ডিসির পদায়নে ‘তিন কোটি টাকার চেক’, সত্যতা খুঁজতে কমিটি

চন্দ্রদ্বীপ অনলাইন : একটি জাতীয় দৈনিকে ‘তিন কোটি টাকার ক্যাশ চেক দিয়ে ডিসির পদায়ন’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. লিয়াকত আলী এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন।

তদন্ত কমিটিকে চেকের সত্যতা যাচাই করে আগামী তিন দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার একটি দৈনিকে ‘তিন কোটির ক্যাশ চেক দিয়ে ডিসির পদায়ন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বিতর্কিত ডিসি নিয়োগকাণ্ডের অন্যতম হোতা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের (এপিডি) কক্ষ থেকে ৩ কোটি টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। পদায়ন হওয়া এক জেলা প্রশাসকের পক্ষে ওই যুগ্ম সচিবকে চেকটি দেন এক ব্যবসায়ী। তবে কাঙ্ক্ষিত জেলায় পদায়ন না হওয়ায় চেকের বিপরীতে টাকা জমা দেননি ডিসি।

অন্যদিকে, সব কিছু ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চেকদাতা ওই ব্যবসায়ী। বিষয়টি নিয়ে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে বলে দাবি করা হয় ওই সংবাদে।




পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ইয়ামিনের মরদেহ ফেলার দৃশ্য ভাইরাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিন। খবর বাসস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তখন নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল পুলিশ। জোহরের নামাজ পড়ে বের হয়ে বাসায় ফিরছিলেন ইয়ামিন। ঠিক তখনই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে উঠায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনের নিথর দেহ পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। আর এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনা দেখে দেশের মানুষ বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যায়। পুলিশের বর্বর নির্মমতার শিকার গুলিবিদ্ধ ইয়ামিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ইয়ামিনের বাবা-মা বর্তমানে সাভার ব্যাংক টাউনে বসবাস করলেও তাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী।

মহিউদ্দিন ও নাসরিন সুলতানা দম্পতির একমাত্র ছেলে ইয়ামিন। অত্যন্ত মেধাবী শান্তশিষ্ট ছিল ইয়ামিন। এমআইএসটির হলে থেকেই পড়াশোনা করত ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুলাই তার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় আবাসিক হলও। ১৭ জুলাই সাভার নিজ বাসায় চলে যান ইয়ামিন। পরদিন স্থানীয় মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গিয়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হন ইয়ামিন।

ইয়ামিনের মামা মো. আব্দুল্লাহ আল মুন কাদির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছিল ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় সাভার ব্যাংক টাউন এলাকায় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হয় ইয়ামিন। ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে তুলে নেওয়ার পর নির্মম ও বর্বরোচিত কায়দায় নিচে ফেলে দেয়। ইয়ামিনকে ফেলে দেওয়ার সেই ভয়াবহ দৃশ্য গণমাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নির্মূলে এমন নিষ্ঠুরতম আচরণে দেশের ছাত্র-জনতা তখন প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে।

তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। নির্মম এই ঘটনার বিচার চেয়ে ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বাধায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা যায়নি। মরদেহ নিয়ে গ্রামেও যেতে দেয়নি পুলিশ।

পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসি থেকে ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ দেহ রাস্তায় ফেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আবার মৃত্যুর কোনো সনদ না দিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইয়ামিনের মরদেহ হস্তান্তর করে। ঢাকা ও সাভার রেঞ্জের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইয়ামিনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের না করতে ভয়-ভীতি দেখান। সাভার তালবাগ পারিবারিক কবরস্থানে ইয়ামিনের মরদেহ দাফন করতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বাধা দেন। পরে শহীদ ইয়ামিনকে সাভার ব্যাংক টাউন কবরস্থানে দাফন করা হয়।




গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন হতে পারে আগামী সপ্তাহে: তথ্য উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আগামী সপ্তাহে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।

