সমাবেশ শুরুর পূর্বেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের লাখো মানুষের ঢল

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাত দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জাতীয় সমাবেশে অংশ নিতে ভোর থেকেই লাখো নেতাকর্মীর ঢল নামে। সমাবেশ শুরু হওয়ার ছয় ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় উদ্যান। সমাবেশস্থলের বাইরে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অবস্থানও লক্ষ্য করা গেছে।

সারা দেশ থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে আসা জামায়াত কর্মীরা মিছিল সহকারে উদ্যানে প্রবেশ করেন। অনেকেই দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা খচিত টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি পরে আসেন। ফজরের নামাজের পর থেকেই মাঠে জমায়েত শুরু হয়।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে আগত কর্মী সোহেল হাসান জানান, তাদের উপজেলা থেকে প্রায় ৪০টি বাসে করে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ঢাকায় এসেছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা এরশাদ আলী জানান, তারা ট্রেন ও বাসে করে ৩০-৪০ হাজার নেতাকর্মী এনেছেন। অনেকেই শুক্রবার রাত থেকেই মাঠে অবস্থান করছেন।

সমাবেশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান মৎস্য ভবন স্পটের স্বেচ্ছাসেবক প্রধান মাসুদুর রহমান। শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকাতেই দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। ভোর থেকে হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন, শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।

জাতীয় সমাবেশের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

  1. অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
  2. সব গণহত্যার বিচার
  3. প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার
  4. ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
  5. জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন
  6. সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
  7. এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে এ ধরনের জাতীয় সমাবেশ করছে জামায়াতে ইসলামী।




প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতি রোধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়: স্পেসএক্স

বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা করেন।

লরেন ড্রেয়ার বলেন, “আমরা ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে কাজ করছি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত দ্রুত ও দক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমরা কোথাও দেখিনি। স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে আপনাকে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, “বর্ষাকাল আমাদের জন্য সুন্দর একটি সময়, কিন্তু বন্যা ও জলাবদ্ধতা আমাদের বাস্তবতা। এসব সমস্যার মধ্যে নির্ভরযোগ্য কানেক্টিভিটি অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, দেশের পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলে ভালো শিক্ষক ও চিকিৎসকের অভাব থাকায় সরকার ১০০টি স্কুলে অনলাইন শিক্ষা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালু হলে দূরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। বিশেষ করে নারীরা গর্ভাবস্থায় ঘরে বসেই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন, যা তাদের জন্য অনেক সহজ হবে।”

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনুস। তিনি বলেন, “ভাষাগত কারণে প্রবাসীরা অনেক সময় চিকিৎসকের কাছে যেতে সংকোচবোধ করেন। তবে দেশে ডিজিটাল হেলথ সেবা চালু হলে তারা বিদেশ থেকেই দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন।”

লরেন ড্রেয়ার অধ্যাপক ইউনূসের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আপনার যেসব উদ্যোগ আমরা দেখছি, সেগুলো বৈশ্বিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আপনি নিজের দেশে যা করছেন, তা অন্য নেতাদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।”

তিনি দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টারও প্রশংসা করে বলেন, “প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপনার যে উদ্যোগ, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অর্থবহ।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্পেসএক্সের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট কনসালট্যান্ট রিচার্ড গ্রিফিথস, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।




বিশেষ ট্রেনে নিয়ম ভাঙা হয়নি, এটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত: রেলপথ মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১৯ জুলাইয়ের সমাবেশ উপলক্ষে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভঙ্গ করা হয়নি এবং এটি একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বড় আকারের কর্মসূচি আয়োজন করলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত ভাড়ায় বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করেছে। একই নিয়ম অনুসরণ করে জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষ ট্রেন পরিচালনা না করলে সাধারণত যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে বিনা টিকিটে ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ে এবং এতে বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাড়ার ভিত্তিতে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে একদিকে দলীয় কর্মীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, অন্যদিকে রেলওয়ে আয় করে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৩২ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে ট্রেন ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এসব ট্রেন সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় যাত্রীচাহিদা কম থাকে, তাই নির্ধারিত অফ-ডে ট্রেনরেক ব্যবহার করে পরিচালনা করা হবে। এর ফলে নিয়মিত ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না এবং সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হবেন না।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নয় বরং একটি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ, যা আগেও নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও নেওয়া হবে। বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের কোনো ভিত্তি নেই বলে মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে।




জুলাই শহীদদের স্মরণে বিএনপির মৌন মিছিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় রাজধানীতে মৌন মিছিল ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর এই মৌন মিছিল শুরু হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মহানগর নেতা ইশরাক হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের নেতা নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জুমার নামাজের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও কালো ব্যাজ পরে নয়াপল্টনে সমবেত হতে থাকেন। মিছিলকারীরা জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা বহন করেন।

বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী জানান, মৌন মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, মৌচাক হয়ে রামপুরার আবুল হোসেন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

আয়োজনে নেতারা বলেন, জুলাই-আগস্টের শহীদরা এই জাতির জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের স্মরণে মৌন মিছিল জাতির প্রতি একটি বার্তা— গণতন্ত্র ও ন্যায়ের সংগ্রামে বিএনপি কখনো পিছু হটবে না।




ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু

ঢাকায় তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের একটি মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ হাইকমিশনের মধ্যে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন তিন বছরের মিশন খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক স্বাক্ষর করেন।

হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক মানবাধিকারের প্রতি উভয় পক্ষের অঙ্গীকারের একটি শক্ত বার্তা বহন করে। এটি আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশে মৌলিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় সহযোগিতা করার সুযোগ এনে দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন মিশন সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করতে পারবে। এতে তথ্য, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে মানবাধিকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নয়, বরং প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সই করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ঢাকা থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে জেনেভায় পাঠান, যেখানে হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক স্বাক্ষর করেন।

প্রাথমিকভাবে মিশনটির কার্যকাল তিন বছর হলেও পরে চুক্তি নবায়নের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, নতুন এই মিশন সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে।




“জুলাই চেতনাকে আগামীর প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ক্রীড়া উপদেষ্টার”

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রতীকী ম্যারাথনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, “যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন উচ্চারিত হবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও সংগ্রামীদের নাম।” তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ইতিহাস কোনো ষড়যন্ত্র বা অপচেষ্টায় মুছে ফেলা যাবে না।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন শহীদ পরিবার, আহত মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণ প্রজন্মের প্রায় সাত শতাধিক প্রতিযোগী।

আয়োজন শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে আবেগঘন এক বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন একটি ম্যারাথনের মতোই। সময় লাগলেও আমরা এই স্বপ্ন পূরণ করব দেশপ্রেম ও সংগ্রামের শক্তিতে।” তিনি আরও বলেন, “আজকের প্রতীকী ম্যারাথনের মতোই, সে সময়কার আন্দোলনকারীরাও কোনো আলাদা প্রশিক্ষণ ছাড়াই লেথেল ওয়েপনের মুখে দাঁড়িয়েছিল সাহসিকতার সঙ্গে।”

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিক মর্যাদা ও সাম্যের জন্য যে লড়াই জুলাই মাসে হয়েছিল, তা কেবল এক সময়ের আন্দোলন ছিল না— বরং ছিল একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজও অসম্পূর্ণ, আর তা পূরণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ ও ‘জুলাই চেতনাকে’ আগামী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।




জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি: মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, “গণতন্ত্র ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে যারা লড়াই করেছেন, সেই জুলাই যোদ্ধাদের সম্মিলিত ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কেউ এককভাবে এই অর্জন এনে দিতে পারেনি।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) প্রফেসর ড. এম এইচ খান অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমি আপনাদের স্যালুট জানাই। আপনাদের সাহসিকতার কারণেই আজকের এই দিন সম্ভব হয়েছে। গণতন্ত্র আমাদের কেউ উপহার দেয়নি, এটি আপনারা অর্জন করেছেন কণ্ঠস্বর ও আন্দোলনের মাধ্যমে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও আন্দোলনের সময় ‘ক্ষুব্ধ নারী সমাজ’ প্ল্যাটফর্মের হয়ে রাজপথে ছিলাম। এই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে, যা পরবর্তী সময়ে বড় রকমের ভূমিকা রেখেছে।”

দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা কোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে চাই না। নতুন প্রজন্মকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই হবে।”

তিনি জানান, “জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, তবে এই সময়ের মধ্যে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। এসব অর্জন রক্ষায় ছাত্র-জনতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান।

জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থীরা শাফি আহম্মেদ উল্লাহ, আরেফিন ফয়সাল আলভী, তৌহিদ হাসান রিমন এবং মোস্তাকিম বিল্লাহ শ্রেষ্ঠ।

পরে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্থিরচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।




“আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের রাজনীতি দেখতে চায় না জনগণ”—ফরিদপুরে আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদের রাজনীতি দেখতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, “সুশীলতার মোড়কে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ পদযাত্রা উপলক্ষে এনসিপি সারাদেশের ৬৪টি জেলা সফর করছে।

ভারতের দালালি ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অভিযোগ

আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ভারতের দোসররা এখনো চায় আওয়ামী লীগকে গোপনে ফিরিয়ে আনতে। তারা বলে আওয়ামী লীগ ছাড়া নাকি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। অথচ সেই আওয়ামী লীগই ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাতের আঁধারে ভোট করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আর এই আওয়ামী লীগের কোনো স্থান নেই।”

গোপালগঞ্জে হামলার প্রসঙ্গ তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়া

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর জঙ্গিবাদের দীক্ষা নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের মাটিতে মুজিববাদ মুর্দাবাদ স্লোগানকে তারা দমন করতে পারেনি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ দেশে গুম, খুন ও নির্যাতনের রাজনীতি চালিয়েছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি সত্যিকার অর্থে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষা করতে হয়, তবে দলীয়ভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগের সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”

সুশীল সমাজকে হুঁশিয়ারি

সুশীল সমাজের কিছু অংশের ভূমিকাকে ইঙ্গিত করে আখতার হোসেন বলেন, “যারা সুশীলতার মোড়কে আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—বাংলাদেশের মানুষ সেই ফ্যাসিবাদী মতাদর্শকে আর বরদাশত করবে না। এই দেশ সব দল ও মতের মানুষের জন্য।”

নেতাদের অংশগ্রহণ

পথসভায় আখতার হোসেন ছাড়াও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। স্লোগান পরিচালনায় ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

এই পদযাত্রা ও পথসভা ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।




আদর্শ ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু জুলাই সহযোদ্ধাদের সাথে আছি : শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “ছাত্রশিবিরের আদর্শিক ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের ওপর কোনো হুমকি এলে ছাত্রশিবির বসে থাকবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকালের গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ থেকে এখনো ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিগতভাবে এখনো আদর্শ নির্ধারণে দ্বিধায় আছি। সংবিধানে গণতন্ত্র বললেও, সমাজতন্ত্রের কথাও বলি—যা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

নবীনদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণা

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “পৃথিবীতে কোনো অর্জনই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি অর্জন আরও বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম আমরা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই শুরু করেছি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরাও যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে পারে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকেও এমন আয়োজনের আহ্বান জানাই।”

শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের সাহসিকতা অভূতপূর্ব। তবে সমাজ বদলাতে হলে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে।”

তিনি বলেন, “গঠন কঠিন, ভাঙা সহজ। সমাজ পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের আগে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”

ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, “ছাত্ররাজনীতি মানেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি নয়। ছাত্রশিবির তার ব্যতিক্রম হিসেবে আদর্শের কথা বলছে।” তিনি গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “তাদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই।”

শিবিরের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, “যেমন ১৯৭১ ছিল পাকিস্তানি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, তেমনি জুলাই বিপ্লব ছিল ১৫ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। ২৪ সালের আন্দোলন বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না।”

শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে শিবিরের ভালো কাজ দেখেছি। আজ তা চোখে দেখলাম। আশা করি, শিবির সামনে আরও ভালো আয়োজন করবে।”

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জয়নব হাসান বলেন, “আমি রাজনৈতিক নই, তবে সচেতন। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য শিবিরকে ধন্যবাদ জানাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জবি শিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




সালাহউদ্দিনের প্রশ্ন : “গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে কারা?”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তুলেছেন—গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস কারা পাচ্ছে এবং কোথা থেকে পাচ্ছে? তিনি বলেন, “আমরা ডেমোক্রেসির জন্য আন্দোলন করেছিলাম, কিন্তু আজ সারাদেশে মবোক্রেসির রাজত্ব চলছে।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সরকারের নির্লিপ্ততা ও ব্যর্থতার অভিযোগ

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যারা গণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে, তারা এই সাহস পাচ্ছে সরকারের নির্লিপ্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা থেকেই।” তিনি দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নানা ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সবসময় সহযোগিতামূলক আচরণ করেছি। কিন্তু এখন যেভাবে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিশ্রুত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “লন্ডন বৈঠকের পর আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হলেও নির্বাচন কমিশনকে এখনও অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “অতিসত্ত্বর সরকার নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত বার্তা দেবে এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেবে।”

নতুন রাজনৈতিক দল ও পরিকল্পিত ইস্যু তৈরির অভিযোগ

সালাহউদ্দিন বলেন, “নতুন একটি রাজনৈতিক দল আবেগ তাড়িত হয়ে অপরিকল্পিতভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করছে, যার ফলে ফ্যাসিবাদী শক্তি গণঅভ্যুত্থানের সৈনিকদের ওপর হামলা করছে।”

তিনি দাবি করেন, “এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে একটা পরিকল্পিত অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বলা যায় সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল ও বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে।”

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মত

এনসিপির ‘নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়’ মন্তব্যের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, “শাপলা প্রতীক না পেলেই কি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়? দেশের আরও বহু মার্কা আছে। ধানের শীষ তো জাতীয় প্রতীক হিসেবে বহু বছর ধরে স্বীকৃত।”

গণতান্ত্রিক ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে যেন কোনো ফাটল না পড়ে, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। না হলে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।”

তিনি শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এই দেশের মানুষ আর তার শাসন দেখতে চায় না।”
সমাবেশের শেষদিকে তিনি শপথ নিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই ঐক্যকে আমরা ইস্পাত কঠিন বন্ধনে বেঁধে রাখবো এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাব।”