নিহত পাইলট তৌকিরের পরিবারের পাশে বিএনপি; জানালেন সমবেদনা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় তৌকিরের পারিবারিক বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন ফখরুল।

সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন তৌকিরের স্ত্রী আকশা আহম্মেদ নিঝুম, শ্বশুর ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা বিষয়ক টিমের প্রধান সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই সকালে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ ৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।




মাইলস্টোন ট্রাজেডি: বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর মিছিল থামছে না

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ জন।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১৫ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৫ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে একজন (যিনি এখনও অজ্ঞাতনামা), এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। কেউ কেউ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান, আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সবশেষ শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরের কোনাপাড়া এলাকার মাকিন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে।

দুর্ঘটনায় প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৫০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন চিকিৎসাধীন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে, আটজন সিএমএইচে এবং একজন করে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই সকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।




যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ দেশকে সাম্রাজ্যবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে : সিপিবির অভিযোগ

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী যুক্তরাষ্ট্র এখন শুল্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে চাচ্ছে, যা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন সিপিবি নেতারা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজ্জাদ জহির এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক লুনা নূর।

সমাবেশে সিপিবি নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির খপ্পরে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে এ দেশ সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তারা দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন দেশবিরোধী চুক্তি করেছে, যার কোনোটিরই গণভিত্তিক অনুমোদন নেই। এ ধরনের চুক্তিকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা অবিলম্বে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

বক্তারা রাখাইন অঞ্চলের জন্য করিডর দেওয়ার পরিকল্পনা ও বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন চালুর প্রস্তাবেরও কড়া সমালোচনা করেন এবং এসব বন্ধের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিপিবির নেতা-কর্মীরা। পল্টন মোড়ে এসে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সিপিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের স্বার্থে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।




চার ইসলামী দলের সমন্বিত বৈঠক, ঐক্য প্রক্রিয়া জোরদারের সিদ্ধান্ত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের চার ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইসলামপন্থিদের মধ্যে চলমান ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও গতিশীল করার বিষয়ে নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান এবং মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা ও গণতন্ত্রহীন পরিবেশ মোকাবিলায় ইসলামপন্থি শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য সময়ের দাবি।”

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন—

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক,
  • মহাসচিব ড. আহমাদ আবদুল কাদের,
  • নেজামে ইসলাম পার্টির সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার,
  • খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আঁকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, এবং যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান

সভায় নেতারা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের জনগণ ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত রাজনৈতিক কাঠামো চায়, আর এ লক্ষ্যে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য।




বিমান দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে রিজভীর সাক্ষাৎ

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তুরাগ এলাকায় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে যান বিএনপির প্রতিনিধি দল।

তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই সফরের আয়োজন করা হয়। সাক্ষাৎকালে নিহত শিশুদের বাবা আশরাফুল আলম আবেগঘন পরিবেশে বলেন, “আমার সন্তানদের কবরে যেন দুই বছর পর আর কারও দাফন না হয়—এই আকুতি আমি আপনাদের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে চাই।”

রিজভী আহমেদ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “সন্তান হারানোর শোক সবচেয়ে বেদনাদায়ক। এই বিষয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও খুবই উদ্বিগ্ন এবং আপনাদের খবর রাখছেন। আপনার দাবির বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব, যেন আপনার সন্তানদের কবরের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।”

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. শরীফুল ইসলাম, জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল আলম হিটো, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. আউয়াল এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের ডা. মুনতাসিরসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনা দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।




পটুয়াখালীতে ভুয়া ‘জুলাই শহিদ’ শনাক্ত, গেজেট বাতিলের সুপারিশ

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তালিকাভুক্ত ‘জুলাই শহিদ’ বশির সরদার (৩৭) আদতে কোনো শহিদ নন। বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও অবশেষে পরিবারের ভুল স্বীকারোক্তির পর বুধবার তাকে ‘ভুয়া শহিদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসন। তার নামে থাকা সরকারী গেজেট বাতিলের সুপারিশ করে বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বশির সরদারের নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত স্মরণীয় বৃক্ষের পাশ থেকে তার শহিদ প্ল্যাকার্ড ইতোমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বশির সরদারের পরিবারও ভুল স্বীকার করেছেন। শহিদ পরিবার হিসেবে তাদের নামে দেওয়া ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বশির সরদার সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা। জীবদ্দশায় তিনি পটুয়াখালী শহরের নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারে একজন চা বিক্রেতা ছিলেন। তার পরিবার দাবি করেছিল যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি চৌরাস্তায় আহত হন এবং পরে মারা যান। সেই দাবির ভিত্তিতেই তার নাম ‘জুলাই শহিদ’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

কিন্তু জেলা প্রশাসনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পটুয়াখালী শহরে ওই সময় এ ধরণের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাদের চ্যালেঞ্জের মুখে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করেন এবং ভুল স্বীকার করেন।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের যাচাই-বাছাই কমিটির’ বৈঠকে তাকে ভুয়া শহিদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে বৈষম্য বিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বশির সরদারের স্ত্রী রেবা আক্তার জানান, তার স্বামী ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী ছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে দুর্ঘটনায় পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর অর্থনৈতিক সংকটে পড়ায় তার দেবর নাসির সরদার সরকারি সহায়তার আশায় তাকে শহিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেন।

নাসির সরদার নিজেও ভুল স্বীকার করে জানান, দারিদ্র্য এবং “শয়তানের প্ররোচনায়” তিনি এমনটি করেছেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে জেলা প্রশাসকের কাছে নিজেই নাম বাতিলের অনুরোধ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ; তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় থাকবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইনি—এ ধরনের কথা কখনও আমি বা সরকারের কেউ বলেনি।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের চিকিৎসায় ভারত থেকে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম ঢাকায় আসে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক চাই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—গুড ওয়ার্কিং রিলেশন।”

তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতসহ যেসব দেশ চিকিৎসা সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বার্ন ইউনিটের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা ভারতের টিমকে তথ্য দিয়েছি। তারা দুইজন চিকিৎসক ও একজন নার্স পাঠিয়েছে। তাদের সেবার প্রতি আমরা সম্মান দেখাচ্ছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “মানুষে-মানুষে সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কখনও এমন কিছু করেনি যাতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। একইসঙ্গে আমরা কারও ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলও হইনি। সবসময়ই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”

পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, তবে সেটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সুদৃঢ় সহযোগিতার ভিত্তিতে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের আগে মো. তৌহিদ হোসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি জানান, “ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমবেদনা জানাতে ফোন করেছিলেন। এটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ।”




আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শাসনামলে সকল নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, চব্বিশে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগের ১৫ বছরে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্তও করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবার। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন আবরারের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় জানিয়েছে, এ সময় আবরার ফাহাদের পরিবার ২০০৯ সালের পর থেকে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহতদের তালিকা তৈরি ও প্রত্যেকটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বলেন, “দেশের স্বার্থে কথা বলার কারণে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। তার মা এখনো ছেলের শোকে কাঁদেন। আমরা চাই না আর কোনো মা সন্তানের মৃত্যু দেখতে পাক।”

তিনি কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে সরকারি উদ্যোগ চেয়েছেন, যাতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।

শিক্ষা খাতের দুরবস্থা তুলে ধরেন আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। ল্যাব, সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি বুয়েটে র‍্যাগিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং অতীতের নির্যাতনের ঘটনাগুলোরও তদন্ত দাবি করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এর সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়েও তদন্ত কাজ চলছে এবং সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন ঢাকায় চালুর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, মিশনের কার্যক্রম দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না এবং এটি একটি দীর্ঘ আলোচনার ফল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা নিজেরা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে না। দুই বছর পর অফিস স্থাপনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যাবে এবং চাইলে ছয় মাসের নোটিশে অপসারণও সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের প্রস্তাব পাওয়ার পরপরই কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়নি। বিষয়টি দীর্ঘ সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।”

এ সময় ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই অববাহিকার অনেক নদী আমাদের উৎসভূমিতে নয়, সুতরাং চীনে অবকাঠামো স্থাপনে আমরা বাধা দিতে পারি না। তবে চেষ্টা থাকবে যেন আমাদের ক্ষতি না হয় বা ক্ষতি সীমিত থাকে।”

তিনি জানান, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন যে, হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্পটি এমন প্রযুক্তিতে নির্মিত যাতে পানি প্রত্যাহার হবে না।

শুল্ক প্রত্যাহার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, “আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। যারা আলোচনা করছেন, তারাই এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন। মাঝপথে আমার কিছু বলা সমীচীন নয়।”




‘মাইলস্টোন দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ’: এনসিপি নেতা হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই মাইলস্টোনের শোককেই রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চাইছে আওয়ামী লীগ। দেশের স্বার্থে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে এনসিপির পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “দেশের জনগণ আজ রাস্তায় মরছে, হাসপাতালে মরছে, দুর্ঘটনায় মরছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই। আমরা চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমন ভঙ্গুর কেন? একজন ইংরেজি অনার্সধারী ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, এখন বাংলা অনার্সধারী। একজন দক্ষ চিকিৎসক কি এদেশে ছিল না, যাকে দিয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা যেত?”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জনগণের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অগ্রাধিকার পাবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ হোসেন, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি ও অন্যান্য নেতারা।

এর আগে, দুপুর পৌনে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলগেট এলাকা থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করে জেলা শহর প্রদক্ষিণ করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