আমাকে স্যার বলা ও ছবি প্রচারের দরকার নেই: উপদেষ্টা নাহিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : স্যার ভাবতে ও স্যার না বলতে অনুরোধ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, আমাকে স্যার ভাবার দরকার নেই।

আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আমার ছবি যত কম প্রচার করা যায় তো ভালো।
রোববার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ অনুরোধ জানান।

তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, আমি আপনাদের সরকার হিসেবে এখানে এসেছি।

আমি জনগণের পক্ষ থেকে এসেছি। জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে এসেছি।

একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। এখন আমি আপনাদের কাছে সেই সহযোগিতাটা কামনা করছি।

 

তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের পরিস্থিতি এ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে।

এছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের কথা প্রাথমিকভাবে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি ঠিক করা হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, নিবর্তনমূলক আইন যেগুলো গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতার জন্য অন্তরায়, সেগুলোর ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলি চাই না, মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চর্চা হোক।




উপস্থাপিকার কাছে ক্ষমা চেয়ে যা বললেন বিচারপতি মানিক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: টকশোতে উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে অশালীন আচরণের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। একই সঙ্গে জনগণের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।

আজ সোমবার তাকে (বিচারপতি মানিক) লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন মানিক।

আইনি নোটিশের জবাবে সাবেক বিচারপতি মানিক লিখেছেন, তিনি একজন হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিসের রোগী। টকশোর দিন তাকে অনেক লম্বা পথ হেঁটে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল। ফলে তার ব্লাড সুগার নেমে যায় ও ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায় এবং একই সঙ্গে তিনি প্রচুর ক্লান্ত বোধ করছিলেন। যার কারণে তিনি তার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি তার এরূপ আচরণের জন্যে উপস্থাপিকার কাছে গভীরভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজকে তার পাঠানো আইনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। সেখানে তিনি উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী এবং জনগণের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

এর আগে গতকাল রবিবার উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে সাবেক বিচারপতি মানিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তাকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি উপস্থাপিকার কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।

‘‌ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ এ নোটিশ পাঠান। প্রকাশ্য ও লিখিতভাবে ক্ষমা না চাইলে সাবেক বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, কোটা আন্দোলন ইস্যুতে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে আয়োজিত টকশোতে আলোচক হিসেবে হিসেবে অংশ নেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে সঞ্চালক দীপ্তি চৌধুরীর ওপর ক্ষিপ্ত হন তিনি। পুরো অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকবার উপস্থাপিকার ওপর নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন এবং উচ্চবাচ্য করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি অনুষ্ঠান শেষে স্টুডিও ছাড়ার আগে উপস্থাপিকাকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে আখ্যা দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এর আগে ২০১৭ সালেও একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বিচারপতি মানিককে। সেসময় তিনি একটি টিভি চ্যানেলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে স্বঘোষিত রাজাকার বলেছেন। এ ঘটনায় মানিককে অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে (লিখিত ও মৌখিক) অনুরোধ করা হয়। এছাড়া কারও সম্পর্কে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর উক্তি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয় তাকে।




হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে হামলা নিয়ে ব্যাপক প্রচার, রহস্য উন্মোচন করল বিবিসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে যে সহিংসতা চলেছিল, তার মধ্যেই এমন বহু ভুয়া পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দাবি করা হয় বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক অত্যাচার শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গড়েছে ভারত সরকার। আবার বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় রোববার থেকে হটলাইন চালু করতে চাইছে সেদেশের সরকার।

তবে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে ‘ব্যাপক অত্যাচার’ হচ্ছে বলে যেসব ভুয়া পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার বেশিরভাগই ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল বলে ফ্যাক্ট-চেকাররা নিশ্চিত করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকেও এ ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে, এমনটাও ফ্যাক্ট-চেকাররা বলছেন।

তারা এটাও বলছেন যে, নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে কিছু আক্রমণ হয়েছে, বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। কিন্তু তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, মুসলমানদের বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে, জ্বালানো হয়েছে।

এক্ষেত্রে আক্রমণকারীদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, সম্পত্তি। ধর্মীয় পরিচয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৌণ ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্যই তারা আক্রান্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের যেসব স্থানীয় নেতা-কর্মী পালিয়ে ভারতে চলে এসেছেন অথবা আসার চেষ্টা করছেন, তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে হিন্দু আর মুসলমান– উভয় সম্প্রদায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িতেই হামলা হয়েছে।

কিন্তু ভারত থেকে সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট- বিষয়টিকে রাজনৈতিক না রেখে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন একাধিক ফ্যাক্ট চেকার।

বিবিসির তথ্য যাচাইয়ের বিভাগ, ‘বিবিসি ভেরিফাই’-ও একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

মন্দির পাহারায় মইনুল: হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে বলে যে ধরনের পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, তার কয়েকটি চোখে পড়েছিল চট্টগ্রামের এক বিক্ষোভকারী মইনুলের।

বিবিসির তথ্য যাচাই বিভাগ ‘বিবিসি ভেরিফাই’ যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তিনি সেসময়ে চট্টগ্রাম লাগোয়া ‘শ্রী শ্রী সীতা কালী মাতা মন্দির’ পাহারা দিচ্ছিলেন।

তার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা।

মইনুল বলেন, ‘তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব তো আমাদের। আমরা সব সরকারি স্থাপনা, মন্দির, গির্জা– সব কিছুই রক্ষা করব।’

তার কথায়, যেসব পোস্ট ছড়াচ্ছে, সেগুলো কিন্তু ‘আমাদের চোখে দেখা বাস্তব ছবির সঙ্গে মিলছে না। ওই সব পোস্ট বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ সম্বন্ধে একটা ভুল ছবি তুলে ধরছে।’

বিক্ষোভকারীদের ওপরে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যা শেষে যখন শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেন, বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা খুব আশ্চর্যের কিছু ছিল না।

অন্যদিকে, থানাগুলিতে আক্রমণ হওয়ার ফলে পুলিশ ছিল না পুরো বাংলাদেশেই। এই সময়েই সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘরে লুট চলে, সহিংসতা শুরু হয়।

তবে বাস্তবে দেখা গেছে, যে সাধারণ নাগরিকদের বাড়িতেও লুট চলেছে, তাদেরও কেউ কেউ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ‘বিবিসি ভেরিফাই’ মনে করছে, ব্যাপক সহিংসতার ফলেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ভারত থেকে ছড়ানো হয় ভুয়া খবর: চারদিকে যখন একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছিল, সেই সময়ে ভারতের অতি-দক্ষিণ-পন্থি ‘ইনফ্লুয়েন্সর’রা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও শেয়ার করতে থাকেন, যাতে মনে হয় যে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার হচ্ছে।

এ ছাড়া এরকম গুজবও ছড়ানো হয় যে ছাত্র-বিক্ষোভকারীরা ‘ইসলামি কট্টরপন্থি’।

সামাজিক মাধ্যমের ওপরে নজর রাখে ‘ব্র্যান্ডওয়াচ’ অ্যাপ। তারা খুঁজে পেয়েছে যে, ৪ আগস্টের পর থেকে ভুয়া কাহিনীগুলি ছড়ানো হয়েছে এমন একটি হ্যাশট্যাগ দিয়ে, যেটি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) সাত লক্ষ বার মেনশন হয়েছে।

যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রেন্ডিং পোস্টগুলি করা হয়েছিল, তার প্রায় সবই ভারতে অবস্থান করছে, এমনটাও জানা গেছে ‘ব্র্যাণ্ডওয়াচ’ থেকে।

বাংলাদেশ-ভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকাররাও গত কদিনের সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণ করে অনেকটা একইরকম তথ্য পেয়েছেন যে, মূলত ভারতের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকেই হিন্দুদের ওপরে আক্রমণের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বা ইউল্যাবের অনুমোদনপ্রাপ্ত স্বাধীন তথ্য যাচাই করার উদ্যোগ ‘ফ্যাক্ট ওয়াচ’এর প্রধান, অধ্যাপক সুমন রহমান বলছিলেন, ‘কিছু ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, যেখানে হিন্দুদের বাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে। তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ওই ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি।’

‘কিন্তু এমন একটা আখ্যান তৈরি করা হয়েছে, যাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে। এটা একেবারেই ভুল আখ্যান ছড়ানো হয়েছে। যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেগুলির বেশিরভাগই ভারতের,’ বলেন তিনি।

আবার ঢাকার ফ্যাক্ট চেকার রিদওয়ানুল ইসলাম বলছিলেন ভারতীয় অ্যাকাউন্টগুলি থেকেই বেশিরভাগ ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

‘তবে বাংলাদেশের ভেতর থেকেও হিন্দুদের ওপরে আক্রমণের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে আমাদের অনুসন্ধানে জানতে পারছি।’

হিন্দুদের বাড়ি, মন্দির ‘জ্বালানো’র ভুয়া খবর: সামাজিক মাধ্যমে একটা পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, যাতে দাবি করা হয়েছিল যে ‘হিন্দু ক্রিকেটার’ লিটন দাসের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্য অনেক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখা হয় যে, কট্টর ইসলামপন্থিরা তার বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, সেটা যে আসলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার, তা এখন সবার জানা।

আরেকটি ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ‘বাংলাদেশের ইসলামি জনতা’ একটা মন্দিরে আক্রমণ করেছে।

চট্টগ্রামের ‘নবগ্রহ মন্দির’এর কাছে আগুন লাগানোর ভিডিও ছড়ানো হয়েছিল। তবে দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে মন্দিরে আগুন লাগেনি।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের কাছে ছবি এসেছে যে, ওই মন্দিরের কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে ওই মন্দিরের পিছনে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ই আসল লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয়েছে।

মন্দিরের কর্মকর্তা স্বপন দাস বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই দলীয় কার্যালয় থেকে চেয়ার-টেবিল বার করে আগুন লাগানো হয়েছিল মন্দিরটির পিছন দিকে। এ ঘটনা ৫ আগস্ট দুপুরের।

অগ্নিকাণ্ডের পরের কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে যে, আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবিসহ বেশ কিছু পোস্টারও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টাই মন্দিরে পাহারা দিচ্ছেন মানুষ।

লক্ষ্য আওয়ামী লীগ, হিন্দুরা নয়: আরও দুটি ভাইরাল হওয়া পোস্টে দেখা গেছে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে হিন্দুদের ওপরে আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে যাদের ওপরে আক্রমণ করা হয়েছিল, তারা আসলে আওয়ামী লীগের নেতা এবং তারা মুসলমান।

এইসব পোস্টই ভারতীয় দক্ষিণ-পন্থি অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ‘সেভবাংলাদেশীহিন্দু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে সেসব শেয়ার করা হয় হিন্দুত্ববাদীদের ‘ভেরিফায়েড’ অ্যাকাউন্ট থেকে।

সম্প্রতি আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ‘ইসলামি জনতা’ হিন্দুদের গ্রাম আক্রমণ করেছে এবং একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুকুরে সাঁতার কেটে পালানোর চেষ্টা করছে। ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকাররাই খুঁজে বার করেছেন যে ওই ব্যক্তি মুসলমান।

ফ্যাক্ট-চেকার রিদওয়ানুল ইসলামের কথায়, ‘শুধু যে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা নয়। কয়েকটি টিভি চ্যানেল এবং পোর্টালও সামাজিক মাধ্যমের ওই সব গুজবের ওপরে ভিত্তি করে সংবাদ প্রতিবেদন পর্যন্ত বানিয়ে ফেলেছে।’

দুই সরকার যা ব্যবস্থা নিচ্ছে: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক আক্রমণ হচ্ছে, এই তথ্যের প্রেক্ষিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি কমিটি গড়ে দিয়েছেন, যারা বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক, হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবেন।

ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক রভি গান্ধীকে। অন্য সদস্যরা হলেন- বিএসএফের দক্ষিণ বঙ্গ এবং ত্রিপুরা সীমান্ত অঞ্চলের দুই আইজি এবং ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির দুই প্রতিনিধি।

অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ কমিটি গড়ল ভারত সরকার। এই কমিটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে- যাতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক, হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে। বিএসএফের পূর্ব কমান্ডের এডিজি এই কমিটির প্রধান হবেন।

ওই কমিটির একজন সদস্য বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেরকম টুইটে লিখেছেন, বাংলাদেশে কেউ সমস্যায় আছেন, এরকম খবর পেলে আমরা সেদেশে আমাদের কাউন্টারপার্ট, অর্থাৎ বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা মেটানোর কাজ করব।

যেরকম শুক্রবার একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল কোচবিহারের শিতলখুচিতে। বাংলাদেশের দিকে বহু মানুষ ভারতে প্রবেশ করতে চেয়ে সীমান্তের অপর পাড়ে জড়ো হয়েছিলেন। আমরা বিজিবির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। শনিবার কিন্তু এভাবে কেউ জড়ো হয়নি।

আবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও হিন্দুদের সহায়তার জন্য রোববার থেকে একটা হটলাইন চালু করছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এ কথা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, কোথাও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর কোনও হামলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটে হটলাইনে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন তারা।

‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, উপাসনালয়ে হামলার খবর আসছে’ মন্তব্য করে হোসেন বলেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

আমরা ফাঁদে পা দেব না: চট্টগ্রামের ‘শ্রী শ্রী সীতা কালী মাতা মন্দির’-এর বাইরে মুসলমান আর হিন্দু ছাত্ররা কথা বলছিলেন সম্প্রীতি নিয়ে, ভবিষ্যৎ নিয়ে।

‘এই সব গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করা,’ বলছিলেন মইনুল।

‘তবে আমরা ফাঁদে পা দেব না’,  জানালেন তিনি।

এলাকার আরেক বাসিন্দা ছোটন নিয়মিত ওই মন্দিরটিতে যান। তিনি তার মুসলমান পড়শিদের ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন।

‘তাদের ধন্যবাদ। যতক্ষণ না এই কঠিন সময়টা আমরা পার করতে পারছি, ততক্ষণ যেন তারা এভাবেই পাশে থাকেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতেও যেন আমরা এভাবেই একসঙ্গে কাটাতে পারি’, বললেন ছোটন।




৫১ সাংবাদিককে নিষিদ্ধ করতে প্রেসক্লাবে তালিকা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ৫১ সাংবাদিককে জাতীয় দুশমন ঘোষণা করে তাদের নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ শনিবার তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ও আব্দুল হান্নান মাসুদ।

অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, প্রেসক্লাব একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এ প্রেসক্লাব বরাবরই জাতির দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছে, কিন্তু পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এ প্রতিষ্ঠানটি দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে এর ভাবমূর্তি ধবংস করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন (যিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের শুধু দালালই নয় পার্লামেন্ট মেম্বার), সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রতিনিয়ত পুলিশ ও আওয়ামী লীগকে মদদ দিয়ে এবং টকশোতে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ছাত্রদের রক্ত ঝরানোর মতো মানবতাবিরোধী কাজে জড়িত ছিল।

এতে উল্লেখ করা হয়, এ ছাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য প্রভাষ আমিন, জায়েদুল আহসান পিন্টু (ছাত্রদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাচার করেছে), মোজাম্মেল বাবু, আশীষ সৈকত, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সোহেল হায়দার চৌধুরী, ফারজানা রুপা, আরিফ জেবতিক, অশোক চৌধুরী, শাহজান সরদার, সুভাষ সিংহ রায়, আজমল হক হেলাল, আবুল খায়ের, মঞ্জুরুল ইসলাম (ডিবিসি), প্রণব সাহা (ডিবিসি), নঈম নিজাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন), খায়রুল আলম (ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট ও ডিইউজে নেতা), সাইফুল আলম (যুগান্তর), আবেদ খান, সুভাষ চন্দ্র বাদল, জ.ই মামুন, জাফর ওয়াজেদ (পিআইবি), শাহনাজ সিদ্দিকী (বিএসএস)।

তালিকায় আরও নাম রয়েছে, সাইফুল ইসলাম কল্লোল (বিএসএস), পাভেল রহমান, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ বোরহান কবির, শাবান মাহমুদ, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, মোল্লা আমজাদ হোসেন, শফিকুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, মামুন আবদুল্লাহ (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিডি), সোমা ইসলাম (চ্যানেল আই), শ্যামল সরকার (ইত্তেফাক), অজয় দাশগুপ্ত (সমকাল), আলমগীর হোসেন (সমকাল), শাকিল আহমেদ (৭১ টিভি), রামা প্রসাদ (সমকাল), সঞ্জয় সাহা পিয়াল (সমকাল), ফরাজী আজমল (ইত্তেফাক), আনিসুর রহমান (বিএসএস), স্বপন বসু (বিএসএস), হাসান জাবেদ (এনটিভি), মিথিলা ফারজানা (৭১ টিভি), শবনম আজিম (৭১ টিভি), এনামুল হক চৌধুরী, দিপক কুমার আচার্য ও নাঈমুল ইসলাম খান।

লিখিত অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ দুই সমন্বয়ক বলেন, ‘আমরা মনে করি সাংবাদিকতার আড়ালে এদের কর্মকাণ্ড ছিল জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রবিরোধী। ছাত্ররা এখন রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে। এসব জাতীয় দুশমনরা প্রেসক্লাবের বা সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে আর যাতে জাতির ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য তাদের বহিষ্কার ও সাংবাদিকদের অঙ্গনে নিষিদ্ধ করার নিবেদন জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

 




সাংবাদিকদের সাথে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: “সকলের সহযোগিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আল্লাহ সহায় থাকলে প্রতিপক্ষরা কিছুই করতে পারবে না। গরিব-ধনী উর্দ্ধে সেবা নিতে যে লোকই আসবে, সকলেই সেবা পাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতীক না দেয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করতে পেরেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবান জানাই। দল-মত সকলকে সাথে নিয়ে গলাচিপা উপজেলার উন্নয়নে বদ্ধ-পরিকর।”

মতবিনিময় সভায় গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত প্রথম নারী চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু এমনটি বলেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে গলাচিপা উপজেলা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় উপজেলার সকল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ আহসান কচিন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোসাঃ তহমিনা আক্তার, স্টার্ফ রিপোর্টার শংকর লাল দাস, সাংবাদিক খালিদ হোসেন মিল্টন, প্রেসক্লাবের সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয়, মোঃ কাওসার, মোঃ হারুন অর রশিদ, সাজ্জাদ আহমেদ মাসুদ,সাইমুন রহমান এলিট, জাকির হোসেন, রুবেল আকন, মোনাজাতসির মামুন, মাসুদ রানা, রিয়াদ হোসেন, হাসান এলাহী, সঞ্জিব দাস, নাসির উদ্দিন, সোহাগ রহমান, মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, সোহেল আরমান, আহসান উদ্দিন জিকো, সাকিবুল হাসান সাকিব, মিঠুন চন্দ্র পাল, কমল সরকার ও আরেফিন লিমন ,পঙ্কজ গাঙ্গুল, সঞ্জীব সাহাসহ সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিপদের কারবার: প্রধান বিচারপতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিপদের কারবার। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কিছু বললে আবার রাইটস টু ফ্রিডম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আজ এই মন্তব্য করেন।
সাত আইনজীবীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
সাত আইনজীবীর বিষয়ে দিন পিছিয়ে ২২ আগস্ট ধার্য করে আজ আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
গত ১২ জুন সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীকে আদালত অবমাননার মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
সাত আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী, ফাহিমা নাসরিন, মো. আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান ও গাজী কামরুল ইসলাম। এই সাত আইনজীবী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বিভিন্ন গুরুত্বাপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের দুইজন বিচারপতি সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে এই সাত আইনজীবীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৯ আগস্ট আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়। আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা।
শুনানি নিয়ে গতছর ১৫ নভেম্বর আপিল বিভাগ আদেশ দেন। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে আদালত অবমাননার আবেদনে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে এই সাত আইনজীবীকে ১৫ জানুয়ারি সকাল ৯টায় আপিল বিভাগে (১ নম্বর কোর্টে) হাজির হতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। ধার্য তারিখে তারা আদালতে হাজির হন।
আদালত অবমাননার আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে গত বছরের ২৭ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করা হয়। বিচারপতিদের নিয়ে ব্যানার-লিফলেটসহ বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মিছিল-অবস্থানের ছবিও আবেদনে যুক্ত করা হয়।

খবর বাসস।




বিটিভি এখনও ১৮ জুলাইয়ের তান্ডবের ধকল কাটতে পারেনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) গত ১৮ জুলাই দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের তান্ডবের ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি দেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ কারণে বিটিভি’র সদর দপ্তর প্রায় ১৯ ঘন্টা তার সম্প্রচার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল।

বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক মাহাফুজা আকতার জানিয়েছেন, যদিও পরের দিন থেকে বিটিভি তার সম্প্রচার পুনরায় শুরু করেছে, তবে এটি এখনও পুর্ণউদ্যোমে চালু হতে পারেনি। কারণ বসার স্থান ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনে এখনও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী এখন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, কিন্তু এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখনও সেই তান্ডবলীলার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠতে পারেননি।
বিটিভি ভবনে যে নৈরাজ্য ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা বর্ণনাতীত। ১৯৭৫ সালের পর, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এমন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেনি। বিটিভির প্রতিটি স্থান অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট ও বর্বরতার সাক্ষ্য বহন করছে।
কোটা আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই সংগঠন বিটিভির তিনটি প্রধান ফটক ভাঙচুর করে তাদের নৃশংসতার কর্মযজ্ঞ শুরু করে।

বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, ১৮ জুলাই বিকেলে বিটিভি ভবনের প্রধান ফটক ভেঙ্গে বিপুল সংখ্যক দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, উত্তেজিত হামলাকারীরা প্রথমে সেখানে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং পরে বিটিভি ভবনের ভেতরে গিয়ে বিভিন্ন ফ্লোরের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বিটিভির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুরোধে কর্ণপাত করেনি।
দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় রাষ্ট্রের জরুরী এ প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এমনকি আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বিটিভি ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

এরপর জঙ্গি কায়দায় বিটিভি সদর দপ্তর ভবনের ছয় তলা, মুজিব কর্নার ও নিচ তলায় অবস্থিত বিটিভি জাদুঘরে ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা। তারা জাদুঘরে সংরক্ষিত বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ভাংচুর ও লুট করে।
বিটিভির ক্যান্টিন ও কম্পিউটার ল্যাব ভাংচুর ও লুটপাট, ১৭টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও আরো নয়টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার অত্যাধুনিক আউটডোর ব্রডকাস্টিং যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।
গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর রামপুরায় সহিংসতা কবলিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শন করেন।
তিনি কোটা-সংস্কার আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বিটিভি’র সকল বিভাগ পরিদর্শন করেন।
বিটিভি ভবনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত হন ও অসন্তেুাষ প্রকাশ করেন।
বিটিভি ভবনে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বিটিভি কর্মকর্তারা যখন তাদের অশ্রু সংবরণ করার চেষ্টা করছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রীকেও অশ্রুসিক্ত দেখা গেছে।

বিটিভির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিটিভির বিভিন্ন অবকাঠামো, সম্প্রচার সরঞ্জাম, নকশা বিভাগ, অফিস ভবন ও বিভিন্ন কক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙচুরের ঘটনায়, ১৯৬৪ সাল থেকে সংরক্ষিত অমূল্য প্রাচীন জিনিস দিয়ে সজ্জিত টেলিভিশন জাদুঘর, মুজিব কর্নার, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, অভ্যর্থনা ও ওয়েটিং রুমের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক (এসি) ও অন্যান্য জিনিসপত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এছাড়াও প্রায় ৪০টি কম্পিউটার, ১০০টি টেলিভিশন সেট এবং কম্পিউটার ল্যাবের আসবাবপত্র, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও প্রিভিউ রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লিফট, নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট, সিসি ক্যামেরা ও মনিটরিং সেটও ভাংচুর করা হয়।

যানবাহন ভবন ও শেড, ক্যান্টিন ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কক্ষ; একটি সম্প্রচার ওবি ভ্যানসহ ১৭টি গাড়ি ও ২১টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং নয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

এছাড়া অডিটোরিয়াম, লাউঞ্জ, ডিজাইন, মেক-আপ, ওয়ার্কশপ, গ্রাফিক্স রুম, স্টোর/ওয়ারড্রোব রুম ও ২০টি গ্রাফিকস কম্পিউটারও ভাংচুর করা হয়।

নকশার শেড, স্টুডিওর ছাদ, দেয়াল, ভবন ও অবকাঠামো, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রায় ৭০টি এয়ার-কন্ডিশনার (এসি), অফিসিয়াল আসবাবপত্র, পাঁচটি ফটোকপি মেশিন এবং প্রায় ৫০টি অফিসিয়াল কম্পিউটারও ভাংচুর করা হয়েছে।

১০টি কম্পিউটার ওয়ার্কস্টেশন সহ ১০০টি মনিটরিং সেট, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সহায়ক যন্ত্রপাতি, রেকর্ডিং ক্যামেরা, আলোক উৎস সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ফাইল, নথি, শিল্পীর সম্মানী-সম্পর্কিত খাতা, ব্যাংক বই, ভাউচার এবং অডিট বিল ইত্যাদিও বিনষ্ট করা হয়েছে।




শাফিনের দাফনের দিনে ক্যান্সারের কাছে হেরে চলে গেলেন জুয়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল আর নেই। ১১ বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আজ মঙ্গলবার ঢাকার এক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দেশে ও দেশের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসাসেবাও চলছিল। শেষ পর্যন্ত ফেরানো গেল না “সেদিনের এক বিকেলে”-খ্যাত এই শিল্পীকে।

মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী উপস্থাপক সংগীতা আহমেদ। মৃত্যুকালে জুয়েলের বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তার জন্ম ১৯৬৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

জুয়েলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে জুয়েলের লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর ফুসফুস এবং হাড়েও সেটি ক্রমশ সংক্রমিত হয়। মাঝে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পী ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন দেশ ও বিদেশের চিকিৎসা সহযোগিতায়। অবস্থার খুব অবনতি হলে চলতি মাসের ২৩ জুলাই রাত থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। মাঝে ২৫ জুলাই খানিক উন্নতির খবর পাওয়া গেলেও ৩০ জুলাই সকালে ক্যান্সাররের কাছে হার মানলেন এই শিল্পী।

১৯৯২ সালে বের হয় জুয়েলের প্রথম গানের অ্যালবাম “কুয়াশা প্রহর”। প্রথম অ্যালবামেই বাজিমাত করেন জুয়েল। তারপর থেকে প্রায় নিয়মিত বের হতো তার গানের অ্যালবাম।

এরপর প্রকাশিত হয় “এক বিকেলে” (১৯৯৪), “আমার আছে অন্ধকার” (১৯৯৫), “একটা মানুষ” (১৯৯৬), “দেখা হবে না” (১৯৯৭), “বেশি কিছু নয়” (১৯৯৮), “বেদনা শুধুই বেদনা” (১৯৯৯), “ফিরতি পথে” (২০০৩), “দরজা খোলা বাড়ি” (২০০৯) এবং “এমন কেন হলো” (২০১৭)।

এছাড়াও বেশকিছু সিঙ্গেল ও মিশ্র অ্যালবামে গেয়েছেন জুয়েল।




গাজায় ইসরায়েলি হামলা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯১৭৫

বরিশাল অফিস :: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজার ১৭৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই)) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর গাজা শহরে আরও দু’জন এবং নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার ৩৯ হাজার ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও ৯০ হাজার ৭০৩ জন। তাছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও কয়েক লাখ মানুষ। নিহত ও আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু ও নারী।

অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলি ১১৩৯ জন নিহত হয়েছে।




কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনু, সম্পাদক আমির

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু ও হোসাইন আমির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আনন্দমুখর পরিবেশে দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ মান্নান চৌধুরী প্রধান দুই পদের ভোটাভুটি শেষে সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করেন।

সভাপতি হিসেবে তিনজন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোট ১৬ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন।

আরো পড়ুন : পবিপ্রবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি – সেশনজটের আশঙ্কা

এছাড়া আলোচনার মাধ্যমে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. কুদ্দুচ মাহমুদ, সহ-সভাপতি পদে ইছাহাক শেখ ও যুগ্ম সম্পাদক পদে সাইদুর রহমান মনোনীত হয়।

কুয়াকাটা প্রসক্লাবের সদ্য বিদায়ী সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, চতুর্থ বারের মতো এবং (দু’বছর মেয়াদ) টানা চার বছর পর সভাপতির পদ থেকে আগামী ২০ জুলাই ২০২৪ বিদায় নিতে চলেছি। নবনির্বাচিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী টানা দুই মেয়াদে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার পর তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন করা যায় না।