সাগরিকার ওপর ভরসা নিয়ে আজ সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলার মেয়েরা

তরতাজা সাফ ট্রফি জয়ের রেশ এখনো টাটকা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে লাওসের রাজধানীতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে এটি তাদের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক লাওস।

সাফ জয় শুধু একটি শিরোপার গল্প নয়, ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। এবার মূল লক্ষ্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। কোচ পিটার বাটলার মনে করছেন, লাওস ম্যাচ থেকেই শুরু হবে নতুন এক আত্মবিশ্বাসের অধ্যায়।

বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া (র‍্যাঙ্কিং ১৯), লাওস (১০৭) ও বাংলাদেশ (১২৮)। কাগজে-কলমে পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে ভিন্ন কথা। গত মাসেই জাতীয় নারী দল হারিয়েছে মিয়ানমার ও বাহরাইনকে, যারা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক ওপরে ছিল।

সেই জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই আছেন এই অনূর্ধ্ব-২০ স্কোয়াডে। ফলে বাছাইপর্বের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে স্বভাবতই আত্মবিশ্বাসী পুরো দল।

সাবেক তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে এসেছেন দলে অন্যতম ভরসা মোসাম্মৎ সাগরিকা। সাফের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে তার একাই ৪ গোল দলের জয় নিশ্চিত করেছিল। এবারও তাকেই দেখা হচ্ছে সম্ভাব্য গোলমেশিন হিসেবে।

কোচ পিটার বাটলার বলেন, “লাওসের বিপক্ষে আমরা জয় চাই। মাঠে নিজেদের আধিপত্য তৈরি করাটাই হবে মূল লক্ষ্য। কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে লড়তে হলে আমাদের পেশাদারিত্ব ও প্রস্তুতিতে উন্নতি করতে হবে।”

দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, “আমরা এখানে এসেছি কোয়ালিফাই করতে। প্রতিটি ম্যাচে আমরা সর্বোচ্চটা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।”

লাওসও বাংলাদেশ মতোই সিনিয়র দলভিত্তিক স্কোয়াড গঠন করেছে। উজবেকিস্তানে বাছাইপর্ব খেলে আসা দলটি ফর্মে রয়েছে। ফলে ম্যাচটি হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মূল পর্বে জায়গা পেতে হলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে বাংলাদেশকে। রানার্সআপ হলেও সুযোগ থাকছে, তবে সেক্ষেত্রে থাকতে হবে সেরা তিন রানার্সআপের তালিকায়। তাই প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি গোল এখন গুরুত্বপূর্ণ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কক্সবাজার ভ্রমণ ইস্যুতে এনসিপির ৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় ‘রাজনৈতিক পর্ষদকে’ অবহিত না করে কক্সবাজার সফর করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির দফতর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এই পাঁচ নেতার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘ব্যক্তিগত সফর’ এর অভিযোগে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাঁরা নোটিশ পেয়েছেন

নোটিশপ্রাপ্ত পাঁচ শীর্ষ নেতা হলেন

  • এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ,
  • মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম,
  • মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী,
  • জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা,
  • যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ

চিঠিতে বলা হয়, “গত ৫ আগস্ট, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী’ এবং একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনারা ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যান। বিষয়টি পূর্বে দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে অবহিত করা হয়নি।”

এতে আরও বলা হয়, “আপনার এই সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আইন সংশোধন করে আটক সংক্রান্ত নতুন বাধ্যবাধকতা ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টার

আটকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, “ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫” অনুমোদনের মধ্য দিয়ে আইনগত সংস্কারের একটি নতুন ধাপ যুক্ত হলো। এ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব তার পরিবারকে তা জানাতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আটককৃত ব্যক্তিকে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। যদি রিমান্ড শেষে সে অসুস্থ বা আহত থাকে, তবে তাকে অবশ্যই চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে এবং তার আঘাতের কারণ নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশের কোনো গাফিলতি বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে নতুন আইনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে করে পুলিশের জবাবদিহিতা বাড়বে, গ্রেপ্তার-আটক নিয়ে হয়রানি কমবে এবং বিচার প্রক্রিয়াও দ্রুততর হবে।”

এদিন দেওয়া ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দিকেও অগ্রগতি জানিয়ে বলেন, “থানায় জিডি করতে গেলে তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। কাউকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের প্রতিটি থানায় অনলাইনে জিডি করার সুবিধা চালু করা হবে।”

তিনি বলেন, “জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগ বন্ধ করতে এখন থেকে থানার সেবাও হবে ডিজিটাল। এই উদ্যোগ মানুষকে আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে আরও বেশি অধিকার নিশ্চিত করবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেওয়ানি আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ক্ষেত্রেও সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থায় গতি ও স্বচ্ছতা আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




জুলাই অভ্যুত্থান তরুণদের রক্তে লেখা ইতিহাস: প্রধান উপদেষ্টা

কোটা আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত তরুণদের ত্যাগ ও প্রতিরোধকে স্মরণ করে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “স্বৈরাচার সরকারের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, দমন-পীড়ন ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দাবানলে পরিণত করে।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে দেয়া এ ভাষণে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, এক বছর আগে এই দিনে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। “গত বছরের জুনে আদালতের রায়ে কোটা পুনর্বহালের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ধীরে ধীরে বিস্ফোরিত হয়। আর স্বৈরশাসনের রূঢ় আচরণ—নির্বিচার গুলি, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়ন—এই ক্ষোভকে রূপ দেয় গণঅভ্যুত্থানে।”

তিনি বলেন, “এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা। সম্মুখ সারিতে ছিলেন আমাদের সাহসী নারীরা, যারা অকাতরে জীবন দিয়েছেন দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর এক বছরের মধ্যে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। “অর্থনীতিতে গতি এসেছে, সংকট কাটিয়ে উঠেছে দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল শুল্ক আলোচনার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়েছে।”

তিনি বলেন, “১৬ বছরব্যাপী লুটপাট ও দুর্নীতির ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যখন আমাদের সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন অনেকেই বিশ্বাস করেনি—এই অর্থনীতিকে আবার সচল করা সম্ভব। কিন্তু মাত্র এক বছরেই আমরা বহু দূর এগিয়েছি। এখন সময় দ্রুতগতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হস্তান্তরের পথে এগোচ্ছি। আমি আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হবে। তবে তার আগে আমাদের কিছু জরুরি কাজ শেষ করতে হবে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন।”

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে স্পষ্ট হয়, একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান রূপান্তর অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্বে।




নতুন রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা প্রকাশ, ‘জাতীয় বীর’ সম্মানে শহীদদের স্বীকৃতি

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা করে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে “জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই ২৮ দফার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিক রূপরেখা। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিজয় শুধু একটি সরকারের পতন নয়, এটি ছিল জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠা।”

শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা

ঘোষণাপত্রের ২৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করছে এবং তাদের পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।”

এছাড়া ২৭ নম্বর দফায় জানানো হয়েছে, এই অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

ঘোষণাপত্রে কী আছে?

২৮ দফার ঘোষণাপত্রে জাতির ইতিহাস, রাজনৈতিক চক্রান্ত, একদলীয় শাসনের সমালোচনা, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বর্ণনা, বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুণ্ঠনসহ গত ষোলো বছরের শাসনের নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়।

বিশেষভাবে বলা হয়েছে—

  • শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশে গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
  • তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) ছিল প্রহসনমূলক, যা জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
  • ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থান ছিল গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের ফল, যা সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সফল হয়।

ঘোষণাপত্রের ২০ নম্বর দফায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সাংবিধানিক বৈধতা এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে নতুন সংবিধান সংস্কারের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিশ্রুতি

শেষ দফাগুলোর একটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই, জলবায়ু ও পরিবেশ সহিষ্ণু উন্নয়ন কাঠামোর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, মূল্যবোধসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনের পর গঠিত সরকার এই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। জনগণের বিজয়কে সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই ঘোষণাপত্রকে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, জনগণের রক্ত এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি মিলে তৈরি হয়েছে এই নতুন দিকনির্দেশনা।




দুর্গাসাগরের খাঁচা থেকে হরিণ উধাও, তদন্তে প্রশাসন

বরিশালের ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচা থেকে একটি হরিণ উধাও হয়ে গেছে। খাঁচায় থাকা ১৩টি হরিণের মধ্যে একটির হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায় অবস্থিত দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচায়। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে কিছু হরিণ সংরক্ষিত অবস্থায় খাঁচায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হরিণ পরিচর্যাকারী আশিক খাঁচা পরিদর্শনের সময় দেখতে পান, একটি হরিণ খাঁচায় নেই।

এ বিষয়ে দুর্গাসাগর দীঘির তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “রোববার রাতে নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বে ছিলেন অলিউল হাওলাদার, জাহিদুর রহমান ও বশির শিকদার। তারা যথারীতি সকালে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। এরপর পরিচর্যাকারী আশিক খাঁচার ভেতরে ১২টি হরিণ দেখতে পান। খাঁচার তালা ঠিকঠাক অবস্থায় থাকলেও একটি হরিণ গায়েব ছিল।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয় এবং বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবদুল মতিন খানসহ কর্মকর্তারা।

তবে খাঁচার আশপাশে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কাজ না করায় ফুটেজ দেখে কোনো তথ্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির শিকদার বলেন, জিডি করার পর থেকেই আমরা হরিণ উদ্ধারে মাঠে কাজ করছি। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ জানান, “হরিণ উধাও হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, দুর্গাসাগর দীঘি বরিশালের একটি ঐতিহাসিক জলাধার। এটি ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী দুর্গামতির নামানুসারে খনন করেন। বর্তমানে এটি “দুর্গাসাগর দীঘির উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারণ্য” প্রকল্পের অধীনে বরিশাল জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

হরিণটির হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীসহ সচেতন মহলের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হরিণটি উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরফ্যাশনের ১২ শহীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া

গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত চরফ্যাশনের ১২ শহীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারতের আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ আয়োজন করা হয়।

গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের সময় ঢাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান চরফ্যাশনের ১২ তরুণ। এই শহীদদের মধ্যে ছিলেন—ফজলে রাব্বি, মো. হাসনাইন, মো. মমিন, মো. ফজলু, মো. হাবিব, মো. ওমর ফারুক, মো. সিয়াম, রাকিব মোল্লা, মো. সোহাগ, মো. হোসেন, মো. তারেক এবং মো. বাহাদুর হোসেন মনির।

সকাল ৯টার দিকে প্রথমে জাহানপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদ ফজলে রাব্বির কবর জিয়ারত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি ও সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান। তারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।

পরবর্তীতে চরফ্যাশনের অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত বাকি ১১ শহীদের কবরে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। শহীদদের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসী আবারও স্মরণ করলো সেই বেদনাবিধুর সময়ের সাহসী সন্তানদের, যারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন দিয়েছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে বিএনপি সমাবেশে হিটস্ট্রোকে শিক্ষকের মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির একটি রাজনৈতিক সমাবেশে হিটস্ট্রোকে মিরাজ ফকির (৪৮) নামে এক শিক্ষক ও বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সমাবেশস্থলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে গৌরনদী পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে এই ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন।

নিহত মিরাজ ফকির আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাকাল গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি, বাকাল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে মিরাজ ফকিরসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সমাবেশ শুরু হলেও প্রচণ্ড তাপদাহে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরাজ ফকির হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তৎক্ষণাৎ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহম্মেদ ইত্তেখার মনিম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিরাজ ফকিরের মৃত্যুতে স্থানীয় বিএনপি ও শিক্ষকমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ভিডিও বার্তা

জাতীয় পুনর্জাগরণ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় এই বার্তা দেন তিনি। বার্তায় তিনি বলেন, “আজ আমরা অতীত স্মরণ করতে আসিনি, এসেছি শপথ নিতে—নিপীড়নের কাছে মাথা নত করব না। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণ রেখা।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট একটি প্রতিজ্ঞার দিন। এটি গণজাগরণ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জাতির নবজাগরণের উপাখ্যান। “আজকের দিনে আমরা স্মরণ করি ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। “তরুণ প্রজন্ম, যাদের মেধা ও পরিশ্রম সত্ত্বেও তারা পেত না চাকরি। দুর্নীতিগ্রস্ত কোটা পদ্ধতি, ঘুষ, তদবির, মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য—এই ছিল তাদের বাস্তবতা।”

সরকারি চাকরি, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুবিধাভোগী শ্রেণির দৌরাত্ম্য তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা শাসকের পক্ষে কাজ করেছে, তারাই পেয়েছে সুযোগ। বাকিরা বঞ্চিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দাবি আদায়ের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার গুলি চালিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে চক্ষু ও অঙ্গ হারানোর পথে ঠেলে দিয়েছে।”

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “গত ১৬ বছরে সরকারের সমালোচকদের গুম-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাখো বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ২৪ জুলাই জাতি এক হয়েছে।”

জুলাই শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আপনাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।”

তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ৮৩৬ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫ পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান।

এছাড়া আহত ১৩,৮০০ জনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জন গুরুতর আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও রাশিয়ায়। চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা একটি সত্যিকারের কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব—যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, থাকবে না শোষণ ও দুর্নীতি।”




জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একবছর পূর্তি: পটুয়াখালীতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

পটুয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একবছর পূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এবং পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ পটুয়াখালী পৌর শহরের মহাশ্মশানে অবস্থিত শহীদ হৃদয় তরুয়ার মঠে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে শহীদ বাচ্চু হাওলাদারের বসাক বাজার এলাকার কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ শেষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এই সময় জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও জেলার অন্যান্য শহীদদের কবরেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ উপজেলার শহীদদের কবরস্থানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

একই দিনে সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে ২৩ জন শহীদ পরিবারের সদস্য অংশ নেন। আলোচনা সভায় তাদের স্মৃতিচারণ ও ত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর। এই দিনটি স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”


মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