আজ রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সংবাদপত্রের প্রকাশক, সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা এ মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আশা করি, আগামী সপ্তাহেই হয়তো গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের ঘোষণাটি দিতে পারব। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের অধিবেশন যোগদান শেষে দেশে ফিরলেই হয়তো এ ঘোষণাটি আসবে।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চাই অবশ্যই। কিন্তু আমি আপনাদের কাছে প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা কতটুকু? আমরা জানি, স্বাধীনতা মানে স্বাধীনতাই, এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ চলে না। কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলে বা স্বাধীনতার মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের প্রচারণা করা যাবে কি না। স্বাধীনতার কথা বলে ফ্যাসিস্টদের পারপাস সার্ভ (উদ্দেশ্য সাধন) করা যাবে কি না। সে বিষয়টি আপনাদের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশ, আমাদের এই যে অভ্যুত্থান, সেটিকে প্রাধান্য রেখে, মানদণ্ড রেখে সব স্বাধীনতা কিন্তু নিশ্চিত করতে চাই।’




শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট কে এই দিশানায়েকে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় দফায় গড়ানো ভোট গণনায় বিজয়ী হয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি) জোটের নেতা ও মার্ক্সবাদী রাজনীতিক অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহেকে হারিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

রোববার স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রোববার দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা শেষে মার্কসবাদী নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েককে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কার নির্বাচন কমিশন। দেশটির ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে হারিয়েছেন অনুরা।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, শনিবারের নির্বাচনে ৫৫ বছর বয়সী দিশানায়েকে ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হয়েছেন। ভোট গণনায় বিরোধী নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা দ্বিতীয় ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রণিল বিক্রমাসিংহে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। দিশানায়েকের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা ৩২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং রণিল বিক্রমাসিংহে মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী সোমবার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে দিশানায়েকের। শ্রীলঙ্কার মসনদে বসা কে এই অনুরা কুমারা দিশানায়েকে?

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট কে এই দিশানায়েকে?

126Shares
facebook sharing button
অ+
অ-
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট কে এই দিশানায়েকে?



পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের অর্ধ-বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ১৯৬১ সালের প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকদের সংগঠন পটুয়াখালী প্রেসক্লাব এর অর্ধ বার্ষিক সাধারন সভা আনন্দঘন পরিবেশে ও শান্তিপুর্নভাবে অনুষ্ঠিত।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাব ভবনের ড. আতহার উদ্দিন মিলনায়তনে ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব হোসেন এর সভাপতিত্বে সভার শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাংবাদিকসহ নিহত সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অর্ধ বার্ষিক সাধারন সভায় সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয়, আয়- ব্যয়ের হিসেব উপস্থাপন করেন ক্লাবের ট্রেজারার মো. আতিকুর রহমান।

সভায় সম্পাদক ও ট্রেজারের পেশকৃত প্রতিবেধনের উপর আলোচনা করেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অতুল চন্দ্র দাস, সাবেক সভাপতি নির্মল কুমার রক্ষিত, সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সভাপতি মো. জাকির হোসেন, সাবেক সভাপতি কাজী শামসুর রহমান ইকবাল, সাবেক সাধারন সম্পাদক মুফতী সালাউদ্দিন, সাবেক সাধারন সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, সদস্য বিলাস দাস, সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির, সদস্য আব্দুল কাইউম, প্রাথমিক সদস্য কামরুজ্জামান হেলাল প্রমুখ।




জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা তুলে ধরবেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। সেখানে তিনি দেশে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা তুলে ধরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র মেরামতের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করবেন।

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণ করেন। ৮ আগস্ট তিনি দায়িত্ব নেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার প্রধান হিসেবে এবারই প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা যে বক্তব্য দেবেন, সেখানে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা তুলে ধরা হবে। ছাত্ররা প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে কীভাবে সফল অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে এবং মানুষের মধ্যে নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করেছে, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে তার প্রতিফলন থাকবে।

এছাড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিজয়ের নতুন যাত্রায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ড. ইউনূসের বক্তব্যে সেসব তুলে ধরা হবে বলে জানান শফিকুল আলম।

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের দর্শন বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন অধ্যাপক ইউনূস। নিজেদের গর্বিত ও মর্যাদাশীল দেশের জনগণ হিসেবে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ কীভাবে নিজেদের তুলে ধরবে, সেটিই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাবেন প্রধান উপদেষ্টা।

শফিকুল আলম জানান, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি ভূরাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে উদাত্তভাবে আহ্বান জানাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এছাড়া তিনি আরও কিছু সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন।




তিন পার্বত্য জেলায় সংঘর্ষ নিয়ে যা জানালো আইএসপিআর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তিন পার্বত্য জেলায় সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা সদরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উচ্ছৃঙ্খল জনগণের গণপিটুনিতে মো. মামুন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হন। পরবর্তীতে সদর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দীঘিনালা কলেজ হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি দীঘিনালার বোয়ালখালী বাজার অতিক্রম করার সময় ইউপিডিএফের (মূল) সন্ত্রাসীরা মিছিলের ওপর হামলা করে ও ২০-৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ জনতা বোয়ালখালী বাজারের কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে।

আইএসপিআর আরও জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হলে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার ব্রিগেড ও স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় আগুন নেভায়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি ও আশেপাশের এলাকা সমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে ক্রমেই পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনাকর করে তোলে।

দ্রুততার সঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, দীঘিনালা ও পানছড়িসহ সকল উপজেলায় যৌথভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে টহল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটি লিডারদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সকল পক্ষকে সহিংস কার্যকলাপ হতে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করতে বলা হয়।

একই রাতে (১৯ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জোনের একটি টহল দল  সাড়ে ১০টায় একজন মুমূর্ষু রোগীকে স্থানান্তরের সময় খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর এলাকায় পৌঁছালে অবস্থানরত উত্তেজিত জনসাধারণ ইউপিডিএফের (মূল) নেতৃত্বে বাধা সৃষ্টি করে। এক সময় ইউপিডিএফের (মূল) সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলের সদস্যদের ওপর গুলি করে এবং আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। এ গোলাগুলির ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন বলে জানা যায়।

আইএসপিআর জানায়, একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল জনসাধারণ কয়েকজন যুবকের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদের ওপর হামলা ও লাঠিপেটা করে। সেই সঙ্গে উত্তেজিত জনসাধারণ ইউপিডিএফের (মূল) নেতৃত্বে ফায়ার ব্রিগেডের অফিসে ভাঙচুর করা হয়।

আজ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পিসিজেএসএস সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা সদরে সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে স্থানীয় জনসাধারণ রাঙ্গামাটি জিমনেশিয়াম এলাকায় সমবেত হয়। এ সময় ৮০০-১০০০ জন উত্তেজিত জনসাধারণ একটি মিছিল বের করে বনরুপা এলাকার দিকে অগ্রসর হয় এবং বনরুপা বাজার মসজিদ, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সিএনজি- অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং বেশকিছু দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে উভয় পক্ষের বেশকিছু লোকজন আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত ঘটনাসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান উত্তেজনা তিন পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ দাঙ্গায় রূপ নিতে পারে। অনতিবিলম্বে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। যথাযথ তদন্ত কার্যক্রম সম্পাদনের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের সনাক্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।




দুমকিতে সাংবাদিকের নামে ফেসবুকে অপপ্রচার, প্রেসক্লাবের নিন্দা, থানায় জিডি!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব দুমকির সদস্য প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক (ফেক আইডি) দিয়ে অপপ্রচার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের সদস্যরা। পাশাপাশি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব দুমকির সভাকক্ষে দৈনিক জনকণ্ঠ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব সহ সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম মৃধার সভাপতিত্বে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম, মো: কামাল হোসেন নয়াদিগন্ত, মো দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিন, মো.মিজানুর রহমান আনন্দ টিভি, মো.জসিম উদ্দিন আমার সংবাদ, সৈয়দ আতিকুল ইসলাম মানব কন্ঠ, মো: সুমন মৃধা পর্যবেক্ষণ, সোয়েব মর্তুজা একুশে নিউজ , ভোরের পাতা প্রতিনিধি বাহাদুর হোসেনসহ অনান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সদস্যরা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যে বানোয়াট ষড়যন্ত্রমূলক ফেসবুক পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

পরবর্তীতে প্রেসক্লাব সদস্যদের সিদ্ধান্তানুযায়ী থানায় ফেক আইডির বিরুদ্ধে জিডি করা হয়। দুমকি থানা জিডি নং ৭১৮ তারিখ ১৮/৯/২০২৪খ্রীঃ।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, জিডির কপি পেয়েছি অতি শীগ্রই আমরা অপরাধীকে খুঁজে বের করব।




নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের সঙ্গে মোদির বৈঠক হচ্ছে না

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম। উভয় নেতা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন।

বিষয়টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ড. ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। ইতোমধ্যে সরকারের প্রায় দেড় মাস কেটে গেছে। এই সময়ে পশ্চিমা বিশ্বসহ বেশিরভাগ দেশ ড. ইউনূসের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করলেও স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে পারছে না প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশ নিয়ে একটি অস্বস্তি ও শঙ্কা কাজ করছে দিল্লির। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাদের ভাষায় ‘ইসলামপন্থী ও উগ্র ডানপন্থী শক্তি’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় ভুগছে প্রতিবেশী দেশটি।

এমন অবস্থার মধ্যে জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ড. ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এমন অবস্থার মধ্যে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বৈঠক না হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ভারতীয় এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেছেন, ‘নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে মোদি কিছু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের সঙ্গে কোনো বৈঠক শিডিউলে নেই।’

ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আপাতত বৈঠক না করার বিষয়ে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এখন যদি ড. ইউনূসের সঙ্গে মোদিকে সরাসরি বৈঠক করতে হয় তাহলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপারেও আলোচনা করতে হবে। আর মোদি এখন হাসিনাকে নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না। কারণ আলোচনা হলে সেখানে অবশ্যই হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উঠবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ‘ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে কথা বললে ভারতকে এমন কিছু বিষয়ের ওপর নজর দিতে হবে। যেটি তারা এখন আলোচনায় রাখতে চাইবে না।’




দ্রুত নির্বাচনের দাবি ‘সরকারের ভেতর থেকে নতুন দল তৈরির কথা বললে জনগণ কীভাবে বুঝবে তাঁরা নিরপেক্ষ?’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে সুযোগ তৈরি করেছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার, আমাদের ব্যবস্থাকে জনগণ যেভাবে চায়, সেভাবে নিয়ে আসার। সেটা কি নস্যাৎ করার জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে? যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন, এই সরকার যাঁদের দায়িত্ব দিয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকে যখন বলেন নতুন দল তৈরি করতে হবে, তখন বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। যদি বলেন নতুন দল তৈরি করতে হবে, তাহলে জনগণ কী করে বুঝবে যে তাঁরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন?’

আজ সোমবার ‘দ্বিকক্ষ পার্লামেন্ট: উচ্চকক্ষের গঠন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বেশ কিছু গোষ্ঠী বলতে শুরু করেছে যে অন্তর্বর্তী সরকারকে অনির্দিষ্টকালে জন্য রাখা হোক। সমস্ত সংস্কার তারাই করুক। যেকোনো সংস্কার জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। সে জন্য নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।

বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরশাসনকে সহায়তাকারীরা এখনো প্রশাসনে রয়ে গেছেন, তাঁদের অপসারণ করতে হবে। সেই সঙ্গে আন্দোলনে নিহত-আহত ব্যক্তিদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান মির্জা ফখরুল।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, নির্বাচন অবশ্যই করতে হবে। তবে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দিলে তাতে কোনো লাভ হবে না। সংবিধান সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা মেরামত করতে হবে। যারা হত্যা করেছে, তাদের ক্ষমা করা যাবে না। বিচার করতে হবে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, কোন কোন বিষয়ে সংস্কার করতে হবে, সে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। কোনটা আগে শুরু করা হবে, সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং তা কীভাবে টেকসই যায়, তা ভাবতে হবে। কারণ, অর্জন করলেও তা টিকিয়ে রাখা যায় না। যে সংস্কার না করলে এই আন্দোলন ব্যর্থ হতে পারে, সেটা নিয়ে আলোচনার করা দরকার।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব সমর্থন করেন না বলে জানান এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এটা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের। এখানে আইন পাস করা কঠিন হয়ে যাবে। তাই এটা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্যসচিব আবু ইউসুফ সেলিম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, সহসভাপতি মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া ও কে এম জাবির।