বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরের দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষায়, এক সময় ধ্বংসপ্রায় হয়ে পড়া অর্থনীতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধির জন্য শুধু বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং গভীর অন্তর্দৃষ্টি দরকার। কারণ, গত কয়েক মাসেই নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির দুটি পৃথক সভায় সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে দেশের অর্থনীতি ছিল এক ভয়াবহ সংকটে। সেই জায়গা থেকে আজকের অবস্থান অনেক বেশি শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামনে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতিকে আরও নিয়ন্ত্রণে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সেই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনাটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ বিগত সময়গুলোতে এই খাতটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও নন-ফুড মূল্যস্ফীতি এখনও বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এটি কোনো গাড়ির ব্রেক নয় যে এক মুহূর্তে থামিয়ে ফেলা যাবে—এর জন্য সময় ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক বিষয়ক আলোচনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ৩৫ শতাংশ শুল্ক হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে খারাপ নয় এবং নিটওয়্যার শিল্প এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। তবে ওভেন গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, কারণ তাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সাপোর্ট এখনও দুর্বল।
তিনি আরও জানান, এই চুক্তি এখনো স্বাক্ষর হয়নি এবং কোন খাতে শুল্ক হ্রাস করা হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি কিছু আর্থিক সংস্কার হাতে নিয়েছে এবং মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য প্রয়োজন হবে আরও কিছু সময়। ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে, যার বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও সংস্কার চলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব অচিরেই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এনবিআরকে দুটি বিভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—একটি রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ডিসেম্বরের মধ্যে এর বাস্তব রূপায়ণে অগ্রগতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অবশেষে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন জানান, সরকার এমন প্রকল্প গ্রহণ করছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য এবং দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম