মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জ্ঞাপন করলেন মির্জা ফখরুল

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পাথর মেরে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই নৃশংস ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি চরম আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই পৈশাচিক ঘটনা কেবল একটি জীবনহানিই নয়— এটি নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন। আমাদের দলের নীতি, আদর্শ ও রাজনীতির সঙ্গে সন্ত্রাস এবং বর্বরতার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরাধী যেই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের মাধ্যমে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পরেও দেশে এমন একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতির বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তার লাভ করবে, যা সমাজকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।”

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড করার সাহস না পায়।”

মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে সোহাগ হত্যার ভিডিও। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে।




পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা: দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

রাজধানীর পুরান ঢাকায় মো. সোহাগ (৪৩) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ রিমান্ড আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে—একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি অস্ত্র আইনে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান মহিনকে পাঁচদিনের এবং অস্ত্র মামলায় তারেক রহমান রবিনকে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে উলঙ্গ করে, পাথর মেরে হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিন ও রবিনকে গ্রেফতার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে বহু মানুষ প্রকাশ্যে হত্যার এই দৃশ্যকে “বর্বরতা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

নিহত মো. সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারির ব্যবসা করতেন।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে যুবদল থেকে দুই নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি: জামায়াত সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা ইতিহাসের একটি বিশেষ সময় অতিবাহিত করছি। ইসলামী আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে জাতীয় সমাবেশ হবে আমাদের জন্য একটি ট্রেনিং পয়েন্ট।”

শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমার জীবন, চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতি সবই আল্লাহর জন্য। আল্লাহর নির্দেশই সর্বোচ্চ, তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

ঢাকা মহানগরী উত্তরের সব জনশক্তিকে জাতীয় সমাবেশে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে এ সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় ইসলামী পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।”

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আ. রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিমুদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত। দারসুল কোরআন পেশ করেন ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।

আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, রুকন সম্মেলনে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করেন।




তারেক রহমানকে সারজিস আলমের হুঁশিয়ারি: ‘এই প্রজন্ম ছাড় দেবে না’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “আগের দিন আর নেই, জনাব। এই প্রজন্ম ছাড় দিতে পারে, তবে ছাড় দেবে না।”

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “সবাই খারাপ কিন্তু আপনি ভালো—বাংলাদেশে এই নাটক আর চলবে না। আপনার দলের কিছু নেতা-কর্মী এখন নরপিশাচে পরিণত হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন, জনাব তারেক রহমান। যেমন আওয়ামী লীগের সময়ে কোনো হত্যাকাণ্ডের দায় শেখ হাসিনার ওপর বর্তায়, ঠিক তেমনি বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের হাতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের দায় থেকেও আপনি মুক্ত নন।”

তিনি বলেন, “মিটফোর্ড হাসপাতালের পাশে চাঁদা না দেওয়ায় একজন ব্যবসায়ীকে উলঙ্গ করে পাথর মেরে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহ ঘিরে যুবদলের কর্মীদের উল্লাস—এই দৃশ্য মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। এ জন্যই কি বাংলাদেশের মানুষ ‘জুলাই বিপ্লব’ করেছিল?”

সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “আগের দিন আর নাই, জনাব। এই প্রজন্ম হয়তো কখনো ছাড় দিতে পারে, তবে অন্যায়ের প্রশ্নে কাউকে ছেড়ে দেবে না।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্ট ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।




চীনের উদ্দেশ্যে জামায়াত প্রতিনিধিদলের ঢাকা ত্যাগ, নেতৃত্বে আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে চীন সরকারের আমন্ত্রণে দলটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়াও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

জানা গেছে, ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলমান এ সফরে জামায়াত প্রতিনিধিদল চীন সরকারের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সফরটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ও ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




“এ কোন যুগ, কোন সমাজ!”: মিটফোর্ডের নির্মমতায় বাকরুদ্ধ জামায়াত আমির

ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, “বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মিটফোর্ডের এ নির্মম ঘটনা জেনে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এ কোন যুগ! কোন সমাজ! প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে কেবল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অপরাধে শত শত মানুষের সামনে হত্যা করা হলো!”

তিনি নিহত সোহাগের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “হে ক্ষতিগ্রস্ত মজলুম পরিবার, আমরা তোমাদের কাছে লজ্জিত। হে ব্যবসায়ী ভাই সোহাগ, তোমার এই পরিণতি হওয়ার আগে আমরা কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি— এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, “হে সমাজ, জেগে উঠো! মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার প্রমাণ দাও। আজ যদি তুমি চুপ থাকো, কাল যখন তোমার ওপর এই অন্যায় নেমে আসবে, তখন কেউ পাশে থাকবে না। ভয় ও সংকোচ উপেক্ষা করে আমাদের সমাজ থেকে অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই হবে।”

চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ইতোমধ্যে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।




মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড: ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিএনপিকে দায়ী করায় ‘নোংরা রাজনীতি’ বলছে দলটি

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে জনসমক্ষে এক ব্যবসায়ী যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

এ পরিস্থিতিতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, বিচ্ছিন্ন এ ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা ‘নোংরা রাজনীতিরই’ অংশ। তিনি বলেন, “বিএনপি ইতোমধ্যে সিরিয়াস ব্যবস্থা নিয়েছে। এরপরও বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানো রাজনৈতিক অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।”

তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্তদের আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “বিএনপি কোনো অপরাধীকে কখনো আশ্রয় দেয়নি, দেবে না। আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।”

এদিকে যুবদলের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে করা মামলার আসামি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকিকে দল থেকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং অপরাধ নির্মূলে দল সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করছে।




বাউফলে ইয়াবাসহ ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি হলেন হারুন মৃধা (৪৬), যিনি নওয়ামালা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। পাশাপাশি তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের সোলাবুনিয়া বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারুন মৃধা উপজেলার ‘নিজ বটকাজল’ এলাকার বাসিন্দা ও মৃত হাফেজ আলী মৃধার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদ্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অনেকেই তাকে অপরাধ জগতের ‘খলিফা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতারুজ্জামান সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে তাকে হাতেনাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, আসামিকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“নিজ দলের দুর্নীতিবাজরাও রেহাই পাবে না” — যশোরে হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার যশোরে এক পথসভায় বলেন, “যারা দুর্নীতি করবে, এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। এমনকি দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যশোর জজকোর্ট মোড়ে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় তিনি বলেন, এনসিপি কারও ‘কোটি কোটি লোক’ থাকার ভয় পায় না। “এনসিপি এমন নেতৃত্ব চায় যারা জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করবে,” বলেন তিনি।

জুলাই মাসব্যাপী পদযাত্রার ১১তম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্যসচিব আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের আলাপ যদি টেবিলে না থাকে, তবে রাজপথেই আন্দোলন হবে। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, কিন্তু তাদের আধিপত্য মেনে নেবে না।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা বিচার, সংস্কার ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। বিচার ও সংস্কার ছাড়া জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। যারা এই বিষয়গুলো ছাড়া নির্বাচন চায়, তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়।”

তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “৫৪ বছরেও দেশে স্বাধীন, নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। আমরা চাই পুলিশ, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্র কোনো দলের অনুসারী না হয়ে জনস্বার্থে কাজ করুক। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করুন, গুমের রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন।”

যশোরের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিট এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি, আইসিইউও চালু হয়নি। এখানকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় যেতে হয়। আমরা চাই যশোরের মানুষ যশোরেই চিকিৎসা এবং শিক্ষা পাক।”

তিনি ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা, বেনাপোলের দুর্নীতি ও মাদক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে ছাত্র ও তরুণ সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

পথসভাটি পরিচালনা করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে, সকাল ১২টায় শহরের রেলরোড এলাকায় চার খাম্বার মোড়ের একটি হোটেলে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা। জুমার নামাজ আদায়ের পর তারা পদযাত্রায় অংশ নেন, যা মুজিব সড়ক হয়ে পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়। পরে তারা খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পদযাত্রায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং পুরো সময়জুড়ে কর্মসূচিতে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১১ জুলাই

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো সরাসরি সহিংসতা চালায় পুলিশ এবং নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। এখন পর্যন্ত ছায়া থেকে হুমকি দিলেও, এদিন তা প্রকাশ্য সহিংসতায় রূপ নেয়।

আন্দোলন দমনে সরকারি অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী, যেমন ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, আসাদুজ্জামান খান কামালদের বক্তব্যে কঠোর মনোভাব উঠে আসে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন সাংবাদিক সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ঢাকার আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলায় আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

এই সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে জরুরি সমন্বয় সভায় আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল ৪টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “জরুরি সংসদ অধিবেশন ডেকে কোটা বাতিলের আইন পাস না করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।”

এর আগে বিকেল ৫টায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হন। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত পৌঁছান তারা। পরে শাহবাগ মোড়ে ফিরে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি চালিয়ে যান।

বিভিন্ন স্থানে অবরোধ কর্মসূচি:
সায়েন্স ল্যাব মোড়: অবরোধ করেন ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।

ফার্মগেট-মিরপুর সড়ক: পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে অবরোধ, এতে পুলিশের হামলায় আহত হন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক: অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক: বিক্ষোভে নামে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধ।

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

খুলনা: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরীর জিরো পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে, যা সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসে পরিণত হয়। পরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন চলমান আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক’ বলে আখ্যা দেন।

১১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন এক নতুন মোড়ে প্রবেশ করে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বিপরীতে সরকার ও শাসক দলের বিরুদ্ধে সহিংস দমন অভিযানের অভিযোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ, আর দাবি একটাই—বৈষম্যহীন, যৌক্তিক কোটা সংস্কার।