জাতীয় প্রতীকের অংশ শাপলা, প্রতীক হতে আইনগত বাধা নেই: এনসিপি নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি না পায়, তবে ধানের শীষ, পাটপাতা ও তারকার মতো জাতীয় প্রতীকের অংশগুলোও প্রতীক হতে পারে না। তিনি শাপলাকে জাতীয় প্রতীক নয়, বরং জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সারজিস আলম বলেন, “শাপলার মতো ধানের শীষ, পাট পাতা, তারকা—সবই জাতীয় প্রতীকের অংশ। তাই যদি শাপলা প্রতীক হতে না পারে, তাহলে ধানের শীষকেও প্রতীক হিসেবে রাখা ঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলা প্রতীক হতে কোনো আইনগত বাধা নেই। যেমন কাঁঠাল—যা জাতীয় ফল—সেটি ইতোমধ্যে একটি দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাহলে শাপলা প্রতীক নিয়ে আপত্তির কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

প্রতীক বাতিলের আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যদি মার্কা দেখেই ভয় পান, তাহলে সেটা আগে থেকেই বলে দেন।”

জাতীয় প্রতীকের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে এনসিপি নেতা সারজিস আলম নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের বিরুদ্ধেও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন।




জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এটিকে ছোট করে দেখছে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, এটিকে খাটো করে দেখতে চায় না বিএনপি।” তিনি জানান, এই ঘটনার যথাযথ মূল্যায়ন করেই দলটি জুলাই সনদ বিষয়ে নিজেদের মতামত সরকারের কাছে জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে। আমরা সংস্কারকে স্বাগত জানাই। কিন্তু কেউ যদি বলে বিএনপি সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেটা ভুল ব্যাখ্যা। গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে। আমরা আশা করি, ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারের নির্দেশনায় একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা হবে, যেখানে জনগণ সত্যিকার অর্থেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।”

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা এবং পুশইনের ঘটনা ঘটছে। সরকারকে এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কঠোরভাবে দরকষাকষি করতে হবে। এটা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।




নতুন সংবিধানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি চায় এনসিপি

সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা চেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক সংলাপের দ্বিতীয় ধাপের ১১তম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি তুলে ধরেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

আখতার হোসেন বলেন, “আমরা মনে করি বাংলাদেশে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। সেই সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ যুক্ত করে তা কার্যকর করতে হবে।”

জরুরি অবস্থার বিধানে সংশোধনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই বিধান ব্যবহার হয়েছে। এনসিপি চায়, মন্ত্রিসভার পরিবর্তে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি বা সরাসরি সংসদের অনুমোদনের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি যেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। সেই সঙ্গে মৌলিক মানবাধিকার যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেই নিশ্চয়তা বিধানেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আখতার হোসেন আরও জানান, জরুরি অবস্থায় নাগরিকরা যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও আইনগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি নিয়েও সুস্পষ্ট মত দেয় এনসিপি। আখতার বলেন, “বাংলাদেশে অতীতে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। এনসিপি মনে করে, এই পদে নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন থাকা দরকার।” তিনি জানান, এনসিপি জ্যেষ্ঠ বিচারকের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশ করেছে, যাতে দলীয় প্রভাব এড়ানো যায়।

এনসিপির এ প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংলাপে উপস্থিত অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছিল বলে জানানো হয়েছে।




“রাজনীতিকে আমরা কঠিন করে তুলব এবং জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবো” — হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “আমরা রাজনীতির নিয়মই শুধু পাল্টাবো না, রাজনীতির খেলাও পাল্টে দেব। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব, এবং সবাইকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করব।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে নড়াইল শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, “যারা গলফ খেলিয়ে, হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চান, তারা ফাউল করছেন। তারা শিগগিরই ‘রেডকার্ড’ দেখে মাঠ ছাড়বেন।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে হুদা ও রকিব কমিশন রাতের আঁধারে ভোট ‘কেটে নিয়েছে’, এমনকি মৃত ব্যক্তিকেও ভোট দিতে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন।

শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমাদের নির্বাচন কমিশন এখন মিটিংয়ের আগেই ফলাফল জানিয়ে দেয়। গতকালই তারা বলে দিয়েছে আমাদের শাপলা মার্কা দেওয়া হবে না, অথচ মিটিং হয়েছে আজ। এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে?”

হাসনাত আরও বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে—কোন নির্বাচন কমিশনার কোথায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ক্যান্টনমেন্টে কারা গিয়েছেন, কে গলফ খেলেছেন। রিমোট কন্ট্রোল কোথায় আছে, তাও আমরা জানি।”

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এরশাদ ও জিএম কাদেরের মতো অনেক রাজনীতিক নির্বাচনের আগে ক্যান্টনমেন্ট বা বিদেশে গিয়ে ‘পরামর্শ নিয়ে’ সিদ্ধান্ত নিতেন—সরকারে থাকবেন না বিরোধী দলে।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা। বক্তারা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের অধিকার আদায়ে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে রক্তদানের মহৎ উদ্যোগ বিএনপির

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান টোটন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং পটুয়াখালী জেলার কৃতী সন্তান ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু।

বক্তব্য দেন ড্যাব সদস্য ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. মো. মহিবুল্লাহ্ রুবেল।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও সেবাপ্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ড্যাব জানায়, জাতীয় সংকটে মানবিক সেবা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তারা অবিচলভাবে কাজ করে যাবে।




জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন সাবেক আইজিপি, ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী

জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে সম্মতি দিয়েছেন তিনি।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া বক্তব্যে মামুন বলেন, “জুলাই-আগস্টে চলমান আন্দোলনের সময় আমাদের বিরুদ্ধে যে হত্যা-গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। আমি নিজেকে দোষী হিসেবে মেনে নিচ্ছি এবং রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতের সামনে সব তথ্য তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহযোগিতা করব।”

এ সময় ট্রাইব্যুনাল তার রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন করেন। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন।

এর আগে একই দিনে, ২০২৫ সালের আলোচিত জুলাই গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এই মামলার মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।




‘দেশের মালিক জনগণ; জনগণ যাদের চাইবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে’ — ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে জনগণ। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত দেওয়ার মালিক দেশের জনগণ। তারা যাকে গ্রহণ করবে, তারাই দায়িত্ব পাবে এবং দেশ পরিচালিত হবে।”

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনায় ডা. জাহিদ হোসেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, “সাংবাদিকদের রক্তচক্ষু দেখানোর মতো ভাষা আপনি প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু আপনি একবারও ভাবেননি—এই ভাষা স্বৈরশাসকদের। এটাই সেই শাসকদের ভাষা, যারা কথায় কথায় গুম করত।”

তিনি আরও বলেন, “মাহমুদুর রহমান, শফিক রহমানের মতো সিনিয়র সাংবাদিকেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৬২ জন সাংবাদিক গুম হয়েছেন। আজ আবার সেই ভাষা ও আচরণ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এটি কি সঠিক? যদি আগামীর বাংলাদেশের কথা বলেন, তাহলে পুরনো মানসিকতা নিয়ে তা সম্ভব নয়।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।




“ফ্যাসিস্ট আক্রমণে জড়িতদের দলগতভাবে বিচার হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে, এবং একইসঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ও অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “শেখ হাসিনা দ্য রেসপনসিবল ফর দ্য কিলিং অব থাউজ্যান্ডস অব পিপল—তিনি এককভাবে গণহত্যার জন্য দায়ী। তার বিচার শুরু হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যারা এই গণহত্যা ও ফ্যাসিস্ট আক্রমণের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা কাজ করেছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের হয়ে যারা যুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেকের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নিজে ১১২টি মামলার আসামি ছিলাম এবং ১৩ বার জেলে গিয়েছি।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “যত দ্রুত দেশকে নির্বাচনের ট্র্যাকে তোলা যাবে, তত দেশের মঙ্গল। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি বিএনপি। এই দলই একদলীয় শাসন থেকে দেশকে এনে দিয়েছে বহুদলীয় এবং সংসদীয় গণতন্ত্র।”

সংস্কার ও নির্বাচনের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “সংস্কার এবং নির্বাচন একে অপরের পরিপূরক। সংস্কারের দাবি আমরাই তুলেছি এবং এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছি। যারা ভাবছে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই, তারা আবার চিন্তা করুন। দেশের জন্য একটি নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন, যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে।”

মির্জা ফখরুল এ সময় দেশকে রক্ষা করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন।

এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন। অপর দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন।

গত ১ জুলাই এ মামলার শুনানি সম্পন্ন হয় এবং ৭ জুলাই আদেশ ঘোষণার জন্য ১০ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়। আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথেষ্ট সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতায় বহু নাগরিক হতাহত হন। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা পরিকল্পিত ও নির্মম দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

এই মামলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের দাপট, ছেলেদের ছাড়িয়ে এগিয়ে জয়জয়কার

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আবারও ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে মেয়েরা। পাসের হার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের দিক—সবক্ষেত্রেই ছাত্রীদের আধিপত্য স্পষ্ট। শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ ও অগ্রগতির আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছে এই সাফল্য।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। ফলে পাসের হারে ছাত্রীদের অগ্রগতি প্রায় ৬ শতাংশ।

জিপিএ–৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। এবার জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী, যেখানে ছেলেদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬৫ হাজার ৪১৬ জন। অর্থাৎ, ছাত্রীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৯ জন এবং ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৭ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫ জন ছাত্রী এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ জন ছাত্র।

গত কয়েক বছর ধরেই বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষায় বিশেষ মনোযোগ—এইসব কিছুর সম্মিলিত ফলেই মেয়েরা এ সফলতা অর্জন করছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শিক্ষায় মেয়েদের এই অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