মাইলস্টোন ট্রাজেডি: মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে শোকবইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খালিল।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকবইতে স্বাক্ষর করেন এবং এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল।”

শোকবইটিতে এরই মধ্যে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর প্রতিনিধি এবং মালদ্বীপে অবস্থানরত জাপান, চীন, সৌদি আরব ও শ্রীলঙ্কার কূটনীতিকরাও স্বাক্ষর করেছেন।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. সোহেল পারভেজ জানান, শোকবইটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মালদ্বীপে বসবাসরত যে কেউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে শোক ও সহানুভূতি জানাতে পারবেন।

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ইতোমধ্যে শোকবইতে স্বাক্ষর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ঢাকার উত্তরা এলাকায় একটি সামরিক প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা দেশের ভেতর ও বাইরে ব্যাপকভাবে শোকের ছায়া ফেলেছে।




“পরিবর্তনশীল বিশ্বে কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য” — সেনাপ্রধান

কৌশলগত নেতৃত্ব গঠনে সংস্কারমুখি, গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “জাতি গঠনের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য। এজন্য দেশের সব প্রতিষ্ঠানে এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে যা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৫/২’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

জেনারেল ওয়াকার বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশে ক্যাপস্টোন কোর্স একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং উদীয়মান জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।”

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতিগত অগ্রগতির জন্য সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা এবং সুপরিকল্পিত নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কোর্সে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত ও জাতীয় জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, এবারের কোর্সে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন।




জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত: গঠিত হবে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংলাপের ২৩তম দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

কমিশন জানায়, উচ্চকক্ষের সদস্যরা মনোনীত হবেন নিম্নকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ অনুযায়ী। অর্থাৎ, সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তবে উচ্চকক্ষের ক্ষমতা হবে সীমিত। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এ কক্ষের নিজস্ব আইন প্রণয়নের এখতিয়ার থাকবে না। অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য সব বিলই উচ্চকক্ষে উপস্থাপন করতে হবে। কোনো বিল এক মাসের বেশি আটকে রাখা হলে, সেটিকে অনুমোদিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

উচ্চকক্ষের মূল দায়িত্ব হবে নিম্নকক্ষে উত্থাপিত বিলসমূহ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা। কোনো বিল অনুমোদন পেলে তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। আর যদি বিল প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানো হবে। নিম্নকক্ষ এই সুপারিশ আংশিক, পূর্ণ অথবা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত মত দেখা দিয়েছে। বিএনপি ও তাদের মিত্র দলসমূহ—জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম ও এলডিপি—উচ্চকক্ষে আসন বরাদ্দের ভিত্তি হিসেবে নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত আসন সংখ্যাকে বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তারা উচ্চকক্ষের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি তুলেছে।

এদিকে সিপিবি-বাসদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উচ্চকক্ষ গঠনের বিরোধিতা করে জানায়, দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এর কোনো প্রয়োজন নেই।

দীর্ঘ আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় বিষয়টি কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। কমিশন সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।




বরগুনায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে বিএনপি আইনজীবীদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান

নতুন বাংলাদেশের জয়যাত্রায় শহীদ স্মরণে’ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো বরগুনাতেও পালন করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান মজিবর।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এজেডএম সালেহ ফারুক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, জাতীয় আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাড. রেজবুল কবির, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আহসান হাবিব স্বপন এবং জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাড. সেলিম হোসেন।

বক্তারা বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের ভূমিকা অপরিসীম। জুলাই মাসের গণআন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আমরা তাঁদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। সেই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। দেশে আজও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অবিলম্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি।”

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ফোরামের বরগুনা জেলা শাখার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াসী মতিন।
অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী ফোরামের অন্যান্য সদস্যবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুদক সমাজের বাইরের কিছু নয়, দুর্নীতি আছে এখানেও: আবদুল মোমেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সমাজেরই অংশ—এমন মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, “দুদকেও দুর্নীতি রয়েছে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি চেষ্টা করছি সেটা কমিয়ে আনার। সরকারকে দুর্নীতির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে আগে নিজ প্রতিষ্ঠানকে শুদ্ধ করতে হবে।”

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৫) সকালে বরিশাল নগরীর সি অ্যান্ড বি রোডে দুদকের বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের ছয়তলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।

“দুর্নীতি কমলে দেশ ভালো থাকবে, সরকারও স্বস্তিতে থাকবে”

