৩৬ জুলাই (পর্ব ৭) ৭ জুলাই

শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের সপ্তম দিনে নতুন এক কর্মসূচি দেখলো বাংলাদেশ।

‘বাংলা ব্লকেড’ নামে এই অবরোধ কর্মসূচিতে অচল হয়ে পরে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকা। মূলত. এদিন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ সড়কে নেমে আসে।

এদিন অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের চার দফা দাবি ছিল। এখন থেকে আমাদের দাবি একটাই—সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কোটা বাতিল করে যৌক্তিকভাবে সংস্কার করে জাতীয় সংসদে আইন পাস করে কোটার যৌক্তিক সমন্বয়।’

এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটাপদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।

জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন -একাংশ সভাপতি রাগীব নাঈম বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘকাল অস্বাভাবিক মাত্রায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা যেমন বৈষম্য তৈরি করেছে, তেমনি অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর প্রাপ্য কোটা বাতিলের মধ্যে দিয়েও সামাজিক বৈষম্য প্রকট হবে।

৭ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক অবরোধের ফলে বিকেলের পর কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা আড়াইটার পর থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় সেখান থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে ঘুরে ভিসি চত্বর, টিএসসি হয়ে বিকেল ৪টায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। শাহবাগ অবরোধের কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। বাংলামোটর এবং কারওয়ান বাজার মোড়েও যান চলাচল আটকে দেন তাঁরা।
এ ছাড়া রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুল মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বোরহান উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন।

আগারগাঁওয়ে বিকেল ৪টায় সড়ক অবরোধ করেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা অবরোধের পর রাত ৮টায় অবরোধের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।

সড়ক থেকে সরে যাওয়ার আগে কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্রধর্মঘট চলবে। পাশাপাশি বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিও চলবে।

এদিন, রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বেলা ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা নগরের ২ নম্বর গেট মোড় অবরোধ করেন। ষোলশহর রেলস্টেশন থেকে শিক্ষার্থীরা মুরাদপুর হয়ে বহদ্দারহাটের উড়ালসড়কের দিকে যেতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। কিছুক্ষণ পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কির পর শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট অবরোধ করেন।

বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে দ্বিতীয় দিনের মতো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।

বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিকেল চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
টানা চতুর্থ দিনের মতো খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে পুরো মহানগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
#####




শহীদদের আত্মত্যাগ ভুলে নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: আমিনুল হক

বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থান পরিস্থিতিতে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ ভুলে গেলে চলবে না।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে” ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে, তাদের ভুলে যাওয়া আমাদের উচিত নয়। তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ পরিবারের পাশে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন—আমরাও তাদের পাশে থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক পরিবেশ থাকবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমরা আর চাই না, আর কোনো ভাই শহীদ হোক।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। উদ্বোধকের বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন এবং বিএনপি পরিবারের নেতা আতিকুর ইসলাম রুমন প্রমুখ।




“সংসদ নির্বাচন, আটকানো,শক্তি, কেরানীগঞ্জ, হুঁশিয়ারি, গয়েশ্বর,৷

সংসদ নির্বাচন সময়মতো না হলে জনগণের প্রতিরোধ রাস্তায় গড়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “নির্বাচন করতে হবে। আমরা যদি মাঠে নামি, তাহলে নির্বাচন আটকানোর শক্তি কারো নেই।”

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার শুভাঢ্যা গার্লস স্কুল প্রাঙ্গণে দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে ‘যথাসময়ে সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের’ দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “যারা বলেন বিএনপি গত ১৬ বছরে কিছু করতে পারেনি, তাদের বলব—আমরা চাইলে ১৬ দিনেই তা করে দেখাতে পারি। তবে আমরা এখনো ধৈর্য ধরছি, কারণ একজন ভদ্রলোক (প্রধান উপদেষ্টা) ওয়াদা করেছেন, তিনি তার কথা রাখবেন।”

জামায়াতে ইসলামীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “শিক্ষা আর স্বাস্থ্য খাত জামায়াত দখল করে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে যারা ভারতের দালাল বলে, তারাই আসলে ভারতের দালালি করে। যারা নির্বাচন চায় না, সংস্কারের নামে তালবাহানা করছে, তারাই ভারতের প্রক্সি।”

ঐক্য ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপায়নের জন্য আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে। শহীদদের রক্তের শপথ রক্ষা করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে কোনো বিভক্তি যাতে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

