প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে যে প্রস্তাব দিল সম্পাদক পরিষদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- যেসব আইনে সাংবাদিকদের নিপীড়নের বিষয় রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে তা সংস্কার করা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ এই প্রস্তাব দেয়।

পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে সাংবাদিকের কাছে বৈঠকের তথ্য তুলে ধরেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম।

তিনি জানান, তারা চান, দেশে একটি জাতীয় ঐক্য স্থাপিত হোক। বৈঠকে তারা সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যত্রতত্র খুনের মামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

এসময় মাহ্‌ফুজ আনাম আরও বলেন, ‘আমাদেরকে প্রধান উপদেষ্টা একটি সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যান্ত আনন্দের খবর। আমি মনে করি ইউনূস ভাইয়ের মত এমন একজন নেতা না হলে আন্তর্জাতিকভাবে এটি সম্ভব হত না। আমরা খবুই খুশি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের যে কর্মকাণ্ড তার সঙ্গে আমাদের সম্পূর্ণভাবে একাত্বতা ঘোষণা করছি। আমরা চাই একটা নতুন দিগন্ত বাংলাদেশে উন্মোচিত হোক।




ভারতের নিষেধাজ্ঞা সত্য হলেও কিছু আসে যায় না : সমন্বয়ক নুসরাত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে ভারতের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়ে থাকলে বা সত্য হলেও সেটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এই নিষেধাজ্ঞায় আমাদের কিছু আসে যায় না।

‘ছয় ছাত্রনেতার ওপর ভারতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করে দ্য মিরর এশিয়া, যাতে নুসরাত তাবাসসুমের নাম রয়েছে। সংবাদে উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুসরাত তাবাসসুম কালবেলাকে একথা বলেন।

তিনি বলেন, দ্য মিরর এশিয়ার নিউজটা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমি আসলে কিছুই জানি না বা কিছু শুনিনি। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনার থেকেও আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি, দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিও কিছু জানায়নি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সবাই যেমন মিরর এশিয়ার খবরটা দেখেছেন অনলাইনে, আমিও সেরকমই দেখেছি। এর বেশিকিছু জানি না।

 

 

নুসরাত আরও বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা সত্য কিনা সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়ে থাকলেও বা সত্য হলেও সেটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এই নিষেধাজ্ঞায় আমাদের কিছু আসে যায় না। কারণ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান স্পষ্ট। এজন্য, যদি নিষেধাজ্ঞা দিয়েও থাকে তাহলে মনে করছি যে, এতে আমাদের আন্দোলন পূর্ণতা পেলো।

 

 

দ্য মিরর এশিয়া জানায়, ভারতবিরোধী জনতাকে উসকে দেওয়া ও ভারতের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে বাংলাদেশের ছয় ছাত্রনেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের ভিসা না দেওয়ার জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আখতার হোসেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও নুসরাত তাবাসসুম।




পটুয়াখালীর সড়ক ও জনপদের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যুগান্তর প্রতিনিধিকে হুমকির অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করায় দৈনিক যুগান্তরের উপকুল প্রতিনিধি বিলাস দাসকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সওজ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এম আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ৩০ আগষ্ট পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন বিলাস। জিডি নং-১১৫২/২৪।

ডায়েরিতে বিলাস উল্লেখ করেন, “ ১৫শ কোটি টাকার পায়রা সেতুতে লুটপাটের মহোৎসব। দুই-তৃতীয়াংশ টোলের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেটে। মুখ খুলছে না সওজ, দুর্নীতি ঢাকতে তদন্ত-অডিট।” এবং “পায়রা সেতু ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, সাধারণ পদ্ধতিতে পার হচ্ছে ভারী যান বাহন” শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন যুগান্তরে প্রকাশ করা। এছাড়া পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে গত ২৫ আগষ্ট ২০২৪ ইং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করায় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিক উল্লাহ গত ২৮ আগষ্ট বিকেলে তাকে ফোন করে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে তথ্য চেয়ে আবেদন করার কারন জানতে চান। এসময় নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে বলেন-আপনি পায়রা সেতুর টোল প্লাজা নিয়ে নিউজ করছেন।

