৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দ্রুত শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছে এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘সিস্টেমেটিক এফোর্টস টু আন্ডারস্ট্যান্ড ইকোনমিক পালস: ইমপোর্টেন্স অব পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, এক সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছালেও পরে তা কমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তার ভাষায়, অতীতে ঋণের অর্থ দিয়ে রিজার্ভ শক্তিশালী দেখানোর প্রবণতা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অর্থ ছাড়াই বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় রিজার্ভ বাড়ানোর পথে রয়েছে। লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

তিনি আরও বলেন, মানি মার্কেট বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারকে স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখা।

পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই নিয়ে গভর্নর বলেন, অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বুঝতে রিয়েল টাইম ডাটা অত্যন্ত জরুরি। এই কাজকে অনেক সহজ করেছে পিএমআই সূচক। বাংলাদেশে এটি নতুন হলেও তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার মতে, এই সূচক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণে পিএমআই একটি কার্যকর সূচক। বাংলাদেশেও এটি অর্থনীতির সক্ষমতা ও প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সরকারকে ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করছে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, সূচকের মাধ্যমে যে কোনো দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা সহজে বোঝা যায়। পিএমআইয়ের ডাটা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাচ্ছেন, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সহায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে প্রতি মাসে পিএমআই সূচক প্রকাশ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক পিএমআই মান দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ২, যা নভেম্বর মাসে ছিল ৫৪। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, যদিও গতি তুলনামূলকভাবে মাঝারি।

ডিসেম্বর মাসে কৃষি খাতের পিএমআই সূচক ছিল ৫৯ দশমিক ৬, উৎপাদন খাতে ৫৮ দশমিক ২, সেবা খাতে ৫১ দশমিক ৮। তবে নির্মাণ খাতে সূচক নেমে এসেছে ৪৯ দশমিক ৮-এ, যা খাতটির সাময়িক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝানো হয়।

সার্বিকভাবে আলোচনায় উঠে আসে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশের ভবিষ্যৎ বদলের নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, এই নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এটি সুষ্ঠু হতেই হবে।”

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন ঘিরে নানা পর্যবেক্ষণ, উদ্বেগ ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বৈঠকে এনসিপি নেতারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে তাঁদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে নির্বাচনী পরিবেশ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা কিছু উদ্বেগের কথা প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, যাতে কেউ আইন অমান্য করতে না পারে।”

তিনি আরও জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। “এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে বডি ক্যামেরা, যা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইনসম্মতভাবেই সরকার জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে এবং কেন তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসহ আমাদের সবার। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই নির্বাচনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অবৈধ ইটভাটার আগ্রাসনে ঝালকাঠিতে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি, বিপন্ন পরিবেশ

ঝালকাঠি জুড়ে অবাধে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার ছোবলে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে খাল ভরাট, রাস্তা ভাঙন, জমির উর্বরতা হ্রাস এবং কালো ধোঁয়ায় ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সংকটে পড়েছে জনপদ। নীতিমালা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় থামছে না এই ক্ষতি।

নীতিমালা অনুযায়ী, লোকালয়ের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। বাস্তবে ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই বেনামি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ফলে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ফসলি জমির ওপর পড়ে ধানসহ নানা ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে, বাতাস ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমির গভীর থেকে মাটি কাটায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। আবার ভাঙা ইট খালে ফেলে অনেক জায়গায় খাল দখল করা হচ্ছে, এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং খালপাড়ের সড়কে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুতালড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক রনি বলেন, পাশের উপজেলায় অবস্থিত একটি ইটভাটা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ইট খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল ভরাট হয়ে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখন সড়কের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

সদর উপজেলার বিকনা এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, ফসলি জমির মাঝেই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায় না। ভাটার ধোঁয়া ও ধুলো ধানের ক্ষেতে কুয়াশার মতো জমে যাচ্ছে, ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। নারকেল ও সুপারির ফলনও কমছে।

পরিবেশকর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, ইটভাটার মাটির জোগান আসে ফসলি জমি ও নদীর চর থেকে। প্রতিবছর টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় ধান উৎপাদন কমছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

এদিকে পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, গত বছর ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং চলতি বছরও একাধিক অভিযান হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করা হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৯টি বৈধ। বাকি ২২টি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে—যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে শতবর্ষী দীঘি ভরাট, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

বরিশাল নগরীতে একটি শতবর্ষী দীঘি অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার সড়কের ভেতরে ড্রেজারের পাইপ ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী দীঘিটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, দীঘিটি প্রায় একশ বছরের পুরোনো। অতীতেও এটি ভরাটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তখন এলাকাবাসীর বাধায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আবারও নতুন করে দীঘিটি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

দীঘিটির পাশের এক দোকানি জানান, ভরাটকৃত জমির মালিক বাবুগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও, জমিতে টানানো একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে—ক্রয় সূত্রে জমিটির মালিক শহিদুল ইসলাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করছেন মো. কোটন নামের এক ব্যক্তি, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। এর আগেও একই এলাকার বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল।

এ বিষয়ে বালু সরবরাহকারী মো. কোটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সালিশে আছেন বলে জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ রাখেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে জলাশয় ভরাট হলে ভয়াবহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। দীঘিটি ভরাট হলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী কোনো প্রকার জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সচেতন নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে দীঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে নগরীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে সংকট, সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তি

যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় যেখানে প্রতিদিন অন্তত আটটি ফ্লাইট চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন শুক্রবার ও রোববার—দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে অনেককেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সড়কপথ বেছে নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে এই রুটে বেসরকারি বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে বৃহস্পতিবার একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট থাকলেও উড়োজাহাজ সংকটের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তারা দ্রুত এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরবর্তীতে নানা অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউএস-বাংলা ধাপে ধাপে ফ্লাইট কমিয়ে একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ বিমানও একসময় যাত্রী সংকটের কথা বলে সপ্তাহে সীমিত দিনে ফ্লাইট চালু রাখে।

গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশালসহ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ৮ আগস্ট থেকে সপ্তাহে দুই দিন ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ উড়োজাহাজ দিয়ে আবার ফ্লাইট চালু করা হয়।

নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, “চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় আমাদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, কর্মঘণ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা-বরিশাল রুটে অল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা বোধগম্য নয়। দ্রুত প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করা জরুরি।”

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও অনেক সময় ফ্লাইট পুরোপুরি ভর্তি থাকে। ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রী ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরও একটি ফ্লাইট যোগ হলে যাত্রীরা উপকৃত হবেন।”

নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার বলেন, “ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীও বাড়বে। আগে নিয়মিত ফ্লাইট ছিল এবং যাত্রীও ছিল। সুবিধাজনক সিডিউল হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।”

এদিকে বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো মনে করছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ফ্লাইট নির্ধারণ করা হলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষই নেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমান, জনসভায় ভাঙবে সব রেকর্ড

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশালে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৬ জানুয়ারি দুপুরে নগরীর বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। তার এই আগমনকে ঘিরে বরিশালজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

তারেক রহমানের সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ইউনিটগুলো মাঠে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট, ব্যানার ও প্রচারণা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, এই জনসভা বরিশালের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—এই জনসভায় অতীতের সব জনসমাবেশের রেকর্ড ভেঙে যাবে। সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মী ও সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-১ আসনের জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী আবুল হোসেন খান, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা।

সভায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। দেশের মানুষের মধ্যে তার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি। ২৬ জানুয়ারি বেলস পার্ক মাঠে এমন জনসমাগম হবে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বহু বছর দেশে প্রকৃত ভোটাধিকার ছিল না। এখন আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই জনসভা সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন। সঞ্চালনা করেন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহাবুবুল হক নান্নু। নেতারা সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সফল করার আহ্বান জানান।

নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের সরাসরি বক্তব্য শোনার জন্য শুধু বরিশাল নয়, আশপাশের জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ আসবেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিবহন, স্বেচ্ছাসেবক দল, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। বেলস পার্ক মাঠকে জনসভা উপযোগী করতে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি।

সব মিলিয়ে, ২৬ জানুয়ারির বরিশাল জনসভা বিএনপির জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়—এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পুলিশ কোনো দলের নয়, পুলিশ জনগনের : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :পুলিশ বাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের ভাড়াটে বাহিনী নয়, তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী।

জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই পুলিশের মূল দায়িত্ব।

রোববার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

নির্বাচনকালীন দায়িত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন না হলে শুধু শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি বজায় রাখা যায় না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না।

ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের পথে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতেই পারে। তবে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই কর্তব্য পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত, মানবিক ও সাহসী একটি গৌরবময় পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল তওফিক মাহবুব চৌধুরী।

 




ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : রাজধানীর সাতটি কলেজ নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়া রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহ, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে জনমত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে অংশীজনদের যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী কাঠামো নির্ধারণ করাই ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে অগ্রগতির তথ্য সর্বসাধারণকে সময়মতো অবহিত করা হয়েছে।

২০১৭ সালে এই ৭ কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করা হয়। এগুলো হলো, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত এই ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।