মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন ড. ইউনূস, বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন চুক্তির সম্ভাবনা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার (১১ আগস্ট) তিন দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। কুয়ালালামপুর আশা করছে, এ সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

রবিবার (১০ আগস্ট) মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের সফরে আসা মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের প্রতিতেই এই সফরের আয়োজন।

সফরে ড. ইউনূসের সঙ্গে থাকবেন কয়েকজন উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। আগামীকাল ১২ আগস্ট পুত্রজায়ায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে, এরপর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসবেন তিনি। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় হবে।

সফরে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, কৌশলগত গবেষণা, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারের ক্ষেত্রেও নতুন চুক্তি হতে পারে।

১৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়ার (ইউকেএম) আচার্য ও নেগেরি সেমবিলান রাজা তুয়াংকু মুহরিযের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ড. ইউনূস। একই দিনে ইউকেএম তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেবেন।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দাঁড়ায় ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত (প্রায় ২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা আগের বছরের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, যেখানে প্রধান রপ্তানি পণ্য পেট্রোলিয়াম, পাম ওয়েল ও রাসায়নিক; আর বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা হয় টেক্সটাইল, পাদুকা ও পেট্রোলিয়াম পণ্য।




বায়তুল মোকাররম মসজিদে সংস্কার: সৌন্দর্য বর্ধনে বরাদ্দ ১৯০ কোটি টাকা

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে সরকার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ মিলনায়তনে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে ভেতরের সাজসজ্জা নবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে মসজিদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

পরে রাজধানীর বারিধারায় আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অসহায় ও এতিম শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ধর্ম উপদেষ্টা। এ সময় তিনি বলেন, সব ধর্মেই দান, সহানুভূতি ও মানবসেবাকে পবিত্র কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবসেবা সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং সমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে।

অনুষ্ঠানে সারাদেশের ৮১টি মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিদের হাতে মোট তিন কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইমদাদুল মুসলিমিনের অর্থায়নে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বিন জমির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (প্রকল্প-১) মো. আনোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




মহিপুরে অবৈধ ট্রলবোট বন্ধে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালীর মহিপুরে অবৈধ ট্রলবোটের সরঞ্জাম অপসারণ ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে মহিপুর বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আলফাজ উদ্দীন শেখ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. আবু নাইম মুহাম্মদ আবদুর ছবুর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন ইমাম হাসান আজাদ, পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জুয়েল রানা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসীন সাদেক ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা।

বক্তারা বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য অবৈধ ট্রলবোট চলাচল বন্ধ করতে হবে। তা না হলে ক্রমশ কমে যাবে মাছের সংখ্যা, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, এবং বেকার হয়ে পড়বে হাজার হাজার জেলে পরিবার। পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ সময় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জেলে, মৎস্যজীবী এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জেলেদের স্বেচ্ছায় অবৈধ সরঞ্জাম অপসারণের আহ্বান জানান এবং টেকসই মৎস্য আহরণের মাধ্যমে সমুদ্র সম্পদ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় সর্জান পদ্ধতির চাষ: বাণিজ্যিক কৃষির নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত। এখানকার কৃষির চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এক সময় জলাবদ্ধ ও যোগাযোগ সমস্যা আর্থিক উন্নয়নে বাধা ছিল। এখন সর্জান পদ্ধতিতে নিচু জমি পুনরুজ্জীবিত হয়ে গাছ আলুসহ বিভিন্ন ফসল এবং মাছ চাষে সমৃদ্ধ হচ্ছে।

ভোলা জেলা মূলত সমতল ভূমি যেখানে নদী ও সমুদ্রের জোয়ার-ভাটায় প্রায় অর্ধবছর নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে অধিকাংশ জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল ফলানো যেত। সেক্ষেত্রে ফসল সংগ্রহের পর ক্ষতিও প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতো, কারণ দ্রুত বাজারজাতকরণে সীমাবদ্ধতা ছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভোলা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. শামীম আহমেদ জানান, সর্জান পদ্ধতিতে জমির অংশ উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় যেখানে সবজি ও ফলের চাষ হয় এবং নীচু নালায় মাছ চাষ করা হয়। এতে একই জমি থেকে দ্বিগুণ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

চরফ্যাসনের আসলামপুরের কৃষক মো. হেলাল সর্জান পদ্ধতিতে গত বছর ৩২ শতাংশ জমিতে গাছ আলু, মরিচ, শিম, বেগুন ও পেঁপে চাষ করেছেন। নালায় তেলাপিয়া ও সরপুঁটি মাছ চাষের মাধ্যমে তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন। গাছ আলু বিক্রি থেকে লাভ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।

ড. শামীম আরও জানান, গাছ আলু একটি লতানো উদ্ভিদ, যা মাটির নিচে বড় আলু ও কাণ্ডের গায়ে ছোট আলু উৎপন্ন করে। বাজারে এর চাহিদা ভালো। ভোলায় সর্জান পদ্ধতিতে গাছ আলুর ব্যাপক চাষ হচ্ছে, যা জেলার শস্যবিন্যাসকে ২৫৮ শতাংশে উন্নীত করেছে। তিন ফসলি জমি ৭০৪ হেক্টর থেকে বেড়ে ১,০৫৪ হেক্টরে পৌঁছেছে। চর অঞ্চলে শস্য নিবিড়তা বেড়ে ১৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ভোলার সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল উন্নয়ন প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রম। তবে উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থার উন্নতি হলে ভোলা দ্রুত রপ্তানিমুখী কৃষি জেলা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোলার সর্জান পদ্ধতি বাংলাদেশের চরাঞ্চলের কৃষিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত। একই জমিতে মাছ ও ফসল চাষে কৃষকের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত বাজার লিংকেজ ও পরিবহন ব্যবস্থা থাকলে ভোলা হতে পারে দেশের প্রথম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রপ্তানিমুখী জেলা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




এমপি নয়, সেবক হিসেবে গণমানুষের পাশে আবু নাসের রহমতুল্লাহ

তারিকুল ইসলাম তুহিন,বরিশাল ::  বরিশালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ বরিশাল-৫ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে চান। তবে তিনি নিজেকে এমপি নয়, সেবক হিসেবে গণমানুষের জন্য কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বরিশালে গত দেড় দশক ধরে কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন আবু নাসের। গত ৫ আগস্টের পর আবার সক্রিয় হয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। দলের প্রতি আনুগত্য ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে বরিশাল-৫ এর সাধারণ মানুষ তাকে ‘প্রিয় নেতা’ হিসেবে গণ্য করছে।

আবু নাসের রহমতুল্লাহ জানান, নদীভাঙন সমস্যায় পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করছেন। যদিও ভাঙন রোধে সরাসরি সমাধান দিতে না পারলেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন, এবং যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে থাকছেন।

তিনি বলেন, “রাজনীতির মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে এবং এলাকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানা যায়। তাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন।” এমপির প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে এলাকাবাসী তাকে উৎসাহিত করছে, তবে নির্বাচনের আগেই মানুষের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান অবকাঠামোতে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া না পাওয়া নিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন। “কাদা সড়ক, নৌকা চলাচল আর বাঁশের সাঁকো—এসবের মধ্য দিয়েই ইউনিয়নবাসী চলাফেরা করছে। অথচ আওয়ামী লীগের সরকার উন্নয়ন নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে উন্নয়ন হয়েছে না,” বলেন আবু নাসের।

রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আবু নাসের রহমতুল্লাহ ১৯৯২ সালে জাতীয় যুব কমান্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর পর বিভিন্ন সময় দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা ও কারাবরণসহ রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

বর্তমানে বরিশাল-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণের জন্য সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন আবু নাসের। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতি ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোলায় বাক প্রতিবন্ধী দিনমজুর কবির হোসেনকে হত্যা, পরিবারের ওপর চিরকুট পাঠিয়ে হুমকির অভিযোগ

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সম্ভুপুর ইউনিয়নের লামছি গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী দিনমজুর কবির হোসেন (৩৫) হত্যার পর তার পরিবারকে চিঠি পাঠিয়ে হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিকানা নিয়ে তার চাচা ও চাচাতো ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

২৯ জুলাই বিকেলে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর, ১ আগস্ট বাড়ির পাশের পুকুর থেকে কবিরের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকার কারণে স্থানীয়রা এ ঘটাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, জমির বিরোধের জের ধরে কবিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সুমা বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এরপরও আমরা চিরকুট দিয়ে হুমকি পাচ্ছি।”

স্থানীয়দের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে প্রভাবশালী মহলের লোকজন রয়েছেন। এতে পুলিশ তদন্তে ধীরগতি দেখা দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তারা সতর্ক করেন, যথাসময়ে ব্যবস্থা না নিলে প্রমাণ নষ্ট হতে পারে।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোহাব্বত খান জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় জনগণ, মানবাধিকারকর্মী ও নিহতের পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে অনড় রয়েছেন। ন্যায়বিচার না হলে এই ঘটনা এলাকায় আরও বড় আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারা বাগানে পর্যটকদের ভিড়

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর ও কুড়িয়ানা এলাকার ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগানে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের একমাত্র ভাসমান পেয়ারা বাজার কেন্দ্রিক এ অঞ্চলটি কৃষিপণ্যের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসে পেয়ারা ও আমড়ার মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীপথে নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে পর্যটকরা বাগানে ঘুরে, সরাসরি টাটকা ফল সংগ্রহ করেন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করেন।

স্থানীয় কৃষক পরিতোষ মণ্ডল জানান, পেয়ারা বিক্রি হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের আগমনে আয় দ্বিগুণ হয়েছে। নৌকা ভাড়া, হোটেল ও গাইড সার্ভিস থেকে অর্থ উপার্জন করছেন অনেকেই। বাগান এলাকায় ছোট ছোট হোটেল, খাবারের দোকান ও হস্তশিল্প বিক্রির স্টল গড়ে উঠেছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আনোয়ার হোসেন বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখে এখানে আসার আগ্রহ জন্মেছিলো, আসার পর সত্যিই মুগ্ধ হয়েছেন। চারদিকে সবুজ বাগান আর পাখির কিচিরমিচির শব্দ মন ভালো করে দেয়। তিনি বলেন, এমন অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা উচিত।

বরিশাল থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী মো. হাবিবুল্লাহ মিঠু জানান, বন্ধুদের সঙ্গে এসে কৃষকদের কাছ থেকে পেয়ারা কেনা ও নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দারুণ হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নৌকা চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে এই ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান ও ভাসমান বাজারকে উন্নয়ন করে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি নেছারাবাদ এবং দেশের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে পরিগণিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উত্তরবঙ্গে রাজশাহী ও দক্ষিণে বরিশাল কিংবা খুলনায় বিপিএলের ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়। এই খেলাগুলো বিকেন্দ্রীকরণের জন্য উত্তরবঙ্গে রাজশাহী স্টেডিয়াম এবং দক্ষিণাঞ্চলে বরিশাল কিংবা খুলনা স্টেডিয়ামে বিপিএল ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিসিবির দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা রাজশাহী স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। সেখানে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে রাজশাহীতে বেশ কয়েকটি বিপিএল ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এবং চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নীলার অভিযোগের জবাব দিলেন সারোয়ার তুষার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষার সাবেক এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিলের স্বামীর নামের জায়গায় নিজের নাম বসানোর অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।

শনিবার (৯ আগস্ট) ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় সারোয়ার তুষার জানান, নীলা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাদের অফিসে এসেছিলেন। পুলিশ ও মানবাধিকার কর্মী লেনিন ভাইকে ডেকে, পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি ফরমটি ইন্টার্ন ডাক্তাররা পূরণ করেছেন এবং তিনি সেটি দেখে বুঝতে পারেননি।

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, “হাসপাতালের ভর্তি ফরমে নারীর ক্ষেত্রে স্বামী বা পিতার নাম কিংবা যিনি নিয়ে এসেছেন তার নাম লেখা হয়। সেখানে ‘care of’ অর্থে C/O লেখা ছিল, যা লাল দাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আমার নামে লেখার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি যুক্তি দেন, “রোড অ্যাক্সিডেন্ট বা অন্য কোনো কারণে যখন অজানা লোক হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়, তখন C/O হিসেবে যে ব্যক্তি ভর্তি করে তার নাম লেখা হয়। এটি হাসপাতালের একটি প্রচলিত রীতি। স্বামী বা পিতার নামে টিক চিহ্ন দেওয়া হয়।”

স্মরণযোগ্য, নীলা ইসরাফিল গতকালের এক পোস্টে অভিযোগ করেন, স্বামীর নামের জায়গায় সারোয়ার তুষার নিজের নাম বসিয়েছেন এবং এটি আইনগত জালিয়াতির সামিল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী বাস টার্মিনালের করুণ অবস্থা, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলার একমাত্র বাস টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। টার্মিনালে জলাবদ্ধতা, ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়া এবং খাঁদাখন্দের কারণে যাত্রী, চালক ও শ্রমিকরা ব্যাপক কষ্টে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনাল এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে। বসার জায়গা ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অভাব বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীদের জন্য বিপদজনক।

বাস চালক আব্দুর রহিম বলেন, “রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ, যাত্রী উঠানামা করানো কঠিন। ময়লার দুর্গন্ধ অসহনীয়।” নারী যাত্রী হুরে জান্নাত জানান, “নারীদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাব রয়েছে, যাতায়াত কঠিন।”

বাস কাউন্টার পরিচালনাকারী মো. আব্দুল হাকিম জানিয়েছেন, “টার্মিনালের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।” কাউন্টার মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বলেন, “আগে কিছু সংস্কার হয়েছিল, কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। এখন পুরো টার্মিনাল পানিতে ও কাদায় ডুবেছে।”

স্বরূপকাঠী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম খান জানান, “বিভিন্নবার টার্মিনাল সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি, বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরু হয়নি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বর্ষায় পানি ও কাদা জমার সমস্যা দূর করতে দ্রুত আরসিসি ঢালাইসহ উন্নয়ন কাজ করা হবে। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা করাও চলছে।”

সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কার না করলে স্থানীয় জনগণ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