত থেকেই গড়ে উঠবে আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দলিল।”




মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার গঠনমূলক ফোনালাপ

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী ফোনালাপটি ছিল উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটেছে।

যদিও আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, এই ফোনালাপে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা না হলে গণতন্ত্র টিকবে না’ — মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে প্রথমেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। রোববার (২৯ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চলমান সংলাপের সপ্তম দিনের দ্বিতীয় পর্ব শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যদি আমরা এখনই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করতে না পারি, তাহলে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।”

মান্না জানান, সংলাপে মূলত দুটি বিষয় ঘিরে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সরকারি প্রভাবমুক্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব। এই সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটির উদ্দেশ্য হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং সরকারের প্রভাব কমানো।

তবে বিএনপি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তারা বলেছে, এতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা একরকম শূন্য হয়ে যাবে। এ বিষয়ে মান্না বলেন, “আমরা মনে করি এটি সঠিক নয়। সরকারের স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় দায়িত্ব ভাগাভাগি করা জরুরি।”

কমিটির জন্য প্রস্তাবিত নাম ছিল—‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি এবং বিএনপি তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

সংলাপে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও ভিন্নমত উঠে আসে। বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ গঠিত হবে নিম্নকক্ষের দলগত আসনসংখ্যার আনুপাতিক ভিত্তিতে। অর্থাৎ নিম্নকক্ষে যে দল যত আসন পাবে, উচ্চকক্ষেও সে অনুপাতে তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে মান্না বলেন, “উচ্চকক্ষ যদি নিম্নকক্ষের প্রতিফলন হয়, তাহলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে না। একটি দল চাইলেই সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে। কিন্তু আনুপাতিক ভিত্তিতে না হলে আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

নাগরিক ঐক্যের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৫/৪) যথেষ্ট হবে।

তিনি বলেন, “বিশেষত সংবিধান সংশোধন কিংবা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যদি একটি দল এককভাবে কর্তৃত্ব পায়, তাহলে স্বেচ্ছাচারিতার ঝুঁকি তৈরি হয়।”

সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মান্না বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে এবং আমরা আবার বসবো। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।”




মুরাদনগরে উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের

কুমিল্লার মুরাদনগরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এক নারীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “একজন উপদেষ্টা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুরাদনগরে ক্রমাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।”

মির্জা ফখরুল জানান, কুমিল্লার মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন চালিয়েছে এক দুর্বৃত্তচক্র। তিনি এ ঘটনাকে “নির্মম, কলঙ্কজনক ও ঘৃণ্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই বর্বরোচিত ঘটনায় দেশের মানুষ ব্যথিত ও মর্মাহত। অথচ একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের মতোই এখনো সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি দখল ও নির্যাতন করে দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতা চলছে। মুরাদনগরের একজন উপদেষ্টা ব্যক্তি–নিজের পদ ব্যবহার করে এলাকায় ক্রমাগতভাবে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।”

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, এই উপদেষ্টা আওয়ামী লীগ এমপিদের মতো এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন এবং তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সমাজবিরোধী অপকর্ম বাড়ছে। “এরা দেশ-বিদেশ থেকে মদত পাচ্ছে, যার ফলে এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে,” বলেন তিনি।

ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দু নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন একটি মনুষ্যত্বহীন ও অমানবিক আচরণ, যার পেছনে রয়েছে একটি মহলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। এটি আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নোংরা কৌশলের পুনরাবৃত্তি।”

নারী নির্যাতনকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরা মানবসভ্যতার শত্রু। আমি অবিলম্বে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

মুরাদনগরের সাম্প্রতিক এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ঘটনার তদন্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




মুরাদনগরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির, কঠোর শাস্তির দাবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীর ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের ‘খুঁটির জোর যাই হোক’ কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন একান্তই লজ্জাজনক একটি ঘটনা। লম্পটদের যেকোনো মূল্যে পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “খুঁটির জোর যাই হোক, তাকে কোনোভাবেই পাত্তা দেওয়া যাবে না। অন্যথায়, এই সমাজ আপাদমস্তক একটি জংলি সমাজে পরিণত হয়ে যাবে।”

জামায়াত আমিরের এই প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া নারীর উপর নৃশংস হামলার ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




কমপ্লিট শাটডাউন প্রত্যাহার করলো এনবিআর : অর্থনীতি সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত

দেশের আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার স্বার্থে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার রোববার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধ এবং অর্থনীতি ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজস্ব ব্যবস্থার টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি ২৮ ও ২৯ জুনের শাটডাউন কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে যে স্থবিরতা দেখা দেয়, তা নিরসনে ব্যবসায়ী নেতারা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় বসেন। অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা শেষে কিছু বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

সংগঠনটি সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের রাজস্ব উপদেষ্টা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জানায়, তারা এই কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। সভাপতি হাছান তারেক রিকাবদার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই কমিটির সঙ্গে কাজ করে আমরা একটি টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করতে পারব।”

এদিকে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে সরকার। রবিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তবে এদিন বিকেলে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে, রোববারও এনবিআরের চেয়ারম্যানের অপসারণ ও রাজস্ব খাতে গণমতভিত্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সব গেট বন্ধ রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংগঠনের ব্যানারে কমপ্লিট শাটডাউন ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচি পালন করা হয়।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদ জানায়, একটি পূর্ণাঙ্গ, বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই রাজস্ব সংস্কারের দাবি আদায়ে তারা এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণের আহ্বান জানায়। তাদের ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর” হিসেবে চিহ্নিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সুষ্ঠু সংস্কার সম্ভব নয়।

এর আগে, ১২ মে জারি করা এক অধ্যাদেশে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করে সরকার। এর বিরোধিতা করে এনবিআরের অধীন কর্মকর্তারা ২৬ মে পর্যন্ত কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

পরে ২৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এনবিআর বিলুপ্ত করা হয়নি; বরং এটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত বিভাগে উন্নীত করা হবে। এই আশ্বাসের পর ২৬ মে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত হলেও চেয়ারম্যান অপসারণ ও তার সঙ্গে অসহযোগিতার ঘোষণা বহাল থাকে।

কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতি না থাকায়, ২৩ জুন থেকে দ্বিতীয় দফায় আন্দোলনে নামে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবশেষে ২৯ জুন সন্ধ্যায় শাটডাউন প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও রাজস্ব সংস্কারের দাবি থেকে সরছে না আন্দোলনকারীরা।