তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাবে একমত অধিকাংশ দল, মতবিরোধ শুধু প্রধান উপদেষ্টায়

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ২১তম দিনের সংলাপ শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিন-চতুর্থাংশ দলের মধ্যে একমত হওয়া গেলেও প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়নের পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে।”

কমিশনের সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টাকে মনোনয়নের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের) এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি।

তবে যদি এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রধান বিচারপতির মনোনীত দুই বিচারপতিকে যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি র‍্যাংকড-চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুলেছে। দলটির দাবি, অচলাবস্থার ক্ষেত্রে বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাঠানো উচিত। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি বিচারপতিদের অন্তর্ভুক্তি ও র‍্যাংকড ভোটিং প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ সমাধান হিসেবে দেখছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছে গেছি। আগামীকাল লিখিত প্রস্তাব সব দলের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি অধিকাংশ দল তা গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে জাতীয় সনদের খসড়ার সংশোধিত কপি দিয়েও আলোচনার নিষ্পত্তি ঘটানো হবে।

আলী রীয়াজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে আমরা এখনো আশাবাদী। সব দলই কোনো না কোনোভাবে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”




জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ তথ্য সচিবের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার যেন সুবিচার পায়, সে বিষয়ে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সচিব বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে গুজব ও অপপ্রচার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে তথ্য কর্মকর্তাদের আরও সচেতন ও দক্ষ হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর। আলোচনায় আরও অংশ নেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কাউসার আহাম্মদ।

আলোচনাসভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




জাতীয় ঐকমত্যে ফাটল: এনসিপি ও জামায়াতের পাল্টা প্রস্তাব

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত ‘জুলাই সনদের’ খসড়ার ভূমিকা ও উপসংহার অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে হস্তান্তর করা হয়েছে। খসড়ার এই অংশে অধিকাংশ দল বড় ধরনের আপত্তি না তুললেও, কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। তারা এসব আপত্তি লিখিতভাবে কমিশনে জমা দেবে বলে জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সংলাপের মধ্যাহ্নভোজ বিরতির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন, জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, এবং ১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এনসিপি: ‘আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়’

এনসিপির জাভেদ রাসিন জানান, যেসব বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী সংসদ নির্বাচন হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি নিয়ে এনসিপি ‘র‍্যাংক চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি যুক্ত করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করার প্রস্তাবেও তারা একমত। তবে দলীয় ফোরামে আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়া হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামায়াত: ‘খসড়া অসম্পূর্ণ ও কিছু অংশ বিপজ্জনক’

জামায়াত নেতা তাহের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত—এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জানান, কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোয় একমত না হলে র‍্যাংক চয়েস ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি যুক্ত রয়েছে, যা অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য। তবে তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের খসড়া অসম্পূর্ণ এবং কিছু অংশ বিপজ্জনক।

জামায়াত আইনি কাঠামোর জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে—অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাঠামো অনুমোদন ও গণভোটের মাধ্যমে বৈধতা অর্জন।

গণসংহতি আন্দোলন: আরও আলোচনার প্রয়োজন

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি বলেন, সনদের বিভিন্ন অংশে এখনো আলোচনার অবকাশ রয়েছে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ ও পিআর পদ্ধতি নিয়ে। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল জানান, খসড়ার ভাষা ও কিছু শব্দ নিয়ে তাদের আপত্তি আছে, যা লিখিতভাবে জানানো হবে।

এবি পার্টি: ‘প্রস্তাব যুগান্তকারী হতে পারে’

এবি পার্টির প্রধান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিতর্কমুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। তিনি কমিশনের প্রস্তাবকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর একধরনের প্রত্যাবর্তন হিসেবে অভিহিত করেন এবং র‍্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতিকে ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ বলেন।

বিএলডিপি: বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশোধন চান

বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান বাছাইয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে প্রার্থীর নাম নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। কারণ অনেক নিবন্ধিত দল কার্যকর নয়। এছাড়া তিনি বাছাই কমিটিতে ৩ জন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট

জুলাই সনদ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। সংশ্লিষ্ট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, কমিশন ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সনদটিকে কার্যকর রূপ দেবে। দলগুলোর লিখিত মতামত আগামীকাল (৩০ জুলাই) জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।




জুলাই গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে: ড. আসিফ নজরুল

জুলাই গণহত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই কাঙ্ক্ষিত মামলাগুলোর রায় পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক এক আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে হতাশ না হয়ে আশাবাদী হতে হবে। বিচার কার্যক্রম যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, ইনশাল্লাহ বর্তমান সরকারের আমলেই কাঙ্ক্ষিত রায় আমরা পেতে পারব।”

একজন আলোচকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তীকালে বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা এই বিচার থেকে সরে আসবে না। কারণ তারাও আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে নির্যাতিত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছে।”

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা এমন অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ রেখে যাব, যাতে কোনো সরকার চাইলেও এই বিচারের ধারা থামাতে না পারে।”

সমাপনী বক্তব্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমি উপদেষ্টা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করিনি। অন্যায় করিনি। জীবনে কোনো সময় এত পরিশ্রম করিনি। বিচার নিয়ে আমাদের আন্তরিকতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখার অবকাশ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি শহীদের পিতা হতাম, তাহলে আমিও প্রশ্ন তুলতাম। সন্তান হারানো মানুষদের ইমোশনাল হয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক। তাদের সমালোচনাকে আমাদের সহ্য করতে হবে, বুঝতে হবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিরাপরাধ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীরা যে অপরাধ করেছে, তা এমন নৃশংস যা পাকিস্তানি বাহিনীর কাছেও দেখা যায়নি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও আমি এমন ফুটেজ দেখিনি, যেখানে একজন আহত ব্যক্তিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আবার গুলি করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে অনেক ধরনের বর্বরতা হয়েছে, তবে এই মাত্রার নৃশংসতা বিরল। অথচ এত বড় গণহত্যার পরেও আওয়ামী লীগের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।”

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “একটি দল ১৫ বছর ধরে শুধু মিথ্যা, দমন-পীড়ন ও অত্যাচারের মাধ্যমে দেশ চালিয়েছে। এখনো তাদের নির্যাতনের প্রবণতা থামেনি। শেখ হাসিনার অডিও শুনলে বোঝা যায়, এখনো সেই মনোভাব বজায় রয়েছে।”

বিচারকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার অনেক দায়িত্ব। কিন্তু এই বিচার যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে চেষ্টায় কোনো ঘাটতি রাখিনি এবং রাখব না।”




বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ থেকে ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল ভারত

ভারত তাদের স্বল্পমাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্রলয়’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। গতকাল (২৮ জুলাই) ও আজ (২৯ জুলাই) ওড়িশা উপকূলের বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটির দুটি পৃথক উৎক্ষেপণ করা হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। সংস্থাটির দাবি, প্রলয় একটি আধুনিক, আধা-ব্যালিস্টিক, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

ডিআরডিও জানায়, প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে কঠিন জ্বালানির মোটর, উন্নত ন্যাভিগেশন প্রযুক্তি এবং মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা—যা একে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে এবং সব কার্যকরী লক্ষ্য অর্জন করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩৫০ থেকে ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের কনভেনশনাল ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এটি মূলত শত্রুপক্ষের কমান্ড সেন্টার, লজিস্টিক হাব, এবং বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেন এটি প্রতিহত করতে না পারে, সেজন্যই প্রলয়কে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। সামরিক কৌশলে এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




চার দিন ভেসে থাকা ৯ জেলে জীবিত উদ্ধার, নিখোঁজ ৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ৯ জেলে। গভীর সমুদ্রে চার দিন ধরে ভেসে থাকার পর সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ছয়জন জেলে, যাদের জীবনের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মহিপুর ঘাট থেকে রওনা হওয়া ‘এফবি সাগরকন্যা’ নামের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের গভীরে পৌঁছালে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও বিশাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মুহূর্তেই ডুবে যায়। ওই ট্রলারে মাঝি আবদুর রশিদের নেতৃত্বে মোট ১৫ জন জেলে ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণে বাঁচতে তারা ভেসে থাকার জন্য বাঁশ, প্লাস্টিকের ফ্লোট ও কাঠের বোর্ড ব্যবহার করেন। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে প্রথমে একজন জেলে নিখোঁজ হন। এরপর ধাপে ধাপে আরও পাঁচজন সাগরে হারিয়ে যান।

চার দিন ধরে খোলা সাগরে অনাহারে-অর্ধাহারে ভেসে থাকার পর সোমবার রাতে বঙ্গোপসাগরের শেষ সীমান্ত বয়া এলাকায় থাকা দুটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। পরে মঙ্গলবার ভোরে তাদের কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিখোঁজ জেলেদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: আবদুর রশিদ, নজরুল ইসলাম, রফিক, ইদ্রিস, হারুন ও কালাম। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন শোকে, আর স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

উদ্ধার হওয়া জেলে হাসান বলেন, “ঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কিছু বোঝার আগেই ট্রলার ডুবে যায়। আমরা প্রাণে বাঁচার জন্য যেভাবে পারি ভেসে ছিলাম। আল্লাহর রহমতেই আজ জীবিত ফিরে এসেছি।”

এদিকে, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নামে। এখনো নিখোঁজ ছয় জেলেকে উদ্ধারে সমুদ্রপথে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, ঝড়ের সতর্কতা উপেক্ষা না করা এবং প্রতিটি ট্রলারে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, নৌ-সুরক্ষা যন্ত্রপাতি রাখা অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ট্র্যাজেডি আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে—বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কতটা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি নিয়ে জেলেদের প্রতিদিন কাজ করতে হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রকাশ: গঠনমূলক সংস্কারে ঐকমত্যের পথে বাংলাদেশ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সনদটির প্রাথমিক খসড়া দেশের ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নতুন এক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক সনদ রচিত হচ্ছে। কমিশনের লক্ষ্য— রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানসমূহে কার্যকর সংস্কার আনয়ন, বিশেষ করে সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থায়।


প্রেক্ষাপট

মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা— সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার— পূরণ না হওয়ায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ে ২০২৪ সালে ঘটে সফল গণ-অভ্যুত্থান। এতে এক হাজারের বেশি নাগরিক প্রাণ হারান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জনচাপ ও সম্মিলিত প্রয়াসে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন


কমিশনের কার্যক্রম

  • ৬টি পৃথক সংস্কার কমিশন গঠিত হয়: সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন।
  • এসব কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ শুরু করে।
  • ৩৫টি রাজনৈতিক দল মতামত দেয়, ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চলে প্রথম দফা সংলাপ।
  • দ্বিতীয় দফায় চলছে বিস্তারিত আলোচনা, যার ভিত্তিতে গঠিত হচ্ছে “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এর খসড়া

১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য

কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যে ১২টি বিষয়ে ন্যূনতম একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো (কিছু ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সহ) সেগুলো হলো:

  1. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন
  2. সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্বে ভারসাম্য
  3. নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ কাঠামো
  4. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান প্রক্রিয়ার সংস্কার
  5. বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ
    • (ক) সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ
    • (খ) উপজেলা পর্যায়ে আদালতের সম্প্রসারণ
  6. জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো সংস্কার
  7. প্রধান বিচারপতি নিয়োগে বিধানগত স্বচ্ছতা
  8. সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি আধুনিকায়ন
  9. প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা নিষিদ্ধকরণ
  10. নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পদ্ধতি
  11. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল সীমিতকরণ
  12. পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন

আলোচনায় থাকা অমীমাংসিত বিষয়

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির গঠন ও কাঠামো
  • নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও নির্বাচনী পদ্ধতির সংস্কার
  • দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রস্তাব
  • রাষ্ট্রের মূলনীতি পুনর্বিন্যাস
  • নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ

চূড়ান্ত সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন:

“খসড়া দেয়া হয়েছে, মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিবার প্রাথমিক পর্যায়ের ঐকমত্যের খসড়া পৌঁছে দেয়া হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যেসব বিষয়ে একমত হবে, তার চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, আলোচনার এই ধারা গঠনতান্ত্রিক রূপান্তরের এক অনন্য নজির।


উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

  • বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, গণসংহতি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি সহ ৩০টির বেশি দলের প্রতিনিধি
  • জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যবৃন্দ: বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ
  • প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মুহূর্তটি গণতন্ত্র পুনর্গঠনের এক বিরল সুযোগ। “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫” দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে— যদি তা বাস্তবায়ন হয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ঠা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।


 আল-আমিন



বিমান বিধ্বস্তের সময় মাইলস্টোন ভবনে ছিল ৫৯০ শিক্ষার্থী: অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর খাঁন

ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের সময় প্রায় ৫৯০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর খাঁন।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ এয়ার স্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অধ্যক্ষ বলেন, “প্রতিদিন আমাদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ। সে অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ভবনে প্রায় ৫৯০ জন শিক্ষার্থী ছিল।”

তিনি জানান, ওই ক্যাম্পাসে মোট ৭৩৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। দুর্ঘটনার পরপরই কর্তৃপক্ষের প্রথম কাজ ছিল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ বলেন, “ওই মুহূর্তে ফুটেজ দেখা আমাদের অগ্রাধিকার ছিল না। আমরা প্রথমেই নিশ্চিত করতে চেয়েছি, কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে কি না এবং সবাই নিরাপদে অভিভাবকের কাছে পৌঁছেছে কি না।”

“গ্রিল শিশুদের নিরাপত্তার জন্যই”

ভবনের জানালায় গ্রিল থাকায় সমালোচনা ওঠার বিষয়ে জাহাঙ্গীর খাঁন বলেন, “ওই শ্রেণিকক্ষে ছোট ছোট বাচ্চারা ক্লাস করে। তাদের নিরাপত্তার জন্যই জানালায় গ্রিল দেওয়া ছিল।”

নিয়ম মেনেই নির্মাণ: অধ্যক্ষ

ভবন নির্মাণে রাজউক কিংবা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিয়ম মানা হয়নি— এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, “মাইলস্টোন ছাড়াও আশপাশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠান আলাদা কোনো বিবেচনায় নির্মিত হয়নি। আমরা যথাযথ অনুমোদন নিয়েই ভবনটি নির্মাণ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই এলাকায় আমাদের ভবনের চেয়েও উঁচু ভবন আছে, এমনকি মেট্রোরেলের অবকাঠামোও আমাদের ভবনের চেয়ে উঁচু। গোটা এলাকাটিই হাইরাইজ ভবনে ঘেরা। এখানে অনুমতি ছাড়া কিছু হয়নি।”

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আহত শিক্ষার্থী ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর তৃতীয় দফায় মাইলস্টোন কলেজের ক্লাস আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।




জুলাই সনদ ২০২৫: রাজনৈতিক ঐকমত্যে ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ৩৫টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে খসড়াটি প্রণয়ন করে।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, খসড়া সনদটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা এর ভাষা ও প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করবে এবং চূড়ান্ত মতামত দেবে। তিনি বলেন, ‘‘যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, তা সংলাপ শেষে চূড়ান্ত সনদে সংযোজন করা হবে।’’

খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই সনদে একটি বাধ্যতামূলক রোডম্যাপ নির্ধারিত হয়েছে, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। এই সংস্কারের আওতায় রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, দুর্নীতিদমন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন।

খসড়া সনদের ভূমিকায় বলা হয়েছে, সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং এটিকে সম্মিলিত নৈতিক দায় হিসেবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবে। এই বাস্তবায়ন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

সনদের লক্ষ্য ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাংবিধানিক কাঠামো, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতিদমন ব্যবস্থার আইনি ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োগ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সনদ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই আন্দোলনে ১৪০০-র বেশি মানুষ নিহত হয় এবং বহু মানুষ আহত হন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

এই প্রক্রিয়ায় গঠিত হয় ছয়টি আলাদা সংস্কার কমিশন—
১. সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন
২. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন
৩. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন
৪. প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন
৫. পুলিশ সংস্কার কমিশন
৬. দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন

কমিশনগুলো ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারকে জমা দেয়। এরপর দুই ধাপে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া চলে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১২টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—

  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ
  • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব
  • নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ
  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত বিধান
  • সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাঠামো
  • প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পদ্ধতি
  • সংবিধান সংশোধন
  • প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা
  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল
  • নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ
  • পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

তবে এখনো দ্বিমত রয়েছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন, সংসদে নারী আসন সংখ্যা ও নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্রের মূলনীতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ বিষয়ে।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজনৈতিক দলগুলোকে খসড়া সনদ সরবরাহ করা হয়েছে। দলগুলো জানিয়েছে, তারা বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী মতামত দেবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

শেষাংশে সনদে আহ্বান জানানো হয়েছে:
২০২৪ সালের শহীদদের স্মরণে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সকল পক্ষ যেন একসঙ্গে কাজ করে।




বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-বাহরাইন

বাহরাইনের বিদ্যুৎ ও পানিবিষয়ক মন্ত্রী ইয়াসির বিন ইব্রাহিম হুমাইদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার।

রোববার (২৭ জুলাই) বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ও মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নয়ন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, পানি এবং জ্বালানির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মানামা দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং এই খাতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশই উপকৃত হতে পারে।

বাহরাইনের মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সফল দায়িত্ব পালনের কামনা জানান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও গভীর ও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয়পক্ষ।