আপনার সর্ম্পকে আমি সব ধরনের খোঁজ-খবর নিছি এবং জানি। এখন আবার তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করছেন। গভমেন্ট কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে আমাকে মামলা করার রাইট দিছে। আপনাকে জেল খাটানোর রাইট দিছে। আপনার পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার কোন তথ্য থাকে, গর্ভামেন্ট অফিসার হিসেবে আমাকে রাইট দিছে এবং সংবিধানও দিছে। এর পূর্বে টোল প্লাজা নিয়ে বিশাল রিপোর্ট করছেন; ভাবছিলেন যে অনেক কিছু করে ফেলবেন। আপিন সাংবাদিক হয়ে কি সবার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিতে পারেন? এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিলাসের সাথে আতিক উল্লাহর ২১ মিনিটি ৫০ সেকেন্ড কথা হয়। একপর্যায় তিনি পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব থাকা কালিন সময়ের সব ধরনের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, উদঘাটন এবং ঘাটাঘাটি করতে নিষেধ করে। যা একজন সাংবাদিকের পেশা ও জীবনের প্রতি হুমকী স্বরুপ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলায় যোগদান করলো পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ

এ বিষয়ে বিলাস দাস বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। সড়ক বিভাগের কোন কর্মকর্তার সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের র্নিবাহী প্রকৌশলী এ.এম আতিক উল্লাহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতি, অর্থের বিনিময় র্নিদিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং ভুয়া বিল-ভাউচারে বরাদ্দের ৭০ শতাংশ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সওজ প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে কোন তদন্ত অথবা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সওজের কাছে তথ্য চাওয়া হলে তারা তথ্য দেয়ার নামে টালবাহানা শুরু করে। তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশ না করেত প্রভাবশালী মহলকে দিয়ে প্রভাবিত করা হয়। সর্বশেষ সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে ফোন করে কৈফিয়ত জানতে চান।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী সওজের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার বলেন-ব্যস্ততার কারনে আবেদনটি আমার নজরে আসেনি। আতিক উল্লাহ সাহেব র্দীঘদিন এখানে থাকায় কেউ হয়তো আবেদনের কপি তাকে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম বলেন-লিখিত অভিযোগ জিডি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করেছি এবং একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সওজ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিক উল্লাহের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।




বন্যার্তদের সহায়তায় রাজনৈতিক-ধর্মীয় পরিচয় না দেখার আহ্বান তারেক রহমানের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশে মানুষে মানুষে হিংসা-বিভেদ তৈরি করেছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, এক ভিডিও বার্তায় ‘আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন না। ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সরকার ও প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা চাইলে সাধ্যমতো সহায়তা করবেন।’

দেশবাসীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলমত-নির্বিশেষে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে আল্লাহর রহমতে অবশ্যই এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে।’

বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের এই বন্যা দেশের অভ্যন্তরে উদ্ভূত কোনো কারণে নয়। বন্যাকবলিত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যার মূল কারণ নয়। বরং এবারের বন্যার মূল কারণ উজানের দেশ প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা।




বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে চেয়ে কটাক্ষের মুখে চঞ্চল চৌধুরী

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন :: বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় নীরব ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী। ফলস্বরুপ দেশের অধিকাংশের কাছে খলনায়কে পরিণত হন তিনি। সে সময় চঞ্চল জানান মায়ের অসুস্থতার কারণে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। যদিও তার এ ব্যাখ্যা সন্তুষ্ট করতে পারেনি নেটিজেনদের। অন্যদিকে চঞ্চলও নীরব হয়ে যান।

এদিকে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারি বর্ষণে প্লাবিত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত। খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে বসতভিটা। মাথার ওপর আকাশ ছাড়া কোনো ছাদ নেই সেখানে। সেই ছাদও অনিরাপদ করে দিয়েছে টানা বৃষ্টি। একটু আশ্রয়ের খোঁজা দিশেহারা বন্যা কবলিতরা।

