বরিশালে শতবর্ষী ‘করিম উদ্দিনের মেলা’

বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ধামসর গ্রামে জমে উঠেছে ১৫০ বছর আগের পুরোনো ঐতিবাহী ‘করিম উদ্দিনের মেলা’ এ মেলার নেই আগাম প্রচার প্রচারনা। এরপরও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা সমবেত হোন উপজেলার করিম উদ্দিনের মেলায়। দেড়শ বছর আগ থেকে চলে আসা এই মেলা যেন এ অঞ্চলের মানুষের প্রানের স্পন্দন। এ মেলাটি একটি গ্রামে বসলেও এর উৎসবের আমেজ থাকে আশেপাশের কয়েকটি উপজেলাজুড়ে।

উজিরপুর উপজেলার উত্তর-পূর্বে বামরাইল ইউনিয়নের পূর্ব ধামসর গ্রামে বসে করিম উদ্দিনের মেলা।স্থানীয় লোকজন জানান, ‘করিম উদ্দিনের মেলা শত বছর ধরে বসে আসছে। অনেকের বাপ-দাদারাও ছোটবেলা থেকে এই মেলা দেখে বড় হয়েছেন। তাদের বাপ-দাদারাও পূর্বপুরুষের কাছ থেকে একই কথা শুনেছেন। মাঘ মাসের শেষ দিকে বসে মেলাটি, চলে ফাল্গুন মাসের ১৭ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত।’

মেলায় ঘুরতে আসা কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ বলেন, ‘বাপ-দাদার মুখ থেকে শুনে ধারণা করা হয়, করিম উদ্দিনের মেলাটি প্রায় ১৫০ বছর আগের পুরোনো। আগে এই মেলায় ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠিত হত। এই মেলার আগাম কোনো প্রচারণা থাকে না। শত বছর ধরে মাঘ মাসের শেষ দিনে পূর্ব ধামসর গ্রামের ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে এখানে পসরা সাজান।’

আর মেলাটি শুধু মেলা প্রাঙ্গণেই সীমিত নয়, বছরের পর বছর ধরে এ উপলক্ষে জামাতা ও আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ করে আপ্যায়ন করার প্রথাও চালু আছে। গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে বানানো হয়েছে খই, মুড়কি, নারকেলের ও চালের নাড়ু। মেলা থেকে দই-মিষ্টি কিনে নিয়ে মুড়কি দিয়ে খাওয়ার প্রথাটিও আছে এখনও।

সরেজমিনে করিম উদ্দিনের মেলায় দেখা গেছে, হরেক পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। মিষ্টান্ন, খেলনা, চুড়ি, ফিতা, আলতা থেকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র। জিলাপি ভাজা হচ্ছে বিক্রি হচ্ছে। মেলায় ঘোরা শেষে জিলাপি কিনে বাড়ি ফেরেন না এমন মানুষ নেই। আরো আছে ‘ঝুড়ি মেলার’ ঐতিহ্য।

মেলায় আগত অনেকেই জানালেন গ্রাম বাংলার প্রানের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এই করিম উদ্দিনের মেলা। এখানে এলে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। প্রতি বছরই আসা হয়। মেলার ঐতিহ্যবাহী গুড়ের জিলাপি তাদের খুব পছন্দের।’

করিম উদ্দিনের মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: এনায়েত হোসেন বলেন, ‘১৫ দিনব্যাপীর এই মেলা গত বুধবার শুরু হয়েছে। তবে লেপ-তোষক ফার্নিচারের দোকানপাট মাসব্যাপী থাকবে। মেলা থেকে উপার্জিত আয় গ্রামের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে, গ্রামের মানুষের কর পরিশোধে ও সেবামূলক কাজে ব্যয় করা হয়।’




কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী ১৭ ফেব্রুয়ারি

বরিশাল অফিস :: জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদ এর উদ্যোগে এবারের এ আয়োজনে কোনও ধরনের প্ল্যাস্টিক বা প্যানাফ্লেক্স সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে না। সেইসাথে জন্ম-জয়ন্তীর গোটা আয়োজন প্রথমবারের মতো কবি জীবনানন্দ দাশের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠশালা ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সবাইকে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়ে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জননী সাহান আর বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদ। কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে ১৪ অক্টোবর থেকে ৮দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ২২ অক্টোবর প্রয়াত হন।

জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদের আহ্বায়ক কবি ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, জীবনানন্দ দাশের পর বুঝতে পারা গেছে সে কত বড় কবি ছিলেন। সাধারণ জীবনযাপন করে ও তিনি অসাধারণ কবিতা লিখেছেন। বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্ম-জয়ন্তীতে বরিশালের অনেকে অনেককিছুই করবে। তবে আমরা একটু ভিন্নতায় গুরুত্ব দিয়েছি।

তিনি বলেন, কোন কিছুর উদ্‌যাপনের পেছনে দুটি জিনিস কাজ করে, একটি হল মনে করিয়ে দেয়া আর একটি হল প্রচার। আর আমরা স্থানীয় প্রচারকে গুরুত্ব দিয়েই সাংবাদিক বন্ধুদের সাথে বসলাম। আশা করি আপনাদের লেখনীর মধ্য দিয়ে জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী সম্পর্কে আরও বেশি মানুষ জানবে। তাকে নিয়ে ভাববে।

এসময় জীবনানন্দ জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন পর্ষদের সদস্য জাহিদ আব্দুল্লাহ রাহাত বলেন, কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫ তম জন্ম জয়ন্তীতে এই বোধের জায়গাটিতে ঝাঁকুনি দেয়াড় একটা সময় হয়েছে। আমরা এমন একটি আয়োজন করতে চাই যা দীর্ঘমেয়াদে এই শহরে একটি কার্যকরী অনুরণন সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রথমত প্রথমবারের মতো জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে কোনো আয়োজন ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে হচ্ছে। আমরা জানি, জীবনানন্দ এই প্রতিষ্ঠানটির একজন কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন, যিনি ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিবছর শিক্ষা বৃত্তি পেতেন। এই কৃতি শিক্ষার্থীর কল্যাণে বাংলা সাহিত্যে ব্রজমোহন বিদ্যালয় নামটি অক্ষয় হয়ে থাকবে- এই বিষয়টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা হয়ত বুঝবে এবং আশা করি। প্রতিবছর এই মানের অন্তত একটি আয়োজন তারা করবেন। এছাড়া জীবনানন্দের জীবনের দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তাঁর বাবা সত্যানন্দ দাশ এবং প্রধান শিক্ষক আচার্য জগদীশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর মতো শিক্ষকেরা একসময়ে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। এমন মহতী শিক্ষকদের শিক্ষা কি ছিলো -এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে আগ্রহ তৈরী হোক।

অপরদিকে এই আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি মঞ্চে অভিনয় করবেন, দেয়ালিকা তৈরী করবেন এবং জীবনানন্দ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করবেন যা তাদের চর্চায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

আর এবারের কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী আয়োজনটিতে কোনও ধরনের প্ল্যাস্টিক বা প্যানাফ্লেক্স সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে না। যা আজকালকার যেকোনো আয়োজনে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু চাইলেই আসলে এসব এড়ানো যায় এটা আমরা প্রমাণ করতে পারি। জীবনানন্দের আয়োজনে পরিবেশ ক্ষতির কারণ হয় এমন কিছু আমরা করতে পারি না। ব্রজমোহন বিদ্যালয় নামাঙ্কিত ভবনটি জীবনানন্দ যখন পড়তেন তখনও এভাবেই ছিলো। আমরা মনে করি এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং ভবনটি অবিকল রেখে আরও সুরক্ষিত করা উচিত। আমরা এই ভবনটিকেই আমাদের আয়োজনের ব্যাকড্রপ হিসেবে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করতে চাই। এছাড়া আমাদের অনুষ্ঠানের প্রধান গেটটি দেশীয় অনুষঙ্গ দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে এবং গেটটিতে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা বিষয়ে মানুষের কাছে আহ্বান থাকবে।

অনুষ্ঠানস্থলে জীবনানন্দ বিষয়ক বইয়ের একটি স্টল থাকবে পাশাপাশি জীবনানন্দের লোগো সম্বলিত কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, নোটপ্যাড, কলম এবং একটি প্রকাশনার প্রদর্শনী থাকবে। এছাড়া ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরী জীবনানন্দ স্মরণে একটি ‘দেয়ালিকা’ থাকবে।

আয়োজকরা জানান, জীবদ্দশায় জীবনানন্দ মাত্র ২৭২ টি কবিতা প্রকাশ করেছিলেন, অথচ তাঁর প্রায় সাড়ে তিন হাজারের উপরে কবিতা রয়েছে যা তাঁর মৃত্যুর পরে আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এখনও অপ্রকাশিত কবিতা নামে প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি ২৭ টি উপন্যাস, ১০৯ টি ছোটগল্প লিখেছেন, এছাড়া অসংখ্য প্রবন্ধ, সমালোচনা সাহিত্য, চিঠিপত্র, লিটেরারী নোটস ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর আর্থিক সংকটের সময়ে তিনি যে কিছু গানও লিখেছিলেন টা একেবারেই অনাবিষ্কৃত ছিলো। আমরা জীবনানন্দের ১৫ টি গান পেয়েছি(জীবনানন্দ দাশ: বিকাশ প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত-দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, পৃষ্ঠা: ৫৮৫)যার মধ্যে বাছাই করে ৫ টি গানের সুর ও সঙ্গীতায়োজন করা হয়েছে। যা এপার বাংলা-ওপার বাংলা মিলে সম্ভবত প্রথমবারের মতো পরিবেশিত হতে যাচ্ছে।

যারা গানগুলোর সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৈত্রী ঘরাই, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল রানা, সরকারি বরিশাল কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় হালদার, নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী রিপন কুমার গুহ।

এছাড়া জীবনানন্দের কবিতায় সুর হয়েছে এবং ক্যামেরায় দৃশ্যায়ন হয়েছে। তাঁর জীবনীভিত্তিক উপন্যাস ‘একজন কমলালেবু’(শাহাদুজ্জামান) এর নাট্যরূপ হয়েছে কিন্তু মঞ্চে পারফর্মিং আর্টের মাধ্যমে কবিতার দৃশ্যায়ন সম্ভবত এই প্রথম। জীবনানন্দের কবিতার এত ‘লেয়ার’ যে একে মঞ্চে উপস্থাপন করা সত্যিই দুরূহ। এই চ্যালেঞ্জিং কাজটিই আমরা এই আয়োজনে করতে যাচ্ছি। মজার ব্যাপার হলো মঞ্চে পারফর্ম করবে ব্রজমোহন বিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থীরা। যেখানে প্রথমবারের মতো মঞ্চে পারফর্মিং আর্টের মাধ্যমে আকাশলীনা, বনলতা সেন, বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, অদ্ভুত আঁধার এক, ও আবার আসিব ফিরে এই ৫ টি কবিতার দৃশ্যায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে কোন প্রধান ও বিশেষ অতিথি নেই জানিয়ে তারা বলেন, সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আমরা সবার উপস্থিতিও কামনা করছি। তবে যারা নিবিষ্ট মনে জীবনানন্দকে নানাভাবে চর্চা করছেন, ধারণ করছেন, তাদের মধ্যে বরিশালেই জন্ম এমন ৩ জন তরুন আমীন আল রশীদ, সৌরভ মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ মাহফুজ অভি কে এই আয়োজনে অতিথি করা হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, চিরায়াত বাংলার রুপকে ইতিহাস আর বৈশ্বিক চেতনায় বিশ্লেষণ করেছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। বাঙলায় প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি এঁকেছেন তাঁর চোখে- যা সমানভাবে কৌতূহল জাগিয়েছে দেশি এবং ভিনদেশি পাঠককে। ‘দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে’, ‘অবিরল শুপুরির সারি আঁধারে যেতেছে ডুবে’, ‘পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে’, ‘চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে’- এ দৃশ্যগুলি প্রত্যেক বাঙালীর চেনা কিন্তু কি এক আশ্চর্য সম্মোহনী আকর্ষণ জাগায় পাঠক মনে! শুধুমাত্র ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বহু জীবনানন্দ অনুরাগী তাঁর নিজ শহর এই বরিশালে ছুটে চলে আসেন, যেমনিভাবে কবি নিজেও বারবার বাংলায় ফিরতে চেয়েছেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো জীবনানন্দের শহরে তাঁর অনুরাগীরা এসে মোটামুটি একটা হোঁচট খান, জীবনানন্দের বাংলার এই ছবি আজ কল্পনায় শুধুমাত্র। বিলীন হয়ে যাচ্ছে তাঁর প্রিয় ঝাউবন, লাল সুড়কির ইটের রাস্তা, জলসিঁড়ি- ধানসিঁড়ি নদীর তীর, ঘুঘু, প্যাঁচা, গোলপাতার ছাউনি কিংবা নাটাফল। জীবনানন্দ চর্চা বা আয়োজনে সংশ্লেষণের যায়গাটি অনুপস্থিত। ‘যদি ধানসিঁড়ি না বাঁচে, জীবনানন্দ ফিরবে কার তীরে’- এই বোধ তৈরী হচ্ছে না। যে শহরে জলাশয় হত্যা হয়, জল-জমি-জঙ্গল লুট হয়ে যায়, সে শহরে জীবনানন্দের কবিতারা কীভাবে থাকে? কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫ তম জন্ম জয়ন্তীতে এই বোধের যায়গাটিতে ঝাঁকুনি দেয়ার একটা সময় হয়েছে। আমরা এমন একটি আয়োজন করতে চাই যা দীর্ঘমেয়াদে এই শহরে একটি কার্যকরী অনুরণন সৃষ্টি করতে পারে।




দুমকিতে অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, স্বেচ্ছাচারিতা, সহকর্মী শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকায় দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া আজিজ আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. এবাদুল হকের বেতন-ভাতা স্থগিত করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত জানুয়ারি মাসের এমপিওতে কলেজটির সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ছাড় করলেও অধ্যক্ষ আহসানুল হক ও প্রভাষক এবাদুল হকের বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তর বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ওই কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হকের নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, জাল-জালিয়াতি ও নারী কেলেংকারির অভিযোগের প্রমাণ মেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর তার বেতন-ভাতা স্থগিত করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর পরিদর্শক সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে।
তদন্তকালে অধ্যক্ষ আহসানুল হকের নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র, কলেজের গভর্নিং বডি গঠন কার্যক্রমের নথি পর্যালোচনা, অভিযোগকারী অভিভাবক সদস্য, সাময়িক বরখাস্তের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্যে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত টিম।

একই সঙ্গে ওই প্রতিবেদনে কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. এবাদুল হকের নিয়োগের বৈধতা না থাকায় তার বেতন-ভাতা বন্ধেরও সুপারিশ করা হয়।




জুমার দিনে সূরা কাহ্ফ তেলওয়াতের ফজিলত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জুমার দিনের বিশেষ আমল সূরা আল কাহ্ফ তেলওয়াতের অসামান্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে একাধিক হাদিসে।

নবী করীম স. বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।

যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম)(মিশকাত)।

‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে।

আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ’ (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।

যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে। ’ (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব – ৭৩৬)।

জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)

জনৈক ব্যক্তি সূরা আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমাত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (মুসলিম- ১৭৪২)।

অর্থাৎ এটা হলো আল্লাহ  তায়ালার পক্ষ থেকে ওই ‘সাকীনা’ বা প্রশান্তি যা কোরআন পাঠের সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।

পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআন বা এর যে কোন সূরা যে কোন সময় আমল করা যাবে। তবে আল্লাহ তাআলা কিছু নির্দিষ্ট সময় দিয়েছেন যে সময়গুলোতে কিছু নির্দিষ্ট আমল করলে সওয়াব বেশি হয়।

তেমনি ভাবে সূরা কাহফ বৃহস্পতিবার দিন শেষে সূর্য ডোবার পর থেকে শুক্রবার সূর্য ডোবা পর্যন্ত যে কোনো সময় সূরা কাহাফ পাঠ করলে হাদিস অনুযায়ী আমল করা হবে।

সূরা আল কাহ্ফ পবিত্র কোরআন শরীফের ১৮ নম্বর সূরা। এ সূরার আয়াত সংখ্যা ১১০টি এবং রুকুর সংখ্যা ১১টি। সূরা আল কাহাফ মক্কায় অবতীর্ণ তাই এটি মাক্কী সূরা।




বরিশালে স্বাস্থ্য সচেতনতায় গানের কনটেন্ট তৈরি করবে সিরাক

বরিশাল অফিস :: কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় জারিগানে কনটেন্ট নির্মাণ করবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিরাক বাংলাদেশ।

এ লক্ষ্যে বরিশাল নগরীর বটতলা এরিয়ার হোটেল ‘রোজ ইন’ এর মিলনায়তন কক্ষে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে দশটায় ‘কনটেন্ট ভ্যালিডেশন’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।

ইউএসআইডির অর্থায়নে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহায়তায় ‘নলেজ সাকসেস’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য ও পরিচিতি পর্ব পরিচালনা করেন, সিরাক বাংলাদেশের উপ-পরিচালক মো.সেলিম মিয়া। বিষয়ভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করেন সিরাক বাংলাদেশ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নুসরাত শারমিন রেশমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবার পরিকল্পনার বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান বলেন, সরকার সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। এটি খুবই জরুরি একটি বিষয়। আর সচেতনতা তৈরির মাধ্যম হিসেবে বক্তব্য ও সাধারণ কথার চেয়ে আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত জারিগান, পথ নাটক বা পুঁথিপাঠ প্রভাবশালী মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, এসব কনটেন্টের মাধ্যমে সহজেই সহজ ভাষায় কৈশোর ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়গুলোকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যাবে। সিরাক-বাংলাদেশ আঞ্চলিক ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে যে প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে তা সকল অঞ্চলের কিশোর-কিশোরীদের তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টিকে আরো ত্বরান্বিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনার বরিশাল জেলা এর সহকারী পরিচালক মো. নকিবুল হাসান ও মো. সাইদুর রহমান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুপ্রভাত হালদার, বরিশাল জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার দেবজামিকর, সভাপতির বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক মো: মিজানুর রহমান। সমাপনী বক্তব্য রাখেন সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এসএম সৈকত।

সিরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এসএম সৈকত সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সব মানুষের দোরগোড়ায় পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি এই উন্নয়ন পরিকল্পনা আরো ত্বরান্বিত করতে দেশের ৫ জেলায় (বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী) কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক অডিও এবং ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে কাজ করছে। তবে এবার আঞ্চলিক ভাষায় (জারি, গম্ভীরা, পালা, ধামাইল, গীতিনাট্য) গানে কনটেন্ট তৈরিতে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিরাক বাংলাদেশ।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিরাক-বাংলাদেশের বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. নাঈম হোসেন খান, এবং বরিশালের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, সিরাক-বাংলাদেশ ১৯৯১ সালে এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবাধিকার, বাল্যবিবাহ ও যৌন সহিংসতা রোধ, নারী, শিশু ও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক সচেতনতা, কর্মমুখী শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য অধিকার, নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সারাদেশে সুনামের সাথে বিভিন্ন প্রকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

এছাড়াও জাতিসংঘের ইসিওএসওসির সাথে বিশেষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তরুণদের নীতি ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিরাক বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত একটি সংস্থা।




ফিরে দেখা একুশ: শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা দেখে উত্তাল পটুয়াখালী

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবদুস সালাম। তার রক্তামাখা জামা পটুয়াখালীতে নিয়ে আসা হয়। সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে আয়োজিত গণজমায়েতে রক্তামাখা জামা মানুষকে দেখানোর পরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। এতে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের ঢেউ পটুয়াখালীতেও আছড়ে পড়ে।
তৎকালীন ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের অনেকেই এখন জীবিত নেই। এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া ও মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ নামের দুই ভাষা সৈনিকের সঙ্গে কথা হয়।

তারা জানান, তখন পটুয়াখালী ছিল বরিশাল জেলার একটি মহকুমা। ঢাকায় যখন ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল ঠিক সেই সময় পটুয়াখালীতে ‘পটুয়াখালী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের’ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে কবি খন্দকার খালেককে আহ্বায়ক ও জালাল উদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। পরে এ কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন আজহার উদ্দিন, আবুল হোসেন আবু মিয়া, অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী, বীরেশ্বর বসু, অতুল চন্দ্র দাস, ধ্রুবজ্যোতি দত্ত, অ্যাডভোকেট গোলাম আহাদ চৌধুরী, এটিএম ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।
ওই কমিটিতে না থাকলেও ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পটুয়াখালীর বাউফলের সন্তান সৈয়দ আশরাফ হোসেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কমিটির উদ্যোগে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও পটুয়াখালী শহরে হরতাল পালন করা হয়। পটুয়াখালীতে খবর আসে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলিবর্ষণ ও শহীদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। অন্যদের সঙ্গে শহীদ হন সালাম। তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ আশরাফের বড় ভাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ ফজলুল হক। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা নিয়ে সৈয়দ আশরাফ হোসেন পটুয়াখালীতে আসেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা আন্দোলন কমিটির প্রথম প্রকাশ্য জনসভা। এমদাদ আলীর সভাপতিত্বে ওই সভায় বিডি হাবিবুল্লাহ, এবিএম আব্দুল লতিফ, আব্দুল করিম মিয়া, সৈয়দ আশরাফসহ ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারীরা বক্তব্য দেন। ছাত্র-জনতা ছাড়া ওই সভায় তেমন লোক ছিল না। শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি দেখানোর পরে পটুয়াখালীর মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা।

