প্রধান শিক্ষকের ব্যাগে মিড-ডে মিলের ডিম-রুটি, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকের ব্যাগে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ মিড-ডে মিলের ডিম ও রুটি পাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তাদের নজরে আসে। এরপর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিক রেশমা আক্তার মিষ্টি বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটকে তার ব্যাগ তল্লাশি করেন। এ সময় ব্যাগ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দের দুই ডজন ডিম ও ২২টি রুটি উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই প্রধান শিক্ষিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে প্রথমে ব্যাগ দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষিক। পরে তাদের চাপে ব্যাগ খুলে দিলে সেখান থেকে সরকারি বরাদ্দের ডিম ও রুটি বেরিয়ে আসে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার আত্মসাতের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিক রেশমা আক্তার মিষ্টি বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জেরেই আমার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।




ড্রেন নির্মাণকাজে দেয়াল ধস, বরিশালে নির্মাণশ্রমিক নিহত

বরিশাল সংবাদদাতা : বরিশাল নগরীতে ড্রেন নির্মাণকাজ চলাকালে দেয়াল ধসে জোবায়ের ইসলাম (৩০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নগরীর পুলিশ লাইনস এলাকার ওয়াইডব্লিউসি গলিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জোবায়ের ইসলাম ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কয়েকজন শ্রমিক ড্রেন নির্মাণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ পাশের একটি পুরোনো দেয়াল ভেঙে পড়তে শুরু করলে তিনজন শ্রমিকের মধ্যে দুজন দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে জোবায়ের ইসলাম ভারসাম্য হারিয়ে ড্রেনের ভেতরে পড়ে যান। এ সময় ধসে পড়া দেয়ালের একটি বড় অংশ তার শরীরের ওপর এসে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ড্রেন নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। কাজ শুরুর আগে দেয়ালের স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হলে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. অভি বলেন, “প্রায় সাড়ে তিন ফুট গভীর করে ড্রেন খনন করা হয়েছিল। দেয়ালটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়নি। কী কারণে হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়ল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।




ঠিকাদারের অভিযোগে ববি ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাহাত রাব্বি,বরিশাল  :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, কাজে বাধা সৃষ্টি এবং ঠিকাদারকে হয়রানির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু, যিনি বরিশাল মহানগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। গত ১১ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর তিনি এ আবেদন জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিব, নেতা আরাফাতসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পান ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রকল্পের অংশ বা ভাগ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ কাজ চলাকালে একটি সংঘবদ্ধ দল কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ এবং দলের ভাবমূর্তির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে পুনরায় কাজের অংশ দাবি করা হয়। এতে অসম্মতি জানালে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার।

আওলাদ হোসেন মনু দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে ল্যাব পরীক্ষায় ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান সন্তোষজনক এবং ‘এ’ গ্রেড হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবেদনে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি আস্থা রেখে তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযোগের পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া অভিযুক্ত আরাফাতের বিরুদ্ধে মাছের পোনা ক্রয় সংক্রান্ত চাঁদাবাজি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য করায় এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। যেখানে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করলেই প্রকৃত বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন,অভিযোগটি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনুর বিরুদ্ধেও অতীতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




পবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. এস এম হেমায়েত জাহান

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের (এনটোমোলজি) অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান।

সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত, যেটি আগে হবে। উপাচার্য হিসেবে তিনি বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিশু মৃত্যুর পর সিদ্ধান্ত, মাজারের কুমির যাচ্ছে সুন্দরবনে

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হলে দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক জানান, মাজার এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে আপাতত সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কুমিরটিকে নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বুধবার খুলনা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। তারা কুমিরটি ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করবেন।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সোমবার রাতের দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি শিশুটিকে আক্রমণ করে এবং পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পরদিন মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন মহিলা ঘাট এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী এবং ভক্তদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অনেকে দীঘিতে থাকা কুমিরটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের মতে, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই স্থানে মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কুমির স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বগা সেতু ঘিরে উত্তেজনা, সভাস্থলে না গিয়েই ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

পটুয়াখালীর বাউফলে প্রস্তাবিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নির্ধারিত সভাস্থলে না গিয়েই তিনি ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে তিনি বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই উপলক্ষে নদীর পূর্বপাড়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মন্ত্রীর আগমনের আগেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। সভাস্থলের ব্যানার ও ফেস্টুনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িবহর ফেরি পার হয়ে সভাস্থলের দিকে এগোলে একদল বিএনপি সমর্থক বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও প্রায় ৪৫ মিনিট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সেতুমন্ত্রী নির্ধারিত সভাস্থলে না গিয়ে ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন এবং পশ্চিমপাড়ের দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকায় ফিরে যান।

পরে তিনি দুমকি উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সমাবেশে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাউফলের এক শিক্ষার্থীর লেখা চিঠি ও ভিডিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বগা ফেরিঘাট এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে ঝুঁকি ও যানজট বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী বগা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

উল্লেখ্য, লোহালিয়া নদীর ওপর ‘বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের সময় নেওয়া হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্থানীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতি শেষ—এটা ভাবার সুযোগ নেই”

নৌ পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেছেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে—এমন ভাবার কোনো সুযোগ নেই। দল যাকে সমর্থন দেবে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।”

মঙ্গলবার (১৯ মে) হিজলা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সততা ও যোগ্যতা নিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একটি “অদৃশ্য শক্তি” কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সেই শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে কোনো লাভ নেই। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের জন্য কাজ করতে হবে এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে মানুষের ক্ষতি হয়।”

সভায় হিজলা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী সেসব বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে তিনি হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় যোগ দেন। সভায় এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




যুবদল নেতা হানিফ খান’কে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী

বিশেষ প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র দুঃসময়ের কান্ডারী, ত্যাগী, আপোষহীন, বারবার কারানির্যাতিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ‘বরিশালের কৃতিসন্তান’ নিবেদিত প্রাণ ও বরিশাল মহানগরীর ২৫নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব “হানিফ খানকে” কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী।

তরুণদের মাঝে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি মুরুব্বিদের কাছেও গ্রহণযোগ্য অনন্য নাম “হানিফ খান”।

স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন “হানিফ খান”। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি ইতোমধ্যে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাকে কাউন্সিলর হিসেবে পেতে চান এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, হানিফ খান সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন।

হানিফ খানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন সময় তিনি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে তরুণদের কাছে একজন আদর্শ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

হানিফ খান কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নাগরিক সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে হানিফ খান বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসী যদি আমাকে যোগ্য মনে করে এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দেয়, তাহলে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো”।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা হানিফ খানকে সম্ভাবনাময় কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।




অপসারণ হচ্ছে বিতর্কিত সেই পার্ক

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি সড়কে নির্মিত বিতর্কিত শিশুপার্ক অপসারণের কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের অংশ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে পার্ক নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। বিশেষ করে ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের অংশ হওয়ায় এলাকায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, শুরু থেকেই প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা গুরুত্ব পায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার মায়ের নামে পার্কটির নামকরণ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পার্ক নির্মাণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং সড়কের অংশসহ আশপাশের কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, পার্ক নির্মাণের সময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া সড়কের বাইলেন সংকুচিত হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় দুই পাশ থেকে আসা যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে নগরবাসীর একাংশ পার্ক অপসারণের দাবি জানাতে থাকেন। গত বছরের বিভিন্ন ঘটনার পর পার্কটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে পুরো স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পার্কের অবশিষ্ট অংশ অপসারণ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।

সিটি করপোরেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নগর উন্নয়নের নামে যেন কোনো অপরিকল্পিত বা বিতর্কিত স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিকল্পনা, পরিবেশ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেব মন্ডলকে ঘিরে বরিশালের ফুটবল স্বপ্ন

বরিশালের ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার নাম এখন দেব মন্ডল। সীমিত সুযোগ-সুবিধা আর অভাবের মধ্যেও নিজের প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে কিশোর ফুটবলে দারুণ সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছেন উজিরপুরের এই তরুণ ফুটবলার। চলমান ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ইতোমধ্যে বরিশালের ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন তিনি।

উজিরপুরের সরকারি বারো বাইকা মডেল ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেব মন্ডল ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর আগ্রহ নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো নামী একাডেমি কিংবা পেশাদার প্রশিক্ষকের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ না পেলেও স্থানীয় মাঠেই নিজের দক্ষতা গড়ে তুলেছেন তিনি।

টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ে উজিরপুরের হয়ে মাঠে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন দেব। একাধিক গোল করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জায়গা করে নেন বরিশাল জেলা কিশোর দলে। এরপর জেলা দলের জার্সিতেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে সময় নেননি এই তরুণ স্ট্রাইকার।

আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী ম্যাচে পিরোজপুর জেলা দলের বিপক্ষে একাই তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেব মন্ডল। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বরিশাল জেলা দল ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। পুরো ম্যাচজুড়ে তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগে দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

পরবর্তীতে সেমিফাইনালে পটুয়াখালী জেলা দলের বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বরিশাল জেলা দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

দেব মন্ডলের পরিবার জানায়, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন করে নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন তিনি। জাতীয় দলের ফুটবলারদের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হন এই কিশোর ফুটবলার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রিয় খেলোয়াড় আর্জেন্টাইন তারকা Lionel Messi।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে দেব মন্ডল ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।

এখন সবার দৃষ্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে। ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, দেব মন্ডলের পা থেকেই আবারও আসবে জয়ের গল্প।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