পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মাইলস্টোন দুর্ঘটনার নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে পটুয়াখালীতে।

বুধবার সন্ধ্যায় সদর রোডস্থ পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন বলেন, “এই দুর্ঘটনা জাতির জন্য এক গভীর শোকের বার্তা। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আমরা এই প্রার্থনার আয়োজন করেছি। এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ব।”

দোয়া পরিচালনা করেন পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ।
তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের আরোগ্য লাভের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

আয়োজকরা জানান, “জাতীয়ভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, সেই প্রত্যাশা থেকেই এই আয়োজন।”
দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


মো:আল-আমিন



হাসপাতালে নার্সের বিরুদ্ধে রোগীর মাকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আয়শা আক্তারের বিরুদ্ধে রোগীর এক মায়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং চুরির অপবাদ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে, যা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিবেশ ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বরাতে জানা গেছে, মোসা. ছোকানুর বেগম তার ১০ বছর বয়সী কন্যা মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স আয়শা আক্তার তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও দুর্ব্যবহার শুরু করেন। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে ওই নার্স আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ছোকানুর বেগম অভিযোগ করেন, “আমি আমার মেয়েকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু নার্স আয়শা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। হঠাৎ করে তিনি আমাকে চোর বলে অপবাদ দেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই টেনে-হিঁচড়ে রুম থেকে বের করে এনে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারেন।” তিনি আরও জানান, “রুমে মোবাইল চুরি হয়েছে বলে আমাকে সন্দেহ করেন, অথচ তার কোনো ভিত্তি ছিল না।”

এই অপমানজনক পরিস্থিতির সময় আশেপাশে থাকা অন্যান্য রোগীর স্বজনরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্ত নার্স দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ছোকানুর বেগম জানান, এই অন্যায় আচরণের বিচার দাবি করে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন। তার দাবি, একজন নার্সের কাছ থেকে এমন নির্দয় ও অপেশাদার আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। একইসঙ্গে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ ধরনের আচরণ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, হাসপাতালের মতো মানবসেবার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন আচরণ জনগণের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকায় হচ্ছে এসিসির সভা, ভার্চুয়ালি যোগ দিচ্ছে ভারত

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকাতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা। শেষ মুহূর্তে ভারত সভায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তবে অনলাইনে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ভারত অনলাইনে সভায় অংশ নিচ্ছে। আফগানিস্তান প্রতিনিধিরা রাতেই ঢাকায় পৌঁছাবে। শ্রীলঙ্কা ও নেপালও ফ্লাইট জটিলতার কারণে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবে।”

এর আগে বিসিসিআই সভাটি বাংলাদেশ থেকে সরানোর প্রস্তাব দিলেও, এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ভারত সভা বয়কটের হুমকি দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এবারের সভা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপ এখনো অনিশ্চয়তায়। আয়োজক দেশ ভারত হলেও, পাকিস্তান সেখানে খেলতে যেতে রাজি নয়। ফলে এখনো নির্ধারিত হয়নি সূচি কিংবা ভেন্যু। ঢাকার এই সভাতেই হয়তো নির্ধারিত হবে এশিয়া কাপের ভাগ্য।




দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু: চিরতরে বেদনার সমুদ্রে ডুবে গেল পরিবার

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হৃদয়বিদারক বিমান দুর্ঘটনায় দুই ভাইবোনের জীবন চিরতরে থেমে গেছে। তাহিয়া তাবাসসুম নাদিয়া (১৩) ও নাফিজ (৯) নামের তারা, যারা সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ও প্রাণবন্ত শিশু হিসেবে পরিচিত ছিল, দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকাকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামের সন্তান নাদিয়া ও নাফিজ। দুর্ঘটনার সময় তারা দিয়াবাড়ির একটি বিনোদন পার্কে বিমান রাইডে ছিলেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ায় দুই শিশুর শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়। দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়, কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পর তারা শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি।

শোকস্তব্ধ পরিবার ও আশপাশের মানুষ এই দুর্ঘটনার জন্য নিরাপত্তার অভাব ও অবহেলার দায়ীদের দ্রুত বিচার দাবি করছে। স্থানীয়রা বলছে, “বিনোদনের নামে নিরাপত্তাহীনতা চরম রূপ নিয়েছে, যা অসংখ্য প্রাণকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।”

নাদিয়ার জানাজা ঢাকার কামারপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, ছোট ভাই নাফিজও মারা গেছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই মেধাবী শিশুর প্রাণ হারানো শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




প্রধান উপদেষ্টা শুধু বিপদে পড়লেই দলগুলোকে ডেকে আনে: মঞ্জু

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টা মাত্র বিপদে পড়লেই রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে বসেন। তবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি দলগুলোর সঙ্গে ঘনঘন বৈঠক করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”

বুধবার (২৩ জুলাই) যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের পর মজিবুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণে গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের মধ্যে বিভেদ দেখা দিয়েছে। এই বিভেদেই ফ্যাসিবাদ বারবার সুযোগ পাচ্ছে।”

মঞ্জু আরও উল্লেখ করেন, “উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গতকাল দুই উপদেষ্টাকে আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা এবং সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা সরকারের দুর্বলতা ফুটিয়ে তোলে। এই ধরনের ঘটনা জনগণের মধ্যে উপদেষ্টাদের প্রতি অনাস্থা বাড়িয়েছে।”

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “যদি সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গঠনে আমরা নির্বাচন অ্যালায়েন্স গড়ার জন্য প্রস্তুত।”

মজিবুর রহমান আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে কি সমান প্রটোকল ও সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন তুলেছি। সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা তাদের বড় ব্যর্থতা।”

তিনি বলেন, “বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। যদিও এটি গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে এতে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আমতলী-তালতলী সড়কের খানাখন্দে বাড়ছে দুর্ভোগ

বরগুনার উপকূলীয় আমতলী ও তালতলী উপজেলা সংযোগকারী একমাত্র আঞ্চলিক সড়কটির অবস্থা এখন চরম দুঃখদায়ক। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক হাজার হাজার খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরে পরিণত হয়েছে চলাচলের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে সড়কের ২৪ কিলোমিটার অংশে ভাঙাচোরা এবং গর্তের কারণে প্রতিদিন ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে।

এই বেহাল সড়ক ব্যবহার করে ওই দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র সোনাকাটা ইকোপার্ক ও ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেও যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। বর্তমানে সড়কের অবস্থার অবনতি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সেতু পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার, কড়াইবাড়িয়া বাজার থেকে হরিণবাড়িয়া সেতু পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং তালতলী সেতু থেকে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে আছে। প্রতি ২০-৩০ গজ পর পর বড় বড় গর্ত দেখা যায়, যা যান চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ইট-পাথরের সুরকি উঠে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, ফলে যানবাহনের চাকা আটকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন অবস্থা, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পর্যটকদের সোনাকাটা ইকোপার্কে যাতায়াত বন্ধ থাকায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে।

তালতলী উপজেলার ব্যবসায়ী মো. শামিম পাটোয়ারী বলেন, “সড়ক যেন হাজারো খানাখন্দের সমাহার। চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘ এক বছর ধরে সড়ক খানাখন্দে ভরে থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ মেরামতের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। মোটরসাইকেল চালকরা বলেন, গাড়ি চালানো এখন জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ছাড়া আর কিছু নয়। তারা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

তালতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, কড়াইবাড়িয়া থেকে হরিণবাড়িয়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। আগামী অর্থবছরের প্রথম ধাপে এই অংশের সংস্কার কাজ শুরু হবে। এছাড়া, তালতলী থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত অংশ দ্বিতীয় ধাপে সংস্কার করা হবে।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী জানান, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কও খানাখন্দে পরিপূর্ণ। এটি আসন্ন বাজেটে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব করা হবে।

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান জানান, সড়কটির দুরবস্থার কথা আমরা জানি। ২৪ কিলোমিটার অংশ একসঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব না হলেও আগামী অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সাগরে ৪ দিন ভেসে থাকা ১৮ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী

বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ১৮ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূল থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে টহলের সময় তাদের উদ্ধার করা হয়। ‘হাবিবা’ নামের ট্রলারটি ভোলার মনপুরা থেকে মাছ ধরতে গিয়েছিল। ইঞ্জিন বিকলের কারণে চার দিন ধরে ট্রলারটি সমুদ্রে ভাসছিল। খাবার ও বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে পড়ার কারণে জেলেরা বিপাকে ছিল।

নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘শহীদ ফরিদ’ ট্রলারটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিপদের সংকেত দেওয়া জেলেদের উদ্ধার করতে দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। নৌবাহিনীর সদস্যরা জরুরি খাবার ও পানি সরবরাহ করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ট্রলারসহ নিরাপদে কুতুবদিয়া এলাকায় পৌঁছে দেন।

চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ১৮ জন জেলে সুস্থ আছেন এবং তারা নিজেদের প্রাণ রক্ষা হওয়ায় নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 




তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি, সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন

আগে ক্যান্সারকে প্রবীণদের রোগ হিসেবে ভাবা হলেও আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে এখন তরুণদের মধ্যেও ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। চেন্নাইয়ের হেমাটো-অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. গোপীনাথ জানাচ্ছেন, অবিরাম ক্লান্তি, শরীর বা জয়েন্টে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ অনেকেই গুরুত্ব না দিলেও এগুলোতে খেয়াল রাখা জরুরি। অনেকেই নিজে নিজে ওষুধ সেবন করে সাময়িক স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

গত এক দশকে ক্যান্সারের হার বহুগুণ বেড়েছে। সচেতনতার অভাবে রোগ ধরা পড়ে প্রায়ই শেষ পর্যায়ে, তখন কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলেই চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। ডা. গোপীনাথ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উল্লেখ করেছেন যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়, যেমন—

  • বারবার রক্তপাত বা ক্ষত হওয়া
  • হঠাৎ জন্ডিস বা শরীরে কোনো অস্বাভাবিক গঠন পাওয়া
  • দীর্ঘস্থায়ী আলসার
  • ক্ষুধা ও শক্তির অভাব

প্রতিরোধে করনীয়:

  • প্রতিদিন সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
  • বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
  • প্রতিরোধমূলক টিকা গ্রহণ, যেমন এইচপিভি ভ্যাকসিন

ক্যান্সারের প্রকোপ কমাতে এবং সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই দুটি স্তরে কাজ করা প্রয়োজন।




“সাম্প্রতিক অপতৎপরতা উদ্বেগজনক” — প্রধান উপদেষ্টার কণ্ঠে শঙ্কা ও সতর্কতা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর না যেতেই পরাজিত শক্তির নানা ষড়যন্ত্রের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।”

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল অতীতকে স্মরণ করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলা, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যমান একতা প্রতিষ্ঠা করত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অপতৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরাজিত শক্তিগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করা। তা না হলে ষড়যন্ত্রকারীরা এটিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখবে।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ও গণঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টাকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনের আগে নিয়মিত সর্বদলীয় সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেন। তাদের মতে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমন্বয় প্রয়োজনীয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির মজিবুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের মিজানুর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।




পিআর পদ্ধতি দেশের জন্য অযৌক্তিক: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে দেশের কিছু রাজনৈতিক দল পিআর (প্রোপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির দাবি তুললেও এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। তার বক্তব্য, পিআর পদ্ধতি রাষ্ট্রে চরমপন্থা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।

সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, আইন মেনে চলা না হলে রাষ্ট্র অটোক্রেটিক ও ফ্যাসিবাদী রূপ ধারন করে। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো জনগণের সম্মিলিত শক্তি এবং নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অংশ বন্দুকের ছুরির নীচে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখতে চায় এবং আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে।

তারেক রহমান সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপকৌশল করছে, তারা যেন শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না করে।

তিনি শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করতে দীর্ঘদিন বিলম্বের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক বছর পার হলেও তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি যা ভবিষ্যতের ইতিহাসে জাতীয় ব্যর্থতার ছাপ ফেলবে। কিছু মহল অভ্যুত্থান কুক্ষিগত করতে ব্যস্ত থাকায় এই বিলম্ব ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /