জাতিসংঘ সম্মেলনের আগে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বড় প্রস্তাব দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে ফেরাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের ইনানীতে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক অংশীজন সংলাপ’-এর দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “২০১৭ সালের এই দিনে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আজও নতুন করে রোহিঙ্গাদের আগমন দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব এখনই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক সফরে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক মহলকে আরও সচল করেছে। “রোহিঙ্গাদের চোখে এখনও ভীতি এবং বেদনার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দিতে হবে,” বলেন ইউনূস।

কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে এখন প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে, প্রতিবছর ২২ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সমাজব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। টেকসই সমাধান এখন বৈশ্বিক এজেন্ডা হওয়া জরুরি।”

প্রধান উপদেষ্টা যে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব করেন তা হলো—

  1. নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন: রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরাতে একটি বাস্তব রোডম্যাপ তৈরি।
  2. অর্থায়ন অব্যাহত রাখা: দাতা সংস্থা ও অংশীজনদের প্রতিশ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
  3. নিপীড়ন বন্ধ: মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান।
  4. সংলাপের প্ল্যাটফর্ম: জাতিগত নিপীড়ন বন্ধে রাখাইন কর্তৃপক্ষ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ চালু করা।
  5. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা: বিশেষ করে আসিয়ানকে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
  6. জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া: আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা।
  7. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা: গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ।

ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই সংলাপ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অধিবেশনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক নেতা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় কক্সবাজারে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা ইনানীর হোটেল বে-ওয়াচে সংলাপে যোগ দেন। সম্মেলনটি শেষ হবে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট), পরদিন বিদেশি অংশগ্রহণকারীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন।




সমুদ্রে পর্যটকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যেসব স্থানে লাল পতাকা উত্তোলিত রয়েছে, সেগুলোকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় কোনোভাবেই পানিতে নামা যাবে না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিচকর্মী ও লাইফগার্ড সার্বক্ষণিকভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। লাইফগার্ডের সেবার আওতায় থাকা নির্ধারিত সীমার মধ্যে কেবল পানি প্রবেশের নির্দেশনা রয়েছে। এই সীমার বাইরে গেলে বিপদের সময় সহায়তা পাওয়া কঠিন বা অসম্ভব হতে পারে।

পর্যটকদের জন্য আরও সতর্কবার্তা:

  • জোয়ার-ভাটার সময়, সমুদ্রের বর্তমান অবস্থা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে থেকে পানিতে নামা।

  • খারাপ আবহাওয়া বা ভাটার টান চলাকালীন বেপরোয়াভাবে সাগরে নামা থেকে বিরত থাকা।

  • সাঁতার না জানা ব্যক্তিরা সমুদ্রে না নামার পরামর্শ মানা।

  • হোটেল, গেস্ট হাউস, রিসোর্টে পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ নিশ্চিত করা। টিউব ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

  • লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। শিশুদের সব সময় অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রাখা।

  • শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কের সদ্য তোলা ছবি মোবাইলে সংরক্ষণ করা। এতে শিশু হারালে দ্রুত সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।

  • সমুদ্রের স্রোতের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন থাকা, বিশেষ করে তীব্র স্রোত, ঘূর্ণি স্রোত, উল্টো স্রোত বা নিম্নমুখী প্রবাহের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা।

  • জলোচ্ছ্বাস বা অতিরিক্ত স্রোতের ফলে সমুদ্রতটে তৈরি হওয়া বালি সরার ফাঁকা জায়গা ও গর্ত থেকে সাবধান থাকা।

  • অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি দিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা না করা, কারণ এতে প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়তে পারে।

পর্যটকদের সতর্ক ও সচেতন থাকার মাধ্যমে সমুদ্রের আনন্দ নিরাপদভাবে ভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ৫ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৫ আগস্ট) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তৌহিদ আফ্রিদিকে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট রাতে সিআইডির একটি দল তাকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করে। মামলার আরেক আসামি ও তৌহিদের বাবা বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত তারও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। সেদিন দুপুর আড়াইটার দিকে অভিযুক্তদের ছোড়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন ওই বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে নাসির উদ্দিন সাথীকে ২২ নম্বর ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চারণভূমি সংকটে মহিষ পালন হুমকিতে: উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার

দেশে চারণভূমি ক্রমশ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ সংকটের মূল কারণ পরিকল্পনাহীনভাবে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনও। গরু, ছাগল ও মহিষ পালন মানুষের খাদ্য ও জীবন রক্ষায় অপরিহার্য হলেও চারণভূমির অভাবে এ খাত বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে।

বুধবার (তারিখ) বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে “উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সমাধান” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আরও জানান, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় মহিষ পালন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জিজেইউএস নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. ওমর ফারুক।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নদী ও সমুদ্রের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। এজন্য মৎস্যজীবী, প্রশাসন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তারা আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মহিষ পালনের সম্ভাবনা অনেক। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, চারণভূমির সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা খাতটির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিষ পালনকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করা সম্ভব।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আক্তার জানান, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ইলিশ উৎপাদন কমছে। এর পেছনে প্রাকৃতিক পরিবর্তন এবং পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন দায়ী। তবে জাটকা সংরক্ষণে সরকারের তৎপরতার কারণে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কক্সবাজারে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে অংশ নিতে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে তিনি কক্সবাজার পৌঁছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন।

সরকারের উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা বেলা ১১টা থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। এই সংলাপে গৃহীত প্রস্তাব ও সুপারিশগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।

আজ রোহিঙ্গা সঙ্কটের আট বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে ধাপে ধাপে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১৪ লাখ মানুষের বসবাস।

২০১৭ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমারের অং সান সু চি সরকার এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও সই হয়। তবে বারবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেও রোহিঙ্গাদের অনাস্থা ও মিয়ানমারের ব্যর্থ প্রতিশ্রুতির কারণে সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

এবারের সংলাপে মানবিক সংকট নিরসন, নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সুপারিশ উঠে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।




বরিশালে গ্রেফতার তৌহিদ আফ্রিদি, আলোচনায় আবু সাঈদ নিয়ে পুরনো স্ট্যাটাস

বরিশালে পুলিশের বিশেষ অভিযান শেষে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে আটক করে। জানা গেছে, জুলাই হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতারের পর নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে আফ্রিদির ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট। ওই পোস্টে তিনি কোটার সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন। পোস্টে তৌহিদ আফ্রিদি পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়ার আগে আবু সাঈদের দু’হাত সম্প্রসারিত করা ভাইরাল ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, “আমি দেখিনি ভাষা আন্দোলনের সালাম রফিক, কিন্তু আমি দেখেছি আবু সাঈদ ভাইকে।”

উল্লেখ্য, জুলাই হত্যা মামলায় তাকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কয়েকদিন আগে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) সরকারকে আফ্রিদি গ্রেফতারের জন্য আলটিমেটাম দিয়েছিল। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দাবি করা হয়, আফ্রিদি শুধুমাত্র বর্তমান সরকারের সময় নয়, ১৫ আগস্টের আওয়ামী লীগ ক্যাম্পেইনের সময়ও অর্থ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির বাবা ও মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে আফ্রিদি কারাগারে রয়েছেন।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী, তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটির প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এবং ১১ নম্বর আসামি তৌহিদ আফ্রিদি। মামলায় মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে, এছাড়া অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সার্কের গুরুত্ব তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টা

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই নেতা সার্ক পুনরুজ্জীবন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যুবসমাজের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে একমত হন।

রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে পাকিস্তানি নেতা বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও সম্প্রদায় উন্নয়নে ইউনূসের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভাগ্যবান এমন এক নেতা পেয়েছে যিনি শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করছেন।

অধ্যাপক ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শেহবাজ শরিফের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সার্ক উভয় দেশের জন্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা-করাচি রুটে অক্টোবরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া জাহাজ ও বিমান চলাচলসহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠককে উভয় পক্ষই দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।




বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে দুই দেশ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “৫৪ বছরের অমীমাংসিত সমস্যা এক দিনে মিটে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে উভয়পক্ষ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং একমত হয়েছে যে আলোচনার মাধ্যমেই এসব ইস্যুর সমাধান করতে হবে।”

তৌহিদ হোসেন জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি বিষয় জোর দিয়ে তোলা হয়েছে—একাত্তরের গণহত্যার দায় স্বীকার ও দুঃখ প্রকাশ, যুদ্ধ-পরবর্তী আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তি এবং বাংলাদেশে আটকে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া।

পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ সময় দাবি করেন, একাত্তরের ইস্যু ইতিমধ্যেই ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মোশাররফের দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এদিকে বৈঠক শেষে দুই দেশ একটি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই করে। সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বিলোপ চুক্তি ছাড়াও সংস্কৃতি বিনিময়, বাণিজ্য, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা হয়।

তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই, তবে অতীতের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান না হলে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”




ভিসা বিলোপ চুক্তি ও পাঁচ সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

রবিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। শুরুতে একান্ত বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শেষে এসব চুক্তি ও এমওইউ সই হয়।

সই হওয়া একমাত্র চুক্তিটি হলো সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বিলোপ। এছাড়া পাঁচটি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে—

  • দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
  • সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি
  • ফরেন সার্ভিস একাডেমিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা
  • বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও পাকিস্তানের এপিপিসি’র মধ্যে সহযোগিতা
  • বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের আইএসএসআই’র মধ্যে যৌথ কাজ

এর আগে শনিবার ঢাকায় পৌঁছান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এক যুগ পর এটি পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। সফরের প্রথম দিন তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিকে আজ বিকেলে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০% শুল্ক চুক্তি বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক জয়: প্রেস সচিব

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনায় ২০ শতাংশ ট্যারিফ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য। তিনি মনে করেন, এ অর্জন প্রমাণ করেছে—সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে সক্ষম।

শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় শফিকুল আলম বলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার অভিজ্ঞতার অভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় দুর্বল হবে। কিন্তু বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ট্যারিফ নীতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে।

তার ভাষায়, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতা এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের বৈশ্বিক বাজার জ্ঞানের সমন্বয়েই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের শক্তি হচ্ছে বিশাল ভোক্তা বাজার ও আমদানিকারক হিসেবে তার ভূমিকা। কটন, ভোজ্যতেল ও পোল্ট্রি ফিডের মতো খাতে এই অবস্থানকে আলোচনায় লেভারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়েও সরকার সমান্তরালে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কারকে বিদেশি বিনিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।

শফিকুল আলম দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে ধরে রাখা গেছে। যদিও লক্ষ্য ছিল ৮ শতাংশ, তিনি এটিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হিসেবে দেখেন।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ আলোচনায় অর্জিত সাফল্য বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করিয়েছে এবং সামনে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের মতো বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বিস্তার করে সমৃদ্ধির নতুন পথে এগোবে।