ভাষা সৈনিক মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে নিয়ে আসা শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি বিভিন্ন সভায় জনতাকে দেখান সৈয়দ আশরাফ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে উপস্থিত জনতা, আন্দোলন – সংগ্রামে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। জনসভায় ঘোষণামতে ৩ মার্চ পটুয়াখালী শহরে পালন করা হয় সর্বাত্মক হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিল। এর আগে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণজমায়েতে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায়ও রক্তমাখা জামাটি দেখানো হয়। রক্তমাখা জামাটি ছুয়ে আমরা সবাই শপথ নিই বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন সংগ্রহ চালিয়ে যাওয়ার। পরে জুবিলী স্কুলের মাঠ থেকে আমাদের ‘রক্ত শপথ’ গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পরে।’
তবে স্থানীয় প্রশাসন জুবিলী স্কুলের মাঠের গণজমায়েতকে পণ্ড করতে নানা কৌশল নেয় বলে জানান দলিল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। জনসভায় বিতরণের জন্য আন্দোলনকারীদের অন্যতম কবি খন্দকার খালেক রচিত ‘রক্ত শপথ’ লিফলেট আর্ট প্রেস নামক ছাপাখানায় ছাপিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শহরে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঢল নামে পটুয়াখালী শহরের সরকারি জুবিলী স্কুল মাঠে। গণজমায়েত স্মরণকালের বৃহৎ জনসভায় রূপ নেয়। এতে গ্রাম থেকেও নৌকায় ছুটে আসেন ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। জনস্রোত দেখে দাঙ্গা পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হয়। এদিকে ‘রক্ত শপথ’লিফলেট ছাপানোর কারণে তৎকালীন প্রশাসন সরকারি কাজের ক্ষেত্রে আর্ট প্রেসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যা পরের পাঁচ বছর বলবৎ ছিল।’

ভাষা সৈনিক এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া জানান, পরে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে পটুয়াখালীতে একটি পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে ১৭ এপ্রিল পটুয়াখালীর পুরান বাজার স্টিমার ঘাটের একটি বাড়ির দোতলায় প্রথমে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ স্মৃতি পাঠাগার এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন যুক্তফ্রন্টের এমপি আব্দুল করিম মিয়া ও সম্পাদক হন জালাল উদ্দিন আহমেদ। পরে কয়েকটি স্থানে স্থানান্তরের পর শহরের এসডিও অফিসের পুকুরের পশ্চিম উত্তর কোণে নিজস্ব ভবনে নির্মিত হয় পটুয়াখালী শহীদ স্মৃতি পাঠাগার যার কার্যক্রম এখনও সচল।

আবু মিয়া আরো জানান, ২৫ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন পাঠাগারের। বর্তমানে ৩৬ জন আজীবন সদস্যসহ ১০০ জন সদস্য রয়েছেন। পাঠাগারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা বর্ষবরণ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটকের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন লেখক-কবিদের বই পড়েন।
ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ চত্বরে ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে স্থাপিত হয় শহীদ মিনার। পটুয়াখালী জেলার প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে মাথা উঁচু করে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই কাঠামোটি। যেখানে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।




আজ থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আজ  শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদের স্মৃতিতে এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। বইয়ের এ উৎসবে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট আয়তনের মাঠে ৬৩৫ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০ প্রতিষ্ঠান ১৭৩ ইউনিট এবং সোহরওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫ প্রতিষ্ঠান ৭৬৪ ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। গত বছরের মতো রমনা কালী মন্দির গেটে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে শিশুচত্বর। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। এছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থাপন করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এর পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার।




১ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী




বরিশালে চলছে দুই দিনব্যাপী অশ্বিনী মেলা

বরিশাল অফিস:: বরিশালে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তে’র ১৬৯ তম জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি বরিশাল কলেজ মাঠে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী অশ্বিনী মেলা। মেলার বিভিন্ন স্টলে এসেছে হাতে তৈরি বিভিন্ন রঙ-বেরঙের পিঠা, চকলেট কেকসহ বিভিন্ন শীতকালীন পিঠা, সুস্বাদু মিষ্টি পান।

এছাড়া রয়েছে গ্রামীন রাধাচক্কর, শিশুদের বিভিন্ন খেলনাসহ মৃৎশিল্পের বিভিন্ন আইটেমের আসবাবপত্র। মেলায় ঘুরতে আসা নগরীর বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ আলাপকালে বলেন, ‘এই শীত মৌসুমে পেছনে ফেলে আসা দিনগুলোতে আমরা দেখতাম বরিশাল সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হত বিভিন্ন গ্রামীন মেলা। আমরা সেসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসে মেলা থেকে বিভিন্ন খেলনা ও বাসা-বাড়িতে ব্যবহারের জন্য জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যেতাম। এখন এসব যেন মনের ভিতর সব স্মৃতি হয়ে আছে ।’

এ ব্যাপারে মেলা কমিটির আয়োজক সভাপতি স্নেহাংশুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এই বরিশালে আগের মত তেমন কোন কিছু হয় না। আমরা প্রতিবছর অশ্বিনী কুমার দত্তের জন্মদিন উপলক্ষে নগরবাসীকে কিছুটা আনন্দ দেওয়ার জন্য এই মেলার আয়োজন করে থাকি। আমাদের দুই দিনব্যাপী মেলায় ৩০ টি স্টল রয়েছে। স্টলগুলোতে বোন-ভাবিরা তাদের হাতের তৈরি শীতের পিঠা উপস্থাপন করেছে, যা আজকাল অনেক বাসা-বাড়িতে তৈরি করে খাবার সময় হয় না।’

আজ শুক্রবার মেলার শেষদিনে মেলার মাঠে ও অশ্বিনী কুমারদত্তের স্মরণে দর্শকদের জন্য থাকবে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা, কবিতা আবৃত্তি, সংগীতসহ নৃত্য পরিবেশনা। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম।

এছাড়া আরও যারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিএম কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ এস কাইয়ূম উদ্দীন আহমেদ, সরকারি বরিশাল কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর অলকা রানী সরকার, বীর প্রতীক কে এস মহিউদ্দিন মানিক, সাংবাদিক মুরাদ আহমেদ, উদীচী সভাপতি সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ সভাপতি শুভঙ্কর চক্রবর্তী ও মিন্টু কুমার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে অশ্বিনী কুমার দত্তের ১৬৯ তম জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি বরিশাল কলেজ মাঠে দুই দিনব্যাপী অশ্বিনী মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মেলা কমিটি।




দ্বিতীয়বার অঙ্গদান: বাংলাদেশে একজনের কিডনি দুইজনের দেহে

চন্দ্রদীপ অনলাইন : বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো ব্রেইন ডেড মানুষের কিডনি অন্য মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। মৃত ঘোষণা করা ৩৮ বছর বয়সি একজন পুরুষের কিডনি দুজন কিডনি আক্রান্ত মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এবং কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আরেকটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

এদিন রাত সাড়ে ৮টায় কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়। অস্ত্রোপচারে সময় লাগবে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতি এমন একটি পদ্ধতিতে ক্লিনিক্যালি ডেড বা ব্রেইন ডেড রোগীর কিডনি নিয়ে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ কিডনিদাতা এবং গ্রহীতাদের বিস্তারিত পরিচয় দেননি।

তিনি জানান, ৩৮ বছরের একজন পুরুষকে বৃহস্পতিবার ব্রেইন ডেড ঘোষণা করা হয়। তিনি মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

‘পাঁচদিন আগে আমাদের হাসপাতালে আসেন তিনি। তিনি পুরোপুরি অজ্ঞান ছিলেন। এর আগেও তিনি আমাদের আইসিইউতে ছিলেন। চিকিৎসায় ভালো হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। এবারও পাঁচদিন ছিলেন। আজকে আমরা তাকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেছি।’

গত বছরের ১৯ জানুয়ারি বিএসএমএমইউতে প্রথমবারের মতো একজন মৃত মানুষের শরীর থেকে কিডনি নিয়ে তা অপর দুজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

সারাহ ইসলাম নামে ২০ বছরের এক তরুণীকে ১৮ জানুয়ারি ‘ব্রেইন ডেড’ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেদিন রাতেই তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুজন নারীর শরীরে। সারাহর চোখের কর্নিয়া দেওয়া হয় অপর দুজনকে।

সেই কিডনি নিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে আছেন শামীমা আক্তার নামে এক নারী। তবে অন্যজনের মৃত্যু হয়েছে।