“বাংলাদেশ এখনো নষ্ট হয়ে যায়নি, দেশের মানুষের মধ্যে এখনো দেশের প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগের চেতনা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের মর্যাদা রক্ষার স্পৃহা রয়েছে”—এমন মন্তব্য করে জুলাই বিপ্লবকে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
শনিবার (৩৬ জুলাই) রাজধানীর পেট্রোসেন্টারে আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এই মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ১৬টি পরিবার এবং একজন আহত যোদ্ধার হাতে সম্মাননা স্মারক হিসেবে এক লাখ টাকা করে মোট সতেরো লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “এই আন্দোলন থেকে প্রমাণ হয় দেশে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি। কিছু খারাপ মানুষ আমাদের পথ আটকাতে পারে না। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন তারা দেশের ক্ষতি করতে না পারে।” তিনি আরিফ নামের একজন শহীদের কথা স্মরণ করে বলেন, “সে তার মাকে চিঠি লিখে আন্দোলনে গিয়েছিল, সে জানত সে ফিরবে না, কিন্তু দেশ ফিরবে। এটা সরাসরি দেশপ্রেমের চূড়ান্ত প্রকাশ।”
মাইলস্টোন কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষকদের স্মরণ করে সচিব বলেন, “এই আত্মত্যাগ ছিল এক অনন্য উদাহরণ, যা জাতির প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন। তাদের অবদান আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”
আহত জুলাই যোদ্ধা হোসাইন আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশ বন্দুক ঠেকিয়ে আমার হাতে গুলি করে। আমার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আমাকে মৃত ভেবে গাড়িতে তোলে, কিন্তু আমার ভাইয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।”
নিহত ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের সরকারি চাকরিতে যোগদানের কথা ছিল, বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে আন্দোলনে গিয়েছিল বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ১৮ জুলাই ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে তাকে হত্যা করা হয়। সন্তানের লাশ বাবার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী জিনিস। তবে আজকের এই সম্মাননা আমাকে গর্বিত করেছে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, “আমরা যদি আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে কোনো বৈষম্য বা অন্যায় সৃষ্টি হবে না। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, একদিন জবাবদিহি করতে হবে—প্রধান বিচারপতি হলেও নয় ছয় চলবে না।”
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা শুধু আন্দোলনের নয়, এটি দেশ গঠনের অনুপ্রেরণা। আমরা সবাই যদি এই চেতনা লালন করি, তাহলে দুর্নীতি ও অন্যায় দূর হবেই।”
অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে আন্দোলনের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম