আসন্ন নির্বাচনে কালোটাকা ও ঋণখেলাপি রুখতে কঠোর নির্দেশনা

ঋণখেলাপিরা যেন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ইপি পেনশন উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব তাদের শনাক্ত করা। তবে বাস্তব সমস্যার মধ্যে রয়েছে আদালতের স্টে অর্ডার। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খান আলমগীর পাঁচ বছর ধরে কেবল স্টে অর্ডার নিয়েই সময় কাটিয়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে আগামী নির্বাচনে কালোটাকা রোধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “কালোটাকার দুটি দিক—উৎস ও প্রক্রিয়া। উৎস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে এক ব্যক্তিই ছিল ব্যাংকের মালিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, সংবাদপত্রের মালিক ও ফ্ল্যাটের মালিক। এখন সেই চিত্র অনেকটা বদলেছে। এখন কিছুটা হলেও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স চালু হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল। যদি রাজনীতিবিদরা অর্থ দিয়ে মনোনয়ন ও ভোটের সংস্কৃতি চালিয়ে যান, তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কিছু করার সুযোগ থাকে না।”

উপদেষ্টার বক্তব্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শুদ্ধাচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।




জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয়ে শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের দাবিতে ঘোষিত পদযাত্রা বাতিল করে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন শিক্ষকরা। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রতিনিধি দলটি পুলিশের সহায়তায় শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।

এর আগে হাজারো শিক্ষক রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রবেশের সময় শিক্ষকদের অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নেয় কঠোর প্রস্তুতি।

কুমিল্লা থেকে আসা শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা আশা করি, প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে আমাদের দাবি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে এবং তারা সুসংবাদ নিয়ে ফিরে আসবেন।”

‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’ জানিয়েছে, ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর সরকার কিছু আর্থিক সুবিধা (৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও ২০% বৈশাখী ভাতা) বাস্তবায়ন করলেও জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ফলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা আলোচনায় শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। চলতি বছরের বাজেটে উৎসব ভাতা ২৫% বৃদ্ধি ও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও বিনোদন ভাতা কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও সেটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।

জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলেও বছরের পর বছর তারা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রজ্ঞাপন জারির জন্য ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে আমরা প্রস্তুত। এটা শুধু কর্মসূচি নয়, ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই।”

শিক্ষকরা এখন আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছেন সচিবালয়ে আলোচনার ফলাফলের জন্য, যা আগামী দিনের আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত অন্তর্বর্তী সরকার : মালয়েশিয়ায় ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকার এখন নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেশকে স্বাভাবিক শাসনের ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারব। এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আমরা মালয়েশিয়ার সহায়তা প্রত্যাশা করছি।”

এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।”

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বড় মানবিক সংকট। এ সংকট সমাধানে আমরা আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস)-এর কার্যকর সহযোগিতা চাই।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। তিন দিনের এই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, ব্যবসায়িক ফোরামে অংশগ্রহণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

বুধবার (১৩ আগস্ট) ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম)-এর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি একটি স্মারক বক্তৃতাও দেবেন।




পটুয়াখালীতে সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এবার মৌসুমি সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে চাষাবাদ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন বহু কৃষক পরিবার। উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

জেলার চরাঞ্চলসহ বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকী, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া ও রাঙাবালি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়েছে। এসবের মধ্যে শীতকালীন সবজির পাশাপাশি বারোমাসি হাইব্রিড বেগুন, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, পটল, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচকলা, পেঁপে, লাউ, টমেটো, গাজরসহ নানা ধরনের শাকসবজি রয়েছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় এ বছর ১৮০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে, উৎপাদন ৩ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন। বাউফলে ২৫০ হেক্টরে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, গলাচিপায় ৩৮০ হেক্টরে ৬ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন, কলাপাড়ায় ৩৫০ হেক্টরে ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন, দশমিনায় ১৬৫ হেক্টরে ২ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন, মির্জাগঞ্জে ১৫০ হেক্টরে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, দুমকিতে ৭৫ হেক্টরে ১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙাবালিতে ১২০ হেক্টরে ২১৬ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া ১০৭ হেক্টর জমিতে কাঁচকলা আবাদ হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।

বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের পাতারপোল গ্রামের আদর্শ কৃষক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি বাড়ির আঙিনায় ৫০ শতক জমিতে চাল ও মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাক, কাঁচকলা, পেঁপে, ঝিঙা ও বেগুন চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন, আর দুই-তিন মাস এই আবাদ থেকে আয় হবে বলে আশা করছেন। সবজি বিক্রির অর্থেই পরিবারের চাহিদা মেটানো ও সন্তানদের পড়াশোনা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় শীতকালীন ও বারোমাসি হাইব্রিড সবজি চাষ করছেন তারা। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই জমি ও বাড়ির আঙিনায় আবাদ বাড়াচ্ছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে এসব বাগানের যত্ন নিচ্ছেন।

সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ছোট ৫০-৮০ টাকা, মাঝারি ৮০-১২০ টাকা এবং বড় ১৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা হালি ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, বাজারে চাহিদা থাকায় সব ধরনের সবজি ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বন্যা ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার কিছুটা কম সবজি আবাদ হয়েছে, তবে বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, এ বছর জেলায় ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, উৎপাদন ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“শুধু শাস্তি নয়, দুর্নীতি রোধে চাই সচেতনতা ও সহযোগিতা” — দুদক চেয়ারম্যান

রংপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য দরকার জনসচেতনতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সেবাদাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে সুসম্পর্ক।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর আলমনগর স্টেশন রোডে ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চেয়ারম্যান বলেন, “দুদক শুধু দোষীদের শাস্তি দিতে চায় না, বরং সেবা দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। এতে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।”

তিনি জানান, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। এতে এ অঞ্চলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন মাত্রা পাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নিজেই দুর্নীতির ঘোর বিরোধী। তার উপদেষ্টা পরিষদের কেউ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্নীতি প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সংবাদ সমাজ থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে পারে।” একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা) আক্তার হোসেন, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. শাওন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ছয়তলা বিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ কোটি ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা।




বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব: কুয়ালালামপুরে ড. ইউনূসের বার্তা

মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ব্যবসা ও বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অতীতে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক অগ্রগতি আশানুরূপ না হলেও বর্তমানে দৃশ্যপট বদলেছে। নতুন বাংলাদেশে ব্যবসা-বিনিয়োগের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন সৃজনশীল তরুণদের দেশ। বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তরুণ প্রবাসীদের বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিআইডিএ ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের বিনিয়োগ-সুবিধা এবং সরকার ঘোষিত শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণ উদ্যোগ তুলে ধরেন।

রবি’র মূল শেয়ারহোল্ডার আজিয়াটা গ্রুপের সিইও বিবেক সোদ বলেন, “বাংলাদেশে আজিয়াটার ২৮ বছরের সফল যাত্রা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে পেট্রোনাস, খাজানাহ ন্যাশনাল, সিম ডার্বি, কেএলকে, আইওআই, এফজিভি, প্রোটন হোল্ডিংস ও টপ গ্লোভের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সকালে মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (NCCIM) এবং বাংলাদেশের এফবিসিসিআই-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের অঙ্গীকার

 বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও ভবিষ্যতমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পুত্রজায়ার পার্দানা পুত্রা ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, জ্বালানি, শিক্ষা, নীল অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিশেষত মানবসম্পদ রপ্তানি ও বাণিজ্য খাতে।”

আনোয়ার ইব্রাহিম ড. ইউনূসকে ‌“মালয়েশিয়ার বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট, শিক্ষাবিনিময় ও অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে যৌথ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে আটকে থাকা প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর প্রবেশাধিকার এবং একাধিকবার প্রবেশের ভিসা চালুর জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, এতে শ্রমিকরা জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে যেতে পারবেন, চাকরির ঝুঁকি ছাড়াই।

আলোচনায় আইন, বিচার ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মালয়েশিয়ায় চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রবাসে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মালয়েশিয়া সরকার জানায়, বাংলাদেশি কর্মীরা এখন থেকে স্থানীয়দের মতো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন এবং বাংলা ভাষায় অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ ভিসা চালুর অনুরোধ জানানো হয়, যাতে তারা পড়াশোনা শেষে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে পারেন।

বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বাজারে ওষুধ, পাদুকা, ব্যাটারি, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার চেয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করতে ও যৌথ ব্যবসা পরিষদ কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।

জ্বালানি খাতে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যৌথ বিনিয়োগ এবং এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা, পর্যটন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মালয়েশিয়াকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে ড. ইউনূসকে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচায় অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, এলএনজি সরবরাহ, কৌশলগত গবেষণা, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, হালাল শিল্প এবং উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়। মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এই বৈঠক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




লাল গালিচায় মালয়েশিয়ার অভ্যর্থনা পেলেন প্রধান উপদেষ্টা

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১১ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল তাকে অভ্যর্থনা জানান।

এসময় ড. ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

সফরের অংশ হিসেবে ১২ আগস্ট পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকসহ মোট পাঁচটি এমওইউ এবং তিনটি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে তিনি একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

১৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। ওই দিনই তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।




জোট করলেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন বাধ্যতামূলক করবে ইসি: সানাউল্লাহ 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল জোটে অংশ নিলেও নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১১ আগস্ট) কমিশন সভা শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “এটা সংস্কার কমিশনেরও প্রস্তাব ছিল। রাজনৈতিক দল এককভাবে, দলীয়ভাবে বা জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করুক—প্রত্যেককে নিজেদের সংরক্ষিত প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। কোনো একটি প্রতীক ব্যবহার করে পুরো জোট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।”

তিনি আরও জানান, প্রার্থী কত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন—সে বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিষয়টি ঐকমত্যের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আরপিও-সংক্রান্ত আরও কিছু প্রভিশন এবং সংশোধনীর প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার।

ইসি আশা করছে, আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।




ভোটে তরুণ অংশগ্রহণ বাড়াতে পৃথক বুথের পরিকল্পনা করছি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের জন্য আলাদা বুথের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (১১ আগস্ট) ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য দেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, গত নির্বাচনে অনেক তরুণ ভোটার ভোট দিতে পারেননি। তাই এবার মেয়েদের জন্য আলাদা বুথ এবং ছেলেদের জন্য আলাদা বুথ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা এবং জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য। “নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণকারী দল, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী—সব পক্ষের সমন্বয় দরকার,” উল্লেখ করেন তিনি।

কেরানীগঞ্জে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি উপদেষ্টা র‌্যাব সদর দপ্তর, জেলখানা ও থানা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি কারাবন্দিদের অবস্থা ও জীবনযাত্রার মান পর্যালোচনা করেন এবং তাদের খাবারের মান উন্নত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন।