শহীদ জিয়া দেশে প্রথম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন : রহমাতুল্লাহ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রহমাতুল্লাহ বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষা ভঙ্গ করেছিলেন শেখ মুজিব। কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে রাষ্ট্র কখনোই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “এটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন হয়েও তারা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। ফলে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন।

দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে রহমাতুল্লাহ বলেন, “দল যাকে মনোনয়ন দেবে, বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করবে।”

মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ, কমল সেন গুপ্ত, সাইফুর রহমান মিরনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন

ভোলার জেলা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমানের দুর্নীতির খবর প্রকাশের জেরে সাংবাদিক সাগর চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাধারণ সাংবাদিক সমাজ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “এই মামলা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক। সংবাদে অসত্য থাকলে মানহানির মামলা করা যেত, কিন্তু সাজানো চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে।” তারা আরও মন্তব্য করেন, একজন জেলা জজের নির্দেশে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা জাতির জন্য লজ্জাজনক।

বক্তারা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য নুরুল হোসেন কাইয়ুম, রাজু আহমেদ, জিয়াউর রহমান, বিপ্লব সিকদার, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক, নেত্রী জেসমিন জুই, আনিছুর রহমান মোল্লা, কাজী টিটু, কবির হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম ইমনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা।

মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ এবং সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদে ‘ভোলা কোর্টের বিচারক ও আইনজীবীদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন’ এবং ‘ভোলা জেলার জজ মাহমুদুর রহমানের অনিয়ম ও দুর্নীতি’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ আড়াল করতেই জেলা জজের নির্দেশে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড আড়াল করার স্পষ্ট উদাহরণ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনায় সাংবাদিকদের জন্য ডাটা-ভিত্তিক জলবায়ু প্রতিবেদন তৈরির প্রশিক্ষণ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা জোরদার করতে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ডাটা-ভিত্তিক জলবায়ু প্রতিবেদন তৈরির প্রশিক্ষণ। বুধবার সকাল ১০টায় বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ওয়েব ফাউন্ডেশন এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ডাটাফুল এর ডাটা এডিটর মো. আলমগীর হাসান এবং ডিজাইন অ্যান্ড ইনফোগ্রাফিকস প্রধান মো. মোতাসিম বিল্লাহ পিন্টু। এতে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ২০ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দ্বীপাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর হোসেন, সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা ডাটা সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং গ্রাফিক উপস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির কৌশল শিখেন। আয়োজকরা জানান, এই ধরনের প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে এবং জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কালবেলার বরিশাল ব্যুরো প্রধান আরিফিন তুষারের দাফন সম্পন্ন

দৈনিক কালবেলার বরিশাল ব্যুরো প্রধান আরিফিন তুষারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় তার মরদেহ বরিশাল প্রেস ক্লাবে আনা হয়। সহকর্মীরা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর অশ্বিনী কুমার হলের নগরীর সদর রোডে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামে জোহর নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

এর আগে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আরিফিন তুষারের মৃত্যু হয়। বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। তিনি দেড় বছর বয়সী এক ছেলে, স্ত্রী, মা-বাবা, ভাইসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আরিফিন তুষার বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং বারবার নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধি ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সব সাংবাদিককে আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়: তথ্য উপদেষ্টা

সরকারের বিদ্যমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের সব সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত গ্রুপ বীমা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে নিয়মিত সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তবে কেবল সরকারের ওপর নির্ভর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয় জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন একটি জটিল বিষয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয়ের কারণে এটি বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। তবে সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সদস্যদের জন্য ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির সঙ্গে গ্রুপ বীমা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সাংবাদিকরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিককে হামলা, গ্রেপ্তার ৩

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহকালে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান টেলিভিশনের প্রতিনিধি মো. ইমরান খান সালাম। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা চত্বরের কৃষি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস (খোলা বাজারে চাল বিক্রি) ডিলার রুহুল নিকারী সরকারি নিয়ম মেনে চাল বিতরণ না করে গোপনে বাজারজাত করছিলেন। এই অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাংবাদিক ইমরান খান সালামের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালান এবং তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

অভিযুক্ত হামলার পর স্থানীয়রা আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রুহুল নিকারী, সবুজ নিকারী ও আবুবক্কর নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সকল হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ৩২০ সাংবাদিক পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ টাকা

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে ৩২০ জন সাংবাদিক ও মৃত সাংবাদিকের পরিবারকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সার্কিট হাউস রোডের তথ্য ভবনের ডিএফপি অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা ফারজানা সাংবাদিকদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাংবাদিক কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকার এবং গাজীপুরে নিহত সাংবাদিক তুহিনের পরিবারের হাতে ৩ লাখ টাকা করে চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফায়জুল হক, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শাহীন হাসনাত এবং দৈনিক কালবেলার যুগ্ম সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন।

তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা তার বক্তব্যে বলেন, নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কল্যাণে দল-মত নির্বিশেষে কাজ করছে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট। প্রকৃত প্রাপকেরা এখন সহায়তা পাচ্ছেন, তবে চাহিদার তুলনায় তা এখনও সীমিত। তিনি আরও জানান, সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে তথ্য মন্ত্রণালয় সব সময় কাজ করছে।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৩ হাজার ৪২৮ জন সাংবাদিককে মোট ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা কল্যাণ অনুদান পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৫ জন সাংবাদিক। মৃত্যুবরণকারী ৫৮ জন সাংবাদিকের পরিবার এবং গুরুতর অসুস্থ ৯২২ জন সাংবাদিক এই অনুদান পেয়েছেন। এছাড়া ১৯২ জন আহত সংবাদকর্মী ও শহীদ সাংবাদিকদের ৫টি পরিবারকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদসহ ৫৪ লাখ টাকার সম্মানি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৩০৫ জন সাংবাদিকের সন্তানকে ৫৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি এবং গত রমজানে ১ হাজার ৫০০ সাংবাদিককে ৭০ লাখ টাকার খাদ্য উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কল্যাণ ট্রাস্ট মোট ৫৪ কোটি ৮১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা সাংবাদিক কল্যাণ অনুদান হিসেবে বিতরণ করেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাংবাদিক নির্যাতন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় উদ্বিগ্ন নোয়াব

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই উদ্বেগ জানায়। নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলি তুলে ধরে বলা হয়েছে—দেশের গণমাধ্যম এখন চরম চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে দেশে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে আশা দেশবাসী পোষণ করেছিল, তার ভিত্তি ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন—বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

নোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত এক বছরে (অগাস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫) মোট ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ সংক্রান্ত হত্যামামলায় আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় নিহত হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক। চাকরিচ্যুত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মী। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের সম্পাদক ও বার্তাপ্রধানসহ অনেকেই পদ হারিয়েছেন। আটটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে—যা গণমাধ্যমের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।

নোয়াব আরও বলেছে, সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকা—দৈনিক জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরি করে অফিস দখল ও মালিকপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কর্মীদের সঙ্গে কোনো বকেয়া বা দেনা-পাওনা থাকলে সেটি শ্রম আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা ছিল। আবার সংবাদ কিংবা কনটেন্ট সংক্রান্ত বিরোধ হলে, তা মীমাংসার নির্ধারিত জায়গা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। কিন্তু এসব প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি এড়িয়ে পত্রিকা কার্যালয়ে গিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে মতপ্রকাশ ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা অপরিহার্য। একটি সভ্য সমাজে সংবাদমাধ্যম শুধু তথ্য প্রদানকারী নয়, বরং সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা, চাকরিচ্যুতি, মিথ্যা মামলা, কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদপত্র কিংবা অন্য কোনো গণমাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে চাপে ফেলার সংস্কৃতি এখনই বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের কার্যকলাপ গণমাধ্যমের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে তা কেবল সাংবাদিকদের নয়, পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থারই কল্যাণ বয়ে আনবে।

নোয়াব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সংবাদপত্রের স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের সজাগ থাকা সময়ের দাবি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় গাজীপুরে সাংবাদিক খুন

গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) নামের এক সংবাদকর্মীকে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের সামনে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

নিহত তুহিন গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। তিনি রাজধানী থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় আগে তুহিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত চৌরাস্তা এলাকায় পথচারীদের বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পারাপারের দৃশ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য। গাজীপুর চৌরাস্তা।”

ভিডিওটি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরই তিনি চা খেতে যান মসজিদ মার্কেটের পাশে একটি দোকানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে এসে তাকে ঘিরে ফেলে। সবার সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল, গণমাধ্যমকর্মী, সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, একজন পেশাদার সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করায় গণমাধ্যমের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মাইলস্টোন দুর্ঘটনার নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে পটুয়াখালীতে।

বুধবার সন্ধ্যায় সদর রোডস্থ পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন বলেন, “এই দুর্ঘটনা জাতির জন্য এক গভীর শোকের বার্তা। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আমরা এই প্রার্থনার আয়োজন করেছি। এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ব।”

দোয়া পরিচালনা করেন পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ।
তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের আরোগ্য লাভের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

আয়োজকরা জানান, “জাতীয়ভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, সেই প্রত্যাশা থেকেই এই আয়োজন।”
দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


মো:আল-আমিন