শান্তি সমাবেশ নিয়ে কটাক্ষ হাবিব উন নবীর

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে বিএনপি যখনই মিটিং ডেকেছে, পাশে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করেছে। এসব শান্তি সমাবেশে আসতো এলাকার মাস্তানরা, সঙ্গে থাকতো অস্ত্রের আওয়াজ। শেখ হাসিনার আমলে শান্তির মা দাফন হয়ে গেছে।”

লন্ডন বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, “তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে লন্ডনে দেড় ঘণ্টার ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক হয়েছে। এতে কারও গা জ্বালা করলে তা তাদের সমস্যা। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের সঙ্গে বৈঠক হবে, সেটাই স্বাভাবিক।”

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, “জনগণ এখন নির্বাচন চায়। এটা আর দাবি নয়, এটি এখন অধিকার—যা আদায় করে নিতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




পর্যটকদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন প্রথম পছন্দ: সুপ্রদীপ চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমা।

তিনি জানান, সদ্যসমাপ্ত ঈদুল ফিতর ছুটিতে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটক বান্দরবানে ভিড় জমিয়েছিলেন যে, তাদের আবাসন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত খালি করে দিতে হয়।

রোববার (৬ এপ্রিল) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এখন পর্যটকদের সেবাদানে মনোনিবেশ করতে হবে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এখন প্রয়োজন টেকসই ও পর্যটকবান্ধব সেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভর হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এখনই সময়। শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা হবে ভবিষ্যতের আদর্শ ও উন্নত পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থপতি।”

মতবিনিময় সভায় উদ্যোক্তারা স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা।




পাহাড়ি ফল মেলার মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংযোগ গড়ে তোলা হয়েছে: উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা

পাহাড়ি অর্গানিক ফল মেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এটি পাহাড়ি জীবনধারা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নগরবাসীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।

শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী পাহাড়ি ফল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। অর্গানিক ফল আমাদের জীবনের অংশ এবং এই মেলার মাধ্যমে আমরা সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। “বিশেষ করে পাহাড়ি নারীরা অর্গানিক ফল চাষে যে নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে ভূমিকা রাখছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। সরকার তাদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও বাজার সংযোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ টেনে সুপ্রদীপ চাকমা জানান, চলতি বছরের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তত ১০০টি স্কুলে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ই-লার্নিং চালু করা হবে। “এটি শুধু শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, বরং প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথও উন্মুক্ত করবে।”

তিনি বলেন, “এই ফল মেলা শুধু কৃষক ও ভোক্তার সংযোগ নয়, বরং শিক্ষা, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি মঞ্চ। আমরা চাই, রাজধানীবাসী পাহাড়ি সংস্কৃতিকে শুধু দেখবে না, অনুভবও করবে।”

আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলার প্রতিটি স্টল যেন ছিল একটি গল্পের জানালা—যেখানে শুধুমাত্র ফলের স্বাদ নয়, বরং পাহাড়ি জীবনের রঙ, ঘ্রাণ ও অনুভূতির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। এ আয়োজন স্থানীয় কৃষকের পণ্যের প্রচার এবং বাজার সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি সংগীত ও নৃত্য।




“পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি হেফাজতের”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ইসলামি মূল্যবোধ, পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় সংস্কৃতির ওপর হস্তক্ষেপের সামিল।

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ মাহফিলটি শাপলা ও চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত হয়।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো ইসলামী মূল্যবোধে গঠিত। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের নামে ইসলামী শরিয়া, পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় রীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে খুলতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সমকামিতা ও বিকৃত পশ্চিমা ধারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। ইসলাম এ ধরনের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয় না এবং এ বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করা ঈমানদার জনগণের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, “মানবাধিকার মানে ধর্মীয় পরিচয় ও সমাজের প্রকৃতি অনুযায়ী মানুষকে সম্মান দেওয়া। ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ করে কোনো বিদেশি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ঈমানদার জনতা তা প্রতিহত করবে।”

সভায় মাওলানা মামুনুল হক সরকারের প্রতি চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঈমানদার জনতা ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত। প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, স্বাধীন ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। যারা এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবেন, তারা ইতিহাস ও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, “দেশের অভ্যন্তর ও বাইরের ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্র রুখতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।”

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার।




পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে আবারও ‘জুলাই আন্দোলন’ ঘটবে—আহতদের হুঁশিয়ারি

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসা বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ আহতরা। ঈদের ছুটির অজুহাতে তাদের চিকিৎসা বন্ধ এবং পুনরায় ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আহতদের দাবি, তারা সুচিকিৎসা না পেলে হাসপাতাল চত্বরেই ফের ‘জুলাই’ ঘটবে।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নতুন কমিটি নিটোর পরিদর্শনে গেলে, সেখানে অবস্থানরত আহতরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, বর্তমানে কেউ কেউ ফ্লোরে থেকেও চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করছেন।

আহত সৌরভ বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঈদের সময় আমাদের বাড়ি যেতে বলে। ফেরার পর তারা কথা রাখেনি, ভর্তি নেয়নি। অনেকের শরীরে পচন ধরেছে, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা মিলছে না।”

আরেক আহত আশিক জানান, “১১ দিন পর বাড়ি থেকে ফিরে আসলেও আমাকে ভর্তি করা হয়নি। এখন ফ্লোরেই ঘুমাই, কোনো চিকিৎসা পাই না।”

গুলিবিদ্ধ আয়েশা বলেন, “চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও আমি এখনও তা পাইনি।”

পরিদর্শন শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, “একজন মা আমাদের জানিয়েছেন, তার ছেলেকে আর ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল। তিনি বাসাবাড়িতে কাজ করে ওষুধ ও খাবারের টাকা জোগাড় করছেন। এটা অত্যন্ত অমানবিক।”

কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান বলেন, “মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম। অথচ আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ বলছে, আহতদের মধ্যে সিন্ডিকেট হয়েছে। অথচ আন্দোলনের সময় তারা সবাই একাট্টা ছিল। এখন তাদের সঠিক চিকিৎসা দরকার, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে।”

তিনি আরও জানান, নিটোরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. আবুল কেনানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললেও তিনি বলেন, ‘আমি নিরুপায়’। কেন নিরুপায়—সে প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব দেননি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নেতারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান।

বক্তব্য শেষে উপস্থিত ছাত্রনেতারা ‘চিকিৎসা নিয়ে সিন্ডিকেট চলবে না, চলবে না’—এই স্লোগান দেন।




গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দোয়া চাইলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমির নিজেই।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দোয়া প্রার্থনা করেন।

এছাড়া জামায়াতের প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার জন্যও সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “আমার শ্রদ্ধেয়া শাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে সকলের কাছে একান্ত দোয়া প্রার্থী। সুস্থতা-অসুস্থতা এবং হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ তায়ালা যেন তার এই বান্দির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।”

তিনি আরও লেখেন, “একইভাবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ দায়িত্বশীল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদ সাহেবও বর্তমানে আইসিইউতে আছেন। তার জন্যও আমি সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




আশুরার বাণীতে তারেক রহমান: আওয়ামী দমনপীড়ন এজিদের বর্বরতার মতোই পৈশাচিক

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ছিল এজিদ বাহিনীর পৈশাচিকতার মতোই নির্মম।

শনিবার (৫ জুলাই) পাঠানো এক বাণীতে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ১০ মহররম স্মরণীয় ও ঘটনাবহুল একটি দিন। এ দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম তিনি করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তারেক রহমান বলেন, “কারবালার ঘটনাপ্রবাহ সব যুগেই মজলুম জনগণের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে শক্তি ইনসাফ ও মানবতাকে পদদলিত করেছিল, তার বিরুদ্ধে ইমাম হোসেন (রা.)-এর আদর্শিক সংগ্রাম ছিল চূড়ান্ত আত্মত্যাগের নিদর্শন।”

তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৬ বছরে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সন্ত্রাস, হানাহানি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে শোষণের এক অবর্ণনীয় রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দী রেখে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতারা যে পৈশাচিক দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তা এজিদ বাহিনীর বর্বরতার মতোই। এদেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ আমাদের সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আর কখনো যেন কোনো অন্যায়কারী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য কারবালার শিক্ষা ও চেতনা আমাদের অবিরাম প্রতিরোধ সংগ্রামে প্রেরণা জোগাবে।”




ক্ষমতায় গেলে মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি জামায়াতে ইসলামীর

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের রমনায় দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে প্রচারণা শেষে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই প্রচারণা ১৯ জুলাই ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনায় ইসলাম বিদ্বেষীরা নারীদের গৃহবন্দি করার গুজব ছড়াচ্ছে। অথচ একমাত্র ইসলামই নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কারও অধিকার বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের মতবাদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করেছে। ফলে ছাত্র ও জনতা ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। মানুষের তৈরি আইনে সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, হবেও না।”

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণ ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’-কে সমর্থন দিলে জামায়াতে ইসলামী একটি বৈষম্যহীন, সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিক তার অধিকার ফিরে পাবে।”

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সাত্তার সুমন, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য আতিকুর রহমান, থানা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট সুলতান উদ্দিন এবং থানা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুক।