কুয়াকাটায় ভয়ংকর আইসসহ চার মাদককারবারি আটক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ভয়ংকর মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ও ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ দল। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দিনভর অভিযানে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এই চারজনকে আটক করা হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালী ও কলাপাড়া ইউনিটের যৌথ অভিযানে দুইজনের কাছ থেকে ৮ গ্রাম আইস এবং অন্য দুইজনের কাছ থেকে মোট ৭৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—গঙ্গামতি এলাকার মতি মল্লিকের ছেলে মো. রাসেল মল্লিক (৩২), একই এলাকার নুরুল হকের ছেলে আব্দুর রহমান (৩২), ধুলাস্বার ইউনিয়নের মো. রাকির (২৯) এবং কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খলিলের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)। তাদের মধ্যে কেউ মোটরসাইকেল চালক, কেউ হোটেল বয়ের কাজ করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপপরিচালক হামিমুর রশিদ কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উপকূলীয় নৌপথে মাদকের সক্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক গোপন আস্তানা থেকে ‘আইস’ উদ্ধার করা হয়, যা ইয়াবার চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, “আমরা এই মাদকচক্রের সহযোগীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছি। মূল লক্ষ্য হলো চক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।”

উপপরিচালক আরও জানান, “এই প্রথম কুয়াকাটা এলাকায় ভয়ংকর আইস উদ্ধার হওয়ায় এই অঞ্চলকে মাদকের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। আমরা চাই সামাজিকভাবে সবাই মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোক।”

আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাদের মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে; পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো টালবাহানা চলছে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই অগ্রসর হচ্ছে এবং ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ঘোষপাড়ায় আয়োজিত এক পথসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “টালবাহানার কিছু নেই। আমরা গত ১৫-২০ এমনকি ৩০ বছরেও ভারত থেকে খুব বেশি ইতিবাচক অগ্রগতি পাইনি। বহু বছর আগে একবার ইতিবাচক মতামত এসেছিল, তখন আমরা গ্রহণ করিনি। এখনো আলোচনা চলমান আছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের বিষয় কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। আমরা চেষ্টা করছি, কতটা সফল হতে পারি সেটা সময় বলবে।”

এ সময় মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ৩৬ বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, এখনো তাদের ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশেষ করে ওমানে আমাদের উদ্যোগ ছিল শ্রমিকদের পাসপোর্ট হাতে দেওয়া, যেন তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে কষ্ট না পায়। অন্য দূতাবাসগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “চিঠি দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে ফলোআপ করা হবে। এটিকে আক্ষেপ হিসেবে নয়, প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত এক বছরে সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংস্কার নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়, কারণ তৃপ্ত হলে আর কিছু করার থাকে না। আমরা চেষ্টা করছি মন্ত্রণালয়টিকে যতটা সম্ভব জনবান্ধব করে তোলার।”




“ফ্যাসিস্টরা সুযোগ পাবে পিআর পদ্ধতিতে : এ্যানি

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবকে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ ও ‘ফ্যাসিস্টদের জন্য সুযোগ তৈরি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট পরিদর্শনে এসে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বাস্তবতায় এখন পিআর পদ্ধতিতে গেলে নিজেদের মধ্যেই বড় ধরনের বিভেদ সৃষ্টি হবে। ফলে ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো সুযোগ পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান স্পষ্ট বলেছেন— এই পদ্ধতির পক্ষে ব্যক্তিগত মত থাকা যায়, কিন্তু দেশের রাজনীতিতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। একটি উপযুক্ত সময়ে, যেমন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে আমরা সেটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও দাবি করেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ পরিবর্তন চায় এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি অন্তবর্তী সরকার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।

এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে সদ্য লন্ডনে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎকে ‘জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংলাপ’ বলে অভিহিত করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির আহ্বায়ক এম বেলাল হোসেন, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষকদলের স্থানীয় নেতারা।




নির্বাচনে পিআর নয়, ব্যালটে জনগণের আস্থা: বিএনপি নেতা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, “যারা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার যোগ্য নন, তারাই প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন চায়। জনগণ চায় ব্যালটে ভোট দিতে।”

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁও ও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য নবায়ন কর্মসূচির দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআর পদ্ধতি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা

আমিনুল হক বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। তবে সেই প্রক্রিয়া বানচালের অপচেষ্টা হচ্ছে নতুন ফর্মুলার মাধ্যমে। পিআর পদ্ধতি আসলে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এতে নিশ্চিত হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “যে কোনো ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, জনগণ তা রুখে দেবে। মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়।”

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেন

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আমিনুল বলেন, “এক বছর পার হয়ে গেলেও কোনো কাঠামোগত সংস্কার হয়নি। স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার হয়নি। জনগণ এখন ভোট দিতে চায়, গত ১৫ বছরে সেই সুযোগ তারা পায়নি।”

তিনি বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন রাজপথে লড়াই করে গণতন্ত্রের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছে, সেই পরীক্ষিত কর্মীরাই আগে সদস্যপদ নবায়ন করবে।”

সদস্যপদ নিয়ে সতর্কতা ও বার্তা

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আদর্শিক অবস্থান রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল বলেন, “যারা দিনে বিএনপি আর রাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে, তারা দলের সদস্য হতে পারবে না। সমাজের ভালো মানুষ যারা বিএনপিকে ভালোবাসে, তাদের জন্য সদস্যপদ উন্মুক্ত।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে যেন কোনো সুবিধাবাদী ব্যক্তি দলের সদস্য না হতে পারে, সেই বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

তেজগাঁও ও শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপির নবায়ন কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে মো. মিরাজ উদ্দিন হায়দার আরজু ও আইনুল ইসলাম চঞ্চল। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এবিএমএ রাজ্জাক, গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ, মনিরুজ্জামান মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।




রোহিঙ্গা, বিনিয়োগ ও যুব উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা এবং যুব উন্নয়ন—বিশেষ করে শিক্ষাবৃত্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরার সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জাপান সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। আমি সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে আতিথেয়তা ও আন্তরিকতায় অভিভূত হয়েছি। আমরা জাপানের সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতা চাই।”

তিনি জাপানে শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো এবং বাংলাদেশি তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। “অনেক তরুণ জাপানে কাজ করতে আগ্রহী, তবে ভাষা একটি বড় বাধা,”—উল্লেখ করে তিনি প্রস্তাব দেন যে, জাপানি ভাষা ও আচরণ শেখাতে শিক্ষক পাঠানো বা অনলাইন দূরশিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাজার হাজার তরুণ এখন ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে কোনো ভবিষ্যৎ আশা ছাড়াই। এ অবস্থায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।” তিনি বিষয়টিকে মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

এছাড়া, মাতারবাড়ি প্রকল্পকে দেশের জন্য “ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জাপানের চলমান বিনিয়োগকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

জবাবে জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরা বলেন, “বাংলাদেশ জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।” তিনি জানান, জাইকা ইতোমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে সহায়তা দিচ্ছে এবং ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

নারী খেলোয়াড়দের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের মেয়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। আমরা হোস্টেল সুবিধা বাড়াচ্ছি, তবে আরও সহায়তা দরকার।” মিয়াজাকি জানান, জাপান এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ও খেলাধুলায় স্বেচ্ছাসেবক পাঠাচ্ছে এবং বাংলাদেশে এ খাতেও সহযোগিতার কথা বিবেচনায় নেবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়িয়ে ৪৫০ বিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করার অনুরোধ জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ সবসময় জাপানের বন্ধুত্ব ও অবদানের কথা মনে রাখবে।”




৫ জুলাই দেশব্যাপী সকল নিহত-শহীদদের জন্য দোয়া-মাহফিলের আহ্বান হেফাজতে ইসলামের

২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতা ও আলেম-ওলামাদের স্মরণে আগামী ৫ জুলাই দেশব্যাপী দোয়া ও মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, “২০১৩ ও ২০২৪ সালের শহীদদের আত্মত্যাগ এখনও মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে রয়েছে। তাদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় ৫ জুলাই দেশের মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঐসব আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব হরণের বিরুদ্ধে। তারা অভিযোগ করেন, এখনও ‘ভারতের দালাল’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ গোষ্ঠী দেশে ষড়যন্ত্র করে চলেছে এবং এসব প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

হেফাজতের নেতারা জানান, “জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।” দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে রাজপথে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

৫ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জনগণকে সুশাসনের জন্য ঐক্যবদ্ধ করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


প্রয়োজনে চাইলে এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বা বিভিন্ন ধাঁচের শিরোনামও দেওয়া যেতে পারে।




১৯ জুলাই ঐতিহাসিক সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, সফল করার আহ্বান

আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ‘জাতীয় সমাবেশ’ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই সমাবেশকে ঐতিহাসিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় সমাবেশ’ বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠকে এসব তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবাহী সময়ে এ জাতীয় সমাবেশ জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জামায়াতে ইসলামী এই সমাবেশের আয়োজন করেছে।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি সমাবেশে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।


জামায়াতের সাত দফা দাবি:

  1. সব গণহত্যার বিচার
  2. প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার
  3. জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
  4. জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন
  5. পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
  6. প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ
  7. নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা



আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ; তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনিদের

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে পড়েছে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এসব বসতি স্থাপনকারী অতর্কিতভাবে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এসব বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলের নাগরিক, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জমিতে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছায়ায় তারা আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ধর্মীয় আচারও পালন করে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ঐতিহাসিকভাবে মসজিদ চত্বরটি কেবল মুসলিমদের উপাসনার জন্য নির্ধারিত— এমন চুক্তি আছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। এমনকি জেরুজালেমের প্রধান রাব্বির দপ্তর থেকেও ইহুদিদের এই স্থানে উপাসনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দেশটিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইহুদি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। তারা আল-আকসা প্রাঙ্গণের একাংশে সিনাগগ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। পূর্বেও এ ধরনের দাবি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।




পুলিশ সংস্কারের দাবি জানালো এনসিপি ও ছাত্র সংগঠনগুলো

পুলিশ বাহিনীর ভেতরে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পুলিশের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সহ একাধিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, পুলিশের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে জনগণের মধ্যে আস্থা কমে যাচ্ছে। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।

সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, পটিয়া থানার একটি সাম্প্রতিক ঘটনায় দায়ী ওসিকে অপসারণ না করে কেবল রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের মূল দাবির পরিপন্থি। তাদের মতে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যায়।

তারা আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে যদি এ ধরনের অনিয়মকে উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তা বাহিনীর কার্যকারিতা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে এখনই কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইমন সৈয়দ, বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, ১ জুলাই পটিয়া থানায় রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপঙ্কর দেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা না থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নিয়ে থানা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরদিন মহাসড়ক অবরোধসহ থানা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।




বাংলাদেশে ওএইচসিএইচআরের মিশন খোলার প্রক্রিয়া খসড়া পর্যায়ে

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (OHCHR) একটি মিশন শাখা খোলার বিষয়ে প্রক্রিয়া এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনো এটি খসড়া পর্যায়ে আছে। খসড়া আদান-প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে চূড়ান্ত রূপ পেলে এবং এমন একটি অবস্থায় পৌঁছালে যেখানে একটি শব্দও পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না, তখনই আমরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করব। তার আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা ঠিক হবে না।”

তৌহিদ হোসেন জানান, জাতিসংঘের ওএইচসিএইচআরের মিশন খোলার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক নীতিগতভাবে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

এছাড়া জাতিসংঘের পরবর্তী আবাসিক সমন্বয়কারীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে নতুন জাতিসংঘ প্রতিনিধি নিয়ে বাংলাদেশের কোনো অস্বস্তি আছে কিনা— এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, “এগ্রিমো (রাজনৈতিক সম্মতি) দিতে হবে আমাদের পক্ষ থেকে। আমরা এখনো এগ্রিমো প্রসেস করিনি। কাজেই সেটি সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।”

উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন গোয়েন লুইস।