টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি শুরু

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মশুর ডাল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামী রোববার (১০ আগস্ট) থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) টিসিবির উপপরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিন (শুক্রবার বাদে) ঢাকা মহানগরীতে ৬০টি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৫০০ জন ভোক্তা ভর্তুকি মূল্যে এসব নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৫টি, গাজীপুর মহানগরীতে ৬টি, কুমিল্লা মহানগরীতে ৩টি, ঢাকা জেলায় ৮টি, কুমিল্লা জেলায় ১২টি, ফরিদপুর জেলায় ৪টি, পটুয়াখালী জেলায় ৫টি এবং বাগেরহাট জেলায় ৫টি ট্রাক চলাচল করবে। এসব জেলায় ১০ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৯ দিন (শুক্রবার বাদে) বিক্রি চলবে।

টিসিবি নির্ধারিত দামে প্রতিটি পণ্যের মূল্য হবে—ভোজ্যতেল ২ লিটার ২৩০ টাকা, চিনি ১ কেজি ৮০ টাকা এবং মশুর ডাল ২ কেজি ১৪০ টাকা। যেকোনো ভোক্তা ট্রাকের কাছ থেকে সরাসরি এসব পণ্য ক্রয় করতে পারবেন, এজন্য আলাদা কোনো কার্ডের প্রয়োজন হবে না।

টিসিবি জানায়, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ও উৎসবের আগে পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি বড় সহায়তা হবে।

ভোক্তারা জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ তাদের দৈনন্দিন খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগের কার্যক্রমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও তারা কম দামে মানসম্মত পণ্য পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

টিসিবির এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রমে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম কাজ করবে এবং অনিয়ম রোধে প্রতিদিনই মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং চালানো হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পাক হাইকমিশনে পরিবর্তন: ঢাকায় এলেন নতুন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় এসেছেন ইমরান হায়দার। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইমরান হায়দারকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, হাইকমিশনের ডেপুটি হেডসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

এর আগে, গত ১১ মে পূর্বসূরি সৈয়দ মারুফ হঠাৎ করে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেদিন পাকিস্তান হাইকমিশন কেবল মারুফের ঢাকা ছাড়ার তথ্য জানালেও, তিনি কেন যাচ্ছেন, কতদিনের জন্য যাচ্ছেন—তা স্পষ্ট করেনি। পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তিনি দুই সপ্তাহের ছুটিতে গেছেন। তবে দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ঢাকায় ফেরেননি।

এই প্রেক্ষাপটেই ইসলামাবাদ মিয়ানমারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দারকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কূটনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ইমরান হায়দার ২০২৩ সালের মার্চ থেকে মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি তাজিকিস্তানে রাষ্ট্রদূত (২০১৯–২০২৩), ইরানের তেহরানে ডেপুটি হেড অব মিশন (২০১৬–২০১৯), এবং আরও আগে স্পেন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউইয়র্কে বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

ইমরান হায়দার ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।




‘জুলাই সনদের’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে আবারও আলোচনায় বসবে ঐকমত্য কমিশন

‘জুলাই সনদ’-এর বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও সংলাপে বসতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “ঐকমত্যের ভিত্তিতে রচিত ও স্বাক্ষরিত সনদের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনা জরুরি। সেই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

আলী রীয়াজ আরও জানান, ইতোমধ্যে দুই দফা সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-সুপারিশ পাওয়া গেছে।

প্রথম পর্বে ১৬৫টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, যার কিছু বাস্তবায়ন করেছে সরকার। দ্বিতীয় পর্বে ২০টি সাংবিধানিক বিষয়ের মধ্যে ১১টিতে সর্বদলীয় ঐকমত্য ও বাকি ৯টিতে অধিকাংশ দলের সমর্থন রয়েছে, যদিও কিছু দলের ভিন্নমত সংযুক্ত থাকবে।

তিনি জানান, প্রথম দফার আলোচনায় দলগুলোর অনীহার কারণে ২৫টি প্রস্তাব আলোচনার বাইরে ছিল। তবে এবার সব বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ মতবিনিময়ের আশা করছেন তারা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, খুব শিগগিরই সনদ বাস্তবায়নের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নির্ধারণ সম্ভব হবে।




তার্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তুরস্কের জাতীয় বিমান সংস্থা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা সরকারি বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে তার্কিশ এয়ারলাইন্স ব্যবহার করলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন।

এই চুক্তি সেনাসদস্যদের যাতায়াত ব্যয় হ্রাসে সহায়ক হবে এবং সরকারি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ‘স্টার এলায়েন্স’-এর বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজলভ্য করে তুলবে।

সেনাবাহিনী মনে করছে, এ ধরনের সহযোগিতা বিদেশে দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভ্রমণকেও আরও সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।




সাংবাদিক নির্যাতন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় উদ্বিগ্ন নোয়াব

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই উদ্বেগ জানায়। নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলি তুলে ধরে বলা হয়েছে—দেশের গণমাধ্যম এখন চরম চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে দেশে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে আশা দেশবাসী পোষণ করেছিল, তার ভিত্তি ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন—বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

নোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত এক বছরে (অগাস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫) মোট ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ সংক্রান্ত হত্যামামলায় আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় নিহত হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক। চাকরিচ্যুত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মী। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের সম্পাদক ও বার্তাপ্রধানসহ অনেকেই পদ হারিয়েছেন। আটটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে—যা গণমাধ্যমের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।

নোয়াব আরও বলেছে, সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকা—দৈনিক জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরি করে অফিস দখল ও মালিকপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কর্মীদের সঙ্গে কোনো বকেয়া বা দেনা-পাওনা থাকলে সেটি শ্রম আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা ছিল। আবার সংবাদ কিংবা কনটেন্ট সংক্রান্ত বিরোধ হলে, তা মীমাংসার নির্ধারিত জায়গা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। কিন্তু এসব প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি এড়িয়ে পত্রিকা কার্যালয়ে গিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে মতপ্রকাশ ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা অপরিহার্য। একটি সভ্য সমাজে সংবাদমাধ্যম শুধু তথ্য প্রদানকারী নয়, বরং সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা, চাকরিচ্যুতি, মিথ্যা মামলা, কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদপত্র কিংবা অন্য কোনো গণমাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে চাপে ফেলার সংস্কৃতি এখনই বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের কার্যকলাপ গণমাধ্যমের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে তা কেবল সাংবাদিকদের নয়, পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থারই কল্যাণ বয়ে আনবে।

নোয়াব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সংবাদপত্রের স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের সজাগ থাকা সময়ের দাবি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক বছর পূর্ণ করল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আজ (৭ আগস্ট) তাদের এক বছর পূর্ণ করল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। ৩৬ দিনের রক্তাক্ত আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়।

প্রথম দিন থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শাসনব্যবস্থা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণমাধ্যম স্বাধীনতা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে বহুমুখী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। ‘জুলাই শহীদদের’ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার ৫ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করে এবং জাতির সামনে উপস্থাপন করে বহু প্রতীক্ষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’।

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় অঙ্গীকার ছিল দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। এই লক্ষ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এর আগেই, ৬ আগস্ট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ প্রক্রিয়াগতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য সরকার গঠন করেছে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’-এর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি হতে যাচ্ছে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি মৌলিক দলিল।

একইসাথে, সরকার গঠন করেছে একাধিক সংস্কার কমিশন: নির্বাচন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, শ্রমিক অধিকার ও নারী বিষয়ক। এসব কমিশনের সুপারিশ সরকার ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। নির্বাচনী সংস্কার থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দৃশ্যমান।

অর্থনৈতিক খাতে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপও ফল দিতে শুরু করেছে। জুন মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ৩৫ মাসে সর্বনিম্ন। জাতির উদ্দেশে ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্যা-পরবর্তী কৃষি ক্ষতি ও নিত্যপণ্যের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের কৌশলগত হস্তক্ষেপ সফল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা অর্জন করাও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সাফল্য। গত অর্থবছরে বৈধ পথে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০৩৩ কোটি ডলার, যা রপ্তানি আয়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এনেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, টাকার মান শক্তিশালী হয়েছে, এবং দীর্ঘদিন পর ডলারের বিপরীতে টাকার দাম বাড়তে শুরু করেছে।

একইসাথে, ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও মূলধন বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হলেও রিজার্ভে তার প্রভাব পড়েনি। বরং বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি এখন আরও ইতিবাচক।

সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে জাতির উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূসের ভাষণ ছিল আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনায় পরিপূর্ণ। সবমিলিয়ে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্ণ হওয়া দেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় গাজীপুরে সাংবাদিক খুন

গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) নামের এক সংবাদকর্মীকে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের সামনে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

নিহত তুহিন গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। তিনি রাজধানী থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় আগে তুহিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত চৌরাস্তা এলাকায় পথচারীদের বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পারাপারের দৃশ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য। গাজীপুর চৌরাস্তা।”

ভিডিওটি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরই তিনি চা খেতে যান মসজিদ মার্কেটের পাশে একটি দোকানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে এসে তাকে ঘিরে ফেলে। সবার সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল, গণমাধ্যমকর্মী, সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, একজন পেশাদার সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করায় গণমাধ্যমের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা হবে ডিসেম্বরের শুরুতে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, রমজান শুরুর আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ড্রোনের অপব্যবহার রোধে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। আচরণবিধিতে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা শুধু প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল নয়, অন্যান্য সম্ভাব্য পক্ষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এজন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভুল তথ্য ও বিদ্বেষ ছড়াতে এআই ব্যবহার করা হলে কমিশন তা কঠোরভাবে দমন করবে।”

নির্বাচনে প্রার্থীদের ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করতে পারে বলেও জানান তিনি।

ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবহারের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়ে কমিশনার বলেন, “সারাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। ইতোমধ্যে একটি কমিটি বিকল্প উপায় খুঁজে দেখছে, যার মধ্যে বিদ্যমান ক্যামেরা ব্যবহার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”

এছাড়া নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এভাবে ১৮ থেকে ২০ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি আরপিও সংশোধনের ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।




জাতিসংঘ প্রতিনিধির সঙ্গে আইজিপির বৈঠক, নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হবে

বাংলাদেশে অবস্থানরত জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের বাংলাদেশ বিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিজ. টেস বি. ব্রেসনান

সাক্ষাৎকালে মিজ. ব্রেসনান বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা জোরদারকরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন,

“জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিদেশি সংস্থায় কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা চলবে।”

সাক্ষাৎকালে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য: নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন

অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা।”

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা গতকাল নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগেই নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে আমাদের সব পরিকল্পনা এই নির্বাচনকে ঘিরে। আমরা চাই যেন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে পারে।”

তিনি আরও জানান, সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে: ১) সুষ্ঠু নির্বাচন, ২) কাঠামোগত সংস্কার এবং ৩) বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল।

নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সরকার যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার আলোকে কমিশন তারিখ জানাবে।”

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পুলিশের এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পথে বলেও জানান তিনি। ডিসিদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আনসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। আগে ৮ লাখের মতো নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের কথা থাকলেও এখন ৫০-৬০ হাজার বাড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা হচ্ছে।”

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল অংশ নিতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, “এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের নেতাদের ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ও নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণা প্রায় সব দলই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আগেও আলোচনা হয়েছে, সামনে আরও হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি—এটা একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।”

শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই নির্বাচন হবে ফ্রি, ফেয়ার এবং উৎসবমুখর। কেউ অভিযোগ করার সুযোগ পাবে না।”