প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বচ্ছ যাচাইয়ের মাধ্যমে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়া হবে: শফিকুল আলম

প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের স্বচ্ছতা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণমাধ্যমের হালচাল’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, “আগের মতো আর সংসদ সদস্য, ছাত্রলীগ বা অন্যান্য নেতাদের মাধ্যমে তদবির করে সাংবাদিক পরিচয়ে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়া যাবে না। এটি বন্ধ করা হবে। প্রকৃত সাংবাদিকদের যাচাই করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই কার্ড প্রদান করা হবে।”

৫ আগস্টের পর যে ২৬৬টি হত্যা মামলা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সরকার অবগত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এই মামলাগুলোর কারণে কাউকে হয়রানি করা হয়নি। কেউ গ্রেফতার হয়নি, বরং সবাই তাদের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।”

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত নয় মাসে গণমাধ্যম ছিল স্বাধীন। কিন্তু অতীতে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ শেখ হাসিনাকে বৈধতা দিতে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানকারীদের সন্ত্রাসী বলেছে। এতে কিছু সাংবাদিক চাকরি হারালেও তার দায় সরকারের নয়।”

শফিকুল আলম বলেন, “সরকার কোনো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করেনি। নেত্র নিউজসহ যেসব অনলাইন ব্লক ছিল, সেগুলোকেও খুলে দেওয়া হয়েছে। কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়ালেও তার মতাদর্শের কারণে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। তবে সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিকদের জন্য গাইডলাইন থাকা উচিত, যেমনটা অন্যান্য দেশেও রয়েছে।”

গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক কাঠামোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নতুন অর্থনৈতিক মডেল দরকার যাতে সাংবাদিকদের কপিরাইট ও বেতন সুরক্ষিত থাকে। গণমাধ্যমের দায়িত্ব সরকারের নয়, মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে।”

আলোচনায় পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “গণমাধ্যমের সহায়তা ছাড়া দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তাই গণমাধ্যম সংস্কার জরুরি। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই’ এর আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন শিশির এবং প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুখপাত্র প্লাবন তারিক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল হোসেন, ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক একরামুল হক সায়েম প্রমুখ।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সাংবাদিক ছাঁটাই বন্ধে কড়া বার্তা তথ্য উপদেষ্টার

বিনা নোটিশে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো সাংবাদিককে হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত করা আইনি ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “তিনজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, আমরা এর বিরোধিতা করি। সরকার চায় না কেউ কর্মহীন হোক। একজন মানুষের জীবিকার ওপর আঘাত এলে তা অনুচিত। সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না।”

আজ সোমবার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবাদিক হত্যা-নিপীড়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের হলরুমে।

তিনি বলেন, “দীপ্ত টিভি কাউকে কোনো নোটিশ না দিয়ে সংবাদ প্রচার বন্ধ করে দেয়, ফলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খবর হয়—যেন সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ সরকার এমন কিছু করেনি। এটা ছিল টেলিভিশনটির একক সিদ্ধান্ত। সরকারের অবস্থান পরিষ্কার—কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করা হবে না। তবে কোনো মাধ্যম পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করলে সেটি খতিয়ে দেখা হবে।”

মাহফুজ আলম আরও বলেন, “সরকারকে প্রশ্ন করা উচিত। প্রশ্ন করলে সরকার জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। তবে প্রশ্ন আর প্রোপাগান্ডা এক নয়। এখনো কিছু পত্রিকা ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘আন্দোলন’ বলে উল্লেখ করছে। এভাবে তারা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করছে। এতে বোঝা যায় তারা হাজার হাজার শহীদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করছে, যেটা সত্যিই দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের কেউ যেন এ ঘটনার সত্যতা আড়াল না করে। আমরা কোনো সংবাদমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করিনি, করবও না। কিন্তু ইতিহাস বিকৃতির প্রয়াস গণমাধ্যমের পক্ষেও কাম্য নয়। শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের শাসনামল অন্য যে কোনো কালের তুলনায় স্বতন্ত্র। এই ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি পথ হারাবে।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে অনেক গণমাধ্যম লাইসেন্স পেয়েছে, যেগুলো তদন্ত করা হবে। কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আড়ালে কেউ যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ না করে।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা নিজেই পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর আগেও শেখ পরিবারের সদস্যরা পালিয়েছেন। আজ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে—এ দায় শেখ হাসিনার।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক আবুল আসাদ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলি এবং শীর্ষ নিউজের সম্পাদক একরামুল হক।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কাউসার আহাম্মদ এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ফায়জুল হক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দীপ্ত টিভির সংবাদ কার্যক্রম তারা নিজেরাই বন্ধ করেছে: মাহফুজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : উপদেষ্টা মাহফুজ বলেন, এক সাংবাদিক গণহত্যার পক্ষ নিয়ে প্রশ্ন করার প্রেক্ষিতে দীপ্ত টিভির সংবাদ কার্যক্রম তারা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছে, সরকার এখানে কিছু বলেনি, কাউকে কলও দেওয়া হয়নি।

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘মন্ত্রিত্বের ৬ মাসে কাউকে আমরা কল দেইনি। দীপ্ত টিভির সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং সংবাদ বিভাগ বন্ধ করা হয়েছে। এখন মানুষ ভাববে- এটা সরকার করেছে।’

মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও একাডেমিক ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।




গণমাধ্যম সূচকে ১৬ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে এক বছরে ১৬ ধাপ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আজ শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সকল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সরকারের প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করছে। কোনো সংবাদমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করার জন্য টেলিফোন বা রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান উপদেষ্টা।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই সূচকে ১৬ ধাপ উন্নতি তারই প্রমাণ। অচিরেই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একাধিক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর বাংলাদেশের অবস্থান আরও উন্নত হবে এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের পেশাগত অধিকার আরও মজবুতভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস্’ কর্তৃক প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০২৫’-এর তথ্যমতে, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪৯তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৬৫তম। এ বছর বাংলাদেশ ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ৩৩ দশমিক ৭১, যা গত বছরের ২৭ দশমিক ৬৪ থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন।

তবে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২১তম। সেখান থেকে দীর্ঘ ১৫ বছরে মোট ৪৪ ধাপ পিছিয়েছে দেশটি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান এ বছর বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে ১৫১তম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন তামিম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : হৃদরোগের জটিলতা কাটিয়ে গেল ২৮ মার্চ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তামিম ইকবাল। সেদিন (শুক্রবার) দুপুরের দিকে তিনি হাসপাতাল ছেড়েছিলেন। তখন থেকেই বলা হচ্ছিল, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়া হতে পারে তামিম ইকবালকে।

হাসপাতাল ত্যাগের পরেই বিসিবির এক চিকিৎসক বলছিলেন, বর্তমানে তিনি সব দিক থেকেই ভালো আছেন তামিম। আর সে কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শেই বাড়িতে চলে যান তিনি। পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে।

এক সপ্তাহের বেশি সময় নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন তামিম। এখন কী অবস্থায় আছেন তিনি খোঁজ নিয়ে জানা গেল বেশ ভালো আছেন জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার। ঢাকা পোস্টকে আজ শনিবার বিষয়টি জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরি।




সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ গঠনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকতার পরিবেশকে সাংবাদিকবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার রাজধানীর তথ্য ভবনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের পরিবার এবং অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের মাঝে কল্যাণ অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

সাংবাদিকদের মানবেতর জীবনযাপন ও স্বল্প বেতনের বাস্তবতা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহফুজ আলম বলেন, “ঢাকা শহরের সাংবাদিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আমি নিজেও সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছি। তখন দেখেছি, ১০-১২ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয় সাব-এডিটর বা নিউজরুম এডিটরের জন্য। এই বেতনে তো পরিবারের খরচ দূরের কথা, একটা ফ্ল্যাট ভাড়াও সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা থাকলে কল্যাণ অনুদান প্রদানের প্রয়োজন হতো না। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

গুজব প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, “সাংবাদিকদের কল্যাণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। তবে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে হবে।”

অনুদান বিতরণ ও উপস্থিত ব্যক্তিত্ব

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন—গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, সাজিদ আরাফাত ও মীর মুশফিক আহসান।

অনুষ্ঠানে ৩৭৪ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে মোট ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার অনুদান চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১১টি পরিবার মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের, আর ১৯২ জন সাংবাদিক বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণমাধ্যম সংস্কারের নতুন প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রতিবেদনে একাধিক সুপারিশের মধ্যে অন্যতম হলো—এক মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম না রাখা, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রণয়ন এবং টিআরপি যাচাইয়ের জন্য তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের মালিকানায় কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। এক মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম না রাখার সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, মালিকদের একটিকে বেছে নিতে হবে অথবা অন্যগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করতে হবে।

এছাড়া, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একটি পৃথক আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যেমন সাংবাদিকদের ফোন তল্লাশি করা যায় না, তেমনই বাংলাদেশেও এমন আইন কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনুমোদনের জন্য জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল সরকারের উন্নয়ন প্রচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষ থাকে, সে জন্য নতুন সম্প্রচার সংস্থা গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের আওতায় পরিচালনার সুপারিশ করেছে কমিশন। সরকারি বিজ্ঞাপন ও সংবাদমাধ্যমের সার্কুলেশন নিয়ে অনিয়মের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। বিসিএস নবম গ্রেডের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এন্ট্রি-লেভেলের সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সংবাদপত্রের কর্পোরেট ট্যাক্স প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে গণমাধ্যম শিল্পের ব্যয় কমে আসে এবং একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মিরপুরে নারী সাংবাদিকের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে এক নারী সাংবাদিক ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সোমবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে পল্লবী থানার বালুরঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক একটি জাতীয় দৈনিকে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকায় নিরীহ নারী-পুরুষদের প্রলোভনে ফেলে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল করছে। এই চক্রের কার্যকলাপ অনুসন্ধানের জন্য তিনি নিজেই মাঠে নামেন।

সোমবার রাত ১১টার দিকে তথ্য সংগ্রহের জন্য মাটিকাটা এলাকার সিঙ্গার শোরুমের গলিতে গেলে মামলার আসামিরা তাকে ঘিরে ফেলে। এলোপাতাড়ি মারধর করে টেনেহিঁচড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে তাকে বালুরঘাট এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার অন্ধকার কক্ষে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মামলায় এনায়েত হক, হামিদুর রহমান, ছোট ইয়াসিন, বড় ইয়াসিন, শাহীন, রবি, হাসান, আনু ও আরও ৮ অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পত্রিকার বিজ্ঞাপন হার পুনঃনির্ধারণ ও মিডিয়া তালিকা হালনাগাদের ঘোষণা

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, পত্রিকার বিজ্ঞাপনের হার পুনঃনির্ধারণ ও মিডিয়ার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) তিনি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি), গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও তথ্য অধিদপ্তর পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের শুটিং ফ্লোর, সাউন্ড থিয়েটার, ফিল্ম ল্যাব, ক্যামেরা সেন্টার ও প্রোডাকশন রুম পরিদর্শন করেন এবং এসব স্থাপনার সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যমান আইন ও বিধি মেনে সেবা সহজীকরণ ও কাজের মান বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রকাশনাগুলো পর্যালোচনা করেন এবং আরও উন্নতমানের প্রকাশনা বের করার বিষয়ে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি দপ্তর ও সংস্থাগুলোর উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) খালেদা বেগম, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ফায়জুল হক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকি প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর দুমকি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক বিশেষ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুমকি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুমকি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এশিয়ান টিভির উপজেলা প্রতিনিধি আবুল হোসেন। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান খান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মৃধা, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মুন্না জহির, পল্লী সেবা সংঘের পরিচালক হোসাইন আহমদ কবির হাওলাদার, দুমকি নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জামাল হোসেন মৃধা ও পিরতলা বণিক সমিতির সভাপতি বশির উদ্দিন হাওলাদার।

এছাড়াও ইফতার মাহফিলে দুমকিতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মাহফিলের সূচনা হয়। মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম