জাতিবৈচিত্র্য আমাদের শক্তি, মেইনস্ট্রিমে মিশে যেতে চাই: সুপ্রদীপ চাকমা

“জাতিবৈচিত্র্য আমাদের সংস্কৃতির উৎস এবং শক্তি। আমরা মূলধারার সঙ্গে মিশে যেতে চাই এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই”—এমন মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।

রোববার (২৮ জুলাই) রাতে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে “জাতিবৈচিত্র্য দিবস ২০২৫” উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহুজাতিক বৈচিত্র্যে গঠিত, যেখানে বিভিন্ন ভাষা, জাতি ও সম্প্রদায় পরস্পরের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। জাতিবৈচিত্র্য দিবস এই ঐক্য ও সহাবস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

তিনি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও মানসম্পন্ন শিক্ষকের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।

উপদেষ্টা আরও জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পার্বত্য এলাকার অন্তত ১০০টি বিদ্যালয়ে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ই-লার্নিং চালু হবে। এই উদ্যোগ শিক্ষায় প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটাবে এবং শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান সুবিধা পাহাড়ি অঞ্চলেও পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, “আমার প্রথম এজেন্ডা হলো গুণগত শিক্ষা, দ্বিতীয় এজেন্ডা জীবন-জীবিকা উন্নয়ন, এবং তৃতীয় এজেন্ডা পরিবেশ—যার দায়িত্ব পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টার হাতে থাকবে।”

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে. এস. মং। আলোচনায় অংশ নেন মানবাধিকার ও সংস্কৃতি কর্মী অলিক মৃ, রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্য চিন ঠে ডলি রাখাইন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চ নু মং।

সেমিনারে সরকারের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার অতিথিরা অংশ নেন। আলোচনা হয় জাতিগোষ্ঠীগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজে সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে।

অনুষ্ঠান শেষে শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। পাশাপাশি, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় স্টলভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে। প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সেমিনারটি হয়ে ওঠে একটি সংহতির উৎসব।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘জুলাইয়ের নায়ক’ আহতদের সেবা দেওয়া সাহসী চিকিৎসকরা: প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই বিপ্লব চলাকালে আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসকদের ‘জুলাইয়ের নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, যুদ্ধের সময়ও আহতদের চিকিৎসা বন্ধ হয় না। অথচ জুলাই বিপ্লবের সময় বাংলাদেশে সেই মানবিক নীতির ব্যতিক্রম ঘটেছে। সেই কঠিন সময়েও যারা ঝুঁকি নিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারাই এই জুলাইয়ের প্রকৃত নায়ক।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আহত আন্দোলনকারীদের সেবা দেওয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ’ অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, “আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা ছিল। কিন্তু কিছু চিকিৎসক সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়েছেন। তারা সাহস, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতি কখনও ভুলবে না।”

প্রধান উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে সরকার শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং চেষ্টা করেছে যেন কোনো হাসপাতাল আহতদের চিকিৎসা না দেয়। ছাত্রদের রাস্তায় পিটিয়ে আহত করার পর এমনকি হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের হুমকি-ধামকির মুখে পড়তে হয়েছে এবং তাদের কাজেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শত শত আন্দোলনকারী সঠিক চিকিৎসার অভাবে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকারি নির্দেশ ছিল, আহতদের কাউকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। অথচ সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বহু চিকিৎসক সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. ইউনূস বলেন, “চিকিৎসকরা শুধু সেবা দেননি, বরং রক্ত সংকটের সময় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রক্ত সংগ্রহ করেছেন, ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন, এমনকি রোগীর পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবস্থাপত্রে অন্য নাম লিখেছেন। অনেক প্রাইভেট চিকিৎসকও সরকারি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সেবা দিয়েছেন। তারা নতুন এক মানবিক অধ্যায় রচনা করেছেন।”

প্রধান উপদেষ্টা এসব চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “আপনারা শুধু এই জুলাইয়ের নায়ক নন, আপনারা জাতির গর্ব। আপনারা ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।”




বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বিদেশি সহায়তা: প্রধান উপদেষ্টার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

সাম্প্রতিক মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় বিদেশি মেডিকেল টিমের অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতের মোট ২১ জন চিকিৎসক ও নার্সের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে মানবিকতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই দল শুধু দক্ষতা নয়, হৃদয় নিয়েও এসেছে। তাদের উপস্থিতি আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদেশি চিকিৎসকদের দ্রুত আগমন ও কার্যক্রম শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি চিকিৎসকদের সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

আহতদের তাৎক্ষণিক ট্রমা কেয়ারে এই চিকিৎসক দল স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে যৌথভাবে নিরলসভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে শিশুদের সেবা প্রদানে তারা বিশেষ দক্ষতা ও সহানুভূতির পরিচয় দিয়েছেন।

চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ভার্চুয়াল সংযুক্ততা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এর মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষায় আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, যিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে আপনাদের সহানুভূতি ও সাহায্য জাতি কখনো ভুলবে না।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, “বিদেশি চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই অনেক মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “আবারো প্রমাণিত হলো, চিকিৎসকদের কোনো সীমানা নেই।”

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিঙ্গাপুরের ১০ জন, চীনের ৮ জন এবং ভারতের ৩ জন চিকিৎসক ও নার্স। বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও ঢাকায় সিঙ্গাপুর মিশনের প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।




সংঘর্ষে উত্তপ্ত বরিশালের গৌরনদী: বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে আহত ৫

বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। উপজেলা বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) দুপুর একটার দিকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয় আগামী ৫ আগস্টের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় একজন সিনিয়র নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোর জেরে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু জানান, তাঁকে দাওয়াত না দিয়েও যখন তিনি সভায় উপস্থিত হন, তখন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান ও তার আত্মীয় জসিম শরীফ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ জানানোয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে সভাস্থলে সংঘর্ষ বাধে।

মিন্টুর দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রদল নেতা মো. রমজানকে একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান জানান, সভা চলাকালীন তার দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছাত্রদল নেতা জসিম শরীফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সম্ভাব্য নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এই বিভক্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বই এমন সহিংস ঘটনার মূলে রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সময়ের দাবি: মির্জা ফখরুল

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত “পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের চাহিদা, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা এবং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও যোগাযোগে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা প্রস্তাব বাস্তবধর্মী রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বর্তমানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশন সময় পার করছি। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং সঠিক নেতৃত্ব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঐক্যকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বহু আগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। কারণ দক্ষিণাঞ্চলের বহু এলাকা এখন বাস চলাচলের জন্য উপযোগিতা হারিয়েছে, যা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

শেষে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। একাত্তরের মতো ২০২৪ সালেও সেই ঐক্যের ফলেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




রেমিট্যান্সে নতুন উল্লম্ফন, জুলাইতেই দেশে এল ১৯৩ কোটি ডলার

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৬ দিনেই বৈদেশিক মুদ্রায় আয় পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ২৬ জুলাই পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১.৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

মাসের বাকি দিনগুলোতেও এই গতি অব্যাহত থাকলে, পুরো জুলাই মাস শেষে রেমিট্যান্সের অঙ্ক ২৩০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বছরজুড়েই রেমিট্যান্স প্রবাহে স্থিতিশীলতা দেখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রবাসী আয়ে এ ঊর্ধ্বগতি হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, ব্যাংকিং চ্যানেলের সহজলভ্যতা এবং প্রণোদনার যৌক্তিক বাস্তবায়নের ফল। এছাড়াও, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসের সচেতনতামূলক কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

সবশেষ জুন মাসেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের জুন মাসের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক ইতিবাচক গতি বজায় রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুটা রেমিট্যান্স প্রবাহের নতুন রেকর্ড দিয়ে শুরু হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহে নজিরবিহীন অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, গত অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের (২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।

এটি এক অর্থবছরে দেশে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এমন আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফেরায়নি, একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ডলার সংকট মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রেমিট্যান্স প্রবাহ যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে তা বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য রক্ষা, বিনিয়োগে স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর এ প্রবণতা আরও উৎসাহিত করতে সরকারের উচিত ব্যাংকিং প্রক্রিয়া আরও সহজ করা, দ্রুততম সময়ে লেনদেন সম্পন্নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আকর্ষণীয় হারে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় সনদ নিয়ে সংলাপের শেষ ধাপে পৌঁছেছে ঐকমত্য কমিশন : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সোমবার (২৮ জুলাই) দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জাতীয় সনদের খসড়া পাঠানো হবে। রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে চলমান সংলাপের সমাপ্তি টানাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৯তম দিনের সূচনা বক্তব্যে আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় সনদে দলগুলোর স্বাক্ষর নিশ্চিত করা। কমিশন ইতোমধ্যে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে। আগামীকাল সে খসড়া দলগুলোকে পাঠানো হবে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আলোচনার আজকের সূচিতে রয়েছে—রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ এবং একটি স্বতন্ত্র পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব।

আলী রীয়াজ বলেন, “খসড়া নিয়ে সংলাপে বিস্তারিত আলোচনা হবে না। তবে যদি কোনো মৌলিক আপত্তি উঠে আসে, সেক্ষেত্রে তা আলোচনায় আনা হতে পারে। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রাসঙ্গিক সংশোধন যুক্ত করে সনদের চূড়ান্ত রূপ তৈরি করা হবে, যেখানে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন থাকবে।”

তিনি জানান, সংলাপের আলোচনার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ৭টি বিষয়ের আলোচনা এখনো অসমাপ্ত এবং ৩টি বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়নি।

সংলাপের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং ড. আইয়ুব মিয়া।

বর্তমান সংলাপে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোট ব্যতীত ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে।




মুনাফায় ধস, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যতম বড় বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি) এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুনাফা সংকটে পড়েছে। ঢাকা মহানগরের কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণে কোম্পানিটির ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফা প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিএটিবিসি’র শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ১ টাকা ৮০ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ৯ টাকা ৪৮ পয়সা। ১৯৭৭ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি কোনো একক প্রান্তিকে সবচেয়ে কম মুনাফা।

মুনাফার এই ধস অর্ধবার্ষিক হিসাবেও স্পষ্ট। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭ টাকা ৬৯ পয়সা, যেখানে গত বছরের প্রথমার্ধে তা ছিল ১৭ টাকা ১৪ পয়সা।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার মহাখালীর কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়াই মুনাফায় এই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গত ১ জুলাই থেকে মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকায় বিএটিবিসির তামাক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিস স্থানান্তর করে নেওয়া হয় আশুলিয়ার দেওড়া এলাকায়। এই কারখানায় বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড যেমন ডানহিল, কেন্ট, পলমল, বেনসন, রথম্যান্স, কুল প্রভৃতি তামাকজাত পণ্য প্রস্তুত করা হতো। কোম্পানিটি বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) দাবি জানিয়েছিল, আবাসিক এলাকায় তামাক কারখানা পরিচালনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্যে এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং ডিওএইচএস এলাকায় যানজট, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ বাড়ানোর মতো প্রভাব তুলে ধরেছিল সংগঠনটি। দাবি ছিল, কীভাবে এই কারখানা পরিবেশ ছাড়পত্র পেয়েছে তা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

পবা আরও অভিযোগ করে, তামাক কোম্পানিগুলোর প্রভাবে ২০২৩ সালে তামাক শিল্পকে ‘লাল শ্রেণি’ থেকে ‘কমলা শ্রেণিতে’ নামিয়ে আনা হয় এবং তামাক চাষে শুল্কও শূন্যে নামিয়ে আনা হয়, যা দেশের পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা তামাক কারখানা ধ্বংস করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাবলিক পার্ক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ব্যাংককের বেঞ্জাকিট্টি ফরেস্ট পার্ক, এথেন্স ও কুর্দিস্তানের প্রাক্তন তামাক কারখানা এখন রূপান্তরিত হয়েছে জনকল্যাণমূলক স্থানে। অথচ বাংলাদেশে এখনো শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন ক্ষতিকর শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত কারণে মারা যায়। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হন ফুসফুস ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও অ্যাজমার মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখে। ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া ৯২% শিশুর মুখের লালায় উচ্চমাত্রার নিকোটিন পাওয়া যাওয়ার মতো তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

তামাক উৎপাদন পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতি একর জমিতে তামাক শুকাতে লাগে প্রায় ৫ টন কাঠ, যা দেশের বনভূমির ৩০ শতাংশ ধ্বংসে ভূমিকা রাখছে। ২০২৪ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকেই দেশে ৪,১৩৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা মোট ঘটনার ১৫.৫২%।

সব মিলিয়ে মুনাফার ধস, সামাজিক চাপ এবং পরিবেশগত উদ্বেগ—সব দিক থেকেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এখন কঠিন চাপে রয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের সামনে বড় নীতিগত ও বাজারিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় চালু, ‌’নতুন যুগের সূচনা’ :উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করাকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ হিসেবে না দেখে, মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার নিদর্শন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

রোববার (২৭ জুলাই) সকালে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে গণবিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা’ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) অফিস ঢাকায় খোলার অর্থ এই নয় যে, আমাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ। বরং এটি প্রমাণ করে, বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষায় কতটা আন্তরিক। অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মানবাধিকার লঙ্ঘন যেভাবে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে।”

তিনি জানান, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৩৩তম বৈঠকে জাতিসংঘের সঙ্গে তিন বছরের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে জাতিসংঘের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এবং বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ইউএনএইচসিআরের অফিস খোলার বিষয়ে ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর আপত্তির জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “এমন একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অফিস থাকলে, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যারাই আসুক না কেন, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আরও সচেতন থাকবে। সরকারও দায়বদ্ধ থাকবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে।”

অতীতের সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির গড়ে তোলা হয়। আন্তর্জাতিক মহলে সেসব ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে জাতিসংঘ। তারা এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।”

বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে মানবাধিকার সুরক্ষায় বিশ্বাসী। সহনশীলতা, সংলাপ এবং ন্যায্যতা বজায় রেখে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। কোনো আন্দোলন বা মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দমননীতি অনুসরণ করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “গণপিটুনি বা মব জাস্টিসের মতো ঘটনা প্রতিরোধে সরকার সমাজে বিদ্যমান কারণগুলো বিশ্লেষণ করছে। কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে এসব ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।”

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসাইন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিবন্ধনের আহ্বান, আবেদন গ্রহণ ১০ আগস্ট পর্যন্ত

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আগামী ১০ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে ইসির সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন করতে হবে।

ররিবার (২৭ জুলাই) ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যোগ্য সংস্থাগুলো নিবন্ধিত হলে তারা ৫ বছরের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে।


✅ আবেদনের নিয়ম ও যোগ্যতা:

📝 ফরম সংগ্রহ:

  • আবেদন ফরম (ইও-১) পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা (কক্ষ-১০৫)
  • অথবা অনলাইনে ইসির ওয়েবসাইটে: www.ecs.gov.bd

🧾 যে কাগজপত্র জমা দিতে হবে:

  • সংস্থার গঠনতন্ত্র
  • বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ/ট্রাস্টি বোর্ডের তালিকা (নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত)
  • নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি (প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার দ্বারা)
  • অফিসের ঠিকানা, কার্যাবলীর তালিকা
  • শেষ দুই বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন
  • দেশি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে তাদের অনাপত্তিপত্র
  • সংস্থার নির্বাহী বা কোনো সদস্যের রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট না থাকার হলফনামা

🛑 কোন সংস্থা নিবন্ধনের যোগ্য নয়?

  • যদি সংস্থার নাম জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে
  • সংস্থার কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন

📌 এছাড়াও, সংস্থার কার্যক্রমে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং গঠনতন্ত্রে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার থাকতে হবে।


📣 ইসি সূত্রে জানা গেছে:
এবারের নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তাই আগ্রহী সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম