শিক্ষক সংকটসহ ৭ দফা দাবিতে বরিশাল টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের উত্তাল আন্দোলন

বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এর আগে গতকাল বুধবার বেলা ১২টা থেকে কলেজের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে ‘অল শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছে, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তারা এবং তাদের পূর্ববর্তীরা একাধিকবার আন্দোলন করলেও কোনো কার্যকর পরিবর্তন হয়নি।

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবিগুলো হলো—
১. শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধান,
২. ল্যাব ও ক্লাসরুম আধুনিকায়নসহ পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ,
৩. ক্যাম্পাসে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি,
৪. তিন মাসের মধ্যে মার্কশিটসহ রেজাল্ট প্রদান,
৫. সেমিস্টার ও রিটেক ফি কমানো,
৬. শতভাগ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ,
৭. প্রতিটি সেমিস্টার ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন ও ইম্প্রুভমেন্ট সিস্টেম চালু।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবিক সমাধান চান। কর্তৃপক্ষ যদি এবারও উদাসীন থাকে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আন্দোলন দমন করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ: হাসিনার ফোনালাপ ফাঁস

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমন দাবি করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তাদের ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট (আই-ইউনিট) শেখ হাসিনার একাধিক ফোনালাপ ফাঁস করে বলেছে, এসব নির্দেশ তিনি প্রকাশ্যেই দিয়েছিলেন এবং ফোনালাপে তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে যে কোনো স্থানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আদেশ দিয়েছি। এখন তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে, যেখানেই পাবে গুলি চালাবে।”

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই সময়কার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

যদিও সরকার পক্ষ এই অডিওর সত্যতা অস্বীকার করেছে, আল জাজিরার দাবি—ফোনালাপগুলো ফরেনসিকভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন। ভয়েস-ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তও করা হয়েছে।

আল জাজিরা আরও জানায়, আন্দোলনের সময় চিকিৎসকরা বিক্ষোভকারীদের শরীরে অস্বাভাবিক গুলির ক্ষত দেখতে পান। রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাবির শরীফ জানান, “হেলিকপ্টার থেকে হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।”

রংপুরে আন্দোলনকারী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তনের চাপের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়, পুলিশের চাপে এক চিকিৎসককে পাঁচবার রিপোর্ট বদলাতে বাধ্য করা হয়।

আসন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনার এসব ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা ও তার দুই ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী আগস্টে বিচার শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

আল জাজিরার দাবি, শেখ হাসিনা নিজেও জানতেন তার ফোনালাপ রেকর্ড হচ্ছে। এক জায়গায় তাকে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, আমি জানি, রেকর্ড হচ্ছে। কোনো সমস্যা নেই।”

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “তিনি (হাসিনা) অন্যদের জন্য গর্ত খুঁড়েছিলেন, এখন নিজেই তাতে পড়ে গেছেন।”

তবে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শেখ হাসিনা কখনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি। ফোনালাপগুলো বিকৃত বা খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়েছে।”

২০২৪ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যান বলে দাবি করেছে আল জাজিরা।




খায়রুল হকের হঠকারী রায়ে অপকর্মের লাইসেন্স পেয়েছিল রাজনৈতিক চক্র: জামায়াত আমির

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, খায়রুল হকের দেওয়া হঠকারী রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক মাফিয়াদের গুম, খুন ও লুণ্ঠনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির নিজ বাসা থেকে খায়রুল হককে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করার পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির লিখেন, “খায়রুল হক ফ্যাসিস্ট আমলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দায়িত্বের মর্যাদা বোঝেননি, বরং দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন চেয়ারে বসে জাতির বিরাট ক্ষতি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তার হঠকারী রায়ের মধ্য দিয়েই গুম, খুন, লুণ্ঠনসহ সকল অপকর্মের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক চক্রের হাতে।”

ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেরিতে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে, যা জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, “এখন জাতি চায় তার সুষ্ঠু বিচার হোক এবং তার কর্মের জন্য ইতিহাসসম্মত ন্যায্য শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা ন্যায়বিচার ছাড়া কিছু প্রত্যাশা করি না।”

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল-সংক্রান্ত আলোচিত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে দোষারোপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি পদক্ষেপ নিয়েছে।




সরকারি আদেশ অমান্যে বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তির বিধান: নতুন অধ্যাদেশ জারি

সরকারি আদেশ, পরিপত্র বা নির্দেশনা অমান্য করলে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে—এমন বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন বলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বৈধ আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করেন, বাস্তবায়নে বাধা দেন বা অন্যদের প্ররোচিত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ। এছাড়া ছুটি বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, সমবেতভাবে কর্মবিরতি পালন বা অন্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়াও একই অপরাধের আওতায় পড়বে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির মতো শাস্তি দেওয়া যাবে।

অভিযোগ ওঠার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্তকে নোটিশ দেবে এবং সে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে ইচ্ছুক কি না তা জানতে চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর বা না পেলেও তিন দিনের মধ্যে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযুক্ত কর্মচারীর চেয়ে জ্যেষ্ঠদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নারী হলে অবশ্যই একজন নারী সদস্য রাখতে হবে।

তদন্ত কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে একবারের জন্য আরও ৭ দিন সময় বাড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দিলে সেটি কমিটির অদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তদন্ত শেষে অভিযুক্তকে শাস্তির বিষয় জানিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর দণ্ড আরোপ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকবে। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না। এক্ষেত্রে কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।

নতুন অধ্যাদেশটি সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসায় চীন থেকে আসছে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম

উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে দগ্ধ আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় চীন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের একটি মেডিকেল টিম আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছাবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুরোধে পাঁচ সদস্যের একটি জরুরি মেডিকেল টিম ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ এই দলটিতে রয়েছেন চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সরা।

টিমটি ঢাকায় পৌঁছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে দগ্ধদের চিকিৎসা, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।

এর আগে, ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় ভারতের তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঢাকায় আসে। একই দিন সিঙ্গাপুর থেকেও আরও একটি মেডিকেল টিম এসে পৌঁছায়।

এরও আগে, ২২ জুলাই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. চোং সি জ্যাক ঢাকায় এসে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত হন।

এছাড়া, জাপান সরকারও দগ্ধদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একটি যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ এলাকায় বিধ্বস্ত হলে এতে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ দগ্ধ ও আহত হন।




দুমকিতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর গাফিলতি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ভুল প্যাথলজি রিপোর্টের কারণে শিশুসহ একাধিক রোগী গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাফিলতিতে রোগ নির্ণয়ে সঠিকতা না থাকায় সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, জীবননাশের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

দুমকি উপজেলার নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টারে ৬ বছর বয়সী নাজিফা নামের এক শিশুর আইএসও টেস্ট রিপোর্টে স্বাভাবিক মাত্রা ২০০’র পরিবর্তে ৬০০ দেখানো হয়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য বরিশালের জাহানারা ক্লিনিকে রিপোর্ট করালে সেখানে আইএসও মাত্রা পাওয়া যায় ২০০। তবুও নিউ লাইফের রিপোর্টের ভিত্তিতে শিশুটিকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশকিছু ওষুধ খাওয়ানো হলে তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হয়। পরে জাহানারা ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, এমন ওষুধ শিশুটিকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে।

এছাড়া, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন ভেবে নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস এর রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা নেন। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জিএম এনামুল হক টাইফয়েডের চিকিৎসা দেন। এতে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং বরিশালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরীক্ষা করে টাইফয়েডের অস্তিত্ব না পাওয়ায় আগের রিপোর্ট ভুল প্রমাণিত হয়। ওই শিক্ষার্থী আইসিইউতে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে, ডা. জিএম এনামুল হক নিজেই নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস-এর মালিকদের একজন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি চাকরি থাকা অবস্থায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবসা করছেন এবং নিজের হাসপাতালের রোগীদের সেই প্রাইভেট সেন্টারে পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে একটি অডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

নাজিফার দাদি সখিনা বেগম ২২ জুলাই নিউ লাইফ ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন পটুয়াখালী সিভিল সার্জনের কাছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, রিপোর্ট ভুল ছিল না। ব্যক্তিগত কোনো ভুল হলেও প্রতিষ্ঠান দায় নেবে না।

উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অদক্ষ টেকনিশিয়ান থাকার কারণে রিপোর্টে ভুল হয়। উপজেলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মজিবুর রহমান টিটু বলেন, যদি কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার রিপোর্টে ভুল করে, সেই দায় ওই সেন্টারের, অ্যাসোসিয়েশন নয়।

পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া জানিয়েছেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মেয়াদোত্তীর্ণ কি না এবং রিপোর্টে ভুল হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত সব ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটলে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, দুমকি উপজেলা শহর ও লেবুখালী এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্যাথলজি রয়েছে। এসব সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার রোগ নির্ণয় পরীক্ষা হয়। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ সেবায় যদি গাফিলতি থাকে, তাহলে তা হতে পারে মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ।


মো: আল-আমিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অসুস্থ খালেদা জিয়া, রাতেই এভারকেয়ারে নেওয়া হচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে তাকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বসুন্ধরার এ হাসপাতালে নেওয়ার কথা রয়েছে।

চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।

তবে হাসপাতালমুখী হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির খান।

দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য অবনতি হয়েছে। তাই সতর্কতামূলকভাবে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে রাতেই বাসায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। সময়-সময়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চলতি বছরেই লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসেন তিনি।




মানবিকতার প্রতীক মাহেরীনের প্রতি বিমান বাহিনীর সম্মান

উত্তরার মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বুধবার (২৩ জুলাই) নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ী গ্রামে তার কবরস্থানে এ ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় তারা মাহেরীনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে মাহেরীনের আত্মত্যাগকে “মানবিকতা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতির স্মৃতিতে চিরকাল গর্বের সঙ্গে রয়ে যাবে।

গত সোমবার (২১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালে পাশের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় ভবনে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও মাহেরীন চৌধুরী তখনও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই আগুনে আটকে পড়েন এবং দগ্ধ হন শরীরের অধিকাংশ অংশে। গুরুতর অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর সেদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়




সংলাপ থেকে সিপিবি-বাসদ-জাসদের প্রতীকী ওয়াকআউট, অভিযোগ পুলিশের হামলা

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ থেকে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশের তিনটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল—সিপিবি, বাসদ ও বাংলাদেশ জাসদ। বুধবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার কিছু পর অনুষ্ঠিত সংলাপে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘হামলার’ প্রতিবাদে দল তিনটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

ওয়াকআউটকারী দলগুলোর অভিযোগ, মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশি হামলা হয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ১০ মিনিটের প্রতীকী ওয়াকআউট করে সংলাপ থেকে বেরিয়ে যান।

সংলাপে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “অতীতে স্বৈরাচারী শাসকরা যেভাবে বিরোধী মত দমন করত, এখনো তেমন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। স্বৈরাচারীদের ষড়যন্ত্র আমরা জানি। অতীতে শেখ হাসিনাও এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যের ডাক দিতেন—আজও একই চিত্র। এ অবস্থায় আলোচনায় থাকা সম্ভব নয়।”

তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ওয়াকআউট করেন জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

ওয়াকআউটের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “তিনটি দলের প্রতীকী প্রতিবাদকে আমরা রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বাগত জানাই। তাদের বক্তব্য জাতির সামনে এসেছে। সরকার নিশ্চয়ই বিবেচনা করবে।”

উল্লেখ্য, বুধবারের সংলাপ সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, সূচনা বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।




পটুয়াখালী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে থমকে সংযোগ সড়ক

পটুয়াখালীর বাউফল ও দশমিনা উপজেলার সংযোগস্থল বাঁশবাড়িয়া বগী বাজার খালের উপর নির্মিত সেতুটি স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে দুই উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ও অসুস্থ, বৃদ্ধ মানুষজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরনো লোহার সেতুটি ভেঙে নতুন একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ২৪ মিটার ও প্রস্থ সাড়ে ৭ মিটার। ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। তবে এই বিশাল অঙ্কের ব্যয় হলেও সেতু থেকে রাস্তার সংযোগ তৈরির কোনও কার্যকর উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।

খালের গভীরতা ও ট্রলার চলাচলের কারণে সেতুটি উচ্চতায় বেশি হওয়ায় সংযোগ সড়ক ছাড়া চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। বাধ্য হয়ে কিছু সিসি স্ল্যাব বসিয়ে লোকজনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে চলাচল আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, “আমরা প্রতিদিন স্কুলে যেতে ভয় পাই। সেতুতে উঠা-নামায় সমস্যা হয়, বৃষ্টি হলে মাটিতে পিছলে পড়ে যাই।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা নিজেরা হাতে ধরে শিক্ষার্থীদের পার করি। অথচ এত টাকা খরচ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক।”

বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, “এখনও সংযোগ সড়ক না থাকায়, মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছে। বিষয়টি নিয়ে বহুবার জানানো হলেও সুরাহা হয়নি।”

এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর জানান, “ভূমি সংক্রান্ত মামলার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলা নেই, তবে স্থানীয় দোকানপাটের ক্ষতি এড়াতে নতুন ডিজাইন তৈরি করা হচ্ছে। ডিজাইন শেষ হলে টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে। দীর্ঘসূত্রতায় যে জীবন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম