লেডিস ক্লাবে আজ সংবাদকর্মীদের ইফতার
আজ সন্ধ্যায় মিডিয়া কর্মীদের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এক ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সন্ধ্যায় মিডিয়া কর্মীদের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এক ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান সম্প্রচার বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে চ্যানেল ওয়ান সম্প্রচারে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদালতে চ্যানেল ওয়ানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন আদালতে চ্যানেল ওয়ানের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল, পলাশ চন্দ্র রায়, কাজী আখতার হোসেন, মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, ব্যারিস্টার মারুফ ইব্রাহিম আকাশ এবং মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ।
দেশের বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ওয়ান’ ১৬ বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর তৎকালীন সরকার ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ বন্ধ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক এবং প্রতিহিংসাবশত শেখ হাসিনা বিটিআরসিকে বাধ্য করে জনপ্রিয় এই গণমাধ্যমটির সম্প্রচারে হস্তক্ষেপ করেন।
পরে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করেন চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সরাসরি তৎকালীন সরকারের অন্যায় নির্দেশে মামলার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
চ্যানেল ওয়ান এর লিগ্যাল অফিসার মিজান-উল হক বলেছেন, ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও মামলা নিয়ে আদালতে গেলে চেম্বার জজ আপিল করার অনুমতি দেন।
আদালতের এমন আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চ্যানেল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। বলেন, অন্যায়ভাবে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আজ আদালত ন্যায় বিচার করেছেন।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মিরপুরের গোল চত্বর এলাকায় আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী হত্যা মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এদিন সাংবাদিক দম্পতিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। পরে আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ মঞ্জুর করেন।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় কুয়াকাটা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিক মিরনের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বক্তব্য রাখেন:
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার
জনপ্রিয় অভিনেতা সাদ্দাম মাল
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা
সাংবাদিক মিরনের ওপর হামলা
গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে বারোটার দিকে, বাংলাভিশনের কলাপাড়া-কুয়াকাটা প্রতিনিধি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরনকে বাসার সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। এতে তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ হামলাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন এবং প্রশাসনের প্রতি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরনের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, রিপোর্টার্স ক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম, সাংবাদিক ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় মানুষও তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি মেজবাহউদ্দিন মান্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মিন্টু, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহিদ রিপন, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাওসারসহ আরও অনেকে।
বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সকল সংবাদ বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাভিশন টিভির কুয়াকাটা প্রতিনিধি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরনকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাংলাভিশন টেলিভিশনের পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরনকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত নির্মমভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার তুলাতলী মহাসড়কে তার বাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিরনের শরীরে অসংখ্য কোপের চিহ্ন রয়েছে। তার এক হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে, অন্য হাতের কব্জি ঝুলে গেছে। মাথা, কপাল ও পেটে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকা থেকে ফিরে কুয়াকাটা পৌরসভার তুলাতলী মহাসড়কে নামেন মিরন। বাসায় পৌঁছানোর ৫০ গজ দূরেই একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। মিরনের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আদালতের নিকট স্বামীসহ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আকুতি জানিয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। তার স্বামী একাত্তর টিভি থেকে চাকরিচ্যুত বার্তা প্রধান শাকিল আহমেদ।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামানের আদালতে মিরপুর থানার এক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে তিনি এ আকুতি জানান। শুনানিকালে আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান ফারাজানা রুপা। বিচারক তাকে আইনের ভেতরে থেকে কথা বলতে অনুমতি দেন।
অনুমতি পেয়ে ফারজানা রুপা কাঠগড়ার সামনের দিকে এগিয়ে এসে বলেন, আমার ছোট্ট শিশু সন্তান আছে। আমি আর আমার স্বামী দুজনই কারাগারে। ৬ মাস হয়ে গেছে। আমাকে জামিন দিন। আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে চাই।
শুনানি শেষে আদালত ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে এদিন সকালে প্রিজনভ্যানে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয় ফারজানা রুপাকে। এরপর তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নারীদের সেলে রাখা হয়। একইভাবে সকালে কেরানিগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে রুপার স্বামী শাকিল আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর হাজতখানার পুরুষ সেলে রাখা হয়। আলাদা সেলে রাখায় দেখা হয়না এই সাংবাদিক দম্পতির।
কিছুক্ষণ পর মিরপুর থানার এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে হাজির করতে প্রস্তুত করা হয় রুপাকে। হাতে হাত কড়া, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরানো হয় তাকে। এরপর রুপাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরিফ হাসানের সঙ্গে সারি সারি করে এজলাসে তোলা হয়।
এজলাসে ঢোকার কাঠগড়ায় ওঠার পরেই রুপা তার স্বামী শাকিল আহমেদকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু দেখা না মেলায় উদ্বিগ্ন দেখা যায় তাকে। কয়েক মিনিট পর সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননের সঙ্গে হাজতখানা থেকে সাংবাদিক শাকিলকে এজলাসে তোলা হয়।
শাকিল কাঠগড়ায় উঠতেই যেন প্রাণ ফিরে পান রুপা। আবেগে আপ্লুত হয়ে এই দম্পত্তি নিজেদের ভিতর আলাপ করতে থাকেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এতে মন মরা হতে দেখা যায় ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদকে। তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাকিল আহমেদ বলেন, কথা বলতে মানা। মুখ বন্ধ আমাদের।

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় রিপোর্টার্স ক্লাবের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর, একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে, যাতে সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে ক্লাব মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু, এবং পৌর বিএনপি’র সভাপতি গাজী মো. ফারুক।
আলোচনা সভা শেষে ৯ পাউন্ড ওজনের একটি কেক কাটা হয়। পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আহম্মেদ পাশা তানভির এবং রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক।

২০২৪ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি ঘটনাবহুল বছর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন—সবই ঘটেছে এই বছরে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এ সময়ে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের প্রচারও ছিল নজিরবিহীন।
তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ১৪৮টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি আড়াই দিনে একটি করে ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭২টি ভারতীয় গণমাধ্যম এবং অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশকে নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে।
—
আগস্ট-ডিসেম্বর: অপতথ্যের উচ্চ প্রবাহ
২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ১২টি অপতথ্য প্রচার হলেও, আগস্ট মাসে ৫৩টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। এরপর ডিসেম্বরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতারের ঘটনায় ফের ৫৩টি অপতথ্য ছড়ায়।
রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে প্রকাশিত ১৪৮টি অপতথ্যের মধ্যে ১০২টি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, ৪২টি ছিল বিভ্রান্তিকর, এবং ৪টি ছিল বিকৃত তথ্য।
—
সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের প্রভাব
ভারতীয় অপতথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সাম্প্রদায়িক অপতথ্য, যার সংখ্যা ১১৫টি। এসব অপতথ্যের বেশিরভাগই প্রচারিত হয় মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার)। রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, এক্সে ছড়ানো এসব অপতথ্য অন্তত ২৫ কোটি বার দেখা হয়েছে।
অগাস্ট মাসে সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের মাত্রা ছিল চরমে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লুটপাটের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপকভাবে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য ছড়ানো হয়।
—
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপতথ্যের প্রসার
২০২৪ সালে ভারতীয়দের ছড়ানো অপতথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচার হয়েছে এক্সে (১০৭টি)। এছাড়া, ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে অন্তত ৫০টি অপতথ্য, যা ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেও ছড়িয়ে যায়।
রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, ৫ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে এক্সে এমন ৫০টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়, যেগুলো থেকে বাংলাদেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক পোস্ট করা হয়েছে।
—
অপতথ্যের ধরন
ভারতীয় অপতথ্যের মধ্যে কয়েকটি বিশেষ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে:
1. মুসলিমকে হিন্দু বানিয়ে অপপ্রচার: অন্তত ৩৬টি ঘটনায় মুসলিমদের হিন্দু দাবি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়।
2. ভিন্ন দেশের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে বলে প্রচার: ১৩টি ঘটনায় ভারতের ভেতরকার ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে উপস্থাপন করা হয়।
3. রাজনৈতিক সহিংসতাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখানো: এসব ঘটনা ব্যবহার করে ভারতের গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
—
গণমাধ্যমের ভূমিকা
ভারতের ৭২টি গণমাধ্যম ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে ১৩৭টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার অধিকাংশই অপতথ্য ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য প্রচার করেছে:
রিপাবলিক বাংলা (১০টি প্রতিবেদন)
হিন্দুস্তান টাইমস
জি ২৪ ঘণ্টা
আজত
—
ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অপতথ্য
২০২৪ সালে অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যক্তি:
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস: ৪টি অপতথ্য
ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ২টি অপতথ্য
শেখ হাসিনা: ২টি অপতথ্য
এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিমান বাহিনীকে নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
—
২০২৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় অপতথ্যের প্রবাহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করা হয়। রিউমর স্ক্যানারের গবেষণা থেকে স্পষ্ট যে, এসব অপতথ্য শুধু সামাজিক অস্থিরতা নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।

গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা শফিকুল আলম। তিনি এক সময়কার স্বৈরাচারী সরকারের গণমাধ্যমের প্রতি ভয়ানক ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। শফিকুল আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরে সাংবাদিকদের কাজ করতে বাধা দেয়া হয়েছে এবং গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপে অনেক সংবাদপত্রের মুখ বন্ধ করা হয়েছিল।
শফিকুল আলম আরো বলেন, “ফোনকলের মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাকরি চলে যেত এবং সংবাদ নামিয়ে ফেলতে হতো। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের হস্তক্ষেপ না হয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” তিনি যোগ করেন যে, “গণমাধ্যমের ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং অনেক সংবাদ মাধ্যম নির্ভরশীল ছিল সরকারের ফোনকলের ওপর।”
ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে সাফাই গেয়ে কলাম লেখকদের বিরুদ্ধে গবেষণার পরামর্শ দিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “এটা আমাদের উদ্দেশ্য নয় কাউকে শাস্তি দেয়া, বরং ইতিহাসে ফ্যাসিবাদী শক্তির মুখোশ উন্মোচন করা আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি কপিরাইট আইনের প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “সাংবাদিকদের কাজ চুরি করা অন্য সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”
আলোচনা সভায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেনও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি গণমাধ্যম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রকাশ করলে, তাকে সাংবাদিকতা ছেড়ে অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে কাজ করা উচিত, কিন্তু এক সাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
এই সভায় আরও বক্তব্য দেন দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক আব্বাস উদ্দিন, উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মাহবুব আলম এবং আইনজীবী মোল্লা মো. ফারুক কায়সার প্রমুখ।
আলোচনাটি আয়োজন করেছিল ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই’ নামক সংগঠন এবং সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন।