ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৪৪

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪৪ জন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক আক্রান্তদের মধ্যে বরিশালে সর্বোচ্চ ১২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে ৫১ জন, ঢাকার সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৬৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৪০ জন, দক্ষিণ সিটিতে ৮১ জন, খুলনা বিভাগে ৩৩ জন, রাজশাহীতে ২৯ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, রংপুরে ৫ জন ও সিলেটে ২ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৪০২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৬২৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ জন।

পূর্বের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি না দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।




মাইলস্টোন কলেজে ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ প্রেস উইংয়ের আরও দুই কর্মকর্তা প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে কলেজ ক্যাম্পাসে যান তারা। তবে পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তারা বারবার দাবি জানালেও উপদেষ্টারা তাৎক্ষণিক প্রতিকার দিতে ব্যর্থ হন, ফলে কলেজ ত্যাগ করতে পারেননি কেউ।

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা মাইলস্টোন কলেজের পাঁচ নম্বর একাডেমিক ভবনে অবস্থান করছিলেন। এসময় বাইরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীদের দুটি পৃথক দল—একটি দল মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে, অন্যটি কলেজের গোলচত্বরে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে। তারা দাবি জানান, যারা এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের ঘটনাস্থলে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাইলস্টোন কলেজ চত্বর, মেট্রোরেল ডিপো এবং আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টা কোথায় আছেন, তা অফিসিয়ালি আমার জানা নেই। তিনি মাইলস্টোন কলেজে গিয়েছিলেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো সচিবালয়ে ফেরেননি।”

এর আগে জানা যায়, মঙ্গলবারের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্ঘটনার সময় প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।




মাইলস্টোনে উদ্ধারচলাকারে অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে যা জানালো সেনাবাহিনী

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সময় সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কিছু উৎসুক জনতার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় শিশু ও সাধারণ নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই কাছাকাছি থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কার্যক্রম চালানো হয়।

তবে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের ভিড় সৃষ্টি হয়, যা বারবার উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। সেনাসদস্য এবং মাইলস্টোন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবকরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ঘটনাস্থল ত্যাগে অনাগ্রহ দেখান অনেকেই। ফলে আহতদের সরিয়ে নিতে সময়ক্ষেপণ হয় এবং প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ে।

উদ্ধারে দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্যরা পেশাদারিত্ব ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বিকেলের দিকে একপর্যায়ে উৎসুক জনতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা অনভিপ্রেত ঘটনা পর্যন্ত গড়ায়। এতে সেনা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর চাপ বাড়ে এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ে।

আইএসপিআরের দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর ১৪ সদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা সবসময় দেশের জনগণের পাশে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। দুর্ঘটনার মতো স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ সহজ করতে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থী-পুলিশ মুখোমুখি

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কিছু শিক্ষার্থী গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ভেতরে ঢুকে তারা সচিবালয়ের একাধিক সরকারি গাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। পুলিশ তখন লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দুপুর থেকেই সচিবালয় চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। মূলত মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের মৃত্যু ও গভীর রাতে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থী জানান, “মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। এমন অবস্থায় গভীর রাতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে সকালে জানানো হয় পরীক্ষা বাতিল। আমরা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই।”

জানা গেছে, আন্দোলনে ঢাকার বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অংশ নেন। বিক্ষোভ পূর্বাভাস পেয়ে সচিবালয়ের সামনের এলাকায় আগে থেকেই মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নামেনি; বরং নিজেদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ ঘটনার সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০২৪ সালের ২৩ জুলাই : কোটা নিয়ে উত্তাল দেশ, ইন্টারনেট ও কারফিউ শিথিল

২০২৪ সালের ২৩ জুলাই মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি আংশিক বহাল রেখে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নবম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য নিয়োগে ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ পদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কোটা সংস্কার দাবির প্রেক্ষিতে সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে।

এদিনই ছিল দেশে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থা। যদিও রাতের দিকে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কিছু এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সীমিত পরিসরে চালু করা হয়। তবে সবাই সেই সেবা পাননি। প্রাধান্য দেওয়া হয় জরুরি সেবা, গণমাধ্যম, ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে।

দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের কারণে এই দিনেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠায় বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। একইসাথে কারফিউও শিথিল করা হয়। সীমিত সময়ের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোও পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

দেশজুড়ে সহিংস আন্দোলন ও সংঘর্ষের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘চিরুনি অভিযান’ এই দিনেও অব্যাহত ছিল। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় অন্তত ৫১৭ জন। এক সপ্তাহে সারাদেশে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওইদিন রাজধানীতে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় আরও ৩৮টি মামলা হয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন এবং ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: সারাদেশে ইন্টারনেট চালু করতে হবে, কারফিউ প্রত্যাহার করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি প্রত্যাহার ও হল খুলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, এবং আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এই দাবিগুলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন সংগঠনের অন্যতম নেতা সারজিস আলম। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ১৮ জুলাই থেকে তাদের তিনজন নেতা—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদ নিখোঁজ রয়েছেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া আন্দোলন ১৬ জুলাই সারাদেশে ৬ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলি, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা পাঁচদিন রেল চলাচল বন্ধ থাকার পর ২৩ জুলাই প্রথমবার তেলবাহী ট্রেন চালু হয়।

এই পরিস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের নামে কোনো মামলা হলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে হল খোলা সম্ভব নয়। র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ ঘোষণা দেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি নিয়ে আজ সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় টাইগাররা। ম্যাচের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে পাকিস্তান মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায়। এটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি অলআউট। তাসকিন ৩টি এবং মুস্তাফিজ ২টি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস ধসিয়ে দেন।

জবাবে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে ভর করে ২৭ বল হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। মাত্র ৩৯ বলে ৫৬ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলেন এই উদীয়মান ওপেনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ জয়—সবগুলোই এসেছে মিরপুরের মাটিতে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় নিয়ে ইতিহাস গড়তে আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিক দল।

অধিনায়ক লিটন দাস জানিয়েছেন, তারা উইকেট সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “মিরপুরের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ নয়। তবে আমরা যেভাবে ব্যাট করেছি তা দুর্দান্ত ছিল।” এ ম্যাচেও একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিটন।

এদিকে, প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে মরিয়া পাকিস্তান। কোচ মাইক হেসন জানিয়েছেন, ভুল সিদ্ধান্ত এবং উইকেট বোঝার ভুলই তাদের হারিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চান তারা।

দুই দলই নিজেদের সেরা খেলাটা দিতে মরিয়া। একটি জয় ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশের জন্য, আর একটি হার মানে পাকিস্তানের বিদায়। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়ে উঠেছে অলিখিত ফাইনাল।

বাংলাদেশ দল:
লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ নাইম, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, শামিম হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

পাকিস্তান দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান নাওয়াজ, হুসেন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা, সুফিয়ান মুকিম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান থাকা যাবে না: ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত

এক ব্যক্তি একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলে সাংবিধানিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় বলে অভিমত দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তাই একই ব্যক্তির হাতে এসব দায়িত্ব রাখা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার ১৭তম দিনের সংলাপে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, “বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ আলাদা রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে যারা ভিন্নমত পোষণ করেছে, তারা জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারবে।”

আলোচনায় জানানো হয়, একাধিক পদে থাকার কারণে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে, যা গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী। বিএনপি ও সমমনা কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করে দাবি করেছে, একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকলেও সাংবিধানিকভাবে কোনো সমস্যা তৈরি হয় না।

জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, “এই মতানৈক্যের মধ্যেও আমরা একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাই। অতীতেও আমরা জাতীয় সনদে ভিন্নমত অন্তর্ভুক্ত করেছি। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করব।”

সেশনের আলোচ্যসূচিতে আরও ছিল:

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিভিন্ন দলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সমন্বিত খসড়া প্রস্তুত
  • নির্বাচন কমিশন, পিএসসি, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুদক এবং ন্যায়পাল নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান

আলোচনার শুরুতে কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সহায়তায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতদের প্রত্যেকের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং অজ্ঞাত মরদেহগুলোর শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, হতাহতের তথ্য গোপন করা হচ্ছে। এই দাবি সঠিক নয়। এমন গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য গোপনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

দুর্ঘটনার পর পরই স্কুল ক্যাম্পাসে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রি ও উপস্থিতি খাতা ঘেঁটে নিখোঁজ ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে বলেও জানানো হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবার ও সাধারণ জনগণকে উদ্বিগ্ন না হয়ে তথ্য যাচাই করে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে পরিচিত কেউ নিখোঁজ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিমান দুর্ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি পুরোপুরি যৌক্তিক বলে স্বীকার করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় এই দাবিগুলো সামনে আসে এবং তা ঘিরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আলোচনায় উপদেষ্টারা শিক্ষার্থীদের দাবির সার্বিক দিক বিবেচনা করে তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নিহত, আহত এবং নিখোঁজদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট দেওয়া হবে।”

এসময় সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং বিষয়টি সেনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলা হয়।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, “জনবহুল এলাকায় যেন এ ধরনের প্রশিক্ষণ বিমান চলাচল না করে, সেজন্য বিমান বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানান, “আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ নিয়মিত পরীক্ষার শেষে পুনঃনির্ধারণ করে জানানো হবে।”

সরকারের এই সরাসরি আলোচনায় শিক্ষার্থীরা কিছুটা আশ্বস্ত হলেও তারা সব দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জননিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

সোমবার (২১ জুলাই) এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন।

পোস্টে শেহবাজ শরীফ লেখেন, “ঢাকায় মাইলস্টোন স্কুল বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার হৃদয় নিংড়ানো সমবেদনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের প্রতি।”

তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন নিহত ও অন্তত ১৭১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।