১২ মার্চ বসছে নতুন সংসদ, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ আহ্বান করা হচ্ছে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সচিবালয়ে আয়োজিত ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেন, তা অধিবেশন শুরুর কমপক্ষে ১৫ দিন আগে জারি করতে হয়। এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন আহ্বান করবেন। আলোচনার ভিত্তিতে ১২ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যসূচি থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমও শুরু হবে।

রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি অফিসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার অবগত আছে। ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকারের অধীনে প্রথম সংসদ অধিবেশন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সূচনা হতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক ও বইমেলার উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর দ্বৈত কর্মসূচি

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে একুশে পদক প্রদান ও অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সকালে পদক বিতরণ এবং বিকেলে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ।

সংস্কৃতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেওয়া হবে। এরপর বিকেলে প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই অনুষ্ঠান ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, অতিথি তালিকা, নিরাপত্তা ও প্রটোকলসহ সব দিকেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যা প্রকাশকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে ছোট ও মাঝারি প্রকাশকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

গত বছর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য ৯ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পাচ্ছেন—চলচ্চিত্রে , চারুকলায় অধ্যাপক , স্থাপত্যে , সংগীতে (মরণোত্তর), নাট্যকলায় , সাংবাদিকতায় , শিক্ষায় অধ্যাপক , ভাস্কর্যে এবং নৃত্যকলায় । সংগীত দল হিসেবে মনোনীত হয়েছে ।

একুশে পদক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদক প্রদান করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এককালীন ৪ লাখ টাকা, ৩৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, একটি রেপ্লিকা এবং সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

এ বছর সাহিত্য বিভাগে কোনো মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি। মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে এবং জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ অক্টোবর। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের নাম প্রকাশ করা হয়।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একুশে পদক ও বইমেলার উদ্বোধনকে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও সৃজনশীল চর্চাকে সামনে রেখে এই দুই অনুষ্ঠান ঘিরে ইতোমধ্যেই বইপ্রেমী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’: ৫০ লাখ পরিবার পাচ্ছে মাসে ২ হাজার টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এবার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশে ৫০ লাখ স্বল্পআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই হিসাবে এক অর্থবছরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ক্যাশ-আউট চার্জও অন্তর্ভুক্ত। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করলে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আগে থেকেই যেসব কর্মসূচি চালু আছে সেগুলোর উপকারভোগীদের তথ্য একীভূত করে নতুন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকারের নতুন করে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী –এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারা অগ্রাধিকার পাবেন তা নিয়েও একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। যেসব পরিবারের বসতঘর মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশের তৈরি এবং কৃষিযোগ্য জমি নেই, তারাও তালিকায় এগিয়ে থাকবে।

বর্তমানে –এর আওতায় প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের তথ্য সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। দ্বৈত সুবিধা এড়াতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে তথ্য যাচাই করে যাদের দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে।

প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এই চারটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে ইতোমধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে দ্রুত যাচাই সম্ভব।

জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসি আইএমইআই তথ্যভাণ্ডার, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি গভর্নমেন্ট টু পাবলিক পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো হবে। এতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ৮টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, পরবর্তী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর চার দিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে অর্থ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যমান ডাটাবেজ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলে ঈদের আগেই প্রথম ধাপে কার্ড বিতরণ সম্ভব।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই বাস্তবায়ন শুরু হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, ভেঙে গেল অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। ফলে প্রশাসনিকভাবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শপথ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর –এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

দলটির চেয়ারম্যান –এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে থাকা দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে বিজয়ী দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে , , , , , , , , , , , এবং ।

আগামী মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের শপথ পাঠ করাবেন বলে জানা গেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে বিএনপি জোট সরকার গঠনের পথ সুগম করে। শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মন্ত্রী হচ্ছেন তামিম? নিজেই দিলেন স্পষ্ট জবাব

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই আলোচনায় উঠে আসে দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক –এর নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় তাকে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাকে ভাবা হচ্ছে—এমন গুঞ্জনও আলোচনায় আসে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে। নির্বাচনের আগে দলটির কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারণায় তামিমকে দেখা যায়। এ থেকেই অনেকের ধারণা, তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে যখন বিভিন্ন নাম সামাজিক মাধ্যমে ঘুরতে থাকে, তখন সেই তালিকায় যুক্ত হয় তামিমের নামও। এমনকি নির্বাচন না করেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও ছড়িয়ে পড়ে।

গুঞ্জনের জবাবে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তামিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাকে ঘিরে প্রচারিত খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এমন কোনো প্রস্তাব তিনি পাননি এবং এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে ক্রীড়াবিদদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। ও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই তামিমের ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা দেখছিলেন। তবে বাস্তবে তিনি কোনো আসনে প্রার্থী হননি; কেবল নির্বাচনি প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাবেক ফুটবল অধিনায়ক –এর নামও আলোচনায় এসেছে। তিনি ঢাকা-১৬ আসনে প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি এবং ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ ধারণা করছেন, নির্বাচিত না হলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় তার মন্ত্রিত্বের সুযোগ থাকতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তামিম। ৩৬ বছর বয়সে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেন তিনি। চট্টগ্রাম-৯ আসনে ভোট দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি নজরে পড়ায় গুঞ্জন পুরোপুরি থামছে না। তবে আপাতত নিজ মুখে দেওয়া বক্তব্যেই স্পষ্ট, মন্ত্রিত্বের আলোচনাকে তিনি ভিত্তিহীন বলেই মনে করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু, বাড়ানো হয়েছে সময়; সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট নয় ঘণ্টা। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার উপস্থিত থাকলে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে জাতীয় নির্বাচনগুলো সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আট ঘণ্টা চলত। এবার একইদিনে গণভোট আয়োজনের কারণে ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার চার লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন। সাদা ব্যালটটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটটি গণভোটের জন্য নির্ধারিত।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট বাতিল হওয়ায় এবার ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল। ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।

৩৫ বছরের কম বয়সী ভোটারের সংখ্যা চার কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার দুই কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এ বয়সসীমায় পুরুষ এক কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন, নারী ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪০৮ জন।
২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন এক কোটি ৭৮ লাখ এক হাজার ৩০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ এক কোটি ৪১ লাখ এক হাজার ৯০ জন, নারী ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫৬৭ জন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার প্রথমবারের মতো ইউএভি, ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া ৮১টি দেশীয় নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানা প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে চলছে ভোটগ্রহণ। এখন অপেক্ষা ফল ঘোষণার।

 

আল-আমিন



ভোর থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের ঢল, উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু ভোটগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ফজরের নামাজের পরপরই অনেকে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান।

ভোট শুরুর আগে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় বাইরে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কেন্দ্র ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। পরিবার বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আগেভাগেই কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে।

পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে ছিল কড়া যাচাই-বাছাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের পক্ষে অস্থায়ী বুথ বসানো হয়েছে। সেখান থেকে ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর ও কক্ষসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোটাররা সহজে নিজেদের বুথ খুঁজে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মগবাজার বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তাদের ভাষ্য, শান্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন।

ভোটার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, অনেকদিন পর স্বস্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। তাই সকালেই চলে এসেছি। আরেক ভোটার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ঝামেলা এড়াতে শুরুতেই ভোট দেওয়াই ভালো মনে করেছেন। তার সঙ্গে একই এলাকার আরও কয়েকজন ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর কেন্দ্রেই গণনা শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি এসেছে। এখন সবার নজর ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজই সিদ্ধান্তের দিন, ভোটে দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত গণভোট আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রশ্নেও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন এক লাখের বেশি। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ক্যামেরা। যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত জানাতে চালু রয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ও হটলাইন নম্বর ৩৩৩।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ভোট মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে নির্বাচনে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন ৫৫ হাজারের বেশি। কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই শুরু হবে গণনা। ফলাফল কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আশা, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই ভোট ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন চোখ ভোটারদের দিকে—নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তারা কেমন রায় দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন কখনোই শতভাগ নিখুঁত হয় না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন কখনো পুরোপুরি পারফেক্ট হওয়া খুবই বিরল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে যেমন কোনো কিছুই সম্পূর্ণ নিখুঁত হয় না, তেমনি নির্বাচনেও কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা থাকেই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই নির্বাচন জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে কি না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা ও সংশয় থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার আশা করছে খুব শিগগিরই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো কিছু মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন, তবে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেই তিনি মনে করেন।

জনমত প্রসঙ্গে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, জনমত যাচাইয়ের জন্য কেবল সংখ্যার দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ও মানুষের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি বোঝা যায়। তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এর আগে যেসব নির্বাচন হয়েছে, যেগুলোকে আমরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করি, সেগুলোর প্রতিটিতেই কোনো না কোনোভাবে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছিল।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি ভারতের উদাহরণ তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে এবং এ নিয়ে তারা গর্বও করে। কিন্তু সেখানেও নির্বাচন পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। নানা ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সেখানেও দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে পারফেক্ট নির্বাচন বাস্তবে খুবই বিরল।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তবে সবাই নয় এবং কেউই এ বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি প্রতিনিধি তাকে বলেননি যে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ করা উচিত বা উচিত নয়, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও দেননি। কেউ কেউ কেবল জানতে চেয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। সরকার চায়, নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হোক, যেখানে জনগণের মতামতই হবে মূল বিবেচ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম