ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আয় ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে

চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার শুল্ক আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের কারণে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই আয় ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্কট বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কল্যাণে মূল আয় শুরু হয়েছে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ গত ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক আরোপের পর ৯ এপ্রিল তা স্থগিত করে যখন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেন, তার পর থেকে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়িতেও শুল্ক আরোপ করেন তিনি।

স্কট বেসেন্ট বলেন, তাই ধারণা করা যায়, বছরের শেষে শুল্ক আয়ের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশটির অর্থ বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, এই ৩০ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া পঞ্জিকা বছরের জন্য ধরা হয়েছে, সরকারের অর্থবছরের (যা শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর) জন্য নয়।

সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালেই যদি ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠে যায়, তাহলে বোঝা যাবে আগামী দিনগুলোতে শুল্ক আদায়ের গতি অনেক বেড়ে যাবে। অর্থাৎ এখনকার তুলনায় শুল্ক আদায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

বেসেন্ট আরও বলেন, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের অনুমান, আগামী ১০ বছরে শুল্ক থেকে আয় হবে প্রায় ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু তাঁর অনুমান, এই হিসাব বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম, অর্থাৎ রক্ষণশীল হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানায়, মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ শুল্ক আদায় হয়েছে। এই সময় মোট ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এই অঙ্ক আগের বছরের মে মাসের তুলনায় প্রায় চার গুণ। সেবার শুল্ক আদায় হয়েছিল ৬২০ কোটি ডলার।

২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে মোট শুল্ক আদায় হয়েছে ৮৬ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ৬১০ কোটি ডলার। আর ২০২৫ পঞ্জিকা বর্ষের প্রথম ৫ মাসে আদায় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।

আগামী শুক্রবার জুন মাসের বাজেট দেবে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে শুল্ক আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধির তথ্য উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুল্ক ও আবগারি শুল্ক মিলিয়ে মোট আদায় হয়েছে ১২২ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তামার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে—আবাসন, ইলেকট্রনিকস, যানবাহন, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে এই ধাতু বহুল ব্যবহৃত। ট্রাম্প আরও জানান, সেমিকন্ডাক্টর ও ওষুধের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আসছে।




সাবেক মন্ত্রীদের বন্দিজীবন: পৃথক ওয়াশরুম চেয়েছেন সালমান, চুপচাপ আমু ও আনিসুল

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই নির্মিত নতুন বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার এখন পরিণত হয়েছে একঝাঁক ভিআইপি বন্দির আবাসে। সাবেক মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আমলা ও রাজনীতিকদের এই কারাগারে রাখা হচ্ছে ‘বিশেষ বন্দি’ মর্যাদায়। এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যাঁরা বর্তমানে মামলার কারণে কারাবন্দি।

জানা গেছে, কারাগারের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসব ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হলেও, অনেকে আলাদা সুবিধার আবেদন করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কারা সূত্র জানায়, তিনি ধর্মীয় বই পড়েই দিনের বড় সময় কাটান। নিয়মিত আদালতে যাওয়া লাগে তার। একান্ত জীবনধারা বজায় রাখতে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক ওয়াশরুম, ওজুখানা এবং গোসলখানা চেয়েছেন। এমনকি নিজের রুমের জানালার জন্য নতুন পর্দাও চান তিনি। তবে কারাবিধির সীমাবদ্ধতার কারণে এসব দাবি মঞ্জুর হয়নি।

এই কারাগারে বন্দি আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, শাহজাহান ওমর, জুনাইদ আহমেদ পলক, আতিকুল ইসলাম, ডা. এনামুর রহমান, ফরহাদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ভিআইপি বন্দিরা প্রত্যেকে একটি করে চেয়ারে বসেন, টেবিলে পড়েন, বিছানায় শুয়ে থাকেন এবং পত্রিকা পড়েন। তবে বিশেষ এই কারাগারে টেলিভিশন নেই, যা অন্য কারাগারে সাধারণত থাকে। ফলে তারা টিভি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

প্রতিটি ওয়ার্ডে চারজন করে ভিআইপি বন্দি থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা বাইরে বের হতে পারেন না। হাঁটাচলার সুযোগ সীমিত। শাজাহান খান পুরো কম্পাউন্ডে হাঁটার আবেদন করলেও অনুমতি পাননি। তবে যে ভবনে তিনি থাকেন, সেখানকার ওয়াকওয়েতে তাকে হাঁটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আতিকুল ইসলাম ও জ্যাকব একই রুমে থাকেন। তারা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান। পলক উপন্যাসপ্রিয়, তাই কিছু প্রিয় বই চেয়ে রেখেছেন। শরীরিক সমস্যায় ভুগছেন অনেকে—কামরুল ইসলাম দুর্বল, ডা. এনামুর বিশ্রামে, ফরহাদ হোসেন পছন্দ করেন বিদেশি বইয়ের অনুবাদ।

আইন বিষয়ে আগ্রহী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও বিচারপতি মানিক; দু’জনেই বেশি সময় বই পড়ে কাটান। মানিক অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসাও চলছে। আমু একেবারেই চুপচাপ সময় কাটান। কারো সঙ্গেও তিনি বিশেষ যোগাযোগ করেন না।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৯৫ জন বন্দি এই বিশেষ কারাগারে আছেন। ধারণক্ষমতা ৩০০ হলেও ভিআইপি বন্দিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সংখ্যাটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। কারা সূত্র আরও জানায়, ভিআইপি বন্দিদের সেবায় সাধারণ বন্দিরাও নিয়োজিত আছেন।

কারা বিভাগের অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন্স) জাহাঙ্গীর কবির জানান, “কারাবিধি অনুযায়ী যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তাদের দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কিছু দাবি আপাতত মানা সম্ভব নয়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশাল বিভাগজুড়ে চলছে বালু লুট, নদী ভাঙন-পরিবেশে ভয়াবহ বিপর্যয়

বরিশাল বিভাগের নদনদীগুলো যেন এখন বালু খেকোদের দখলে। দিনের পাশাপাশি রাতেও চলে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অন্তত ৭০টি স্পটে প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে তুলে নেওয়া হচ্ছে এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। আর এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, নদীপ্রবাহ ও তীরবর্তী জনজীবন।

কীর্তনখোলা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, বলেশ্বর, পায়রা—এসব নদীতে বালু উত্তোলনের চিত্র এখন প্রকাশ্য। বরিশাল শহরের পাশের চরমোনাই এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় ড্রেজিং; রাতভর চলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। সকাল হতেই জাহাজ বোঝাই বালু চলে যাচ্ছে নানা গন্তব্যে। শ্রমিকরাও অকপটে বলছেন—তাদের কাজের কোনো অনুমোদন নেই।

বরিশালের হিজলার নয়াভাঙনী নদীর গুয়াবাড়িয়া, হরিনাথপুর কিংবা মেঘনা নদীর গঙ্গাপুর, বদরপুর, আবুপুর, কোদালপুরে চলছে একই তাণ্ডব। ভোলার তেঁতুলিয়া ও মেঘনাতেও চলছে নিয়ন্ত্রণহীন বালু তোলার হিড়িক। পটুয়াখালীর আগুনমুখা, পিরোজপুরের বলেশ্বর ও চরখালী নদী থেকেও চলছে একই অবস্থা।নদীভাঙনের কারণে অনেক এলাকায় বসতভিটা, কৃষিজমি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিলীন হয়ে গেছে। হিজলার কৃষক আল আমিন বলেন, “নদী ভাঙনে আমার ঘর নেই, জমি নেই। প্রতিবাদ করলেই হুমকি আসে। প্রশাসন যদি কঠোর না হয়, আমরা সব হারিয়ে ফেলব।”

স্থানীয়রা বলছেন, শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত এই বালু সিন্ডিকেটে। মাঝে মাঝে অভিযান হলেও সেগুলো তেমন কাজে আসছে না।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রাতের বালু উত্তোলনের তথ্য আমরা নিচ্ছি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছারও জানিয়েছেন, “নদী সুরক্ষায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসন ছাড় দেবে না।”

সুজনের সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, “এই অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি।”

অবস্থা এমন যে, এখনই কঠোর আইন প্রয়োগ ও দায়ীদের গ্রেপ্তার ছাড়া বরিশাল বিভাগের নদী ও জনপদকে রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

এস এম/বার্তা২৪.কম




নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ৬ দফা দাবিতে বরিশালে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি

নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ৬ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্য সহকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে এলেও সরকার তাদের দাবি পূরণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে তারা চরম অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এই স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন—
১. নিয়োগবিধি সংশোধন করে শিক্ষাগত যোগ্যতায় স্নাতক (বিজ্ঞান) সংযুক্ত করা,
২. নিয়োগে ১৪তম গ্রেড প্রদান,
৩. ইনসার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ,
৪. টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান,
৫. ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতির ব্যবস্থা,
৬. পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়ক এ কে এম মইনুদ্দিন খোকন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি জিয়াউল হাসান কাবুলসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দ।

তাদের দাবি, স্বাস্থ্যখাতে মাঠপর্যায়ে এই বিপুল সংখ্যক জনবল দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। অথচ তাদের পেশাগত মর্যাদা, প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কাঠামো আজও অবহেলিত। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলে জানান তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বর্জন করে কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে। তাদের দাবি—এই কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত করে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, বরিশাল’ মডেলে পুনর্গঠন করতে হবে। দাবি মানা না হলে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৮ জুলাই) বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম এবং বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত।

এ পরিস্থিতিতে একই দিন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও অধিভুক্ত অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ জানান, কলেজের সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের দাবি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করার কথাও জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান, তবে সমস্যা সমাধানে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১/১১ সরকারের সময় বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। তবে একাডেমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও প্রশাসনিকভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের নিয়োগ, বিভাগ সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে বর্তমানে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ‘নেভাল আর্কিটেকচার’ বিভাগের কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিলেও শিক্ষকের অভাব ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে তা থেমে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—গত প্রায় দুই মাস ধরে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সম্পূর্ণ বন্ধ (‘কমপ্লিট শাটডাউন’) অবস্থায় রয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




