“গণঅভ্যুত্থান দমন করতে ককটেল হামলা, এদেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো আছে ”—কর্মসূচি চলাকালে নাহিদের অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলেও দেশে মাফিয়াতন্ত্র এখনো টিকে আছে।” তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনে ‘সংস্কার আগে, নির্বাচন পরে’ এই নীতির ওপর জোর দেন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা কবরস্থানে জুলাই শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শহীদের স্মরণে দোয়া পরিচালনা করেন সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর ইসলাম।

নাহিদ বলেন, “দেশ গড়তে আমরা জুলাই পদযাত্রা শুরু করেছি। উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে। এটি আমরা শিগগিরই সারাদেশে ছড়িয়ে দেব। উন্নয়ন কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক হতে পারে না, উন্নয়ন ভাবনায় পুরো দেশকে রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস ধরে রাখতে হবে। আজও যারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, তারা এই গণঅভ্যুত্থান ব্যাহত করতে চায়। তবে মানুষ আবারও রাজপথে নামবে, আর এবার কাউকেই ক্ষমা করা হবে না।”

পরে তিনি সৈয়দপুরের বিহারী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং পাঁচমাথা মোড়ে একটি গণসংযোগে অংশ নেন। বিকেলে নীলফামারী জেলা শহরের চৌরঙ্গীতে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, “জনগণের উদ্দীপনা এখন অভাবনীয়। তাদের দমন করতেই ভয় দেখানো হচ্ছে, হামলা চালানো হচ্ছে।”

পথসভায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “নতুন বাংলাদেশ মানে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। যেসব প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়, তা বন্ধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার ও সংবিধানের সংশোধন। বর্তমানে দেশে যে সংবিধান চালু আছে, তা ‘আওয়ামী বিধান’, প্রকৃত সংবিধান নয়।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

এর আগে, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সৈয়দপুরে পৌঁছালে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের সামনে জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ও স্থানীয় নেতা তানজিমুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।




রিজভীর প্রশ্ন: আমরা কি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ফাইয়াজদের ভুলে যাব?

রংপুর, ৩ জুলাই—“আমরা কি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফাইয়াজদের ভুলে যাব? যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ”—এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বৃহস্পতিবার দেশের বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানান।

রংপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রংপুর শাখা আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির উদ্বোধনীতে এসব কথা বলেন তিনি। এটি বিএনপির জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ।

রিজভী বলেন, “জুলাই-আগস্টে ইতিহাস গড়া এক রক্তাক্ত আন্দোলনে অন্তত ১৪০০ জন জীবন দিয়েছেন। আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফাইয়াজরা বুক চিতিয়ে রক্ত দিয়েছে। তারা ছিল গণতন্ত্রের জন্য জীবন দানকারী সাহসী তরুণ। আমরা কি তাদের আত্মত্যাগ ভুলে যেতে পারি?”

তিনি বলেন, “গত ১৬ বছর ছিল দুঃসহ এক ফ্যাসিবাদের সময়কাল। কোনো তরুণ রাতের ঘুমে নিশ্চিন্ত ছিল না, পরিবারের কেউ জানত না কখন কাকে গুম করা হবে, কার লাশ পাওয়া যাবে নদীর পাড়ে। শেখ হাসিনার দুঃশাসনে কেউ নিরাপদ ছিল না। বুড়িগঙ্গা, তিস্তা, পদ্মা—সব নদীর পাড়ে পড়ে ছিল নির্যাতিত মানুষের লাশ।”

রিজভীর ভাষায়, “রংপুরের গর্ব আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল ঘাতকের সামনে। গণতন্ত্রের জন্য শিশু-কিশোররাও জীবন দিয়েছে। আর আমরা যদি তাদের ভুলে যাই, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। না হলে আবার ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, সেই ‘পতিত হাসিনা’ আবার ফিরে আসবে।”

রিজভী এ সময় সাম্প্রতিক গুম কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ওই রিপোর্ট পড়লে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। মানুষকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হাত-পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়েছে। নারীদের তুলে নেওয়া হয়েছে মায়ের সামনে থেকে। এ রক্তপিপাসুদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।”

প্রস্তাবিত পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে দল এমপি নির্বাচন করবে—এর মানে হলো আরও বেশি স্বৈরশাসক তৈরি হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন, স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, যুবদলের রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী মিলন, রংপুর জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, রংপুর মেডিকেল কলেজ ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. শরীফুল ইসলাম মন্ডলসহ নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




৩৬ জুলাই (৩ জুলাই, তিন পর্ব)

জুলাইয়ের প্রথম দিনেই আত্মপ্রকাশ করা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ছিল তেসরা জুলাই।

এদিন ঢাকার বাইরে বিশেষ করে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।

৩ জুলাই মুক্তির মিছিলে নতুন করে যুক্ত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করে এবং শাহবাগে বিক্ষোভ করে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এই মোড়টি দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।

ঢাকা আরিচা মহাসড়ক ছাড়াও ৩ জুলাই ময়মনসিংহের কয়েকটি সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তিনের ঘোষিত কর্মসূচির পক্ষে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করে।

আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন। বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

যখন কোন মেধাবী প্রার্থী নিজের যোগ্যতা নিয়েও কাঙ্খিত চাকরি পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলেন তখন তার মধ্যে জন্ম নেয় গভীর হতাশা। এই হতাশা শুধু ব্যক্তিগত নয়। এর প্রভাব বিস্তৃত হয় সমাজের গভীরে। তারা যখন দেখেন তাদের মেধা ও পরিশ্রমের কোন মূল্যায়ন হচ্ছে না তখন তারা হয়ে পড়েন বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ ও হতাশা ধীরে ধীরে পরিণত হয় সামাজিক অসন্তোষে।

বারবার শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, বিদেশি মডেল কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চাপিয়ে দেয়া, শিক্ষার্থীদের বইয়ের পরিবর্তে ডিভাইসে আসক্তি জাগানো কারিকুলাম দিয়ে প্রজন্মকে মেধাহীন করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামল জুড়ে। সর্বোপরি কোটা পদ্ধতি ও দলীয়করণে চাকুরীর অনিশ্চয়তায় থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই আন্দোলন।

এস এল টি তুহিন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম।




কুড়িগ্রামে এনসিপির পথসভা ; কঠোর হুশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লার

“নতুন বাংলাদেশে আর কোনো চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা দখলবাজির জায়গা নেই” — কুড়িগ্রামে এক পথসভায় এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়ার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফলকের সামনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বক্তব্যে হাসনাত বলেন, “আওয়ামী লীগ পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে রূপ দিতে চেয়েছিল, আর তার পরিণতি দেশবাসী দেখেছে। আমরা চাই পুলিশ গণতান্ত্রিক হোক, জনগণের পুলিশ হোক। এনসিপি কোনো রাজনৈতিক পুলিশ চায় না, আমাদের বিশ্বাস জনতাই আসল ক্ষমতা।”

তিনি আরও বলেন, “পটিয়ার ঘটনা যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ৫ আগস্টের পুনরাবৃত্তিও অনিবার্য। আমাদের স্বাধীনতা ছিল না, কিন্তু নতুন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতিবাজদেরও কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, আলেমদের দাড়ি ধরে টেনে বের করে দেওয়া হয়েছে মসজিদের মিম্বর থেকে। আলেমদের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে—এমন বাংলাদেশ আর হতে দেওয়া যাবে না।”

পথসভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “আমরা ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য সারাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সংগঠন গড়ে তোলা। জনগণের সহযোগিতায় আমরা এই রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছি।”

সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, “জেলার মানুষের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না—এমন ব্যবস্থা গড়তে হবে। রাজারহাটে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা নিজ জেলাতেই উচ্চশিক্ষা নিতে পারে।”

এ সময় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “যারা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ক্ষমতার অপব্যবহার, মামলা বাণিজ্য ও লুটপাটে জড়িত, তারা যেন আপনাদের নেতা না হয়। কুড়িগ্রামের সংগ্রামী মানুষের শক্তিই হবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।”

পথসভা শেষে এনসিপির নেতারা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে কর্মসূচির পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ঘোষণা: রাজনীতিতে নয়, ফিরতে চান সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জগতে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব শেষে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির পেশায় ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (২ জুলাই) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার কিছু বন্ধু বলেছেন, আমি নাকি কোনো বড় রাজনৈতিক দলে বা সদ্য গঠিত একটি দলে যোগ দিতে যাচ্ছি। কিন্তু সোজা কথায় বলি— আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আসক্ত নই। একজন এমপি বা রাজনৈতিক ‘বিগ শট’ হয়ে যে ধরনের জীবনযাপন করতে হয়, তাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের মতো দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে ভালো আর্থিক সুবিধা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি করে ভালো থাকা মানেই দুর্নীতির পথে যাওয়া। আমি সে পথে হাঁটতে চাই না।”

প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষে তিনি সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জগতে ফিরে যেতে চান। তার ভাষায়, “আমার কিছু বই লেখার পরিকল্পনা আছে। আমি চাইলে সারা জীবন শুধু ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়েই লিখে যেতে পারি। আমি জীবনে এত স্বতঃস্ফূর্ত, সাহসী ও ব্যাপক রাজনৈতিক সংগ্রাম আর দেখিনি। রবার্ট কেরো যেমন তার জীবন উৎসর্গ করেছেন লিন্ডন জনসনের ওপর লেখালেখিতে, আমিও তেমনি ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে কাজ করে যেতে পারি। যদিও কেউ কেউ ‘বিপ্লব’ শব্দটা পছন্দ করেন না।”

পোস্টে তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালনের সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কিছু কর্মীর কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন। শফিকুল আলম লিখেছেন, “গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর কাছ থেকে হুমকি পেয়েছি। তবে এগুলো হয়তো তাদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। যারা দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছে।”

শেষে তিনি লিখেছেন, “আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই আমরা ফিরে যাব। আমি আমার অন্তর্বর্তীকালীন জীবনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”




সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ নিয়ে ফারুকের অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে এবং তার স্পষ্ট প্রমাণ হলো সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখার সমাবেশ’। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে এই ষড়যন্ত্রের চিহ্ন স্পষ্ট।”

বুধবার (২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার শিরোনাম ছিল— ‘পিআর পদ্ধতির নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নাগরিকদের করণীয়’

“লন্ডনে বৈঠকের সময়েই মাঠে নামানো হলো ষড়যন্ত্র”

ফারুক অভিযোগ করেন, “যখন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক চলছে ও একটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখনই দেশে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক নেতা প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি এবং সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না— এমন বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা

আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের দিকেও সমালোচনার তীর ছোড়েন ফারুক। তিনি বলেন, “আপনারা দশ-এগারো মাস সময় পেয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কার হয়নি। আপনারা যদি দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে থাকেন, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিন। ফেব্রুয়ারিতে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন।”

অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য

সভায় সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটন। বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য রহিমা শিকদারসহ আরও অনেকে।

তারা সকলেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।




বিএনপি জাতীয় ঐকমত্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, অর্থবিল ও আস্থাভোট ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের অষ্টম দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। জাতীয় ঐকমত্যের জন্য বিএনপি আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রস্তাব

এদিনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় সম্ভাব্য সংশোধনী। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমানা নির্ধারণে ‘আর্টিকেল ১১৯’ এর আলোকে বিশেষায়িত একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে দলগুলো প্রায় একমত হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি বিচারিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শুরু হয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছি, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক যেখানে বিচার বিভাগকে বাদ দিয়ে অন্য গ্রহণযোগ্য উপায়ে প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ সম্ভব হয়।”

তিনি আরও জানান, বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন মাস, আর যদি কোনো অনিবার্য কারণে বিলম্ব ঘটে, তাহলে আরও এক মাসের সুযোগ রাখা যেতে পারে।

“স্বৈরতন্ত্র রোধে প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ নির্ধারণে একমত”

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি প্রস্তাব করেছে প্রধানমন্ত্রী যেন জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেন। এ নিয়ে বেশিরভাগ দলের মধ্যে ইতোমধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্যই এ সীমা নির্ধারণ জরুরি।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারেই থাকবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা।

শেষে তিনি বলেন, “কারও একক ইচ্ছায় নয়, বরং সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”




পটুয়াখালীতে বিএনপির সম্মেলনে নেতাকর্মীদের ঢল, স্লোগানে মুখর শহর

২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। বুধবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পটুয়াখালী শহরের দিকে আসতে শুরু করেন। এতে শহরের প্রধান সড়ক ও মোড়গুলো স্লোগান ও হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

সম্মেলনস্থল ব্যায়ামাগার মাঠ এখন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনায় মুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন। ব্যানার-ফেস্টুন, দলীয় পতাকা ও নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত নেতাকর্মীরা কেউ এসেছেন বাসে, কেউ মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেল বহরে, আবার কেউ হেঁটেই পৌঁছেছেন সম্মেলনে অংশ নিতে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সম্মেলনস্থল ও আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবেশপথে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, পাশাপাশি মাঠ ও চারপাশে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ছোট বিঘাই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা কাওসার আহমেদ বলেন, “পটুয়াখালীর রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক মাইলফলক রচিত হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিচ্ছেন।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তৌফিক আলী খান কবির জানান, “আমি দলের দুঃসময়ের কর্মী। আশা করি, তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।”

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর নাগাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




আলেমদের হতে হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “আলেমদের শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আন্তরিকতা ও ঐক্যের পথ বেছে নিতে হবে।”

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “নিজেদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করলে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন পিছিয়ে যাবে। কক্সবাজারে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার পাশাপাশি ৭১টি মন্দিরে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ধর্মীয় সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “আলেমদের কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি যুগের ভাষা ও প্রযুক্তি আয়ত্তে নিতে হবে। শুধু আরবি নয়, বাংলা ও ইংরেজিতেও দক্ষ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত মানবসেবা পুঁজি নয়, দরকার মন-মানসিকতা। সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু বাণী নয়, দরকার কাজের মাধ্যমেই উম্মাহর উপকার সাধন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলার ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. যায়েদ বিন মুহাম্মদ, সৌদি প্রশিক্ষক ড. বরিক বিন মুহাম্মদ, ড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ এবং ড. মনছুর বিন আবদুল আজিজ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামিয়া প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাহুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আবদুল গফুর নদিম। সমাপনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জামিয়াতুন নূর আল আলামিয়ার পরিচালক আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযা।

সপ্তাহব্যাপী এই কর্মশালাটি সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। গত রবিবার সৌদি প্রতিনিধি দল জামিয়ার ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।

এর আগে সকালে ধর্ম উপদেষ্টা কক্সবাজার সার্কিট হাউজে সরকারি যাকাত ফান্ড থেকে অর্থ বিতরণ করেন এবং বেলা ১২টার দিকে কৃষ্ণানন্দধাম মন্দিরে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 

 

 




ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

বাংলাদেশে ভুয়া তথ্য এবং গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকর সহায়তা কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই হতে পারে একটি কার্যকর উপায়।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা সুসান ভিজ এবং ইউনেস্কোর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন অ্যান্ড সেফটি অব জার্নালিস্টস সেকশনের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ’র সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় “অ্যান অ্যাসেসমেন্ট অব বাংলাদেশের মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপ: ফোকাসিং অন ফ্রি, ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যান্ড প্লুরালিস্টিক মিডিয়া” শীর্ষক একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রাক্কালে। এই প্রতিবেদনটি ইউনেস্কো এবং ইউএনডিপি যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিথ্যা তথ্য ও গুজব। এসব অনেক সময় প্রবাসী নাগরিক এবং স্থানীয় গোষ্ঠী দ্বারা ছড়ানো হয়, যা একটি অব্যাহত তথ্য-বোমার মতো কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘ কেবল সরকার নয়, মিডিয়ার সঙ্গেও কথা বলুক। স্বাধীন নীতিমালা থাকা দরকার যাতে কোনো মিডিয়া যদি বারবার ভুয়া তথ্য প্রচার করে, তাহলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। আপনাদের কথা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জাতিসংঘের সক্রিয় সমর্থন চাই।”

এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভিজ জানান, বৃহস্পতিবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে তাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্য যাচাইয়ের বাধা, এবং ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রস্তুত একটি গবেষণা।

ইউনেস্কোর জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ বলেন, “প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ, নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সুপারিশ রয়েছে। এই বিষয়গুলোতে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।”

প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ইউএনডিপির এসআইপিএস প্রকল্পের কাঠামোর আওতায় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের মানোন্নয়নে ইউনেস্কোর ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /