জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া চলমান; স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জনদৃষ্টিগোচর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত কমিশনের এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক এবং ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

বৈঠকে কমিশনের কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং জানানো হয়, জুলাই সনদের খসড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কমিশনের সদস্যদের অব্যাহত অবদান ও নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “এই প্রক্রিয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এতে প্রতিফলিত হবে। কাজেই পুরো কাজটি হতে হবে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান, যাতে জনগণ বিশ্বাস রাখতে পারে। কমিশনের বৈঠকগুলো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় দেশ-বিদেশের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করছে এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।”

বৈঠকে অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে ৮টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে কমিশন। আরও সাতটি বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে চলমান জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




গোপালগঞ্জের ঘটনায় অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় জড়িত কেউই পার পাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “যারা অন্যায় করেছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ছিল কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, গোয়েন্দাদের কাছে কিছু তথ্য ছিল, তবে ঘটনার ব্যাপকতা এত বড় হবে, তা তারা ধারণা করতে পারেননি।

এনসিপির পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনারও মতামত থাকতে পারে। যার যেটা বলার আছে, সে সেটা বলবে।”

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধীদের কাউকে ছাড়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




গোপালগঞ্জের মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করব।” বৃহস্পতিবার ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা-পরবর্তী এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিস্টরা গোপালগঞ্জকে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করেছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, গোপালগঞ্জের সাধারণ কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হন, তবে যারা সন্ত্রাসে জড়িত, তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, দেশের জনগণ গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রার জন্য প্রস্তুত ছিল। “আমরা অবশ্যই গোপালগঞ্জে যাব, এবং সেটা খুব শিগগিরই,” যোগ করেন তিনি।

আলোচনায় নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারপন্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা শান্তিপূর্ণ পথ মেনে চললেও ফ্যাসিস্ট হামলা হলে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে লাঠি হাতে তুলব, যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অস্ত্র হাতে নিতে প্রস্তুত ছিলাম।”

তিনি অভিযোগ করেন, “গতকাল দেশবাসী রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদীদের সন্ত্রাসী রূপ দেখেছে। আমরা এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিচ্ছি। তবে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আবারও গোপালগঞ্জে মার্চ করব। এবার ফিরে আসার জন্য নয়, বরং গোপালগঞ্জের জনগণকে মুক্ত করেই ফিরব।”

তিনি জানান, ৬৪ জেলায় পদযাত্রা সম্পন্ন করে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘জুলাই সনদ’ ও ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

পথসভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।




দিনপঞ্জির পাতায় আন্দোলন: ১৭ জুলাই

১৭ জুলাই সকালের আলো ফোটার আগেই জানা যায় ক্যাম্পাসগুলোয় শিক্ষার্থীদের বিজয়ের খবর: ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগমুক্ত হয়। ১৬ তারিখ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলগুলোয় এই প্রতিরোধ শুরু হলেও, দ্রুতই তা ছেলেদের হলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এই অভূতপূর্ব ঘটনার পর এদিন সকালেই ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলা এবং ১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয়জনের মৃত্যুর পর, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠে।

আশুরার কারণে সরকারি ছুটির আমেজ থাকলেও, দেশের অফিস-আদালত পাড়া যখন শান্ত, তখন ক্যাম্পাসগুলো ছিল উত্তাল। বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার ঘটনা সরকারকে সত্যিকারের বিপদের মুখে ফেলে দেয়। যে গুণ্ডাবাহিনী এত দিন ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের দখল নিশ্চিত করত, তাদের বিতাড়িত হওয়ার ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। তাই ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না। এক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর ওপর সওয়ার হন। ইউজিসিকে এর আগে কখনো ক্যাম্পাস বন্ধ করার ঘোষণা দিতে দেখা যায়নি। কিন্তু ১৭ তারিখ রাতের মধ্যেই ছাত্রাবাস ত্যাগ করার নির্দেশ আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এত কিছু ঘটে চললেও, উপাচার্য মাকসুদ কামালকে কোথাও দেখা যায়নি। তিনি আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাননি, এমনকি ছাত্রলীগ-পুলিশের নিপীড়ন নিয়েও কোনো মন্তব্য করেননি। ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যের উপস্থিতি বিষয়ে এদিন গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাস আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।”

দুপুর থেকেই সারা দেশে ছাত্রবিক্ষোভ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিল এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টা-পাল্টি ধাওয়ার ঘটনা চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্ধ করে দেওয়া হয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো বায়তুল মোকাররম মসজিদে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। জানাজা শেষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একত্রভাবে মিছিল বের করলে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। জানাজা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “চলমান কোটা আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়, এই আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জড়িত। তাদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়েছে বিএনপি এবং সেই নৈতিক সমর্থন বিএনপি দিয়ে যাবে, কারণ দলটি মনে করে, এই আন্দোলন যুক্তিসংগত।”

এদিন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কালো শাড়ি পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ভাষণ ছিল তার অতীতের ভাষণগুলোর তুলনায় খুবই স্বল্প সময়ের, প্রায় আট মিনিটের মতো। তার চেহারা ছিল বিমর্ষ ও ভীত। এই ভাষণে তিনি তার আপনজন হারানোর বেদনাকে বড় করে তুললেও, আগের দিন শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ-ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ত্রিপক্ষীয় হামলায় নিহত ও আহতদের বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি। উল্টো তিনি আন্দোলনের ফলে হামলা-ভাংচুর ও জনভোগান্তির ওপর গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি তরুণ সমাজের স্বপ্নিল ভবিষ্যৎ ও পেশাগত সুযোগের দাবির বিষয়টি সেদিনও অন্তরে ধারণ করেননি। তার বিচারে বরং সেইসব ‘কোমলমতি’ তরুণ ‘কিছু বিশেষ মহল’ দ্বারা বিভ্রান্ত। সেই বিশেষ মহলকে তিনি সংজ্ঞায়িত করেননি, কিন্তু তাদের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ যে উদাহরণ তিনি দিলেন, তার শিকার হিসেবে কেবল নিজের দলের ছাত্রের কথাই উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যেকোনো তরুণ প্রাণের, তার ভাষায়, ‘অহেতুক মৃত্যু’ই বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয়। কিন্তু তার এই পক্ষপাতে বোঝা যায় তিনি সব নাগরিকের রাষ্ট্রপ্রধান নন, কেবল তার নিজের লোকের জন্যই তার ভাবনা ও কার্যক্রম আবর্তিত। চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের সদস্যের মৃত্যুর বাইরে যে পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রলীগের যৌথ তৎপরতায় আন্দোলনে অন্য প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করার প্রয়োজন তিনি বোধ করেননি। এমনকি যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কথা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন, তা যেন কেবল আন্দোলনকারী এবং কিছু মহলেরই একার ব্যাপার ছিল। তার অনুগত ছাত্রলীগের সদস্য ও বহিরাগত ভাড়াটেরাই যে ১৫ জুলাই প্রথম আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়ে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাসের জন্ম দেয়, তার ভাষণে সেসবের কোনো উল্লেখ ছিল না। তিনি জানান, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে কারা ছিল উসকানিদাতা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরির জন্য কারা দায়ী ছিল। তাদের বের করে যে শাস্তি দেওয়া হবে, তাও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু তার উদাহরণ বাছাই দেখে সন্দেহ করার কারণ রয়েছে যে, এই তদন্ত ও শাস্তি প্রক্রিয়ায় হত্যাকারী পুলিশ ও সন্ত্রাস কায়েমকারী ছাত্রলীগের সদস্যদের রেহাই দেওয়া হবে এবং আন্দোলনকারীদেরই বেছে বেছে শাস্তি দেওয়া হবে। ফলে দেশের চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে তার এই ভাষণ শিক্ষার্থীদের আরও বিক্ষুব্ধ করে তোলে।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার ডাস চত্বর থেকে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি সংগঠনের সভাপতি আখতার হোসেনকে আটক করে পুলিশ। দুপুর আড়াইটা নাগাদ ডাস চত্বরের পাশে আখতার হোসেনসহ তিনজন এসে অবস্থান নেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের চলে যেতে বলা হলে সেখানে তিনি শুয়ে পড়েন। এ সময় সাংবাদিকেরা তাদের চারদিকে ঘিরে দাঁড়ান। চলমান আন্দোলন সম্পর্কে তাদের বক্তব্য নেওয়ার সময় পুলিশের দিক থেকে জটলা উদ্দেশ করে চার-পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে আখতার হোসেনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। উল্লেখ্য, আখতারের মুক্তি মেলে হাসিনার পতনের পর।

এদিন, বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে। ‘হত্যাকাণ্ড ও হামলার বিচার চাই, নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস ও রাষ্ট্র চাই’ দাবি নিয়ে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশ’ ব্যানার করা হয়, যাতে নেটওয়ার্কের বাইরের শিক্ষকরাও যুক্ত হন। তাদের মধ্যে ডক্টর আসিফ নজরুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সাদা দলের সদস্যরাও ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সমাবেশ থেকে গীতি আরা নাসরীন, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাভিন মুরশিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের বক্তব্য অনলাইনে ভাইরাল হয়।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রাবাসে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে হলগুলোকে খালি করে দেয়। শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে বাধ্য হন। এদিন দিবাগত রাতে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এ সময় ছাত্রদলসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।




শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে উচ্ছ্বসিত লিটন দাস

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। কলোম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে টাইগাররা। এটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় এবং শ্রীলঙ্কার মাটিতে তাদের প্রথম কোনো সিরিজ জয়ও বটে।

১৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ খেলেছেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৪৭ বলে ক্যারিয়ারসেরা ৭৩ রানের ঝকঝকে অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। লিটন দাস ২৬ বলে ৩২ রান করে ফিরে গেলেও, তামিমের সঙ্গে ২৭ রান করা তাওহীদ হৃদয় দলকে জয় উপহার দেন মাত্র ২১ বল হাতে রেখেই।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩২ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশি স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান ৪ ওভারে মাত্র ১১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধিনায়ক লিটন দাস বলেন,
“এই মুহূর্তে কোনো ভাষা নেই বলার মতো। ক্রিকেটাররা তাদের ক্যারেক্টার দেখিয়েছে। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আমরা ভালো খেলতে পারিনি, তবে শেষ দুই ম্যাচ দুর্দান্ত খেলেছি। এটা বড় জয় দেশের জন্য, কারণ আগে কখনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করিনি তাদের সঙ্গে। মেহেদী আজ অসাধারণ বল করেছে।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর পরের দুটি ম্যাচে দাপট দেখিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। এই সাফল্যকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে টাইগাররা।




গোপালগঞ্জে সহিংসতা: মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

গোপালগঞ্জ জেলার চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার রাতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে গোপালগঞ্জ জেলার জন্য ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা-ইন-ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (বিএমটি) সহ সকল পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ১৭ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

একইসঙ্গে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র গোপালগঞ্জ জেলার আলিম শ্রেণির ‘আল ফিকহ ১ম পত্র’ (বিষয় কোড-২০৩) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব জেলার পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সন্ধ্যা থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ জুলাই বন্যা পরিস্থিতির কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৬ জুন থেকে শুরু হয়েছে। সারাদেশে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ আগস্ট এবং ১১ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।




“আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য” — গোপালগঞ্জ হামলায় ক্ষোভ জানালেন আখতার হোসেন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি হামলাকারীদের বিচার দাবি করে বলেছেন, “আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য।”

বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন লিখেছেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসী লীগ বাহিনী। বাংলাদেশ বিরোধী লীগ এবং তাদের দোসরদের প্রতিহত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “ওদের বিচার করতে হবে।”

এর আগে বিকেলেও দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের জঙ্গিরা আমাদের ওপর হামলা করছে। গুলি ছুড়ছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে সড়ক অবরোধ করে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে এনসিপি নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি বলছে, তারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করছে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।




গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় এনসিপির মশাল মিছিল, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় মশাল মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে বাংলামোটর মোড় থেকে শুরু হয়ে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার সামনে গিয়ে শেষ হয় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রধান সমন্বয়কারী আকরাম হোসাইন। তিনি বলেন, “জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে গোপালগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশকে ঘিরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সারাদেশ থেকে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের গোপালগঞ্জে জড়ো করে তারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সমাবেশ শেষে গাড়িবহর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এনসিপির দুই কেন্দ্রীয় সংগঠক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আকরাম হোসাইন বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীরা আবারও রাজপথে নামবে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রধান সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, “আজকের হামলা মুজিবাবাদী চেতনার নগ্ন প্রকাশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কীভাবে সশস্ত্র ক্যাডার দিয়ে এ হামলা চালালো, সেটিই বড় প্রশ্ন। অন্তর্বর্তী সরকার এ দায় এড়াতে পারে না।”

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এস এম শাহরিয়ার বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার আজও শুরু হয়নি। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ইন্টেরিম সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তাও দিতে পারবে না।”

মশাল মিছিল শেষে আকরাম হোসাইন আগামীকাল (১৭ জুলাই) মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানার সামনে বিকেল ৪টায় প্রতিবাদী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এনসিপি নেতারা বলেন, সন্ত্রাস ও হামলার বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।




গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশে জামায়াতের বিক্ষোভ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও মহানগরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী ছাত্রলীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। গাড়িবহরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এমনকি পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও আক্রমণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এনসিপির বহু নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই সহিংসতায় যেভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শহরের বিভিন্ন স্থাপনা, তা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের নজির।”

জামায়াতের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, দেশের জনগণকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের সব জেলা ও মহানগরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে, এবং সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এতে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




সংঘর্ষের পর স্থবির গোপালগঞ্জ শহর, টহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষের পর শহরে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা শহর।

রাত ৮টার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। সাধারণ মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী।

সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহর ও শহরতলীর বাসিন্দাদের মাঝে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক পুরুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।

গোপালগঞ্জের এলাকার বাসিন্দা বলেন, “সারাদিন যা ঘটেছে, তাতে খুবই আতঙ্কে আছি। গোলাগুলি হয়েছে। কখন পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে যায় কে জানে।”

এর আগে দুপুরে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা শেষে মাদারীপুর ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলায় ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে প্রশাসন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকও রয়েছেন।

নিহতরা হলেন—উদয়ন রোডের দীপ্ত সাহা (২৫), কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮), টুঙ্গীপাড়ার সোহেল রানা (৩০) ও গোপালগঞ্জ সদরের ইমন (২৪)।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান “নিহতদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে চারজন নিহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।”

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে আতঙ্ক, শূন্যতা ও অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।