বরিশালে ২৪৫ বছরের পুরোনো মারবেল মেলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ২৪৫ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামে মেলার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, শুধু আগৈলঝাড়া নয়, পাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষও এতে যোগ দেন।

মেলা কমিটির সভাপতি নির্মল মণ্ডল জানান, ২৪৫ বছর আগে রামানন্দের আঁক গ্রামের সোনাই চাঁদের বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির একটি নিমগাছের গোড়ায় শিবের আরাধনা শুরু করেন। পরবর্তীতে এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ওই স্থানে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈষ্ণব সেবা, নবান্ন উৎসব এবং মারবেল মেলার আয়োজন করা হতে থাকে।

এ বছরেও মেলা উপলক্ষে বৈষ্ণব সেবা, নাম সংকীর্তন, কবিগান ও মারবেল খেলার আসর বসে। বিশেষত, মেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে ৫০ কেজি চাল, আখের গুড়, নারকেলসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি নবান্নের আয়োজন। এই মেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অনুষ্ঠিত মারবেল খেলা এবং দোকানপাট মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। মারবেল বিক্রেতা ত্রিমুখী গ্রামের প্রদীপ বল্লভ জানান, প্রতি বছর এ দিনটি বিশেষ করে মারবেল বিক্রির জন্য অপেক্ষা করেন। এবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। একশত পিস মারবেল ২০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

মেলায় শিশু, কিশোর, কিশোরী, যুবক-যুবতী সহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ মারবেল খেলার আনন্দে মেতে ওঠেন। বাকাল গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মিরাজ ফকির বলেন, “আমি সারাবছর টাকা জমিয়েছি যাতে মারবেল খেলার জন্য মেলায় আসতে পারি।”

এছাড়া, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক জানান, মেলা উপলক্ষে আগত মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন আগেই ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে মেলায় অংশ নিতে আসেন, তাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কালকিনিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণ, ইউপি সদস্য ও তাঁর ছেলে নিহত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার শিকদার (৪২) এবং তাঁর ছেলে মারুফ শিকদার (২০)। আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায় সংঘর্ষের সময় হাতবোমার বিস্ফোরণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

নিহত আক্তার শিকদার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যেরচর এলাকায় ফকির এবং শিকদার বংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর আক্তার শিকদার এলাকা ছেড়ে চলে যান। আজ ভোররাতে তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে মধ্যেরচরে ফেরার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে জলিল ফকিরের দল ওই এলাকায় মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশী অস্ত্রসহ একে অপরকে আক্রমণ করে এবং কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। এর মধ্যে আক্তার শিকদার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার ছেলে মারুফ শিকদার গুরুতর আহত হন এবং শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

এ ছাড়া, এই সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাঁশগাড়ী এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানান, পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে এবং আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা অমিত সেনগুপ্ত জানান, মারুফ শিকদারকে সকাল ৯টার দিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীর রক্তাক্ত ছিল এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আক্তার শিকদারের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা ছিল, যার মধ্যে ৫টি হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি সরকার পতনের পর এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর নতুন করে এলাকা প্রবেশের চেষ্টা করেন, যার ফলশ্রুতিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মধ্যেরচর এলাকার বাসিন্দা রাজন হোসেন জানান, শিকদার বংশের লোকজন প্রায় ২০০ জন নিয়ে প্রথমে ফকির বংশের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়, পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় আসামিদের ধরতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




WASA Link 16162, An efficient Call Center




লাশের ভিড়ে পাগলের মতো বাবাকে খুঁজতে থাকলেন মা

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলো আজও হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে। বাবার নিথর দেহ দেখে হতবিহ্বল মা, আর সেই বেদনা নিয়েই টিকে থাকা ছিল এক অভাবনীয় সংগ্রাম।

১৯৭১ সালে এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে আমি মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ করছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর বরিশাল শহর থমথমে হয়ে ওঠে। মানুষের মুখে মুখে কানাঘুষা: “ঢাকায় কী হচ্ছে!” সবার মধ্যে এক অদ্ভুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আমার বাবা বিএম স্কুলের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে ছিলেন সক্রিয়। ৭ মার্চের ভাষণের পর তাঁকে মনে হয়েছিল গভীর চিন্তায় নিমগ্ন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আমাদের জীবনে নেমে আসে ভয়ংকর এক অধ্যায়।

মে মাসের এক সকালে পাকিস্তানি সেনারা বরিশালে ঢুকে এলোপাতাড়ি বোমা বর্ষণ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরদিন কৌতূহলবশত বাবার সঙ্গে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছিলাম। তবে একদিন হঠাৎ বাবা কোথায় যেন হারিয়ে যান। মা ও আমি সারাদিন ধরে তাঁকে খুঁজলাম, কিন্তু কোনো খোঁজ পেলাম না। কয়েক দিন পর জানলাম, বাবা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিতে ঝালকাঠি জেলার বাউকাঠির আটঘরে গিয়েছেন।

ঝালকাঠির আটঘর পেয়ারাবাগানের জন্য বিখ্যাত, যা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনারা এটিকে আক্রমণের জন্য বেছে নিয়েছিল। ২৪ মে ভোরে সেখানকার নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। মায়ের অনুচ্চারিত শঙ্কা সেদিনই সত্যি হয়। যুদ্ধ শেষে মা আমাকে নিয়ে যখন কুড়িয়ানায় পৌঁছালেন, তখন সেখানে লাশের স্তুপ। মায়ের শঙ্কা সত্যি হলো—তিনি লাশের ভিড়ে বাবার ঝাঁঝরা দেহ খুঁজে পেলেন।

বাবার মরদেহ দেখে মায়ের আকুতি হৃদয়বিদারক ছিল। উপস্থিত মানুষদের সহায়তায় সনাতন ধর্ম অনুযায়ী বাবাকে সমাহিত করা হয়। এরপর মা আমাকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান কলকাতার শরণার্থীশিবিরে। সেখানেই দেশ স্বাধীন হওয়ার দিন পর্যন্ত আমাদের বেঁচে থাকা।

দেশ স্বাধীন হলে আমরা আবার বরিশালের বাড়িতে ফিরি। মা বাবার স্মৃতি আঁকড়ে দীর্ঘ ৪০ বছর বেঁচে ছিলেন। আমি আজও তাঁদের সেই ত্যাগের স্মৃতি গর্বের সঙ্গে ধারণ করে বেঁচে আছি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন: যা বাদ পড়ছে, যা যুক্ত হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বদলে যাচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব পাঠ্যবই। মাধ্যমিকের প্রতি শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে লেখা, কবিতা অথবা কার্টুন। প্রতিটি বইয়ের পেছনের কভারে থাকছে গ্রাফিতি। এর বাইরে ইতিহাসনির্ভর অনেক বিষয়েও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাঠ্যবই থেকে বাদ যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ‘অতিরঞ্জিত’ চিত্র। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার কথা জানানো হয়। এ কারণে চলতি বছরের চেয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বাতিল করা নতুন শিক্ষাক্রমে মাধ্যমিক স্তরে একেকটি শ্রেণির জন্য ১০টি বিষয় ছিল। পুরোনো শিক্ষাক্রমে বিষয় আরও বেশি। যেমন পুরোনো শিক্ষাক্রমে মাধ্যমিকে বইয়ের সংখ্যা ২৩ (সব কটি সবার জন্য নয়)। ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ায় আবার ছাপা হচ্ছে আরবি, সংস্কৃত, পালি ভাষা শিক্ষা বই।

পাঠ্যপুস্তকে নানা পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘ইতিহাসে যাঁর যাঁর যে স্থান বা ভূমিকা, সেটাই আমরা নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এ জন্য পরিমার্জনের সঙ্গে জড়িত লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ইতিহাসনির্ভর বিষয়েও কিছু কাটছাঁট করা হয়েছে। এনসিটিবি সূত্র বলছে, পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমানের নাম যুক্ত করা হয়েছে। আর বাদ যাচ্ছে বইয়ের শেষ কভারে লেখা শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত বাণী। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লেখাও বাদ যাচ্ছে পাঠ্যবই থেকে।




শীত ও কুয়াশা নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার পড়তে পারে। এর কারণে দৃষ্টিসীমা ৭০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভোর ৫টা থেকে ২-৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ৭০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে। তাই এসব এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তবে কোনো সতর্কসংকেত দেখাতে হবে না।

অপর এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যান্য জায়গায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময় শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




দশমিনায় বৃদ্ধ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দশমিনায় মো. নুর ইসলাম (৬৬) নামে এক বৃদ্ধকে খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি আ. কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকা থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নুর ইসলাম হত্যা মামলার আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আ. কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সকালে দশমিনার বহরমপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর ইসলাম হাওলাদারকে পার্শ্ববর্তী নেহাগঞ্জ এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহাগসহ ছয়জন। তাঁদের সঙ্গে ছিল আরও দুই-তিনজন। সেতুর ঢালে নিয়ে গিয়ে তাঁরা নুর ইসলামকে মারধর করে খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে দশমিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আ. কাইয়ূমসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় এসআই আবু হানিফ ও এএসআই মো. জসিমের নেতৃত্বে পুলিশ দল গাজীপুর র‍্যাবের সহায়তায় চৌরাস্তা এলাকা থেকে কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাঁকে দশমিনা থানায় আনা হয় এবং আজ সকালে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বাদী কহিনুর বেগম বলেন, “আমার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই। আমি আইনের প্রতি আস্থা রাখি। জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

ওসি মোহাম্মাদ আবদুল আলীম জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন সংস্কার কমিশনের মতবিনিময়ে আসা সুধীজনরা। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচনি সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নিজেও এর পক্ষে আছেন বলে জানান।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নাগরিক সমাজের অভিমত হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত। কারণ, স্থানীয় নির্বাচন করার ফলে আমাদের কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে। টেস্ট হয়ে যাবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে যে সাপোর্ট দরকার হবে, তাও নিশ্চিত হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটা, আর স্থানীয় নির্বাচন পাঁচটা। পাঁচটার মধ্যে তিনটা হলো ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা। জাতীয় নির্বাচন ন্যাশন-ওয়াইড হয়। আর সিটি হয় লোকালাইজড। জেলা পরিষদে আসলে কোনো নির্বাচন হয় না। এখন স্থানীয় নির্বাচনের পূর্বে যদি জাতীয় নির্বাচনে যাই, তাহলে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে তা ঝুলে যাবে। কারণ এখন আমাদের যে চিন্তা-ভাবনা, স্থানীয় নির্বাচন যেটা আছে সেটা কোনো সিস্টেম না। আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা আলাদা আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। কোনো কমপ্রিহেন্সিভ সিস্টেম নাই। এই সংস্কারের বড় কাজ হবে একটা সিস্টেম ডেভেলপ করে দেওয়া। এখন সিস্টেম কী হবে? যে সিস্টেম আছে সেটা আইয়ুব খানের ভাবনায় রেখে করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ বছর পরে উপজেলা, তার ১০ বছর পর উপজেলা পরিষদ হয়েছে। এতে কম্প্রিহেন্সিভ কিছু হয়নি। এই সিস্টেম করার জন্য এখন মোক্ষম সময়। কেননা, বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার কিন্তু নেই। কেবল ইউপি আছে। কাজেই ছবি আঁকার এটাই সময়। আমরা যদি সিস্টেম করতে পারি যে, একটা কম্প্রিহেন্সিভ আইন হবে। সেই আইনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান চলে আসবে। এতে একটা তফসিল দিয়ে সবগুলো নির্বাচন করতে পারব।




বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ১৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে পদাধিকারবলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র এ কমিটির সদস্য থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

১৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন- মো. মাহিন সরকার, রশিদুল ইসলাম রিফাত, নুসরাত তাবাসসুম, লুৎফর রহমান, আহনাফ সাঈদ খান, তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা), তারিকুল ইসলাম, মো. মেহেরাব হোসেন সিফাত, আসাদুল্লাহ আল গালিব, মোহাম্মদ রাকিব, সিনথিয়া জাহিন আয়েশা, আসাদ বিন রনি, নাইম আবেদীন, মাহমুদা সুলতানা রিমি, ইব্রাহিম নিরব, রাসেল আহমেদ, রফিকুল ইসলাম আইনী, মুঈনুল ইসলাম হাসনাত।

এর আগে ২২ অক্টোবর সমন্বয়ক টিম বিলুপ্ত করে ৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

কমিটিতে হাসনাত আবদুল্লাহকে আহ্বায়ক, আরিফ সোহেলকে সদস্যসচিব, আবদুল হান্নান মাসউদকে মুখ্য সংগঠক ও উমামা ফাতেমাকে মুখপাত্র করা হয়। এই কমিটি দিয়েই এতদিন সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।




প্রশাসনে ফ্যাসিবাদী ৬৯ জন কর্মকর্তার অপসারণে গড়িমসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখনো অপসারণ-অব্যাহতি প্রদান করা হয়নি। প্রায় ৪২০০ জন কর্মকর্তা ন্যায়বিচার ও বঞ্চনা নিরসনের আবেদন করেছে। কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৫৪৬ জনের আবেদনকে প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব দুষ্ট ক্ষতগুলো সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত ও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কেউ কেউ গোপনে বিগত স্বৈরাচারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের ইন্ধন যোগাচ্ছে। এ কারণে শত চেষ্টা সত্ত্বেও সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজে গতিশীলতা আসছে না, জনমনে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩৪ জন বিতর্কিত জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার, বিতর্কিত ১৬ জন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক ফ্যাসীবাদী সরকারের দোসর, ছাত্র-জনতা হত্যায় জড়িত সেচ্ছাচারী, দুর্নীতিবাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ কাজে লিপ্ত ১৯ জন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। দলবাজ, অদক্ষ ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের অপসারণ-অব্যাহতি প্রদান গত ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিনের বঞ্চিত কর্মরত যে সমস্ত কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েও এখনো পদায়ন পাননি তাঁদেরকে দ্রুত উপযুক্ত পদে পদায়ন করতে হবে। জনপ্রশাসনকে দ্রুত সচল করতে ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন করতে হবে। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত বিতর্কিত জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা এবং বৈষম্যের শিকার ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভূতপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদানসহ পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারির দাবিতে গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের মাধ্যমে দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টাকে দেয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল এ স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের দাবি জানিয়ে যে আবেদন করেছে তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করবো।