পটুয়াখালীর দুমকীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

পটুয়াখালীর দুমকীতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন দুমকি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ অহেদুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান। এছাড়া দুমকি উপজেলা সদস্য সচিব মাছুদুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুছা ফরাজী সহ সকল স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি মো. মামুন তার বক্তব্যে বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা সমাজে দায়িত্বশীল ও উদারচেতা নাগরিক হিসেবে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুব সমাজকে সুস্থ, সক্রিয় ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল দায়িত্ব। আমাদের নেতা তারেক রহমান সর্বদা যুবসমাজকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার নেতৃত্বে আমরা দেশের সকল স্তরে যুবকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি। এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, সংহতি ও একতা থাকলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”

এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে শহীদ জসিম উদ্দীন হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা হয় এবং কবর জিয়ারত করা হয়। কবরের পাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ করা হয়।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব ও যুবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিস বন্ধে ঢাকা’র দাবি

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ভারতে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে—এমন খবরের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বুধবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লি ও কলকাতায় দলটির কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি তারা লক্ষ্য করেছে। সরকার মনে করছে, এসব অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অবিলম্বে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের বহু জ্যেষ্ঠ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বা পলাতক অবস্থায় ভারতে আশ্রয় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি এনজিওর আড়ালে দলটির কয়েকজন নেতা সভা করেন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমেও এসব কার্যক্রম বৃদ্ধির খবর প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকা মনে করে, ভারতে বসে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কিংবা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অফিস স্থাপন বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের কার্যকলাপ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে বসে বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হতে না পারে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো দ্রুত বন্ধ করা হয়।




আবারও হাসপাতালে ভর্তি মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

থাইল্যান্ডে চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এই তথ্য বিএনপির মিডিয়া সেল নিশ্চিত করেছে।




বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝবে তরুণ সমালোচকরা: জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

সেনাবাহিনীকে নিয়ে কটূক্তি ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, এসব মন্তব্যে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এমন কথা বলছে, তাদের বয়স কম, তারা সন্তানের বয়সী। বড় হলে তারা নিজেরাই ভুল বুঝতে পারবে এবং লজ্জিত হবে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেনাবাহিনী সম্পর্কে ‘ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বার্তা’ ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, এসব দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বরং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে বাহিনীর ভাবমূর্তি কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয়।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির কথা জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দেশ এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে সেনাদের, যা আগে কখনও হয়নি। তাই দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, দূরত্ব থাকলে তা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না।

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, “দেশের মানুষ এখন তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”




অন্যের প্রাণ বাঁচাতে আত্মাহুতি, তিন শিক্ষকের স্মৃতি জাতির গর্ব: মুহাম্মদ ইউনূস

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তিন শিক্ষক—মাহেরীন চৌধুরী, মাসুকা বেগম ও মাহফুজা খাতুন—মানবতা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনো সবার মনে দগদগে হয়ে আছে। আমরা সমবেদনা জানাতে পারি, কিন্তু এই শোক মোছার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, এই শোক আপনাদের একার নয়—জাতি হিসেবে আমরা এই শোক ধারণ করি।”

নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকথা তুলে ধরেন এসময়।

শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল জানান, শেষ মুহূর্তেও তিনি নিজের সন্তানদের মতো ছাত্রছাত্রীদের বাঁচাতে জীবন বাজি রেখেছিলেন। একইভাবে মাহফুজা খাতুনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা মায়ের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিক্ষক মাসুকা বেগমের ভগ্নিপতি খলিলুর রহমান বলেন, তিনি ছিলেন সবার কাছে নিবেদিতপ্রাণ এবং পরিবার ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবসময় সচেষ্ট।

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষকদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের দেশে এমন নাগরিক আছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি। তারা মানবতার দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে গেছেন। এই শিক্ষকরা আমাদের গর্ব, আমাদের আদর্শ। তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে যা কিছু করা প্রয়োজন, আমরা করব।”

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, সড়ক ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।




বাংলাদেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ইইউ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য ইইউ সবসময় পাশে আছে। আগামী নির্বাচন আন্তর্জাতিকমানের অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। সেপ্টেম্বরে ইইউর বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে।”

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইইউর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এজন্য নির্বাচন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে ইইউ। পাশাপাশি নির্বাচনে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তি ও ডিজিটাল সমস্যাগুলো মোকাবিলায়ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাক্ষাৎকালে ইইউ প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও প্রস্তুতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেয়।




নির্বাচন নিয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার, ফেব্রুয়ারিতেই ভোট: আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এর পরেই বিদায় নেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সরকারের, কোনো দলের নয়। নির্বাচন নিয়ে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সব কার্যক্রম সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে এবং আমরা ফেব্রুয়ারিতেই বিদায় নেব।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ। “বাংলাদেশে সবসময়ই নির্বাচন ঘিরে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়। এবারও তা-ই হচ্ছে। এতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।”

সরকারের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা একজন বিশ্বপর্যায়ের স্বীকৃত নন্দিত মানুষ। তিনি নিজেই নির্বাচন নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। তার সেই ঘোষণার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

এছাড়া, তিনি জানান দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। এ বিষয়ে কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।




অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী :সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “দেশ এখন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচনে মাঠে দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব দেখাবে এবং প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়াবে না।”

সেনাপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে।

নাম না উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, একজন সেনাসদস্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে, নারী নির্যাতনের অভিযোগেও তদন্ত চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন, মিডিয়া ট্রায়ালের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেওয়া হবে না; অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে। তাই অপরাধে জড়ানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার, কারণ পরে বাড়ি পাঠালে এটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।

সেনাপ্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছড়ানো ভুয়া তথ্য নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর বার্তায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং কেউ যেন বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেষ করেন, দেশের মানুষ এখন সেনাসদস্যদের দিকে তাকিয়ে আছে। “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আইন উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের বিক্ষোভ

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা ও আহতরা। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে প্রথমে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের ২ নম্বর ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

শহীদ পরিবার ও আহতদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে সচিবালয়ের সামনের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দেন। তাদের দাবি— জুলাই হত্যা মামলার আসামি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জামিন দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে বিচার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে এবং আইন উপদেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগানে বলেন, “পদত্যাগ চাই, আসিফ নজরুলের পদত্যাগ চাই”, “খুনিরা বাইরে ঘোরে, বিচার বিভাগ কী করে”, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে” ইত্যাদি।

জুলাই শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা বুলবুল করিম অভিযোগ করেন, “এক বছর পার হলেও আমাদের সন্তান হত্যার বিচার হয়নি। সরকার বিচারের নামে তামাশা করছে। আসামিরা টাকার বিনিময়ে জামিন পাচ্ছে, অথচ আইন উপদেষ্টা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।”

শহীদ তায়িমের ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, “আমরা এই উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।”

অন্যদিকে শহীদ শেখ শাহরিয়ারের বাবা আবদুল মতিন জানান, “এক বছর ধরে আমরা বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ও কেবল প্রহসন করছে।”

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “শহীদ পরিবার ও আহতদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।”

তিনি আরও জানান, পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে— এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শিক্ষাক্রম কমিটির বৈঠকে বিতর্ক, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পাঠ্যবইয়ে রাখার সিদ্ধান্ত

পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সরানোর প্রস্তাব নাকচ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটি (এনসিসি)। তবে পূর্ণাঙ্গ ভাষণ বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে বইয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যবই অনুমোদন সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন সদস্য জানান, এনসিটিবির পক্ষ থেকে পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিছু শ্রেণি শিক্ষকও একই মত দেন। তবে শিক্ষা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এর বিরোধিতা করে ভাষণ সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে ভাষণ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অন্যদিকে, ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ শীর্ষক প্রবন্ধে জুলাই আন্দোলনের বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, প্রবন্ধটিতে গণঅভ্যুত্থানের পূর্ণ চিত্র নেই এবং নৃশংস গণহত্যার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, প্রবন্ধটি সংশোধন করে শেখ হাসিনার নাম যুক্ত করা হবে।

বৈঠকে এনসিটিবির সম্পাদনা পরিষদের প্রধান সম্পাদক পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিহাসের অংশ হিসেবে ভাষণটি রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।

পরে অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, “অষ্টম শ্রেণির বইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল। এবার তা সংক্ষিপ্ত আকারে রাখা হবে। একই সিদ্ধান্ত একাদশ শ্রেণির বইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।”