কয়লা সংকটে পূর্ণ উৎপাদনে অনিশ্চয়তা রাবনাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে

পটুয়াখালীর রাবনাবাদ নদীর তীরে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাবনাবাদ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড (আরএনপিএল) জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। তবে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এ কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হতে পারেনি। বর্তমানে কেন্দ্রটির কেবল একটি ইউনিট আংশিক চালু রয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। পরে ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ইউনিটও চালু হয়। কিন্তু কয়লার স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটে।

জানা গেছে, কয়লা আমদানি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চার দফা আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ নতুন করে আবারও দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেড় লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। এছাড়া নতুন জাহাজে আরও কয়লা আসছে। এতে স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর নিশ্চয়তা নেই।

চীনের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত প্রায় ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়বহুল এই প্রকল্পে দেশটি ঋণ দিয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু না হওয়ায় এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরএনপিএল পূর্ণ উৎপাদনে গেলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপও হ্রাস পাবে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন হয় প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। নতুন এ কেন্দ্র পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তারা।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ৯৫০ একর জমির ওপর নির্মিত। এটি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করলেও কয়লার দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি না হওয়ায় পূর্ণ উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো বঞ্চিত, ইসিতে স্মারকলিপি পাহাড়ি প্রতিনিধিদের

পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলার জন্য ৩টি সংসদীয় আসন থেকে বাড়িয়ে ৮টি করার দাবি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পাইশিখই মারমা।

আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব

স্মারকলিপিতে তারা প্রস্তাব করেন—

খাগড়াছড়ি-১: রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি ও গুঁইমারা

খাগড়াছড়ি-২: মাটিরাঙা, মহালছড়ি, পানছড়ি

খাগড়াছড়ি-৩: খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা

রাঙামাটি-১: বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল

রাঙামাটি-২: সদর, কাউখালি, ননিয়ারচর

রাঙামাটি-৩: জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী

বান্দরবান-১: সদর, রুমা, থানছি, বোয়াংছড়ি

বান্দরবান-২: লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি

দাবির পক্ষে যুক্তি

পাইশিখই মারমা বলেন, পার্বত্য এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয়তা এখনো শান্তি ফিরতে দিচ্ছে না। বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় সংসদীয় আসন সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় উন্নয়নকাজ ও প্রতিনিধিত্ব সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।

রাঙামাটির বাসিন্দা সৈয়দ ইবনে রহমত অভিযোগ করেন, সাজেক ইউনিয়নের আয়তন ঢাকার চেয়েও বড় হলেও সেখানে মাত্র একজন এমপি আছেন। “ঢাকায় ২০ আসন, অথচ রাঙামাটির ৫০টি ইউনিয়নে মাত্র ১ আসন—এভাবে পাহাড়ের মানুষ বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বঞ্চনা

প্রতিনিধিরা আরও জানান, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধানত মারমা, ত্রিপুরা বা চাকমা সম্প্রদায় থেকে এমপি নির্বাচন করে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো নেতৃত্বে আসতে পারে না। আসন বৃদ্ধি হলে তারাও সংসদে কণ্ঠস্বর তুলতে পারবে এবং বঞ্চনা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।




কুষ্টিয়ার ডিসি তৌফিকুর রহমান এখন খুলনার জেলা প্রশাসক

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমানকে খুলনার নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৫ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

গত বছরের ৩০ অক্টোবর তিনি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের এ কর্মকর্তা নড়াইলের সন্তান।

তৌফিকুর রহমান নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (১৯৯২) এবং ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৯৪) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (২০০২) এবং ইংল্যান্ড থেকে মাস্টার্স (২০১৩) ডিগ্রি অর্জন করেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তৌফিকুর রহমান বলেন, “কিছুক্ষণ আগে শুনেছি আমাকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। যথাযথ দাপ্তরিক কাজ শেষ করে দ্রুত যোগদান করব।”




রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনে হাইকোর্টে ২৫ অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একসঙ্গে ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার (২৫ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতিরা শপথ নেওয়ার তারিখ থেকে অনধিক দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিনই দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় ধরনের বদলি করা হয়েছে। ঢাকাসহ ১৯ জেলায় মোট ২৩০ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ৪১ জন জেলা জজ, ৫৩ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৪০ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং ৯৬ জন সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে চারটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।




উপদেষ্টার নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি হলে প্রকাশ করুন : জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষমতায় আসার পর তার ‘বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন’ বেড়ে গেছে। তবে এসব পরিচয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা অনিয়মে জড়িত হয়, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “উপদেষ্টার পরিচয়ে যদি কেউ দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি করে, তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করবেন। তবে ভুল বা গুজবনির্ভর খবর প্রচার না করার অনুরোধ রইলো।”

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সরকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

  • পিস্তল ও শটগানের জন্য পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা
  • চায়না রাইফেলের জন্য ১ লাখ টাকা
  • এসএমজির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
  • এলএমজির জন্য ৫ লাখ টাকা
  • আর প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য ৫০০ টাকা

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং নির্বাচনের আগে যতটা সম্ভব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে সতর্কতা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বর্তমানে ব্যাপক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ হলে তাৎক্ষণিক জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, গত এক বছরে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।




আনসার বাহিনীর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু সারাদেশে

আগামী জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের লক্ষ্যে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। চলমান ২৮ দিনব্যাপী ভিডিপি অ্যাডভান্সড কোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোটারদের সুষ্ঠুভাবে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা রক্ষা এবং কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়মাবলি।

এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আনসার বাহিনীর সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মায়ের দুধের বিকল্প নেই। কিন্তু উদ্বেগজনকভাবে দেশে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার কমছে। বর্তমানে মাত্র ৫৫ শতাংশ শিশু মায়ের দুধ পাচ্ছে, যা আগে আরও বেশি ছিল। এ পরিস্থিতি বদলাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

তিনি বলেন, “শিশু জন্মের পরপরই অনেকসময় পর্যাপ্ত দুধ তৈরি হয় না। এ সময়ে চিকিৎসকেরা ফরমুলা দুধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ফরমুলার পরিবর্তে মায়ের দুধ খাওয়ানোর প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। কারণ কোলস্ট্রাম বা শাল দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

আজ রাজধানীর বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

নূরজাহান বেগম বলেন, গর্ভাবস্থার ছয় মাস পর থেকে মায়ের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। মা যথেষ্ট খাবার পেলে শিশুর জন্য পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন সম্ভব হয়। কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মায়েরা সচেতনতার অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে সন্তানকে পর্যাপ্ত দুধ খাওয়াতে পারছেন না। তাই দারিদ্র্য হ্রাস ও নারীর পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সরকারসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “গৃহকর্মী মায়েদের ক্ষেত্রেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের অনেক পরিবার সন্তান জন্মের পর গৃহকর্মীদের তাদের শিশুকে কোলে নেওয়ার সুযোগ দেন না। বিষয়টি মানবিক দিক থেকে ভেবে দেখা উচিত।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সায়েদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব ডা. সারোয়ার বারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুছ আলীসহ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যখাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




যেসব কারণে ইলিশের সংকট, জানালেন মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, অবৈধ জাল ব্যবহার, জাটকা নিধন বন্ধ না হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হওয়া ও এর সমাধান বিষয়ক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। এগুলো বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করি সামনে উৎপাদন বাড়বে এবং দামও নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, নদীর নাব্যতা হ্রাস, তথাকথিত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জলবায়ু পরিবর্তনও ইলিশ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এজন্য টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

এছাড়া বাজারে ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর পথে একাধিক হাত বদল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চারণভূমি সংকট প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, “পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় মহিষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ক্ষতির মুখে পড়ছে। তবে সঠিক নীতি নির্ধারণ করা গেলে এসব চারণভূমি রক্ষা সম্ভব।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চারণভূমি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া গেলে মহিষের মাংস উৎপাদন বাড়বে এবং দেশে মাংসের সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মশালায় গবেষক, পশুচিকিৎসক, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের খামারি ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভালো মানুষের অভাবেই বাড়ছে দুর্নীতি: ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার

ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেছেন, ভালো মানুষের অভাবই বাংলাদেশে দুর্নীতি বাড়ার অন্যতম কারণ। দেশের দুর্নীতি কমাতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ভালো মানুষ গড়ে তোলা, এবং সেই কাজের শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষা থেকে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ বানানোর প্রথম স্তর। আশা করি, সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার কাজ এখান থেকেই শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরালো হবে। তখনই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ সম্ভব।”

বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক জেলা শিক্ষা অফিসে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে তিনি টিআইবির বরিশাল কার্যালয় পরিদর্শন করেন।

বেলা এগারোটার দিকে তিনি বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও সংকট সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস, কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান, বরিশাল সনাক সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শাহ সাজেদা, শুভংকর চক্রবর্তী, এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আশফাকুর রহমান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন: বদলি হলো পুলিশের ১২ ডিআইজি

সাত জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগের পর পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল করা হয়েছে। এবার দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ১২ জন উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) বদলি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সই করেন উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তারা তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে।

বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—

  • র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) মো. জিল্লুর রহমান → ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি)।
  • ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) ফারুক আহমেদ → র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি)।
  • হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম → ডিএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি)।
  • সারদা পুলিশ একাডেমির ডিআইজি ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান → রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি।
  • রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া → খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি)।
  • আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ডিআইজি মো. আবুল খায়ের → ঢাকা টিডিএসের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি)।
  • রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার → রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি)।
  • খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী → সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার।
  • এসবির ডিআইজি মীর আশরাফ আলী → সারদা পুলিশ একাডেমি, রাজশাহীতে বদলির আদেশ বাতিল।
  • এসবির ডিআইজি শামীমা বেগম → সারদা পুলিশ একাডেমির ডিআইজি।
  • পিবিআইয়ের ডিআইজি মো. সায়েদুর রহমান → কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি)।
  • হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আবুল কালাম আজাদ → পিবিআই ঢাকা মেট্রোতে ডিআইজি।

পুলিশের অভ্যন্তরে চলমান এ ধরনের রদবদলকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন দায়িত্বশীলরা। তবে একসঙ্গে এত সংখ্যক ডিআইজিকে বদলি করা প্রশাসনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।