বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে, চলছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হোটেলে বৈঠকটি শুরু হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পাশাপাশি নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

সূত্র বলছে, বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি খাত, সংস্কৃতি বিনিময় এবং দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত সহজীকরণসহ নানাবিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনার পরপরই পাঁচ থেকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কথা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বিলোপ, বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, ফরেন সার্ভিস একাডেমিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং দুই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সমঝোতা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইপিআরআই)-এর মধ্যে সহযোগিতার চুক্তিও হতে পারে।

বৈঠক শেষে রোববার বিকেলে ইসহাক দার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

উল্লেখ্য, এক যুগ পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর এটি। দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় আসেন ইসহাক দার। সফরের প্রথম দিনেই তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল তাঁর ঢাকা সফরের কথা থাকলেও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ইসলামাবাদ তা স্থগিত করে।




জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে আসছে বড় পরিবর্তন : আইন উপদেষ্টা

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শনিবার (২৩ আগস্ট) সিলেটে আয়োজিত এক অংশীজন কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

ড. আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করে বলেন, আইনের যথাযথ সংশোধন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও আস্থাভাজন মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালায় সহযোগিতা করে সুইস দূতাবাস ও ইউএনডিপি। কর্মশালায় আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম শাফায়েত হোসেন কমিশনের ম্যান্ডেট, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক তার বক্তব্যে আইনটির বিভিন্ন ধারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।

এতে বক্তৃতা দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিরা। অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেন।




টানা তিনবার টেকসই ব্যাংকের শীর্ষ তালিকায় যমুনা ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৪ সালের টেকসই ব্যাংক রেটিংয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। দেশের আর্থিক খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা অর্জন করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত সাসটেইনেবিলিটি রেটিং রিকগনিশন অনুষ্ঠান-এ যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মদ-এর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন্নাহার, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী, যমুনা ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ প্রসান্ত সামিরসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকসই ও সবুজ অর্থায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও বহুমুখী সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি যমুনা ব্যাংককে এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। ব্যাংকটি মনে করে, টেকসই উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

সম্মাননা গ্রহণের পর ব্যাংকের এমডি ও সিইও মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মদ বলেন,
“যমুনা ব্যাংকের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক নয়; বরং এগুলো আমাদের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎমুখী ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রতিফলন।”

টানা তিনবার শীর্ষ তালিকায় থাকা ব্যাংকের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্থিক খাতে টেকসই ব্যাংকিং প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগকে মাইলফলক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নারী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা

আসন্ন নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আট দলের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্ট ভারতের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের দলে এসেছে বেশ কিছু চমক, যেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তিন নতুন মুখকে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলা দিলারা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং ইসমা তানজিম এবার জায়গা পাননি। তাদের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার রুবাইয়া হায়দার, তরুণ স্পিনার নিশিতা আক্তার এবং অলরাউন্ডার সুমাইয়া আক্তার।

রুবাইয়া হায়দার জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে খেললেও ওয়ানডে ফরম্যাটে এটি হবে তার প্রথম অভিজ্ঞতা। নিয়মিত উইকেটকিপার এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানার ব্যাকআপ হিসেবে তিনি দলে জায়গা পেয়েছেন।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই আবার জাতীয় দলে ফিরলেন অফ স্পিনার নিশিতা আক্তার। ২০২৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হলেও পরে তিনি বাদ পড়েন। তবে এবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার প্রত্যাবর্তন নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছে।

ব্যাটিং ও ফিল্ডিং দক্ষতার কারণে নির্বাচকদের নজর কাড়েন সুমাইয়া আক্তার। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক করা এই টপ অর্ডার ব্যাটার এবার ফিরেছেন মূলত অলরাউন্ড ভূমিকায়।

বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ২ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে কলম্বোতে। টুর্নামেন্ট চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। দলকে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা।

নারী বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল
নিগার সুলতানা (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার, ফারজানা হক, রুবাইয়া হায়দার, শারমিন আক্তার, সোবহানা মোস্তারি, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম, সানজিদা আক্তার, নিশিতা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এবারের বিশ্বকাপে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে লড়াই করবে বলে প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া: সমর্থন ২৩, নীরবতা ৭ দলের

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত জুলাই সনদের খসড়া নিয়ে মতামত দিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ২৩টি রাজনৈতিক দল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত দেয়নি সাতটি দল। শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কমিশন।

১৬ আগস্ট রাতে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সনদের খসড়া পাঠায় এবং ২০ আগস্টের মধ্যে মতামত দিতে অনুরোধ জানায়। পরে রাজনৈতিক দলের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে ২২ আগস্ট বিকেল ৩টা পর্যন্ত করা হয়। নির্ধারিত সময় শেষে কমিশনের কাছে ২৩টি দলের মতামত পৌঁছায়।

যেসব দল মতামত দিয়েছে: বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি, খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি, এনডিএম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, আমজনতার দল, গণফোরাম, বাসদ, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

যেসব দল মতামত দেয়নি: নাগরিক ঐক্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, সিপিবি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোট।

খসড়া অনুযায়ী, জুলাই সনদের বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এ বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এছাড়া যেসব প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব বিষয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ার ওপর মতামত প্রদানের সময় আর বাড়ানো হবে না।




“জাতীয় নির্বাচন ঘিরে স্বচ্ছ ইমেজ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী পুলিশ”: ডিএমপি কমিশনার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এখন থেকেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে যাতে কোনো অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য পুলিশ এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য সাংবাদিক সমাজসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, সর্বজনগ্রাহ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের জন্য জরুরি। “আমরা চাই দেশি-বিদেশি সব মহলের কাছে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হোক।”

পুলিশ কমিশনার জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার পর বাহিনীর মনোবল কিছুটা ভেঙে পড়েছিল। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই মনোবল আবার ফিরে এসেছে।

অপরাধ সাংবাদিকদের কাজ ও পুলিশের কাজ অনেকটাই একসঙ্গে চলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ক্র্যাব আমাদের নিকট সহযোগী। ডিএমপি সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশা। এ সময় ক্র্যাব সদস্যদের সন্তানদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ক্রেস্ট তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে কেক কাটা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বিকেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন শিল্পী আসিফ আকবর।




পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে হাইওয়ে থানা স্থাপনের দাবি

দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ততম পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, পর্যটক, পণ্যবাহী যানবাহন, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কজুড়ে নেই কোনো হাইওয়ে থানা। ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা, যানজট, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। নিরাপত্তা সংকট ক্রমেই বাড়ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটলেও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের অভাবে প্রাণহানি ও ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই মহাসড়কে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন করা যায় তবে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, সড়কে অপরাধ দমনসহ দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সহজ হবে। স্পিড গান ব্যবহার, রেকার ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে সড়ক নিরাপদ হবে, একই সঙ্গে পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনকে গতিশীল করতে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে হাইওয়ে থানা স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বরিশাল জোনের অধীনে রয়েছে মোট ১ হাজার ৬০৩ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়ক, সাতটি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৬১টি জেলা মহাসড়ক রয়েছে। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে মাত্র ৩২ কিলোমিটারের কিছু অংশে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। অথচ পটুয়াখালী থেকে আমতলী ৩৭ কিলোমিটার এবং আমতলী থেকে কুয়াকাটা ৪৭ কিলোমিটারের জন্য কোনো হাইওয়ে থানা নেই। নেই উদ্ধার সরঞ্জাম, রেকার কিংবা পুলিশের দ্রুত যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত গাড়ি। এর ফলে পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা ও আমতলী থেকে বরগুনা পর্যন্ত প্রায় ৯৮ শতাংশ সড়ক হাইওয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানের বাইরে রয়ে গেছে।

বরিশাল বিভাগের সড়ক দুটি সার্কেলে বিভক্ত—বরিশাল সার্কেল (বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা) এবং পটুয়াখালী সার্কেল (পটুয়াখালী ও বরগুনা)। দুই সার্কেলে মিলে জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১২৭ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ২৯০ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১ হাজার ১৮৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার। কিন্তু এত বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কে হাইওয়ে থানার সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমতলীর ৩৭ কিলোমিটার রাস্তায় ১৭টি তীব্র বাঁক থাকায় প্রায়ই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হতাহতের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেই। উদ্ধার ব্যবস্থার অভাবের কারণে দুর্ঘটনার পর মানুষকে দীর্ঘসময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে জনগণের দাবি—অবিলম্বে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের কৌশলগত অংশে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন করা হোক।

তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়ক দখল করে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে এবং পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। আমতলীতে হাইওয়ে থানা স্থাপন এখন শুধু সময়ের দাবি নয়, হাজার হাজার যাত্রী ও পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জরুরি বিবৃতি

মিডিয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতিটি  হুবহু তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদ এবং অনলাইন আউটলেটগুলিতে ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামী আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া, গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাক্তন স্বৈরশাসকের ঘৃণা ছড়ায় এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।

আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে কিছু গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে যেখানে তিনি মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এধরনের অপরাধমূলক প্রচারকর্মে জড়িত গনমাধ্যমের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের জাতির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছে। তদুপরি, বাংলাদেশের আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে, যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক অখণ্ডতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমরা, এমন একটি সময়ে, সংবাদ মাধ্যমগুলিকে শেখ হাসিনার অডিও এবং তার বক্তৃতাগুলি, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি, প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।




আর্থিক খাতে বড় ঝাঁকুনি: ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধুঁকতে থাকা ৯টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির মতো তিনটি প্রধান সূচককে ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করা হবে। এই অবসায়ন প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র আমানতকারীরা যেন তাদের অর্থ ফেরত পান এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যেন চাকরিবিধি অনুযায়ী সব সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।

যে ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে:

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস
আভিভা ফাইন্যান্স
এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট
ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট
বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স
জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি
প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের প্রায় পুরোটাই খেলাপি। এফএএস ফাইন্যান্সের মোট ঋণের ৯৯.৯৩ শতাংশই খেলাপি, যার ফলে পুঞ্জীভূত লোকসান ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। একইভাবে, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি এবং লোকসান ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯৬ শতাংশ।

২০২৩ সালের ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন’-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম, দায় পরিশোধে সম্পদের অপর্যাপ্ততা এবং মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থতার কারণে লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ রয়েছে। গত ২২ মে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখন অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের ৩৫টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টিই বর্তমানে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৩.১৬ শতাংশ। এর বিপরীতে তাদের বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা বাকি ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭.৩১ শতাংশ।

 

 




ইরানে তেল বিক্রিতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের অবৈধ তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে বেশ কয়েকটি ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা মেহেরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে চীনভিত্তিক দুটি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য টার্মিনাল অপারেটর। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিহ্নিত কয়েকটি ট্যাঙ্কারে লাখ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ গ্রিক নাগরিক আন্তোনিওস মার্গারাইটিস, তার নেটওয়ার্ক এবং কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনের জন্য জাহাজ শিল্পে নিজেদের অবস্থানকে কাজে লাগিয়েছে। এছাড়াও, ইরানের তেল রপ্তানিতে সহায়তার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকটি জাহাজ ও অপারেটরকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, “এই পদক্ষেপগুলো তেহরানের উন্নত অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়ন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং আমাদের সৈন্য ও মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মোকাবেলা করবে।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার প্রধান আমদানিকারকদের কাছে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।