জুলাই জাগরণের দিনলিপি -৭ জুলাই

৩৬ জুলাইয়ের বাংলা ব্লকেডে সারাদেশ অচল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ‘বাংলা ব্লকেড’ নামের নতুন কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ৭ জুলাই, আন্দোলনের সপ্তম দিনে সারাদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্ররা। দাবির কেন্দ্রে ছিল—সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সংস্কার এবং সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত সমন্বয়।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের চার দফা দাবি ছিল। এখন থেকে আমাদের দাবি একটাই—সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে।”

এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে কোটাপদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। জোটের সমন্বয়ক রাগীব নাঈম বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অস্বাভাবিক বহাল যেমন বৈষম্য তৈরি করছে, তেমনি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোটা বাতিলও সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।”

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও বোরহানউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে অবরোধে অংশ নেন। আগারগাঁওয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন বিকেল ৪টায়।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে রাজধানীতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে রাত ৮টায় তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আপাতত সরে দাঁড়ান। নাহিদ ইসলাম জানান, “ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘট চলবে। বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।”

এদিন রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করেন। চট্টগ্রামে চবি ও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট মোড়ে অবস্থান নেন, পুলিশের বাধার মুখে পরিকল্পনা বদল করে সেখানে যান চলাচল বন্ধ করেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে, এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এছাড়াও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের নিজ নিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।

এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, যৌক্তিক সংস্কার ও সমন্বয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন

কুমিল্লার মুরাদনগর, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের ওপর বর্বর নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বারবার ঘটছে।

বক্তারা আরও বলেন, সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকায় অপরাধীরা প্রশ্রয় পাচ্ছে। এখন সময় এসেছে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার। শুধুমাত্র আইন কার্যকর করলেই হবে না, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী ভিত নির্মাণ করতে হবে।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে বলে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে দায়িত্বশীলতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিএনপির শীর্ষ নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে দলীয় নেত্রীর তীব্র প্রতিবাদ

একসময়ের তুখোড় আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা এ্যাড. ফজলুর রহমানের ‘হাসিনা খারাপ, আওয়ামী লীগ খারাপ না’ মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার এই বক্তব্যে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার মনোভাব স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নুসরাত জাহান সোমবার (৭ জুলাই) তার ফেসবুক পোস্টে ফজলুর রহমানের এই মন্তব্যকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বিএনপির লক্ষ লক্ষ ত্যাগী নেতা-কর্মীর অনুভূতির অবজ্ঞা। নুসরাত জাহান উল্লেখ করেন, বিএনপি ব্যক্তি নয়, আদর্শ ও নীতিমালা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি দল। তাই ব্যক্তিগত মতামত নয়, দলীয় মূল্যবোধই সবসময় সম্মানিত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি যে, যে আওয়ামী লীগ ১/১১ থেকে শুরু করে বারবার গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের পেছনে রয়েছে, যারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, তাদের অপকর্ম কেবল একজন ব্যক্তির দোষারোপ দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’

নুসরাত জাহান ফজলুর রহমানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে অনুরোধ করেন যাতে দলের ঐক্য ও আদর্শ অক্ষুন্ন থাকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত পিছিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের যতো বেশি দেরি হবে, দেশ ততো বেশি পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ কমে যাবে, নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে, বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠবে। এজন্য প্রয়োজন একটি নির্বাচিত সরকার, যাদের পেছনে থাকবে জনগণের সমর্থন।

সোমবার (৭ জুলাই) সিলেটের পাঠানটুলাস্থ সানরাইজ কমিউনিটি সেন্টারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিকের আমন্ত্রণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্তি বহু সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে সম্ভব হয়েছে। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছে, যেখানে মানুষ বাকস্বাধীনতা পাবে, মহিলারা নিরাপত্তা পাবে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে এবং সকলকে চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও দলের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভোট, গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা জনঅধিকার লঙ্ঘন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। বিএনপি দেশের উন্নয়নের জন্য ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

ড. মুহম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছেন।

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে না পারে। জয় তাদের সুনিশ্চিত বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানকার মহান sufi শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর কীর্তি এবং তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি এখানে অবস্থিত।

 




চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ মোড়ে তিন দফা দাবিতে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ওপর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানের পানি নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছুজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান নেয়া এসব সদস্যদের পুলিশ সরে যাওয়ার আহ্বান দিলেও তারা সাড়া দেননি। পরে পুলিশ ১০ মিনিটের আলটিমেটাম দিয়ে বল প্রয়োগ শুরু করে।

পুলিশ ৬টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষে কিছুজন আহত হন। পরে পুলিশ ধীরে ধীরে আন্দোলনকারীদের মৎস্য ভবনের দিকে নিয়ে যায়।

এর আগে, বেলা পৌনে ১২টায় শাহবাগ মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে আসেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। মিছিল কাকরাইল মসজিদ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং সেখানে অবস্থান নিতে বাধ্য করে।

চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের দাবি:

  • ক্ষতিপূরণ প্রদান করে চাকরিতে পুনর্বহাল,
  • পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের বিভিন্ন ধারা বাতিল,
  • বিডিআর নাম পুনর্বহাল ও বন্দি সদস্যদের মুক্তি।

কেএন/টিকেএন