দুদক চেয়ারম্যান বলেন,

“সরকারের অধঃপতনের মূল কারণ দুর্নীতি। আমরা চাইলেই দুর্নীতিকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারবো না, তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো। তবেই রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে।”

দুদকের করা মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি জানান,

“দুদক কাউকে ছাড় দেয় না। যারা খালাস পাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত আপিল করে যাচ্ছি। দুর্নীতি রোধে আদালত, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।”

দুর্নীতিমুক্ত সেবায় সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে

পরে বরিশাল সার্কিট হাউসে এক বিশেষ সভায় অংশ নেন ড. আবদুল মোমেন।
“দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত নাগরিকসেবা এবং সেবার মান উন্নয়নে করণীয়” শীর্ষক এ সভায় বরিশাল বিভাগের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার

তিনি বলেন,

“দুর্নীতিকে দমন করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, নৈতিক দায়বদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে প্রশাসনকে সেবামূলক ও দায়বদ্ধ হতে হবে।”

সভায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ৩০ জুলাই ২০২৫





ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময়সীমা অটুট থাকবে: শফিকুল আলম

নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, তার একদিনও পর নির্বাচন হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “নির্বাচন সময়মতোই হবে এবং আমরা একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করি।”

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

শফিকুল আলম বলেন, “একটা বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন—নির্বাচন ড. ইউনূস যে সময় বলেছেন, তার থেকে একটি দিনও দেরি হবে না।” তিনি জানান, ড. ইউনূস প্রাথমিকভাবে নির্বাচন এপ্রিলের প্রথম দিকে হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন, তবে সংস্কারের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরে ফেব্রুয়ারির সম্ভাবনাও আলোচিত হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনো সেই ফেব্রুয়ারির সময়সীমাতেই আছি। কাজগুলো দ্রুত এগোচ্ছে।”

নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, “প্রতিটি নির্বাচনে কিছু না কিছু সহিংসতা দেখা যায়। তবে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে সহিংসতা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার দিকে।”

তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ ও আস্থা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচন একটি ‘উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আয়োজন’ হবে।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রায়: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে ৮৬ শতাংশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে স্পষ্ট মত দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের আয়োজনে চার দিনব্যাপী আয়োজিত গণভোটে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৮৬ শতাংশ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যেখানে মাত্র ১১.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ছিলেন বিপক্ষে।

গণভোটে মোট ১,১৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ২.৫ শতাংশ (২৬টি ভোট) বাতিল হয়।
ফলাফল ঘোষণা করা হয় গতকাল বুধবার (৩০ জুলাই ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে।

গণতন্ত্রের বার্তা শিক্ষার্থীদের মুখে

ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ভূমিকা সরকার এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় রায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান বলেন— “এই গণরায় শুধু বরিশাল নয়, দেশের সব গণতন্ত্রকামী শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এখনই সময় বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংস্কার করে ছাত্র ও হল সংসদের নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করার।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্র সংসদ না থাকলে ক্যাম্পাসে গোপন রাজনীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বাড়ে। শিক্ষার্থীদের মতামত কোনো সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয় না, ফলে সংকট বাড়তে থাকে।”

শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও দাবি

সভাপতির বক্তব্যে ভূমিকা সরকার বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নেই পর্যাপ্ত পাঠদান কক্ষ, নেই আবাসন সুবিধা, পরিবহনসংকটও ভয়াবহ। গণগ্রন্থাগারে নেই পর্যাপ্ত বই ও গবেষণার পরিবেশ। ছাত্র সংসদ না থাকায় এসব সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি।”

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান—“অবিলম্বে আইন সংস্কার করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক আবদুর রহমান, সুদীপ্ত হালদার, শওকাত ওসমান স্বাক্ষর প্রমুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ৩০ জুলাই ২০২৫





আগামী পাঁচ-ছয় দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

আগামী পাঁচ-ছয় দিন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

প্রেস সচিব বলেন, “আগামী পাঁচ-ছয় দিন সরকারের জন্য খুবই ক্রুশিয়াল টাইম। এই পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে আমরা কোন পথে অগ্রসর হচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে নির্বাচন উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে।

শফিকুল আলম বলেন, অভ্যুত্থানের পর যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্যোগ ছিল, তা থেকে দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে আসাই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় অর্জন।

বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ চলছে। অপরাধকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনাই লক্ষ্য।”

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রেস সচিব বলেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে যে কারো বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল-আমিন



১০টির বেশি সিম? ৩০ অক্টোবরের পর বন্ধ হয়ে যাবে!

বাংলাদেশে মোবাইল সিম ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম জারি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে একজন গ্রাহক নিজের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহার করতে পারবেন। এর বেশি হলে অতিরিক্ত সিমগুলো আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে ডি-রেজিস্ট্রার করতে হবে। এই সময়সীমার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে অতিরিক্ত সিমগুলোর বিরুদ্ধে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বিটিআরসির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মোবাইল অপব্যবহার রোধ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ সিম ব্যবহারের লাগাম টানতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসি জানায়, একজন গ্রাহকের নামে কতটি সিম নিবন্ধিত রয়েছে তা জানতে চাইলে *১৬০০১# ডায়াল করলেই তথ্য জানা যাবে। যদি দেখা যায়, আপনার নামে ১০টির বেশি সিম সক্রিয় আছে, তবে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অতিরিক্ত সিমগুলো ডি-রেজিস্ট্রার করে ফেলুন। না হলে ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর পর সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে, এমনকি প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হতে পারে।

বর্তমানে প্রতিটি সিমের পেছনে রয়েছে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর তথ্য। তাই অবৈধভাবে একাধিক সিম নিবন্ধন করে অপব্যবহার করা যেমন অপরাধ, তেমনি নিজের অজান্তে অন্য কেউ আপনার নামে সিম চালালেও তার দায় আপনার ওপরই পড়বে। এই নতুন নিয়মের ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করছে বিটিআরসি।

এর আগে ২০২৩ সালে বিটিআরসি জানিয়েছিল, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১৫টি পর্যন্ত সিম রাখতে পারবেন। তবে এবার সেই সংখ্যাটি হ্রাস করে ১০টি নির্ধারণ করা হলো, যা কার্যকর হবে ১৫ আগস্ট ২০২৫ থেকে।

বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, এক এনআইডিতে ৫০টির বেশি সিম নিবন্ধন করে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এবার এই ‘১০ সিম নীতি’ চালু করা হলো।

গ্রাহকদের এখন থেকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। সিম ব্যবস্থাপনায় অসতর্কতা ভবিষ্যতে বড় জটিলতায় ফেলতে পারে। অতএব, নিজের নামে নিবন্ধিত সিম সংখ্যা যাচাই করুন, অতিরিক্ত থাকলে দ্রুত বাতিল করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে আবারও দেশের সেরা পটুয়াখালীর দুমকী

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে টানা সাফল্যের ধারা ধরে রেখে আবারও বাংলাদেশের শীর্ষস্থান দখল করেছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা। জুন মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলার নিবন্ধন কার্যক্রম নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩৩ শতাংশ বেশি সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে এই অর্জন সর্বোচ্চ।

এই অভাবনীয় সাফল্যের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক। এর আগেও, মে মাসে দুমকী উপজেলা ২৯৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে সারা দেশে প্রথম হয়েছিল। তখন জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৮টি, সম্পন্ন হয় ৩৮৩টি। একই সময় মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫টি, অথচ কাজ হয়েছে ১০৪টি।

জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী, মূলত শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউএনও ইজাজুল হক বলেন,

“আমরা শুরু থেকেই একটি সমন্বিত কৌশল অনুসরণ করেছি। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সম্পৃক্ততা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে একসাথে কাজ করাই আমাদের মূল শক্তি ছিল। এটি কোনও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, এটি পুরো টিমের অর্জন।”

অন্যদিকে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এ সাফল্যের বিষয়ে বলেন,

“দুমকীর সাফল্য নিঃসন্দেহে জেলার জন্য গর্বের বিষয়। যদিও জেলা হিসেবে পটুয়াখালী এখনো শীর্ষ তালিকার বাইরে, তবে এ ধরনের সাফল্য অন্য উপজেলার জন্য অনুপ্রেরণা।”

অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • সিলেট বিভাগ জুন মাসে ১০০ শতাংশ অর্জন করে শীর্ষে
  • বরিশাল বিভাগ দ্বিতীয় অবস্থানে (৮২%)
  • চট্টগ্রাম বিভাগ তৃতীয় (৭৭%)

জেলাভিত্তিক তালিকায় সুনামগঞ্জ শীর্ষে, এরপর রয়েছে লক্ষ্মীপুর ও হবিগঞ্জ। তবে ধারাবাহিক উন্নতির কারণে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুমকী আগামী দিনেও শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম