পিএসসি সংস্কার দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা চাকরিপ্রত্যাশীদের

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে শাহবাগ মোড়ে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার পর এ ঘোষণা আসে।

দিনভর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ছাত্র সমাবেশ’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে সেখানে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং অপেশাদার আচরণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা রাজু ভাস্কর্যে এসে অবস্থান নেন এবং ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে মো. শাহ আলম স্নেহ বলেন, “আজ শাহবাগে পুলিশ আমাদের ওপর যেভাবে হামলা করেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি। সেই কমিটি হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পিএসসি অতীতের ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। ৪৪তম বিসিএসের ফলে ৮০০-এর বেশি রিপিটেড ক্যাডার রয়েছেন, যা পিএসসির দুর্বলতা প্রকাশ করে। এই অনিয়ম আর মেনে নেওয়া যায় না।”

আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএসের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশবাসী অবগত হলেও সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ৫ আগস্ট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের আজও বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই প্রতিচ্ছবি।

তাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—পিএসসি সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন, এবং চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার রক্ষায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া।

চাকরিপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায়ে প্রয়োজনে লাগাতার কর্মসূচির দিকে যাওয়ার কথাও তারা বিবেচনা করছেন।




‘সংস্কার আদায় করেই ছাড়ব’ — রংপুরে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর বিভাগীয় জনসভায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মৌলিক কিছু সংস্কার আবশ্যক। আমরা সেই সংস্কারগুলো আদায় করেই ছাড়ব এবং ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করব।”

শুক্রবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত এ জনসভার আয়োজন করে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কেউ যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বপ্ন দেখে থাকেন, আমরা মহান আল্লাহর সাহায্যে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করব। প্রশাসনিক ক্যু, মাস্তানতন্ত্র বা কালো টাকার খেলা মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। নানা ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আলামত বুঝতে পারছি। শেখ হাসিনার হাতে সব বাহিনী থাকলেও জনগণের জাগরণের মুখে তিনি টিকতে পারেননি। সেই জাগ্রত জনগণ আরেকবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না।”

জামায়াতের আমির বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী এই লড়াই চলবে যতদিন না এ দেশে ফ্যাসিবাদের সামান্য চিহ্নও নির্মূল হয়।”

স্বাধীনতার পর জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে দলটি জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জামায়াতই প্রথম কেয়ারটেকার সরকারের প্রস্তাব দেয়। যার ভিত্তিতে একাধিক নির্বাচন হয়েছে। অথচ এখন সেই ব্যবস্থাকেই বাতিল করা হয়েছে।”

দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাড়ে পনেরো বছরে আমাদের ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আজ এটিএম আজহারুল ইসলামকে আমরা জীবিত শহীদ হিসেবে দেখছি। যদি সেই শহীদ নেতারা বেঁচে থাকতেন, তাহলে আজ হতাশাগ্রস্ত জাতিকে নতুন আশার আলো দেখাতে পারতেন।”

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আবু সাঈদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত হয়েছি। তাহলে আমরা কেন ধৈর্য হারাচ্ছি? আজও দেশের নানা প্রান্তে আমরা বিভৎসতা, নারী নিপীড়ন ও সম্পদ লুটপাট দেখছি।”

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সারা দেশকে পাটগ্রাম বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের কল্পনাও করা যায় না।”

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও উত্তরাঞ্চলের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

বিকেল ৩টায় জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, অতিরিক্ত লোকজন রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ সভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়।




‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক জামায়াতের, রংপুরে বিশাল জনসমুদ্র

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে বিভাগীয় জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (৪ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ নানা যানবাহনে করে সভাস্থলে পৌঁছান।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং নির্বাচনের পূর্বশর্তসহ চার দফা দাবি জানিয়ে আয়োজিত এ জনসভা ঘিরে রংপুর জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাগমে এই জনসভায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন সদ্য কারামুক্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা উপলক্ষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে নির্মাণ করা হয় বিশাল মঞ্চ। নারী দর্শনার্থীদের জন্য পর্দাসহ পৃথক জায়গায় বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়। সভাস্থলে প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয় অতিরিক্ত দুটি গেট। সভাকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর নগরে তোরণ, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ব্যানারে সাজানো হয়। মাইকিং, গণসংযোগ ও বিশাল মোটরসাইকেল র‌্যালির মাধ্যমে জনসভা সফল করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ১৩টি উপ-কমিটি, প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “এই জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে ফলাফল ঘরে তুলতে চাই। এই জনসভা হবে নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট।”

সভায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার—যেখানে “১৮ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার”—এমন দাবিও উঠে আসে। জনসভা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জামায়াত নেতারা জানান, জনগণের মধ্যে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। তাদের দাবি, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গঠনের পথে এই জনসভা একটি বড় সূচনা।” জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের ঘোষণাও দেওয়া হয়।




১৭ বছর পর পটুয়াখালীর হত্যা মামলার পলাতক আসামি ঘুডু আরিফ গ্রেফতার

পটুয়াখালীর আলোচিত মোটরসাইকেল চালক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আরিফুর রহমান ওরফে ঘুডু আরিফ (৩৪) দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গত ৩ জুলাই আশুলিয়া থানা এলাকার পল্লীবিদ্যুৎ সংলগ্ন একটি মাছের আড়ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া আরিফ পটুয়াখালী পৌর শহরের সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৯ সালে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো মো. মামুন মিয়াকে অপহরণ করে আরিফ ও তার সহযোগীরা। অপহরণের পর মামুনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দেওয়ায় মামুনকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে তারা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত আরিফুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

তবে রায় ঘোষণার আগেই আরিফ আত্মগোপনে চলে যায়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। দীর্ঘ সময় পুলিশের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন নামে আত্মগোপনে থেকে সে আশুলিয়ায় মাছের আড়তে কাজ করছিল।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আরিফ আশুলিয়ায় অবস্থান করছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।”

ওসি আরও জানান, “এছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী স্পেশাল জজ আদালত তার বিরুদ্ধে আরও এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।”

গ্রেফতারের পর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঘুডু আরিফের গ্রেফতারে নিহত মামুন মিয়ার পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এমন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক দিনে ২০৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, অর্ধেকই বরিশাল বিভাগে

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধেক রোগী—১০১ জন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৯ জন, ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রামে ৯ জন, রাজশাহীতে ১০ জন এবং ময়মনসিংহে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত এক দিনে ২৫৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৬৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৩৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।




রংপুরে জনসভায় এটিএম আজহার: “আমার মুক্তি আবু সাঈদদের রক্তের বিনিময়ে”

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, তার মুক্তির সূচনা হয়েছে শহীদ আবু সাঈদের রক্তদানের মাধ্যমে। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আজহার বলেন, “রংপুরের জনগণ বলতে পারবে না আমি কোনো অপরাধ করেছি। অথচ জোর করে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন—তাদের জোর করে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আজ লক্ষ জনতার মঞ্চে এসেছি। যে গলায় রশি পড়ার কথা ছিল, সে গলায় আজ ফুলের মালা পড়েছে। আমাকে যাদের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, আজ তারাই সাক্ষ্য দিয়েছেন আমার নির্দোষিতার পক্ষে।”

নিজের মুক্তিকে ‘আল্লাহর মেহেরবানি’ উল্লেখ করে আজহার বলেন, “আমার মুক্তির প্রথম সোপান আবু সাঈদ, যার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যার চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। ওই বিপ্লব না ঘটলে আপনারা আমার জানাজা পড়তেন।”

সাবেক ও বর্তমান সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির বিষয়ে তিনি বলেন, “মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেমসহ অনেককে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়েছে। অধ্যাপক গোলাম আযমসহ আরও কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বিনা চিকিৎসায়। এসব হত্যার বিচার চাই।”

বর্তমান ও অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজহার বলেন, “যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তারা কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে? এই আজব বাংলাদেশে তাই হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেই আইনই এখন বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং আজ আমার রায়ের মাধ্যমে শুধু আমি নয়, জামায়াত ইসলামীও মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “৫ আগস্ট আমাদের কারাগারে রেখে যে পরিবর্তন এসেছে, তা সরাসরি আল্লাহর কুদরত। আমরা কল্পনাও করিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে।”

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে জামায়াতের এ জনসভা বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত এ জনসভায় দলের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জিলা স্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত জনসমাগম মাঠ ছাড়িয়ে সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

এ জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।




‘ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করুন’— শাহবাগে উত্তাল চাকরি প্রার্থীরা

৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল পুনর্বিবেচনার দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন চাকরিপ্রার্থী একদল বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন, যার ফলে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবারের মতো এবারও চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে অতিরিক্ত পদ সংযোজনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তাদের দাবি, সাধারণত প্রতি বিসিএসে ৪০০ থেকে ৫০০টি অতিরিক্ত পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসন থেকে অতিরিক্ত পদ সুপারিশ করা হলেও তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আটকে আছে বলে জানান তারা।

একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, “এবার প্রায় ৬০ শতাংশ পদ পুনরায় সুপারিশ করা হলেও, সেগুলো চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্ত করা হয়নি। এসব পদ ফাঁকা থাকার কথা নয়, অথচ তা হিসাবের বাইরে রেখে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।”

বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা দাবি জানান, ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল পুনরায় মূল্যায়ন করে তা নতুন করে প্রকাশ করতে হবে।

এদিকে, অবরোধের কারণে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।




আগামীতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব  থাকবে না : আসাদুজ্জামান রিপন

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে স্বাভাবিক গতিতেই রাজনীতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বলে কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না।”

শুক্রবার (৪ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত প্রতীকী ‘তারুণ্য সমাবেশ’-এ তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে মূল দাবি ছিল—আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি।

ড. রিপন বলেন, “আওয়ামী লীগ ভুল রাজনীতি করেছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে, লুটপাট করেছে এবং জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে তারা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে। নিষিদ্ধ না করলেও জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। আমাদের এই বিজয়ের মূল লক্ষ্য ছিল—একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। যেখানে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তারা মোগল সম্রাটের মতো আচরণ করবেন না, বরং থাকবেন জবাবদিহির আওতায়।”

সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, “১৪ হাজার টাকা বেতনের একজন কর্মচারী ঢাকায় একাধিক বাড়ির মালিক হয়, সন্তানদের বিদেশে পড়ায়—এই চুরি ধরা না হলে রাষ্ট্র কখনো জবাবদিহিমূলক হবে না।”

বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, ২০০৮-০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভারতের ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ ছিল। তার মতে, ১/১১ পরিস্থিতি সৃষ্টি, এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলো ছিল গণতন্ত্র ধ্বংসের অংশ। তিনি বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার মহা-পরিকল্পনার ফল।”

তিনি দাবি করেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪—এই তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে ডিসি, এসপি, ইউএনওসহ আমলারা রাতের ভোট দিনে করে দিয়েছে। তারা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন। রিপন বলেন, “যারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগপন্থী আমলাদের প্রশাসন ও সচিবালয় থেকে সরিয়ে দিতে হবে। দেশে বহু যোগ্য তরুণ বেকার অবস্থায় রয়েছে—তাদের সুযোগ দিতে হবে।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু, রহিমা শিকদার প্রমুখ।

এই সমাবেশে বিএনপি নেতারা সরকারের অতীত নির্বাচন ও আমলাতন্ত্রের ভূমিকায় কড়া সমালোচনা করে প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।




‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ভোট ডাকাতি বা একক কর্তৃত্ব কোনোটিই থাকবে না’ : গোলাম পরওয়ার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিক্রিয়াশীল একক কর্তৃত্ব এড়াতে প্রতিনিধিত্বমূলক (PR) পদ্ধতির নির্বাচন চালুর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে কেউ একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এতে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটে এবং ভোট ডাকাতির সুযোগ থাকে না।”

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের সাংগঠনিক থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও জনগণকে নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে হচ্ছে। এর মূল কারণ একদলীয় শাসনব্যবস্থা, যা রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, “২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা একক কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছে। ২ হাজারের বেশি শহীদ হয়েছেন, ৫০ হাজারের অধিক মানুষ আহত-পঙ্গু হয়েছেন। সেই বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে রাষ্ট্র কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রবাসীদের ভোটাধিকারের প্রশ্নে বক্তব্য রেখে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দল ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্যের প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু একটি দলের বিরোধিতার কারণে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জাতীয় স্বার্থে দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করা।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করলে একদিকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা প্রমাণিত হবে, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিত্বহীন অবস্থার অবসান ঘটবে।” তিনি জানান, “বর্তমানে স্থানীয় সরকারের সমস্ত ক্ষমতা ডিসি-ইউএনওদের হাতে। এর ফলে জনগণ দুর্নীতির শিকার হচ্ছে।”

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন—জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামি ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মোবারক হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, ডা. রেজাউল করিম এবং ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের সম্মান দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।




ফ্যাসিবাদ বিরোধী নতুন রাষ্ট্র গড়ার ডাক এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইনসাফ ও মর্যাদাভিত্তিক একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঠাকুরগাঁও শহরের আর্টগ্যালারি মডেল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে এক পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জনসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। এনসিপির ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই-আগস্টে দেশে ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা ছিল কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও জনতার সম্মিলিত আন্দোলন। সেই আন্দোলনের শহীদদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”

তিনি দাবি করেন, “বর্তমানে দেশে পুরোনো ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা বহাল রয়েছে। সেই ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এনসিপি মাঠে রয়েছে। আমরা মৌলিক সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং নতুন সংবিধানের দাবি জানাচ্ছি। জুলাই-আগস্টের মধ্যেই এই দাবিগুলোর ভিত্তিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করতে হবে।”

বিএসএফের সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “এটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়, এটা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে চলবে জনগণের সিদ্ধান্তেই। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতেই হবে।”

উন্নয়ন প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “উত্তরাঞ্চলসহ ঠাকুরগাঁওয়ের মতো অবহেলিত জেলাগুলোর প্রতি আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আর চলবে না। উন্নয়ন হবে সার্বজনীন—not ঢাকা কেন্দ্রিক।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান, আবু সাঈদ লিওন এবং ঠাকুরগাঁও জেলা সমন্বয়ক গোলাম মুর্তজা সেলিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এনসিপি নেতারা তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে বিকল্প নেতৃত্ব ও তরুণদের অগ্রভাগে রেখে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।