পটুয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে এবি পার্টির চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা। শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ড. আতহার উদ্দীন মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এস এম ইকবাল হোসাইন। আলোচনায় অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর আব্দুল ওহাব মিনার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের অধিকার ও ন্যায়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের ছবি ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে সচেতন করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে একটি ন্যায়ের রাষ্ট্র গঠনে এই চেতনা পথ দেখাবে।

আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলে জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ইতিহাসের নানা মুহূর্তে ফিরে যান ছবির মাধ্যমে। ছবি ও প্রামাণ্য দলিল সমৃদ্ধ এই প্রদর্শনী আগতদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “জুলাই ২৪ যেন ৭১-এর মতো চেতনা ব্যবসায় পরিণত না হয়। এই দিনের শিক্ষা থেকে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে। তবে যারা নিজেদের পরিবর্তন করে নতুন বাংলাদেশে কাজ করবেন, তারা জনসমর্থন পাবেন।”

এ ধরনের আয়োজন আগামীর নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন দলটির নেতৃবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৫ আগস্টের মধ্যেই প্রকাশিত হবে জুলাই ঘোষণাপত্র

আলোচিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ অবশেষে প্রকাশের পথে। ৫ আগস্টের মধ্যেই এটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। শুক্রবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম লেখেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র এখন আর স্বপ্ন নয়, এটা বাস্তবতা। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই ঘোষণাপত্রটি প্রকাশিত হবে। এই ঘোষণাপত্রকে গণচেতনায় জাগিয়ে রাখার জন্য, এবং তার বাস্তবায়নের পথ সুগম করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে তৈরি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়াটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র জানায়, মাসব্যাপী সংলাপ এবং বিভিন্ন পক্ষের মতামত যাচাই-বাছাই করেই এই খসড়া তৈরি করা হয়। এতে উঠে এসেছে সাতটি মৌলিক অঙ্গীকার, যা রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হলে, তা পরিণত হবে চূড়ান্ত সনদে।

এই ঘোষণাপত্রের মূল তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার নেতৃত্বে একাধিক সভা ও সংলাপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এটি তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে, ঘোষণাপত্রের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ‘জুলাইযোদ্ধারা’। তাদের এই অবস্থানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট ও ভোগান্তি। তবে শুক্রবার দুপুরের পর তারা ফুটপাথ ছেড়ে দিলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

বিকেলে শাহবাগ মোড়ের অবরোধকারী জনতার মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এ আহতদের একটি দল পিজি হাসপাতাল থেকে এসে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

এর আগেও বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে একই দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। টানা দুই দিনের এই কর্মসূচি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলন চাপ তৈরি করলেও, সরকার ঘোষণাপত্র প্রকাশে যে সক্রিয়, তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার।

সব মিলিয়ে ৫ আগস্টের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন। সেদিন যদি ঘোষণাপত্র বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই বিশ্লেষকদের মত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে একদিনে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার: ট্রলারডুবি, হত্যা, আত্মহত্যা ও ডুবেই প্রাণহানি

পটুয়াখালী জেলায় মাত্র একদিনেই (১ আগস্ট, শুক্রবার) ঘটেছে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা, যার মধ্যে রয়েছে ট্রলার ডুবি, রহস্যজনক মৃত্যু, স্ত্রী হত্যা এবং শিশু ডুবে যাওয়া। জেলার কুয়াকাটা, দুমকি ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।


কুয়াকাটায় ট্রলারডুবিতে ২ মরদেহ উদ্ধার

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মৎস্য ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নজরুল ইসলাম (৬০)-এর মরদেহ সকাল সাড়ে ৯টায় মিরা পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই সময়ে গঙ্গামতি পয়েন্টে ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহও পাওয়া যায়।

👉 নৌ-পুলিশ ইনচার্জ বিকাশ মণ্ডল বলেন,

“স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটির পরিচয় মিলেছে, অপরটি এখনও অজ্ঞাত। উভয় মরদেহ মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”


⚠️ দুমকিতে রহস্যজনকভাবে গৃহবধূর মৃত্যু

দুমকি উপজেলার চরবয়েড়া গ্রামে মুক্তা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

🔸 ভাইয়ের অভিযোগ:

“যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।”

🔸 শ্বশুরবাড়ির দাবি:

“স্ট্রোক করে মারা গেছেন মুক্তা।”

👉 ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন,

“মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্টের পর জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।”


🔪 বাউফলে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

বাউফলের নুরাইনপুরে সরোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তি পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী সালমা আক্তার (৩২)-কে গলা কেটে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

🔸 নিহত সালমা ছিলেন নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক।
🔸 সরোয়ার সকালে চার বছরের সন্তানকে নিয়ে থানায় গিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেন।

👉 ওসি আকতারুজ্জামান সরকার জানান,

“হত্যার দায় স্বীকার করেছেন স্বামী। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।”


🧒 বাউফলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কালাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাফসান (৭) নামের এক শিশু পুকুরে ডুবে মারা যায়। শিশুটি ঢাকায় কর্মরত বাবা-মায়ের সন্তান এবং নানা বাড়িতে থাকত।

🔸 খেলতে খেলতে অগোচরে নিখোঁজ হয় রাফসান
🔸 পরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

👉 ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার বলেন,

“রাফসান খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল, তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”


সংক্ষেপে একদিনে পটুয়াখালীতে ৫ মৃত্যু ঘটনাবলি:

  • 🌊 ট্রলার ডুবিতে ২ জেলের মরদেহ
  • ⚰️ গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
  • 🔪 পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী খুন
  • 💧 পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

🔍 পুলিশের তরফ থেকে সব ঘটনাতেই তদন্ত চলছে, কয়েকটি ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অপেক্ষমাণ।


আল-আমিন

 




ভোলা সদরে জামায়াতের কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির প্রতিনিধি সমাবেশ ২০২৫ সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রের গঠিত ১০১ ও ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কামাল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোলা-১ আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমির মাস্টার মো. জাকির হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসাইন, অর্থ সম্পাদক মাস্টার বেলায়েত হোসাইন ও ভোলা পৌর আমির মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভোলা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার মো. নুরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে তৃণমূল প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা, অন্যায় ও জুলুম প্রতিরোধ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনের কেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কোনও রক্তচক্ষু বা ভয়ভীতির কাছে নত না হয়ে ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা, কেন্দ্রভিত্তিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সংগঠনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘জুলাই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ’— কালচারাল ফেস্টে ফারুকীর বক্তব্য

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, “বাংলাদেশ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিজের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে।” শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জুলাই জাগরণ কালচারাল ফেস্ট’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চার দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসবের শুরুতে ফারুকী বলেন, “জুলাই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক তীব্র বিস্ফোরণ ও প্রতিবাদের উচ্চারণ। এই মাস আমাদের চেতনার, আমাদের প্রেরণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণদের রক্তস্নাত আন্দোলনই মুক্তির বীজ বপন করেছে। তারা প্রমাণ করেছে, জীবন যদি দ্রোহের প্রতিশব্দ হয়, তবে মৃত্যু কখনোই শেষ কথা হতে পারে না।”

ফারুকী আরও বলেন, “মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু – এই সাহসী অঙ্গীকার ধারণ ও পালন করে আমাদের তরুণরা জুলাইয়ে সাফল্যের এক মহাকাব্য রচনা করেছে।”

দেশে আরোপিত ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কালচারাল হেজিমনির ফ্রেম ভেঙে দিয়ে দেশীয় সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশের পক্ষে থাকা সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

উল্লেখ্য, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে শুরু হওয়া এই কালচারাল ফেস্টে প্রতিদিনই আলোচনা সভা, গণসংগীত, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মঞ্চনাটক ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘জুলাই জাগরণ’ শিরোনামের এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দল, প্রগতিশীল শিল্পী ও লেখকরা।




শুল্ক কমলেও পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়, চুক্তির বিস্তারিত জানতে চান আমীর খসরু

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত পাল্টা শুল্ক হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নামায় রপ্তানি খাতের জন্য এটিকে একটি ‘সন্তোষজনক অবস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটি জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ২০ শতাংশ শুল্ক আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন আছি ২০ শতাংশে, পাকিস্তান ১৯, ভিয়েতনাম ২০ আর ভারত ২৫ শতাংশে। এ দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে অবস্থানটা খারাপ নয়।”

তবে এই শুল্ক হ্রাসের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি বা আলোচনার অন্যান্য দিক জানা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

“এটা একটা প্যাকেজ ডিল। এখানে ট্যারিফ ছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে। আমরা জানি শুধু ট্যারিফের হার, কিন্তু এর বিপরীতে আমাদের কী দিতে হয়েছে তা জানি না। এসব প্রকাশিত হলে বিষয়টি ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যাবে,” বলেন আমীর খসরু।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা এই মুহূর্তে কিছুটা কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। “২০ শতাংশ শুল্ক এই মুহূর্তে আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তাই আপাতত এটাকে একটি স্বস্তিকর পদক্ষেপ বলা যায়,” মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণার সঙ্গে ট্যারিফ ইস্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা— এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ আরোপ মূলত তাদের স্বার্থে। আমাদের কী কী দিতে হয়েছে বা এর বিনিময়ে কী কিছু নেওয়া হয়েছে, তা না জানা পর্যন্ত মূল্যায়ন করা যাবে না।”

তিনি বলেন, “শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হয়। সামগ্রিকভাবে রপ্তানি নীতির দিক থেকে আমাদের কোথায় অবস্থান সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করতে হবে। কেবল আমেরিকা নির্ভরশীল অর্থনীতি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনের চুক্তি বা আলোচনার বিষয়গুলো সরকারের উচিত প্রকাশ করা, যাতে অর্থনীতির সার্বিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা যায়।




এই মূহুর্তে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই; যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ডিএমপি

রাজধানীতে আগস্ট মাস ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একইসঙ্গে বসুন্ধরায় ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বৈঠকের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কে বি কনভেনশন হলে একটি ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। হলটি ভাড়া নেন শামীমা নাসরিন শম্পা নামে এক নারী, যিনি বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেন। সেখানে ‘ষড়যন্ত্রমূলক উদ্দেশ্যে’ লোকজন জড়ো হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তালেবুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন। এই বৈঠকে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হকের উপস্থিতির অভিযোগ উঠলে তাকে হেফাজতে নেয় সেনাবাহিনী।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। এর পেছনে আরও কোনো চক্রান্ত আছে কি না এবং প্রকৃত দায়ী কারা—তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৮ আগস্টকে কেন্দ্র করে নানা হুমকির আলোচনার বিষয়ে ডিএমপি’র এই কর্মকর্তা বলেন, “গত এক বছরে আমরা লক্ষ্য করেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার পরিকল্পনা কেউ কেউ করেছে। তবে আগস্ট কেন্দ্রিক আমরা কোনো নিরাপত্তা হুমকি দেখছি না। পুলিশ পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

তিনি বলেন, “কেউ পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে হয়রানিমূলকভাবে বা ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। ডিএমপি কোনো গণগ্রেপ্তার করছে না।”

গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তালেবুর রহমান।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকায় ৪৮৯টি টহল টিম এবং ৬৬টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে ২৫৪ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি মোবাইল ফোন, ৬টি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার ও বিভিন্ন ধরনের মাদক।




শুল্ক হ্রাসে ইউনূস ও ট্রাম্পকে জামায়াত আমিরের ধন্যবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানোয় আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে উচ্চ শুল্কহার ঘোষণা করা হয়েছিল, তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের কার্যকর উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তরিকতায় কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এজন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অধ্যাপক ইউনূসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আশা করছি ভবিষ্যতে ড. ইউনূস এবং যারা পরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তারা সম্মানজনক কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”

এই সাফল্য বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, রপ্তানিকারকদের স্বস্তি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে উৎসাহ সৃষ্টিতে এ ধরণের চুক্তিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়া ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দল ও কূটনৈতিকদেরও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যনীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এ অবস্থায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক হ্রাসে সক্ষম হয়, যা অর্থনৈতিকভাবে বড় একটি সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শুল্ক আলোচনায় সফল বশিরউদ্দীন, প্রশংসায় জ্বালানি উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক কমানোর আলোচনায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কূটনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বকে “যোগ্যতার প্রমাণ” হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

শুক্রবার (১ আগস্ট) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফাওজুল কবির লেখেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে সফল চুক্তি—সবখানেই শেখ বশিরউদ্দীন নিজেকে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।”

পোস্টে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা—এটিই শেখ বশিরউদ্দীনের নেতৃত্বে আলোচনার একটি বড় সফলতা। দেশের অর্থনীতি, রপ্তানিখাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও মন্তব্য করেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

ফাওজুল কবির জানান, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আমি শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে দেখা করি। তখন তার পূর্বপরিচয় ছিল না, কিন্তু প্রথম সাক্ষাতেই তার দেশপ্রেম, যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বিনয় আমাকে মুগ্ধ করে। একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে উপযুক্ততা নির্ধারণে এটাই যথেষ্ট ছিল।”

তিনি আরও লেখেন, “আমার অফিস থেকে যে নাশতা দেওয়া হয়েছিল, তিনি বিনয়ের সঙ্গে সেটি গ্রহণ করেননি। তার মাঝে আমি যেসব গুণ খুঁজে পেয়েছি, তা হলো—দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ, অযুক্তিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার সাহস এবং তথ্য বিশ্লেষণের অসাধারণ ক্ষমতা।”

এই প্রসঙ্গেই জ্বালানি উপদেষ্টা আল্লাহর কাছে শেখ বশিরউদ্দীনের দীর্ঘ হায়াত কামনা করে লেখেন, “তিনি যেন দেশকে আরও দীর্ঘদিন সেবা দিতে পারেন—হোক তা সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে।”

এই সফল আলোচনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি যেমন লাভবান হবে, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পরকীয়ার সন্দেহ, প্রভাষক স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

পটুয়াখালীর বাউফলে নির্মম এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী সরোয়ার হোসেন (৪০)। নিজের চার বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাউফল থানায় হাজির হন এবং পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় খুনের দায় স্বীকার করেন।

নিহত সালমা আক্তার (৩২) পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত রুস্তুম আলীর মেয়ে। তিনি বাউফলের নুরাইনপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী সরোয়ার হোসেন একই উপজেলার নদমুলা গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে।

সূত্র জানায়, চাকরির সুবাদে সালমা আক্তার বাউফলের চন্দ্রপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন স্বামী ও সন্তানসহ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সংসারে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই দাম্পত্য দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছায়। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেই দ্বন্দ্বেরই করুণ পরিণতি ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে সরোয়ার হোসেন ধারালো দা দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে কুপ দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান সালমা আক্তার।

হত্যার পর দ্রুত বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান সরোয়ার। দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি নিজেই থানায় এসে উপস্থিত হন। সঙ্গে থাকা সন্তান সারফারাজকে পুলিশের জিম্মায় দেন এবং নিজেই খুনের ঘটনা খুলে বলেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমরা লাশ উদ্ধার করি এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা জব্দ করি। শিশুটিকেও আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন—এই সন্দেহেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনা স্থানীয় এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি ঘিরে সাধারণ মানুষ, সহকর্মী ও স্থানীয়রা গভীর শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পরকীয়ার সন্দেহ কিংবা দাম্পত্য কলহ কি এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে?

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম