সংস্কার কমিশনের অগ্রগতি: ১২১ সুপারিশের মধ্যে ১৬ বাস্তবায়িত, ৮৫ বাস্তবায়নাধীন

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি জানাতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ১২১টি সুপারিশের মধ্যে ১৬টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৮৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিলেন। এসব কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের মধ্যে আইন উপদেষ্টা ১২১টি সুপারিশকে ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। আজকের বৈঠকে এসব সুপারিশের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়।”

এগুলোর মধ্যে ১৬টি সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, ৮৫টি বাস্তবায়নাধীন এবং ১০টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। আর বাকি ১০টি সুপারিশ এখনো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে, বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা নিরূপণ করা হচ্ছে।

তবে এসব সুপারিশের বিস্তারিত তালিকা বা নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেস সচিব বিস্তারিত কিছু জানাননি।




ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নারী দলের রেকর্ড উন্নতি

ফিফা নারী ফুটবলে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো র‌্যাঙ্কিংয়ে এত বড় সাফল্য পেল দেশের নারী দল। সর্বশেষ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৪ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ১০৪ নম্বরে, যা দেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থান। ফিফার পক্ষ থেকেও এবারের র‌্যাঙ্কিং প্রকাশে বিশেষভাবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ পয়েন্টের বিচারেও সর্বোচ্চ উন্নতি ঘটেছে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের এই অভাবনীয় উন্নতির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে দুই জয় ও দুই ড্র নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়, যা দেশের ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। ফলে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাও এখন বাস্তব।

চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিতের পথে বাংলাদেশ ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে। একই গ্রুপে ছিল বাহরাইন, যারা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক উপরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের সঙ্গে হেরেছে পয়েন্ট। এর আগে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা জর্ডান ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে লড়াকু পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের। এই ধারাবাহিকতা র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তন আনার জন্য যথেষ্ট ছিল।

বিশ্ব নারী ফুটবলে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশেও এসেছে পরিবর্তন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়া স্পেন এক ধাপ এগিয়ে বর্তমানে এক নম্বরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে, সুইডেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের মতো দলগুলোও একাধিক ধাপ এগিয়েছে, যেখানে জার্মানি, জাপান ও ব্রাজিল কিছুটা পিছিয়েছে।

বাংলাদেশ নারী দলের এই উত্থান শুধু দেশের ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এক নতুন পরিচয় তৈরি করল। আগামী বিশ্বকাপ বাছাই ও এশিয়ান কাপে যদি এই ছন্দ বজায় রাখা যায়, তাহলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ আর কেবল স্বপ্ন থাকবে না, হবে বাস্তবতা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাহসিকতার স্বীকৃতি : মেহরিন চৌধুরীর নামে শিক্ষকদের জন্য পুরস্কার চালু

সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শিক্ষিকা মেহরিন চৌধুরীর স্মরণে চালু হচ্ছে একটি বিশেষ পুরস্কার। শিক্ষকদের জন্য প্রবর্তিত এই অ্যাওয়ার্ডটি চালু করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, “সাহসী শিক্ষিকা মেহরিন চৌধুরীর নামে একটি অ্যাওয়ার্ড চালু করা হবে, যা প্রতিবছর দেশের শিক্ষকদের মধ্যে অসামান্য সাহসিকতা বা আত্মত্যাগের জন্য প্রদান করা হবে।”

প্রসঙ্গত, গত মাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় শিক্ষিকা মেহরিন চৌধুরী নিজের জীবন উৎসর্গ করে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা করেন। তার এই বীরত্ব দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটাই সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। বৈঠকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ নম্বর গেট ছাড়া সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।




চামড়া ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

চামড়া সংরক্ষণে নীতিমালা, অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে এবার কোরবানির ঈদে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও, ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, যারা এ বছর চামড়া সংরক্ষণ করেছেন, তারা তুলনামূলক ভালো দাম পেয়েছেন—ফলে আগামী বছর সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।

বুধবার (৬ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানির ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির তৃতীয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের কোরবানিতে প্রায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু জবাই হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ লাখ ৪৫ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে। শুধু মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোর মাধ্যমেই ১৭ লাখ ৬১ হাজার চামড়া সংরক্ষিত হয়। বিভাগভিত্তিক সবচেয়ে বেশি সংরক্ষিত হয়েছে চট্টগ্রামে—১৫ লাখ ৪৮ হাজার চামড়া। এরপর ঢাকায় ১৪ লাখ ৯ হাজার এবং রাজশাহীতে ১৩ লাখ ৯০ হাজার চামড়া সংরক্ষিত হয়েছে।

তবে এবারের কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু চ্যালেঞ্জ সামনে আসে। এর মধ্যে রয়েছে—অননুমোদিত হাট, পশুর হাসিল আদায়ের অনিয়ম, কোরবানিদাতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়া, নির্দিষ্ট কোরবানির স্থান বা অবকাঠামোর অভাব, ট্যানারির কমপ্লায়েন্স ঘাটতি এবং চামড়া সংরক্ষণের নির্দিষ্ট নীতিমালার অনুপস্থিতি।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কমিটি আগামী বছর থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • কোরবানির হাট পরিচালনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন,
  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসওপি তৈরি ও বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা,
  • চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি,
  • গবাদি পশুর রোগ প্রতিরোধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় ভূমিকা নিতে অনুরোধ,
  • কসাই ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের ডাটাবেজ ও প্রশিক্ষণ,
  • ট্যানারির সিইটিপি/ইটিপি’র সক্ষমতা বৃদ্ধি,
  • ঢাকার নিকটবর্তী অঞ্চলে চামড়া সংরক্ষণের জন্য জায়গা বরাদ্দ ও অবকাঠামো নির্মাণ।

কমিটির পক্ষ থেকে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চামড়া খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও অকার্যকরতা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।




অর্থনীতিতে ফিরে এসেছে স্থিতিশীল গতি : অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরের দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষায়, এক সময় ধ্বংসপ্রায় হয়ে পড়া অর্থনীতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধির জন্য শুধু বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং গভীর অন্তর্দৃষ্টি দরকার। কারণ, গত কয়েক মাসেই নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির দুটি পৃথক সভায় সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে দেশের অর্থনীতি ছিল এক ভয়াবহ সংকটে। সেই জায়গা থেকে আজকের অবস্থান অনেক বেশি শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামনে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতিকে আরও নিয়ন্ত্রণে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সেই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনাটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ বিগত সময়গুলোতে এই খাতটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও নন-ফুড মূল্যস্ফীতি এখনও বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এটি কোনো গাড়ির ব্রেক নয় যে এক মুহূর্তে থামিয়ে ফেলা যাবে—এর জন্য সময় ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক বিষয়ক আলোচনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ৩৫ শতাংশ শুল্ক হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে খারাপ নয় এবং নিটওয়্যার শিল্প এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। তবে ওভেন গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, কারণ তাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সাপোর্ট এখনও দুর্বল।

তিনি আরও জানান, এই চুক্তি এখনো স্বাক্ষর হয়নি এবং কোন খাতে শুল্ক হ্রাস করা হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি কিছু আর্থিক সংস্কার হাতে নিয়েছে এবং মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য প্রয়োজন হবে আরও কিছু সময়। ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে, যার বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও সংস্কার চলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব অচিরেই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এনবিআরকে দুটি বিভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—একটি রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ডিসেম্বরের মধ্যে এর বাস্তব রূপায়ণে অগ্রগতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অবশেষে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন জানান, সরকার এমন প্রকল্প গ্রহণ করছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য এবং দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



লাওসকে হারিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইয়ে দুর্দান্ত সূচনা বাংলাদেশের

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শুরুটা হয়েছে স্বপ্নময়। শক্তিশালী পারফরম্যান্সে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়ানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নেয় পিটার জেমস বাটলারের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের মেয়েরা নিয়ন্ত্রণে নেয় খেলার লাগাম। প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণ শানালেও শুরুতে গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচের ১৪ মিনিটে তৃষ্ণা রানী সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। তবে হতাশা কাটে ৩৬তম মিনিটে। কর্নার কিক থেকে দুর্দান্ত এক হেডে দলকে লিড এনে দেন সাগরিকা। লাওসের গোলরক্ষক কিছুই করার ছিল না সেই হেড ঠেকাতে। প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় আর গোল না হলেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে নামে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে বাংলাদেশের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুনকি আক্তার। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ২-০ করেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের এই পর্যায়ে এসে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখে বাংলাদেশ।

তবে গোল ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেলেও ভাগ্য সহায় ছিল না। শিখার একটি দুরপাল্লার শট এবং সাগরিকার হেড ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। ঠিক এমন সময়ে, ৮৫তম মিনিটে ম্যাচে ফিরতে চায় লাওস। আন্না কেও ওনসির এক গোলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা। গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী মন্ডল বল ধরতে এগিয়ে এসে বিপদে পড়েন এবং বলটি জালে প্রবেশ করে।

লাওস যখন সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করছে, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে সাগরিকা। সতীর্থের ছোট পাসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত ফিনিশিং করেন তিনি। ম্যাচ শেষ হয় ৩-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের জয় দিয়ে।

এই জয়ের মাধ্যমে ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিমুর লেস্তে, যারা প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

দলের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। সামনের ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভোট উৎসবের পথে প্রথম পদক্ষেপ: নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এ লক্ষ্যে আজ (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ও কার্যক্রম দ্রুত শুরুর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই চিঠি পাঠানো হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিগত পনেরো বছরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বাস্তবতায় ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন আনন্দঘন, স্মরণীয় ও উদ্‌যাপনযোগ্য একটি গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হয়—এমনটাই প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার। নির্বাচন যেন হয় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যে পরিপূর্ণ—এমন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

নির্বাচনে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে চিঠিতে।

সবশেষে, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার আলোকে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়।




প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকাতে লটারি পদ্ধতিতে বদলি হবে এসপি-ওসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলি এবার লটারির মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। নির্বাচনপূর্ব সময়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচন প্রস্তুতির সূচনা ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের বৈঠকে নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা অনেক সময় নিজ এলাকার পছন্দের এসপি, ডিসি কিংবা ওসিকে চান। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গণমাধ্যমের সামনে লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

তিনি জানান, এই লটারি প্রক্রিয়া শুধু এসপি ও ওসিদের জন্য প্রযোজ্য হবে। ওসিদের ক্ষেত্রে বিভাগভিত্তিক লটারি করা হবে। তবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বদলির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “তফসিল ঘোষণার কিছুদিন আগেই এই লটারি সম্পন্ন করা হবে, যাতে নির্বাচনের ঘোষণার পর এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করা যায়। পরবর্তীতে কমিশন চাইলে তাদের নিজস্ব বিবেচনায় বদলির সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনপূর্ব প্রশাসনিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতের অভিযোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




অন্তর্বর্তী সরকার নয়, দেশ চালাবেন রাজনীতিবিদরাই: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ চালানো হবে রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে, অন্তর্বর্তী সরকার দিয়ে নয়। তিনি বলেন, এজন্যই একে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ বলা হয়।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : অভিযোগ ও স্ব-নিয়ন্ত্রণ অন্বেষণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কেন সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো সিভিল সোসাইটি যুক্ত করে কোন রিভিউ তৈরি করেনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মাঝে বিভাজন গভীর এবং তারা রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতার নামে কিছু ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “এক বছর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এক বৈঠক করেছিলেন, সেখানে উপস্থিতরা কী বলেছিলেন, তা সবাই জানে। সেটাই সাংবাদিকতা?”

সাংবাদিকদের মধ্যে দলীয় বিভাজন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডিইউজে) সহ বিভিন্ন সংগঠন দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে কোথায় পৌঁছেছে তা সবাই দেখে।’ তিনি বলেন, এই অবস্থায় সাংবাদিকতার উন্নয়নের জন্য অন্যদের কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

ড. রীয়াজ বলেন, ‘দেশের রাজনীতির জন্য একটি বিকল্প সম্পাদক পরিষদ গঠিত হয়েছে যা রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থে কাজ করছে।’


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনের আগে লটারিতে এসপিদের বদলি, প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা।

বুধবার (৬ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি-সংক্রান্ত এক সভা শেষে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচন প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তার আলোকে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে লজিস্টিকসহ নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সব প্রার্থীই চায় নিজের পরিচিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনী এলাকায় রাখতে। এমন অভিযোগ এড়াতে এসপিদের লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে। নির্বাচন কমিশনের তারিখ ঘোষণার আগেই এই বদলি সম্পন্ন হবে। একইভাবে থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলিও ডিভিশনভিত্তিক করা হবে। তবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বদলির সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪৭ হাজার ভোট কেন্দ্রে প্রতিটিতে একটি করে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

এছাড়া প্রিজাইডিং অফিসারদের কেন্দ্রে নিরাপদে দায়িত্ব পালনে আনসার-পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে সব বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ট্রেনিং শেষে মহড়াও পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রিজাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