যমুনায় জামায়াতের নেতারা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়েছেন  জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে কালো রঙের একটি গাড়িতে চড়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যমুনায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এর কিছুক্ষণ আগে আরেকটি গাড়িতে করে যমুনায় প্রবেশ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।




পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপিতে বড় ধাক্কা, দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজনীতিতে বড় ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবিলম্বে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একাংশ অনাগ্রহ দেখায়। মাঠপর্যায়ে নুরুল হক নুরের পক্ষে প্রত্যাশিত সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়।

একই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর তার পক্ষে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় নজরে আসে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন ভূমিকা রাখাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এর আগে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে নুরুল হক নুরের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় দল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তার সঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তার দাবি, সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্র কিছুটা দেরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সঙ্গেই থাকবেন।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে এই সিদ্ধান্ত বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান দেখিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচনি কৌশলে ভিন্নমত বা দ্বিমুখী ভূমিকার সুযোগ নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্বকাপ নিয়ে অনড় বাংলাদেশ, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের ভেন্যুতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসছে না। বিকেলে শুরু হওয়া এই বৈঠকে বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং আইসিসির পক্ষ থেকেও সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে বিসিবি স্পষ্টভাবে জানায়, নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নয়। শুধু সিদ্ধান্ত জানানোতেই থেমে থাকেনি বোর্ড, বরং কেন এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু নির্ধারণের জন্য আবারও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়।

বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সভায় আইসিসির সিকিউরিটি প্রধান বাংলাদেশের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। আলোচনার সব বিষয় নোট করা হয়েছে এবং আইসিসির পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পুরো আলোচনা ছিল গঠনমূলক ও পেশাদার পরিবেশে। উভয় পক্ষই খোলামেলা মতবিনিময়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে একটি বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে, যাতে আয়োজন ও লজিস্টিক জটিলতা যতটা সম্ভব কমানো যায়।

বিসিবি আরও জানায়, আলোচনার একপর্যায়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া মতামত ও উদ্বেগও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোয় উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগেও আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে একই অবস্থান জানিয়েছিল বিসিবি। সর্বশেষ বৈঠকে আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ঢাকায় এসে সরাসরি অংশ নেন। তার সঙ্গে আসার কথা ছিল আইসিসির ইভেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরভ সাক্সেনারের। তবে ভিসা জটিলতার কারণে তিনি ঢাকায় আসতে না পেরে অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হন।

বিসিবির পক্ষে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ ইস্যুতে বিসিবির এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইউনিমাসের প্রপার্টি ফেয়ার ২০২৬ শুরু, বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ

দেশের আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেড তাদের বহুল আলোচিত ‘প্রপার্টি ফেয়ার ২০২৬’ আয়োজন করেছে। আধুনিক নগরজীবনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রিমিয়াম আবাসন ও নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরতেই এই বিশেষ আয়োজন। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইউনিমাস হোল্ডিংসের কর্পোরেট অফিসে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ইউনিমাসের বিভিন্ন প্রিমিয়াম আবাসিক প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন, যেখানে উন্নত নির্মাণমান, আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মেলা উপলক্ষে ইউনিমাস হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে ফেয়ার-এক্সক্লুসিভ অফার ও বিশেষ মূল্যছাড় ঘোষণা করা হয়েছে, যা আবাসন ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। পাশাপাশি, প্রপার্টি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে দর্শনার্থীরা নিজেদের প্রয়োজন, বাজেট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ইউনিমাসের একজন প্রতিনিধি জানান, এই প্রপার্টি ফেয়ারের মূল উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের স্বপ্নের আবাসনের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্রিমিয়াম প্রকল্পগুলো এক জায়গায় উপস্থাপন করে ক্রেতাদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, ইউনিমাস হোল্ডিংস শুধু আবাসন হস্তান্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রপার্টি ক্রয়ের প্রতিটি ধাপে ক্রেতাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণ, ডিজাইন কনসালটেন্সি, ইন্টেরিয়র সল্যুশন, রেনোভেশন ও মডিফিকেশন, লিগ্যাল ও লজিস্টিক সহায়তা, রেন্টাল সার্ভিস, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট এবং প্রপার্টি রিসেল সুবিধা। হস্তান্তরের পরও দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউনিমাস।

প্রপার্টি ফেয়ার ২০২৬-এর মাধ্যমে ইউনিমাস হোল্ডিংস আভিজাত্য ও সহজলভ্যতার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করতে চায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই আয়োজন দর্শনার্থীদের ইউনিমাসের প্রকল্পগুলোর স্থাপত্যশৈলী, বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং আধুনিক জীবনযাত্রার সুবিধাগুলো বাস্তবভাবে বোঝার সুযোগ করে দেবে।

রিয়েল এস্টেট খাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা দিতে আয়োজিত এই প্রপার্টি ফেয়ার আবাসন খোঁজার পাশাপাশি স্মার্ট বিনিয়োগ এবং উন্নত লাইফস্টাইল পরিকল্পনায় আগ্রহীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইবিএল চেয়ারম্যানের বিদেশি পাসপোর্ট ও অর্থ পাচার ঘিরে সিআইডির বিস্তৃত তদন্ত

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীকে ঘিরে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয়পত্র, দেশ-বিদেশে সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তৃত নথি তলব করেছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট থেকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর জারি করা এক নোটিশে শওকত আলী চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশি ও বিদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, গত এক দশকের বিদেশ ভ্রমণের তথ্য, দেশে ও বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ, আয়কর নথি, বিভিন্ন কোম্পানিতে মালিকানা ও শেয়ারহোল্ডিং তথ্য এবং বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অনুমোদনের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এসব নথি সংগ্রহ করে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে শওকত আলী চৌধুরীর নামে ইস্যু হওয়া সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের একটি বিদেশি পাসপোর্টের তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই গোপন নাগরিকত্ব ব্যবহার করেই তিনি বিভিন্ন দেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করেছেন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইবিএলের চেয়ারম্যানকে ঘিরে অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়মের একটি ধারাবাহিক চিত্র। ব্যাংক রেকর্ড, কাস্টমস নথি ও বিদেশি সরকারি দলিল বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর ও অফশোর বিনিয়োগের পেছনে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।

নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইবিএল তাদের গ্রাহক ও শীর্ষ ঋণখেলাপি নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন এ অ্যান্ড বি আউটওয়্যার লিমিটেডের নামে একটি শিল্প ঋণ অনুমোদন করে। ওই অর্থ ব্যবহার করে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ এএমজি জি-৬৩ গাড়ি আমদানি করা হয়। যদিও নথিতে আমদানিকারক হিসেবে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে দেখানো হয়েছিল, অনুসন্ধানে জানা যায় গাড়িটি কখনোই শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহৃত হয়নি।

সিইপিজেড সংশ্লিষ্ট সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ ব্যাংকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি শুরু থেকেই ইবিএল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তাঁর ছেলে নিয়মিত গাড়িটি চালাতেন। আরও জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে গাড়িটি চলাচল করেছে, যাতে শুল্ক ও নিবন্ধন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

এই ঘটনার সময়কাল মিলে যায় ইবিএলের একটি বড় ঋণ শ্রেণিকরণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে। নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান মাল্টি সাফ ব্যাগস লিমিটেডের কাছে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ৯৯ কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে ঋণটিকে কৃত্রিমভাবে নিয়মিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, এই ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবিএল চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল। করপোরেট নথিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগীদের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে।

বিদেশি নথি বিশ্লেষণে তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেছেন, শওকত আলী চৌধুরী ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে একাধিক অফশোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান শেল কোম্পানি কাঠামোয় গঠিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর ল্যান্ড অথরিটির নথিতে দেখা যায়, শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী যে ঠিকানায় সম্পত্তি নিবন্ধন করেছেন, একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন মানিলন্ডারিং মামলায় দণ্ডিত এক ব্যাংক ঋণখেলাপি, যা তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি পাসপোর্ট, অফশোর কোম্পানি, বিতর্কিত ঋণ সুবিধা এবং বিদেশে সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্যগুলো একসূত্রে গাঁথা। এসব কারণেই সিআইডি এই অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্তের পরিসর আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ট্রাম্পকে বাংলাদেশে আসার দাওয়াত দিলেন শফিক রেহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ বিকাল তিনটার দিকে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের শোকসভায় অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত শোকসভায় যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগ চলছে। মিস্টার ট্রাম্প আপনি বাংলাদেশে আসেন, আপনাকে দাওয়াত করছি।

যায়যায়দিনের সম্পাদক বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি ৭ নভেম্বর না যেতেন, তাহলে আরও কিছুদিন সুস্থ থাকতেন। তরুণ সমাজকে অনুরোধ করব আপনারা জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে এ অনুষ্ঠানের বক্তব্যগুলো অনুধাবন করবেন।

শফিক রেহমান আরও বলেন, আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে। এখানে একটা গুলিতে যদি কারো কিছু হয়ে তাহলে ১২ তারিখের নির্বাচন হয়তো পেছাতে হতে পারে। আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ডক্টর ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময়।

তিনি বলেন, যিনি ভোট চাইতে আসবেন, তাকে আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন, চাল ডাল চিনির দাম ঠিক থাকবে তো। তাদের জিজ্ঞাস করবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকবে তো। ব্যাংকে যারা আমানত রাখছেন আমানত ঠিক থাকবে তো।

শোকসভায় উপস্থিত আছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তারেক রহমানের সবধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জায়মা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।




শাকসু নির্বাচন, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: অবশেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আচরণবিধি মেনে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই এ নির্বাচন আয়োজন করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা–২ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানায় ইসি।

ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দেশিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

ইসির চিঠিতে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




হিমায়িত মাংস ও ডিমের উপর থেকে আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কুয়েত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের হিমায়িত পোল্ট্রির মাংস এবং মাংসজাত দ্রব্য ও ডিম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে কুয়েত সরকার।

বৃহস্প‌তিবার (১৫ ডিসেম্বর) কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

দূতাবাসের জানায়, কুয়েত সরকার বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের হিমায়িত মুরগির মাংস, মাংসজাত পণ্য ও ডিম আমদানির ওপর আগের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে নিয়েছে।




গণভোট নিয়ে সপ্তাহব্যাপী প্রচারণায় উপদেষ্টারা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা,গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণা শুরু করেছে।

নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদানসংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা ১৫ জানুয়ারি থেকে এই প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এ কার্যক্রমের আওতায় তারা আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে  অবহিত করবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় তা জানানো হয়েছে।

প্রচারণার প্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

প্রচারণার অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং গণভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবেন।

 




যমুনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় এসেছেন ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৭টা ২৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে পৌঁছায় তারেক রহমানের গাড়ি বহর।

জনাব তারেক রহমান স্বপরিবারে প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন।

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে দলের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দেয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আজই প্রথম তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সংস্কার তথা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে হবে গণভোট।

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের এই বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি- বিশেষ করে আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।