তবে এবার দেশের চলমান আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে নীরবতা ভাঙলেন চঞ্চল চৌধুরী। নীরবতা ভেঙে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আসুন, আমরা সবাই বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াই।’ বানভাসিদের নিয়ে অন্য তারকাদের উদ্যোগ প্রশংসায় ভাসলেও চঞ্চলের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়নি। তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।

আরেকজন লেখেন, ‘এই সুযোগ মানুষের কাছে ভালো হওয়ার, কাজে লাগাতে পারেন, জীবনে তো অনেক কিছুই দেখাইছেন আশা করি এই সুযোগটা হাতছাড়া করবেন না।




সেনাবাহিনী সাদা পোশাকে অভিযান চালায় না: আইএসপিআর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বেসামরিক পোশাকে এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া কোনো অভিযান পরিচালনা করে না বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)।

বুধবার (২১ আগস্ট) আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, ইদানীং পরিলক্ষিত হচ্ছে যে— কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে বেসামরিক পোশাকে সরকারি অফিস, কর্পোরেট অফিস, পারিবারিক বাসস্থান, শপিংমল ও দোকানে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ফোন কলের মাধ্যমে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছে। আপনাদের সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বেসামরিক পোশাকে এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর (পুলিশ ও র‍্যাব ইত্যাদি) উপস্থিতি ছাড়া এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনা করে না।

এ অবস্থায় জনসাধারণকে প্রতারিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হলো। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।




শাকিল ও ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ৭১ টেলিভিশনের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহমেদ ও প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকালে উত্তরা পূর্ব থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাদের। এর আগে বুধবার তারা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে আসলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আটক করে ডিবিতে হস্তান্তর করে।

জানা যায়, একাত্তর টিভির প্রধানবার্তা সম্পাদক শাকিল, তার স্ত্রী উক্ত চ্যানেলের প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপিকা রুপা এবং তাদের মেয়েকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরবর্তীতে তাদের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তারা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে (TK-713) ইস্তানবুল হয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশ্য বিমানবন্দরে যান।  সিটি এসবির ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

গত ৮ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে মুস্তফা আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে শাকিল আহমেদ- হেড অব নিউজ, ফারজানা রুপা- প্রিন্সিপাল করেসপন্ডেন্ট ও প্রেজেন্টারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।




সময় টিভির সম্প্রচার এক সপ্তাহ বন্ধের নির্দেশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সম্প্রচার সাত দিনের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সোমবার (১৯ আগস্ট) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট ফারজানা খান নীলা।

সময় টিভির এমডি ও সিইও পদ থেকে আহমেদ জোবায়েরকে অপসারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৪ আগস্ট আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতে সিটি গ্রুপের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করীম। আহমেদ জোবায়েরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, গত শনিবার (১০ আগস্ট) গুলশানের সিটি হাউজে সময় মিডিয়া লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্ধারণ করা হয়।

এতে বলা হয়, সভায় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময় টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে আহমেদ জোবায়েরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই সভায় পরিচালক শম্পা রহমানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সময় মিডিয়া লিমিটেডের সব কার্যক্রম এখন থেকে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনায় পরিচালিত হবে।

পরে এ অব্যাহতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চে আবেদন করেন আহমেদ জোবায়ের।

গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এই খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি মিডিয়া কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সাময়িক সময়ের জন্য সময় টিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে অবশ্য আবারও সম্প্রচারে আসে সময় টেলিভিশন। এরপরই সামনে আসে মালিকানা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব। শেষ পর্যন্ত তা আদালতে গড়ায়।




হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আগে তরুণ কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে রূপ নেয় সরকার পদত্যাগের এক দফায়। পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে একপর্যায়ে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করে সরকার। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর আগে ২ আগস্ট এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ওই দিন এক বৈঠকে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। খবর ভারতীয় সাপ্তাহিক সংবাদ সাময়িকী দ্য উইকের।

প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য ওই বৈঠক ডেকেছিলেন সেনাপ্রধান। সেখানে তিনি সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষোভ প্রশমনে কিছু যুক্তি তুলে ধরেন। ওয়াকার-উজ-জামান তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে বাংলাদেশ কেনিয়া বা আফ্রিকার দেশগুলোর মতো হয়ে যেতে পারে।

এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ১৯৭০ সালের পর আমাদের দেশে এমন গণবিক্ষোভ আর কখনো ঘটেনি। এটি একটি ব্যতিক্রম ঘটনা। আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশ্বস্ত হননি কর্মকর্তারা। তরুণ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়। এর মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি মানতে বাধ্য হন।

বৈঠকের তিন দিন পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা একটি সামরিক হেলিকপ্টারে চড়তে বাধ্য হন। ওই হেলিকপ্টার তাকে ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে আগরতলায় নিয়ে যায়। সেখানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি১৩০ পরিবহন উড়োজাহাজ অপেক্ষমাণ ছিল, সেটা তাকে দিল্লির কাছে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যায়।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অবস্থা ছিল অস্বস্তিকর। কারণ, তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তা ছাড়া বৈবাহিক সূত্রে তিনি শেখ হাসিনার আত্মীয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি সম্ভবত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও সতর্ক করে তুলেছিল। বিশৃঙ্খলার মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সেনা মোতায়েনকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরতে সেনাপ্রধান বলেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তারা ১ হাজার ৭১৯টি গুলি ছুড়েছে, ১৪ হাজার ফাঁকা গুলি ছুড়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস জনতার মুখোমুখি হয়ে ৩১টি উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

মতবিনিময়ে সেনাপ্রধানের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে তদন্তের আহ্বান আসে। তরুণ মেজর মো. আলী হায়দার ভূঁইয়া সেনা মোতায়েনকালে সেনাবাহিনী যে ভূমিকা রেখেছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি পবিত্র কোরআন থেকে উদ্ধৃত করেন, তিনি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আল্লাহর করুণা ভিক্ষা করেন এবং এতে যুক্ত না হওয়ার কথা বলেন। একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শুধু বলেন, ‘আমিন’।

নারী কর্মকর্তা মেজর হাজেরা জাহান এই ঘটনায় শিশুদের প্রাণহানি ও এর ন্যায্য বিচার হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের অসন্তোষ বাড়তে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেনাপ্রধান তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির এক কর্মকর্তা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার ‘অগ্রহণযোগ্য’ কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। জবাবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, পরিস্থিতি ঠিক হলে এগুলো দেখা হবে।

সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের সমর্থন কমে যাওয়ার কথা তুলে ধরে সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন ৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব। চট্টগ্রামের আরেক কর্মকর্তা আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করার পরামর্শ দেন।

সব শেষে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যে সামাজিক চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন, তা তুলে ধরেন এবং নিজের হতাশা প্রকাশে আইয়ুব বাচ্চুর একটি গানের কথা তুলে ধরেন।




কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনুকে ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (১৮ আগস্ট) কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়াকাটা প্রতিনিধিরা ১৫ আগস্ট প্রেসক্লাবে এসে তাদের দাবি জানান। তারা দাবি করেন কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল-মিটিং করেছেন। তাদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিন দিন সময় চাওয়া হয়। এরপর শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে প্রেসক্লাব ও সদস্যদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে আনোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি পরিচালনার জন্য ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কুদ্দুস মাহমুদকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে আনোয়ার হোসেন বলেন, কুয়াকাটায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সম্বন্নয়কদের ছড়াছড়ি। তাদের অনধিকার চর্চার মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এরপর তিনি আরও একটি পোস্টে লেখেন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এক কালো অধ্যায় সৃষ্টি হলো।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়াকাটা প্রতিনিধি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন বলেন, তিনি (আনোয়ার হোসেন) একজন সংবাদকর্মী হওয়া সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দলের ব্যানারের সামনে থেকে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল-মিটিং করেছেন। তাই কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির আসনে তার থাকা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি মনে করছি। এ জন্য তাকে সভাপতি পদ থেকে বাধ্যতামূলক প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়েছি।